হেলথ কার্ড নিয়ে সুখবর, প্রথম ধাপে পাবেন যারা
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের পর এবার সবার জন্য হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী জুলাই থেকেই প্রথম ধাপে বগুড়াসহ ৫ জেলা আসছে এ সুবিধার আওতায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ওই সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হেলথ কার্ড নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর তা বাস্তবায়নে কাজও শুরু করেছে বর্তমান সরকার। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হেলথ কার্ড। নাগরিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে এক কার্ডে। জুলাই থেকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
জুন থেকে কিছুটা পিছিয়ে জুলাইয়ে প্রথম ধাপে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী এবং নোয়াখালীতে চালু হচ্ছে এ কার্ড। পর্যায়ক্রমে যা ছড়িয়ে দেওয়া হবে দেশজুড়ে।
হেলথ কার্ড চালু নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হেলথ কার্ড আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল, প্রধানমন্ত্রী নিজে এটা দেখভাল করছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ এটা নিয়ে কাজ করছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবাকে নিশ্চিতর করার লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে এটা এগিয়ে যাবে।
ই-হেলথ কার্ড হলো একটি ইলেক্ট্রনিক কার্ড যা প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা একটি ইউনিক আইডি বহন করবে। রোগীর মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হবে। কার্ড পাঞ্চ করলেই জানা যাবে রোগীর পুরনো রোগের ইতিহাসসহ নানা তথ্য।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এ কার্ডে প্রতিটি নাগরিক পাবেন সরকারি ও নির্ধারিত হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড়। পাশাপাশি থাকছে বছরে একবার ফ্রি স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে প্রথমে যে কাজটি করা হয় অনেক পরীক্ষা নীরিক্ষা। তারজন্য একটা ফি দিতে হয়। সেখানে দেখা হবে সেবা নিতে আসা ওই মানুষটিকে কোনো মেডিকেল পরীক্ষা-নীরিক্ষার ওপর টাকা না রাখা। প্রতিটি নাগরিক বছরে একবার ব্যাসিক কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা যায় কিনা বিনামূল্যে সেই ব্যবস্থা করা। মূলত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল সেবা ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে সরকারকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।
তিনি বলেন, অনেক মডেল আছে, মডেলে মডেলে তুলনা না করে, একটার সাথে আলোচনা করে শুরু করে দিতে হবে। কাজের মধ্যে দিয়ে আমরা পরবর্তীতে সংশোধন করব।
হেলথ কার্ডের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছাতে প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে ডেডিকেটেড করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের।
কালের আলো/এসএকে




আপনার মতামত লিখুন
Array