খুঁজুন
                               
, ,
           

সংবাদে ব্যক্তিগত মত চাপিয়ে দিলে আস্থার সংকট তৈরি হয়: হারুন জামিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
সংবাদে ব্যক্তিগত মত চাপিয়ে দিলে আস্থার সংকট তৈরি হয়: হারুন জামিল

গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, পক্ষপাত বা নিজস্ব চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল। তিনি বলেন, পাঠক সংবাদপত্রকে রাজনৈতিক লিফলেট হিসেবে দেখতে চায় না; তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য চায়। কিন্তু সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যখন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অবস্থান বা মতাদর্শ প্রাধান্য পায়, তখন গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যায় এবং তারা বিকল্প হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সেন্টার ফর মিডিয়া, ইনফরমেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তথ্য ও সম্প্রচার খাতের সংস্কার: একটি জনমুখী ও সংস্কারমূলক রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হারুন জামিল বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৫-৫৬ বছরে এত বিপুল সংখ্যক সাংবাদিককে একসঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হওয়া। গণমাধ্যমের মূল কাজ সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করা নয়, বরং সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করা। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনেক সময় মুনাফাকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে সমাজে মেরুকরণ বা বিভাজন তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কখনোই মূলধারার গণমাধ্যমের বিকল্প হতে পারে না। কারণ সংবাদপত্র ও পেশাদার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে বিভিন্ন স্তরে যাচাই-বাছাই, সম্পাদনা ও গেটকিপিং প্রক্রিয়া থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ বা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নেই। ফলে যে কেউ যাচাই ছাড়াই যেকোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি বাড়ায়।

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম— বিশেষ করে বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট— দীর্ঘদিন ধরে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে মূলত তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার কারণে। একটি সংবাদে সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং তথ্যনির্ভর উপস্থাপনাই গণমাধ্যমের শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রায়ই সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত চিন্তা-চেতনা সংবাদে প্রতিফলিত হয়, যা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সাবেক সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতা নতুন ধরনের মতামতনির্ভর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। তারা টকশো বিশ্লেষক বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছেন। তবে মূলধারার গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও পেশাগত মানদণ্ডের বিকল্প কোনো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না।

হারুন জামিল বলেন, রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করা অবশ্যই সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব সব সময় সমানভাবে পালন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশে যখন গণতান্ত্রিক ও বিচারিক নানা সংকট তৈরি হয়েছে, তখন অনেক গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সেই প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে তোলেননি। ফলে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পাঠক কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের সংবাদপত্র খোঁজেন না; তারা সত্য ও নির্ভুল তথ্য খোঁজেন। যখন সংবাদে বিকৃতি ঘটে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়, তখন পাঠক ক্ষুব্ধ হন এবং গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা হারান। অনেক সময় সংবাদপত্র নিজেদের চিন্তাধারাকে জনগণের মতামত হিসেবে উপস্থাপন করে, যা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতির পরিপন্থি।

গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে পেশাদার সাংবাদিকদের নেতৃত্বে সংবাদকক্ষ পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রকৃত সংবাদকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে এবং গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ গেটকিপিং পর্যায়ে দক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে পাঠকদেরও গণমাধ্যমকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানাই।

তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ দ্রুত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, ফলে গণমাধ্যমও আগের তুলনায় আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাঠক, দর্শক ও শ্রোতারা যত বেশি প্রশ্ন করবেন এবং সংবাদমাধ্যমের ভুল ধরিয়ে দেবেন, তত দ্রুত সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের হারানো আস্থা ফিরে আসবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএমের চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ড সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আইওএমের সঙ্গে দুই দশকের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদার, জাতীয় মানবপাচার বিরোধী প্রচেষ্টা শক্তিশালীকরণ, সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার রোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আইওএম মিশন প্রধান জানান, সংস্থাটির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ডিডিজি) উগোচি ড্যানিয়েল আগামী ১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। তিনি উগোচি ড্যানিয়েলের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যে আগামী ০৪ আগস্ট ইউএন হাউজ বাংলাদেশে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রী নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং মানবপাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা’ (ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজম্যান্ট) কৌশলের জাতীয় বৈধকরণ কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর বিশেষ শাখাসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে আইওএম-এর অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করা হয়।

তাছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল ভূমিকা এবং আইওএমের কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। আইওএমের পক্ষ থেকে নীতি সহায়তা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. লরা টম-বন্ডেএর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, আইওএম’র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট (গভর্মেন্ট) ড. এস এম মোরশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

ইলিয়াস আলী গুম-হত্যায় সম্পৃক্ততা: বিমান বাহিনীর হেফাজতে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
ইলিয়াস আলী গুম-হত্যায় সম্পৃক্ততা: বিমান বাহিনীর হেফাজতে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীকে অপহরণ (গুম) ও হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন খান সায়ের।

পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের লিখেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে বলপূর্বক অপহরণ (গুম) ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গত ২১ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও খুনের ঘটনায় এই বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমান (তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার) সে সময় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ের জামাতা।

বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের বরাতে তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবিতে সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবিতে সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাবা ও ছেলের সন্ধান মেলেনি। তারা  নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরের বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ দু’জন হলেন- আফছার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হক (৪০)। তাদের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায়। এই নৌকায় জিয়ারুলের মা জাহেরা বেগমও (৫৫) ছিলেন। নৌকা ডুবে গেলে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন। তখন নৌকা নিয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে তীরে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জানান, রাজশাহীর চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ কেটে নৌকায় নিয়ে আসছিলেন ৮ জন যাত্রী। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে অতিরিক্ত ঢেউয়ের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে নৌকাটি পানিতে তলিয়ে যায়।

নৌকাটি ডুবতে দেখে পদ্মা গার্ডেন এলাকায় নদীর তীরে অপেক্ষমান অন্যান্য নৌকার মাঝি এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকা ৮ যাত্রীর মধ্যে ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান আফছার আলী ও তার ছেলে জিয়ারুল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল ৪টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ বাবা-ছেলে এবং নৌকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের উপ-পরিচালক মনজিল হক বলেন, নিখোঁজ দু’জনকে উদ্ধারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের ছয়জন ডুবুরি আছেন। দু’জন দু’জন করে তারা পানির নিচে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি নৌকা নিয়েও নদীতে চোখ রাখা হচ্ছে। দু’জনকে উদ্ধার করতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি