খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকায় হচ্ছে আরও দুই মেট্রোরেল, বাড়তি ব্যয় কমানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকায় হচ্ছে আরও দুই মেট্রোরেল, বাড়তি ব্যয় কমানোর নির্দেশ

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে আরও দুটি মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ায় বাড়তি ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প থেকে ৮০০ কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুই প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্প দুটির ব্যয় বৃদ্ধির বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে ব্যয় আরও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সংশোধিত প্রস্তাব দুটি ফেরত পাঠানো হয়। ব্যয়ের বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চিহ্নিত করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প নেওয়া হয়। তখন প্রকল্প দুটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এখন সংশোধিত প্রস্তাবে মোট ব্যয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। এতে মূল প্রাক্কলনের তুলনায় ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সভায় এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতালপথে মেট্রোরেল নির্মাণ হবে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের আওতায়। নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল অংশে থাকবে উড়ালপথ। প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এতে ২১টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগে প্রকল্পটির অগ্রগতি রয়েছে খুবই কম। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। একই সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা সংশোধিত প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

অন্যদিকে সাভার থেকে গাবতলী, মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে উড়াল ও পাতালপথ থাকবে। এতে ১৪টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা করার আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পিইসি সভায় প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্প থেকেও ৮০০ কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রকল্প দুটির ব্যয় বাড়ানোর পেছনে বিস্তারিত নকশায় পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন, কর-ভ্যাট, ভূমি অধিগ্রহণ, সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তর, পরামর্শক ব্যয় এবং নির্মাণকালীন সুদসহ বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালে ডলারের দাম প্রায় ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যয় বেড়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

তবে এসব কারণ দেখিয়ে প্রকল্প দুটির ব্যয় এতটা বাড়ানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কম থাকার বিষয়টিও সভায় আলোচনায় এসেছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, জাইকার বিভিন্ন শর্তের কারণে দরপত্রে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠান অথবা তাদের যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে দরপত্রে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং ঠিকাদারদের দর কমানোর সুযোগও সীমিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে প্রকল্প দুটির ব্যয় কমানোর বিষয়ে মতামত দিতে গত ২৪ মে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। গত জুলাইয়ে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে কমিটি মূল প্রকল্প প্রস্তাবের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ব্যয়কেও যৌক্তিক বলে মত দিয়েছিল। এরপর ডিএমটিসিএল সংশোধিত ব্যয়ের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়।

এবার প্রকল্প দুটির ব্যয় আরও পর্যালোচনা ও যৌক্তিকীকরণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন উইংয়ের প্রধান অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা সিদ্দিকীকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার যানজট কমাতে মেট্রোরেল প্রকল্প দুটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি নেই। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং মূল প্রাক্কলনের তুলনায় বিপুল ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন কমিটির পর্যালোচনার পর প্রকল্প দুটির চূড়ান্ত ব্যয় কত দাঁড়াবে, তা নির্ধারণ হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়েছেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়েছেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) মাস্কের এই মন্তব্য সামনে আসে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে এবং ডিজেলের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ

শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ওয়াশিংটন একাধিকবার কিয়েভকে সতর্ক করলেও ইউক্রেন সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুদ্ধ বন্ধের সুযোগও জেলেনস্কি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিয়েভকে ছয়বার সতর্ক করার দাবি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত থাকতে ইউক্রেনকে অন্তত ছয়বার অনুরোধ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এসব অনুরোধের পরও হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপ কমাতে রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে কিয়েভ। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

স্টারলিংক নিয়েও বাড়ছে দূরত্ব

মাস্ক ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি নতুন নয়। ইউক্রেনের যুদ্ধে মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ, সেনা ইউনিটগুলোর সমন্বয় এবং বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে স্টারলিংক ব্যবহারের বিষয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছেন মাস্ক। ২০২২ সালে ক্রিমিয়ার কাছে রুশ নৌবহর লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্টারলিংক পরিষেবা সম্প্রসারণে তিনি সম্মতি দেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাস্কের যুক্তি ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপে স্পেসএক্স সরাসরি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যুদ্ধের কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্টারলিংক ব্যবহারের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য আরও সামনে এসেছে।

ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংকের গুরুত্ব বিবেচনায় মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি দেশটির সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর স্টারলিংক পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সূত্র: আরটি, অ্যাক্সিওস ও দ্য আটলান্টিক।

কালের আলো/জেএন

শিক্ষামন্ত্রী

ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশি কারিকুলামে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলকে নিজস্ব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সমমানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষার সর্বস্তরে সমতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কার্যকর পাঠদান জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের ৫০ নম্বর ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের জন্য ভর্তির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নুরুল ইসলাম জানান, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুযোগ সীমিত। তাঁদের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভর্তি নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের সভাপতি মোর্শেদুল ইসলাম দেশের উচ্চশিক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেওয়ায় দুই দিক থেকে আসা পর্যটক ও যানবাহন মাঝপথে আটকা পড়ে।

সাধারণত খাগড়াছড়ি ও সাজেকের মধ্যে প্রতিদিন দুই দফায় সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে অবরোধের কারণে রোববার যাতায়াত বিঘ্নিত হয়। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে যাওয়া পর্যটকেরা বাঘাইহাটের গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন। অন্যদিকে, সাজেক থেকে বের হওয়া পর্যটকেরাও মাচালং এলাকায় আটকে যান।

পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও আশ্বাসের পর বিকেল ৫টার দিকে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আটকে পড়া পর্যটকেরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

অবরোধ প্রত্যাহার হলেও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি