খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকায় হচ্ছে আরও দুই মেট্রোরেল, বাড়তি ব্যয় কমানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকায় হচ্ছে আরও দুই মেট্রোরেল, বাড়তি ব্যয় কমানোর নির্দেশ

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে আরও দুটি মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ায় বাড়তি ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প থেকে ৮০০ কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুই প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্প দুটির ব্যয় বৃদ্ধির বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে ব্যয় আরও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সংশোধিত প্রস্তাব দুটি ফেরত পাঠানো হয়। ব্যয়ের বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চিহ্নিত করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প নেওয়া হয়। তখন প্রকল্প দুটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এখন সংশোধিত প্রস্তাবে মোট ব্যয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। এতে মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সভায় এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতালপথে মেট্রোরেল নির্মাণ হবে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতায়। নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল অংশে থাকবে উড়ালপথ। প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এতে ২১টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগে প্রকল্পটির অগ্রগতি রয়েছে খুবই কম। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা সংশোধিত প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে সাভার থেকে গাবতলী, মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে উড়াল ও পাতালপথ থাকবে। এতে ১৪টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পিইসি সভায় প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্প থেকেও ৮০০ কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রকল্প দুটির ব্যয় বাড়ানোর পেছনে বিস্তারিত নকশায় পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন, কর-ভ্যাট, ভূমি অধিগ্রহণ, সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তর, পরামর্শক ব্যয় এবং নির্মাণকালীন সুদসহ বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালে ডলারের দাম প্রায় ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যয় বেড়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

তবে এসব কারণ দেখিয়ে প্রকল্প দুটির ব্যয় এতটা বাড়ানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কম থাকার বিষয়টিও সভায় আলোচনায় এসেছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, জাইকার বিভিন্ন শর্তের কারণে দরপত্রে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠান অথবা তাদের যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে দরপত্রে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং ঠিকাদারদের দর কমানোর সুযোগও সীমিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে প্রকল্প দুটির ব্যয় কমানোর বিষয়ে মতামত দিতে গত ২৪ মে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। গত জুলাইয়ে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে কমিটি মূল প্রকল্প প্রস্তাবের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ব্যয়কেও যৌক্তিক বলে মত দিয়েছিল। এরপর ডিএমটিসিএল সংশোধিত ব্যয়ের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়।

এবার প্রকল্প দুটির ব্যয় আরও পর্যালোচনা ও যৌক্তিকীকরণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন উইংয়ের প্রধান অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা সিদ্দিকীকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার যানজট কমাতে মেট্রোরেল প্রকল্প দুটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি নেই। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং মূল প্রাক্কলনের তুলনায় বিপুল ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন কমিটির পর্যালোচনার পর প্রকল্প দুটির চূড়ান্ত ব্যয় কত দাঁড়াবে, তা নির্ধারণ হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জাপানে প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ
জাপানে প্রধানমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টায় টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

সফরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গুরুত্ব পাবে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। এ ছাড়া বাংলাদেশে জাপানি শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তর নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জাপানের ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক

সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। জাপানের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি।

এ ছাড়া সফরের অংশ হিসেবে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে জাপানের শিল্পপ্রযুক্তি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন খাত সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাসহ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মুস্তাকুর রহমান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা

স্বাধীনতার পর থেকেই জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ভালোবাসা সবাইকে।’

পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এ সফরে জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ