খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

কেউ ৬ বছর, কেউ ১০ বছর—কর্মস্থলে অনুপস্থিত ২০ চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
কেউ ৬ বছর, কেউ ১০ বছর—কর্মস্থলে অনুপস্থিত ২০ চিকিৎসক

 

রংপুর বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অন্তত ২০ জন চিকিৎসক বছরের পর বছর ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। কেউ বিদেশে বসবাস করছেন, কেউ বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখছেন, আবার কারও অবস্থানই জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী দুই মাসের বেশি অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ছয় থেকে ১০ বছর পার হলেও হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। ফলে পদগুলো কার্যত আটকে থাকায় নতুন চিকিৎসক নিয়োগও দেওয়া যাচ্ছে না। এতে স্বাস্থ্যসেবা সংকট বাড়ছে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে।

জানা গেছে, দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪২টি। সেখানে কাগজে-কলমে কর্মরত রয়েছেন ১৯ জন। তবে নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন মাত্র ১৪ জন চিকিৎসক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল অফিসার ডা. শাহেদুর রহমান ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি, ডা. আব্দুল কাদের তালুকদার একই বছরের ৫ মার্চ এবং ডা. আবু সাদাত মো. সায়েদ শরীফ ২৬ এপ্রিল থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবীর বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই ওই তিন চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাইনি। তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তাদের কোনো খোঁজখবরও পাওয়া যায়নি।

তবে অনুসন্ধান বলছে, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ডা. আব্দুল কাদের তালুকদার বর্তমানে রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় তার মালিকানাধীন তালুকদার হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছেন।

কেন সরকারি কর্মস্থলে যাচ্ছেন না, এ প্রশ্নে ডা. আব্দুল কাদের তালুকদার বলেন, আমাকে দূরে বদলি করা হয়েছিল। পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এজন্য আর সেখানে যাইনি। এখন সরকার চাইলে যে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।

অন্যদিকে ডা. শাহেদুর রহমানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বোদা উপজেলা হাসপাতাল ও পঞ্চগড় জেলা সিভিল সার্জন অফিস। কর্মস্থলে দেওয়া তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।

আরেক চিকিৎসক ডা. আবু সাদাত মো. সায়েদ শরীফ পাভেল প্রায় ছয় বছর আগে সপরিবারে কানাডায় চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।

ডা. শরীফের বোনজামাই ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, শরীফ প্রায় ছয় বছর আগে পরিবার নিয়ে কানাডায় চলে গেছে। বর্তমানে সেখানেই আছে।

শুধু পঞ্চগড় নয়, একই চিত্র রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. অনন্যা রায় প্রায় ১০ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি বর্তমানে পরিবারসহ জাপানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আ.ন.ম. কায়সার আনামও ছয় বছর ধরে কর্মস্থলে নেই। স্বজনদের ভাষ্য, তিনি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন।

ডা. আনামের চাচা কামাল তৌফিকুল ইসলাম বলেন, করোনার সময়ের পর তিনি লন্ডনে গেছেন। আমরা যতটা জানি, আনাম চাকরি থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বিদেশে গেছেন।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ প্রায় এক বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ঢাকার সিকেডি ইউরোজলি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারিবারিক কারণে ঢাকায় আছি। প্রয়োজন হলে চাকরি ছেড়ে দেব।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেও দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন চিকিৎসক।

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া দুই মাসের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, বিভাগে প্রায় ২০ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন।

তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জহিদ রায়হান বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এত দীর্ঘ সময়েও কেন চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একদিকে যেমন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন,

অন্যদিকে শূন্য পদ সৃষ্টি না হওয়ায় নতুন চিকিৎসক নিয়োগও সম্ভব হবে না। ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সংকট আরও গভীর হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে এসব চিকিৎসক রাষ্ট্রীয় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অন্ধকার গলি থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
অন্ধকার গলি থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কিনা-ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সসম্মানে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত দুইটার সময় কারো নির্দেশ বা প্ররোচনা ছাড়াই ৩৬ বছর বয়সের একজন বাঙালি মেজর একটি প্রতিষ্ঠিত সামরিক শক্তি সম্পন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কেবল নিজের সততা, মূল্যবোধ, চেতনা ও দেশপ্রেমের ওপর ভর করে তিনি ক্যান্টনমেন্ট ও দেশবাসীর সামনে সংকটকালীন সময়ের সমাধানের পুরুষ হিসেবে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, যারা ইতিহাস সম্পর্কে অবগত তারা জানেন, ২৫ মার্চের সেই রাতে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা না করলে জাতি দিকনির্দেশনাহীন থাকতো। একইভাবে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা যদি তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে না আসতো, তবে দেশে শান্তির ছায়া নেমে আসতো না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার মনোজগৎ ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করেছে তিনি একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ওপর হওয়া অসম্মানজনক আচরণকে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রনায়কের মতো হজম করেছেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভর করে দেশের সকল ভিন্ন মতের জন্য সমালোচনা করার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন।

মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়া বঞ্চিত রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতির মাঠে এনে গঠনমূলক তর্ক-বিতর্কের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি চতুর্থ সংশোধনীর সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে দিয়ে কবর দেওয়া পার্লামেন্টকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। ভিন্ন মতকে সম্মান করা এবং বহুমাত্রিক চিন্তার মধ্য দিয়ে উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করাই ছিল তার রাষ্ট্রনায়কোচিত বৈশিষ্ট্য।

গণমাধ্যম সম্পর্কে শহীদ জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো নেতাই জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হতে পারেন না, যদি না তিনি গণমাধ্যমের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা করেন। শহীদ জিয়া শুধু গণমাধ্যমকে অবকাঠামোগত বা আর্থিক সুবিধাই দেননি, বরং গণমাধ্যম যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের পরিচ্ছন্ন আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে-সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার সেই অবদানের কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্র জনগণের কাছে সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম।

কালের আলো/এসএকে

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় হাজারো ফিলিস্তিনি

গাজার বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। উদ্ধারকাজের ধীরগতি এবং দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে এই মরদেহগুলো হয়তো আর কখনোই শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

জেরুজালেমে আইসিআরসি-এর মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, কোনও সন্দেহ নেই যে এই মরদেহগুলো শীঘ্রই শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ যত বেশি সময় থাকবে, তা তত দ্রুত পচনের উন্নত স্তরে পৌঁছাবে, এমনকি তা কেবল কঙ্কালে পরিণত হতে পারে। ফলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরিচয় নিশ্চিত করার মতো পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদি হারাবেন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা গাজার আনুমানিক ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এই ধ্বংসস্তূপের নিচে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এই সংখ্যা ১৪ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

উদ্ধারকারী দলগুলো বেলচা, কোদাল, হাতগাড়ি এবং খালি হাতেই এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছে। উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বুলডোজার ও অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি।

গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, লাশ উদ্ধারের যন্ত্রপাতি গাজায় আনার কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

গাজার ফরেনসি মেডিসিন ডিরেক্টর ড. আহমেদ দাহির এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমরা দেখেছি মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া একজন ব্যক্তির দেহ পুরোপুরি

কঙ্কালে পরিণত হয়েছে এবং বন্যপ্রাণী তা খুবলে খেয়েছে। সাধারণ অবস্থায় পরিবেশগত কারণে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগার কথা।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে গাজার অবশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে ডিএনএ পরীক্ষার যন্ত্রপাতির অভাব। ইসরায়েল গাজায় ডিএনএ পরীক্ষার কোনও সামগ্রী প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

এছাড়া, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বুলডোজারগুলো বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও ধ্বংসস্তূপ ওলটপালট করায় মরদেহগুলো তাদের মূল স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

লাশ শনাক্ত করতে না পারা কেবল মৃতদের মর্যাদার বিষয় নয়, এটি জীবিতদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। মনোবিজ্ঞানীরা একে বলছেন অ্যাম্বিগুয়াস লস বা অমিমাংসিত শোক, যা গাজার মানুষের মধ্যে তীব্র বিষণ্নতা, ট্রমা ও মানসিক বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

৭ অক্টোবর ২০২৩-এ নিখোঁজ হওয়া ৪-০ বছর বয়সী সামেহ-এর ভাই সায়েদ আল-ইয়াজজি বলেন, দুই বছর ধরে আমরা জানি না সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। তার স্ত্রী বারবার মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন। কোনও খবর না পেয়ে আমাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো সংরক্ষণের জন্য দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি বিশেষ কবরস্থান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি কবরের একটি নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং নথিপত্র রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন ডিএনএ বা অন্য উপায়ে স্বজনরা তাদের প্রিয়জনকে খুঁজে পান।

গাজার কবরস্থান বিভাগের পরিচালক জিয়াদ ওবেদ বলেন, এই কবরস্থানে অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা এখন ৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের বয়স এখন প্রায় তিন বছর হতে চলল, আর কিছু লাশ এখানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দাফন করা রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কড়া হুঁশিয়ারী বিমানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কড়া হুঁশিয়ারী বিমানমন্ত্রীর

Oplus_131072

জনগণের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চলে বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সেই সঙ্গে জনগণ তদের প্রাপ্য সেবা না পেলে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, অনেক কষ্ট ও দীর্ঘ সংগ্রামের পর বিএনপি আজ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে। আমি জানি এখানে অনেকেই ভিন্ন মতাদর্শের হতে পারেন। কিন্তু আপনারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে সেই সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, বিগত সরকার কী করেছে বা আপনাদের কী সুবিধা দিয়েছে, তা বিবেচনা করে যদি বর্তমান সরকারের কাজ বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। জনগণ যখন ক্ষুব্ধ হয়ে আপনার অফিস ঘেরাও করবে, তখন পরিস্থিতি সামাল দেবেন কীভাবে? তাই আপনারা নিজেদের মর্যাদা ও সম্মানের জায়গায় থেকে দেশের জন্য কাজ করুন। আমরা চাই যে কোনো মূল্যে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাদকসেবীদের পেছনে সময় নষ্ট না করে মাদক ব্যবসায়ীকে আগে ধরেন। মাদক ব্যাবসায়ীরা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে হবে, যেন মাদক ছেড়ে তারা খেলাধুলায় মেতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার প্রতি জোর দিয়েছেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌসীসহ জেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে