খুঁজুন
                               
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রিসোর্টকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিলেন মামুনুল হক

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
রিসোর্টকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিলেন মামুনুল হক

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত রয়েল রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে পাঁচ বছর পর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি দাবি করেছেন, রিসোর্টে তার সঙ্গে থাকা জান্নাত আরা ঝর্ণা তার বৈধ স্ত্রী ছিলেন এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছিল।

শনিবার (২০ জুন) সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।

৫০১ ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট উল্লেখ্য করে মাওলানা মামুনুল হক লিখেছেন, ‘৩ এপ্রিল ২০২১। রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের এক ঘৃণ্য কালো দিবস। সেদিন আমি আমার স্ত্রী জান্নাত আর (ঝর্ণা)কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সেখানে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, সাংবাদিক লীগ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রায় শ খানেক সদস্য উপস্থিত হয়। রিসোর্টের রিসিপশন ডেস্ক থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়, পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। আমি আমার কক্ষের দরজা খুলতেই তারা সবাই জোরপূর্বক আমার রুমে প্রবেশ করে। সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক এবং উপস্থিত প্রায় সকলেই তাদের ডিভাইসের মাধ্যমে একযোগে লাইভ প্রচার করতে থাকে।’

তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা) নানাভাবে আমাদেরকে হেনস্তা করে। আমার উপর চড়াও হয়। আমার স্ত্রীকেও টেনে ধরে ধাক্কাধাক্কি করে। তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য আমি আমার স্ত্রীকে ওয়াশরুমের দরজা খুলে সেখানে আটকে দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে লেডি পুলিশের একটি টিম এসে উপস্থিত হয় এবং ওয়াশরুমে ঢুকে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে। উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি প্রচারিত সকল সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে।’

তিনি আরও লিখিছেন, ‘শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য আমাকে ফোন ফিরিয়ে দেন এবং আমার পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আমরা তাদের সাথে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কাণ্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি।’

জান্নাত আরা (ঝর্ণার) সাথে বিয়ের প্রসঙ্গে মামুনুল হক লিখেছেন, ‘জান্নাত আরা ইতোপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আ. রহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে। আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। উল্লেখ্য ফকীহগণ কুরআন সুন্নাহর দলিলের আলোকে সাব্যস্ত করেছেন যে, স্ত্রীর যে অধিকার স্বামীর উপর ওয়াজিব, তা স্ত্রী স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘বিবাহের পর আমি তাকে ঢাকা মোহাম্মদপুরস্থ কুরআন শিক্ষার কেন্দ্র নুরানি কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেই এবং সে কোর্স সুসম্পন্ন করে। এভাবে কিছুদিন থাকার পর নিজ আগ্রহে সেলাই প্রশিক্ষণসহ মেয়েলি কিছু কার্যক্রমের প্রশিক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠানে সে কাজ শিখতে থাকে। প্রথমদিকে ঢাকায় তার এক বোনের বাসায় অবস্থান করত এরপর স্বেচ্ছায় অন্য বাসায় সাবলেট হিসাবে বসবাস করা শুরু করে। আমি প্রয়োজন মত তার সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং সময় দিতাম।’

বিবাহ গোপন রাখা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘এটা সবাই জানি, আমাদের উপমহাদেশে একাধিক বিবাহ একটা জটিল বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারাই একাধিক বিবাহ করেন, তারা প্রথম পরিবার থেকে একটা সময় পর্যন্ত লুকিয়ে রাখেন। কারণ, পরিবার কোনোভাবেই তা মানতে চায় না। স্বাভাবিকভাবেই আমার সন্তান ও পরিবারে ওই মুহূর্তে আমি অস্থিরতা তৈরি করতে চাইনি। রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার জটিলতায় কাবিন করাটাও সমস্যাপূর্ণ ছিল। আর ইসলামেও কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়। আমার প্রথম বিবাহেও স্ত্রী রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কাবিন করিনি। তবে একাধিক বিবাহের বিষয়টি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ জানত। আমিই সতর্কতামূলক জানিয়ে রেখেছিলাম। রয়েল রিসোর্ট থেকে পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি মহোদয় আমার সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুপরিচিত ব্যক্তির সাথে আলাপ করে আশ্বস্ত হয়েছিলেন এবং আমার পক্ষে কিছুটা ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলে তাকে হাসিনা সরকারের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়েছে।’

রয়েল রিসোর্টে আরেকজনের নাম এন্ট্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার আইডি কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়ে স্ত্রীর নাম আছে আমিনা তাইয়েবা। আর জান্নাত আরার আইডি কার্ডে তার নাম হলো শাহিদা ইসলাম এবং স্বামী হিসেবে শহিদুল ইসলামের নাম লেখা। যা তখনো পরিবর্তন করেনি। তাই আমরা দুজন কথা বলেই স্ত্রীর ঘরে আমার প্রথমার নাম বলেছিলাম।’

ফোন কলে প্রথম স্ত্রীর কাছে শহিদুল ইসলামের ওয়াইফ বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে মামুনুল বলেন, ‘আমার প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি যেভাবে শান্ত মাথায় বললে তার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো সেটা করতে পারিনি, তাই আমি তার কাছে জান্নাত আরার সাবেক পরিচয় বলেছি। যেহেতু জান্নাত আরাকে আগে থেকে সে শহিদুল ইসলামের ওয়াইফ হিসেবেই চিনত।’

তিনি আরও লেখেন, ‘নারায়ণগঞ্জে রিসোর্ট কাণ্ডের পর পর তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের আমার সাথে বসেছিল। আমাকে অফার করেছিল, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। আলহামদুলিল্লাহ! আমার বুঝে এসেছিল যে, আমাকে ট্র্যাপে ফেলে আমার দ্বারা ইসলামের বড় ক্ষতি করতে চায়। আমি তাদের অফার গ্রহণ করিনি। আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছেন।’

মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার লীগ প্রশাসন ও মিডিয়া নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ ছড়ায়। রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে মিথ্যাচারগুলো অবলীলায় করে যায়। নানা ধরনের আজগুবি কথাবার্তা মিডিয়া লিখতে থাকে। চুক্তিভিত্তিক বিয়ে, সাময়িক বিয়ে এই জাতীয় ডাহা মিথ্যা কথা তারা একের পর এক প্রচার করে যায়। অথচ বাস্তবতা আদৌ এমন ছিল না। আমাদের বিয়ে ছিল সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত ইসলামী বিয়ে। সাময়িক অথবা মুতা বিয়ের কনসেপ্ট হাসিনার তৈরি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। একজন ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করা কি অপরাধ? এটাকে কোনো দেশের পরিভাষায় কটাক্ষ করা যায়?’

জান্নাত আরা ঝর্ণার সাথে নিজের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন,‘ ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর আমাদের বিবাহ বন্ধন টিকে ছিল। কিন্তু ২০২১ এর ঘটনার পর পরস্পর কিছু মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে এক পর্যায়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এমনকি আমার কারাবাসকালীন সময়েও তার ভরণপোষণসহ প্রাপ্য অধিকার আদায় করি।’

আমার চরিত্র হননের ঘৃণ্য প্রয়াস ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনার মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক কিংবা আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে অনেকেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার এই নির্লজ্জ মবসন্ত্রাস ও মিথ্যাচারের ঘটনাকে পুঁজি করে আমাকে ঘায়েল করার অপপ্রয়াস চালায়। তারা মনে করে কটূক্তি বা কটাক্ষ করলেই সত্য ন্যায় ইসলাম ও দেশ জাতির পক্ষে কথা বলতে আমি কুণ্ঠিত হয়ে যাব।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘তাদের (হাসিনা ও সহযোগীদের) মনে রাখা উচিত, কুৎসা রটনা ও ঘায়েল করার ভয়াবহ অনেক পর্ব আমি আল্লাহর রহমতে পেছনে ফেলে এসেছি। নারায়ণগঞ্জের আদালতে এমনও দিন গিয়েছে যে, আমার পক্ষে একজন আইনজীবীকে পর্যন্ত উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সকল পান্ডা আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেছে, হেনস্তা করেছে। চরম অসহায় অবস্থায় আদালতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রেখেছে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বেনজীর আহমেদকে শিগগির ফেরত দেবে আমিরাত, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
বেনজীর আহমেদকে শিগগির ফেরত দেবে আমিরাত, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দুবাই সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগির বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুবাই থেকে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে মনে করার বিষয় নয়, দেখার বিষয়। আগের যে কোনো সরকারের তুলনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত গতিতে কাজ করছে। ১২ জুন ফেডারেল পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমাদের এনসিবিকে ই-মেইলে জানানো হয়েছে বেনজীর আহমেদকে তারা গ্রেফতার করেছে। আমাদের জারি করা রেড নোটিশের মাধ্যমে তারা বেনজীর আহমদকে গ্রেফতার করে। আমি সেদিন বিকেলেই জাতীয় সংসদে জাতিকে অবহিত করেছি। সেখানে বলেছি ই-মেইলে তারা অনুরোধ করেছে ৩০ দিনের মধ্যে যেন আমাদের সমস্ত কাগজপত্র পাঠিয়ে দেই বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য।

আমরা ৩০ দিন নয় তার পরের দিনই কাগজপত্র পাঠিয়েছি। ওয়ারেন্ট, মামলার বিবরণীসহ অনেক কাগজ দেওয়া হয়েছে। সেটা আবার আরবিতে ট্রান্সলেট করতে হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ অফিসাররা সেদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ১৪৪ পাতার কাগজপত্র তৈরির কাজ করেছে। রাত ১০টার সময় সংসদে বসে সেটি আমি সই করি। সেদিনই কাগজপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুবাইয়ে পাঠিয়েছে। সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনঅফিসিয়াল কপি দিয়েছি। পরদিন সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব অফিসিয়ালি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে হস্তান্তর করে। ওইদিন বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরবিতে ট্রান্সলেট করে ডিপ্লোমেটিক ব্যাগে করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠিয়েছে এবং লোকাল ইউএই অ্যাম্বাসিকে জানানো হয়েছে।

আশা করি ইউএই সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব শিগগির বেনজীর আহমেদকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। আমরা পারসুয়েশনে থাকবো।

এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেনজীর আহমেদের বিষয়ে কাগজপত্র পাঠানোর পরে এনসিবি কোনো উত্তর দিয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা এখনো কিছু পাঠায়নি। তাদের দেশের আইন অনুসারে ফেরত পাঠানোর একটা প্রক্রিয়া আছে। শুক্র-শনিবার সেই দেশে হলিডে। আজকের দিন গেলে আগামীকাল রোববার আমরা অফিসিয়ালি খোঁজ নেব।

দুবাইয়ের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে কি না এবং কোন প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনসিবি ও ইউএই ফেডারেল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আমাদের ই-মেইলে অনুরোধ করেছে ৩০ দিনের মধ্যে কাগজপত্র পাঠাতে। চুক্তি থাকুক আর না থাকুক ইউএন চার্টার অনুসারে আমরা কিছু কিছু বিষয়ে স্বাক্ষরিত দেশ। সেখানে তারাও (ইউএই) সই করেছে। ইউএইর সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) চুক্তি রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি না জটিল হবে।

এর আগে ১২ জুন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হন। ১৪ জুন তাকে গ্রেফতারের কথা সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিলে আইজিপির দায়িত্ব পান। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২৬ জুন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২৬ জুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। তার আগে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক হবে তারেক রহমানের।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে সেখান থেকে আগামী ২২ জুন বিকেলে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় ডালিয়ানে (চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগরী) পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইওর সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে এবং সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধান, যেমন কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।
২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। ওইদিন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর দুপুরে তিনি ট্রেনযোগে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওউথাই স্টেট গেস্ট হাউসে থাকবেন।

২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্ট অব সিপিসি সেন্ট্রাল কমিটি, বাণিজ্যমন্ত্রী, সিআইডিসিএর চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য রাখবেন এবং চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।

বিকেলে চীনের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।

পরদিন ২৬ জুন চেয়ারম্যান অব দ্য স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (স্পিকার সমমর্যাদার পদ) প্রধান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এর ফাঁকে ২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, ওইদিন (২৬ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।

বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জন জানিয়ে সচিব জানান, মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি।

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এই সফর ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান, তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আমরা আশা করি।

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ প্রশ্নে সচিব বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশে গড়ে তোলার কথা রয়েছে। সেটির কাজও হচ্ছে। সেখানে বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। আমরা বলেছি, ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম হবে। সুতরাং নিশ্চয়ই আমরা চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে চাই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২২-২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করবেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৮ জুন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে র‍্যাব-৭ এর একটি অভিযানিক দল সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আলী আকবর (২৬) সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমূল ৪ নম্বর সমাজ এলাকার বাসিন্দা এবং আলী আহমদের ছেলে।

র‍্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, সীতাকুণ্ড থানার র‍্যাব হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আলী আকবর জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৫৩, ৩৩২, ২২৪, ২২৫, ৩৩৩, ৩০৭, ৩৮৬, ৩৬৪, ৩৪২, ৪২৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলী আকবরকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি