খুঁজুন
                               
, ,
           

সভ্য ও উন্নত সমাজের পূর্বশর্ত নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
সভ্য ও উন্নত সমাজের পূর্বশর্ত নারী ও শিশুর নিরাপত্তা: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, একটি সভ্য, অমানবিকতামুক্ত এবং উন্নত সমাজের প্রধান পূর্বশর্ত হলো নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। নারী ও শিশুরা কেবল একটি পরিবারের সদস্য নয়, তারা রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি রামিসার মতো শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা পুরো সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে, যা নৈতিকতার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়। এমনকি খোদ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের বিচার চাওয়ার বিষয়ে অনীহা বা শঙ্কা একটি এলার্মিং পরিস্থিতি তৈরি করছে, যদিও সরকার এক মাসেরও কম সময়ে বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন, পাচার বিরোধী আইন এবং অ্যাসিড নিক্ষেপ বিরোধী আইনের মতো অনেক আইন রয়েছে। তবে কেবল রাষ্ট্রের পক্ষে বা এককভাবে আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অ্যাসিড নিক্ষেপ প্রতিরোধের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অপরাধটি এখন সমাজ থেকে প্রায় নির্মূল হয়েছে। একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের শুধু আইনের আওতায় আনলেই হবে না, তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং ঘৃণিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে গিয়ে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বা একক পরিবারের আধিক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের মনিটরিং বা সঠিক নির্দেশনার অভাব দেখা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহার, ডিজিটাল আসক্তি এবং মাদকের বিস্তার এই সামাজিক সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে। সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক সময় নির্যাতনের ঘটনা চেপে রাখা হয়, যা অপরাধীকে পার পাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

সরকার ইতোমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহ. আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন  মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর হতে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছে ছাত্রদল: ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছে ছাত্রদল: ডিএনসিসি প্রশাসক

জুলাই আন্দোলনে অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের তুলনায় সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্রদল আজ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশ ও মানুষের সেবায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ছাত্রদল জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের ছাত্রদল একদিনে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, আবার অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে। যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যেভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সে মাত্রায় প্রাণ হারাননি। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই শহীদ ওয়াসিম আকরাম চত্বর উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ছাত্রদল সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অধ্যক্ষ, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রদল নেতাকর্মী এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: স্থানীয়সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: স্থানীয়সরকারমন্ত্রী

আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে জয়লাভ করে আসতে হবে

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের করণীয় শীর্ষক’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সামনের বছর প্রথম দিকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচন হবে একেবারে নিরপেক্ষ। এখানে বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না।

জনগণের ভালোবাসা নিয়েই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে স্থানীয় সরকার।

স্থানীয় সরকার শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্র কিংবা গণতন্ত্র কোনোটিই শক্তিশালী হতে পারে না। উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা ও জনসেবার বড় অংশ পরিচালনা করে। বাংলাদেশেও সেই কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ও ক্ষমতায়িত করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নানা অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রমাণ ছাড়া ইচ্ছামতো অপসারণ করা উচিত নয়। আইন ভঙ্গ বা অপরাধ প্রমাণিত হলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথাযথ ক্ষমতায়ন ছাড়া স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে না। শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। উন্নয়ন কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. পয়গাম আলী এবং বাংলাদেশ ইউনিয়ন মেম্বার কল্যাণ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ সারাবাংলাদেশ থেকে আগত মেম্বার এবং চেয়ারম্যানরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

‘অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
‘অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প’

বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২২ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে জাইকার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে খাতটির টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “জাইকার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘জাইকা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প’ এই খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা পরিকল্পনা (এসআরএফপি) যাচাই ও সনদ প্রদান এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ পরিকল্পনা (এসআরপি) অনুমোদনের ব্যবস্থা উন্নত করা হবে।

খাতটিতে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমাতে একটি সমন্বিত অনলাইন ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দফতরের অনুমোদন দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

জাইকার প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, বৈঠকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বড় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জাইকার সহযোগিতায় বাংলাদেশের শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।”

বৈঠকে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মাহবুবা খাতুন মিনু উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে