ময়মনসিংহে ৩০ মিনিটের ঝটিকা পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, অনিয়ম দেখে কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা-তিরস্কার
ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ.জেড. এম জাহিদ হোসেন। নেমপ্লেটে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার থেকে শুরু করে অফিসের দায়িত্বে অবহেলার নানা চিত্র দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর মন্ত্রী নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সরকারি শিশু সদন (বালক) পরিদর্শন করেন। পরে আকুয়া এলাকায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শন শেষে সেখানে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
আলোচনা সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এতিম, অসহায় ও পথশিশুদের সুরক্ষা এবং মানবিক উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি শিশু সদনগুলোকে আরও উন্নত ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি শিশুদের প্রতি আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী শিশু সদনের আবাসন ব্যবস্থা, খাবারের মান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাসহ সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তিনি শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের লেখাপড়া, খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শন শেষে সফরসূচি অনুযায়ী ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহ্যবাহী এডওয়ার্ড স্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি আকস্মিকভাবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিটের ঝটিকা পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তার নজরে আসে।
পরিদর্শনকালে তিনি কার্যালয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের সামনে ‘ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ শরীফ আহমেদ আওয়াল’ এবং ‘ডাঃ গোলাম মোস্তফা’ নামে দুটি নেমপ্লেট দেখতে পান। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই নেমপ্লেট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিতে থেকে নিয়ম না জানা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ফিজিওথেরাপি কক্ষে এক কর্মচারীকে রোগীর বেডে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখে মন্ত্রী আরও ক্ষুব্ধ হন। তিনি কর্মচারীর উদ্দেশে বলেন, আপনি এখানে কী করছেন?আপনি কি মোবাইলে জুয়া খেলছেন? আপনাদের কি কেউ তদারকি করেনা। এখানের (জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক) ডিডি কোথায়?
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় সেখানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের দুটি কক্ষ গেস্ট হাউস হিসেবে রেখে বাকি অংশে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এডওয়ার্ড স্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হোস্টেল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা ও আবাসিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রাজু আহমেদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কায়কোবাদ মামুন, ড্যাব নেতা ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন শাকিলসহ সমাজসেবা ও শিশু সদনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array