খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জবাব চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ১১ দলের

গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে জোটটি। এ সময় গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নগরের লালদিঘী জেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমান খানের কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন তারা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এনসিপি, এলডিপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, লেবার পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে দেশ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কবলে পড়ল কেন, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং ভুতুড়ে বিলের নামে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল পাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংকটের সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়লেও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অবৈধ মজুতদারি, সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে কেউ বাজার অস্থিতিশীল করছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় বার্ষিকী চললেও এখনো শহীদদের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে তাদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, ভুতুড়ে বিল বন্ধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।

কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া স্মারকলিপিতে এসব দাবির পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এসএকে

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে কী যোগ্যতা প্রয়োজন?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে কী যোগ্যতা প্রয়োজন?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিলের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন, তা নিয়ে সবার মাঝেই রয়েছে অদম্য কৌতূহল।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। (২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোনো আইনের দ্বারা তাহাকে প্রদত্ত ও তাহার উপর অর্পিত সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে হলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাও থাকতে হবে তাকে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য প্রার্থীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর। এছাড়া কেউ যদি আগে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবেন না।

তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ৩৪০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ৩৪০ বাংলাদেশি

লিবিয়ায় বিপদগ্রস্ত ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী আরও ৩৪০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ফ্লাই ওইয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার তত্ত্বাবধানে এবং লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকারের সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় এসব বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট লিবিয়া সরকারের ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয় করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণ ও সরকারি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের বিদায় জানান।

এ সময় তিনি তাদের অভিজ্ঞতা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা প্রতিকূলতার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী অনেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ত্রিপোলির মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম), প্রথম সচিব (শ্রম)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও সমন্বয় করা হচ্ছে।

মানবিক কারণে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে লিবিয়া সরকারের অগ্রাধিকার দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
দেশে ফিরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের নতুনভাবে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সমাজের নেতিবাচক মন্তব্য বা অবজ্ঞাকে উপেক্ষা করে পরিবারের সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

একইসঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। যাতে অন্য কেউ দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার না হন।

মানবপাচার ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত।

বিদায় দেওয়ার সময় রাষ্ট্রদূত লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টা এবং আন্তরিক সমন্বয়ের ফলেই এই মানবিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ভবিষ্যতেও বিপদগ্রস্ত ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনে লিবিয়া সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়: তথ্যমন্ত্রী

একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার পক্ষ যৌথভাবে কাজ করে চলেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তিনি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।

মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা ও এই শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রর চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসংগত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একই সঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটর্ফম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তথ্যমন্ত্রী এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার, যাতে প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়।

তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

তিনি এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।

কালের আলো/এসএকে