খুঁজুন
                               
, ,
           

মাঠ থেকে সমুদ্র—অর্থনীতির বিস্তৃত নকশা প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
মাঠ থেকে সমুদ্র—অর্থনীতির বিস্তৃত নকশা প্রধানমন্ত্রীর

কৃষকের মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, গ্রামের উদ্যোক্তা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ তরুণ, খাল-পানিপথ থেকে বঙ্গোপসাগরের বন্দর—বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের সম্ভাবনাকে একই সূত্রে বাঁধার একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত নয়; গ্রামীণ অর্থনীতি, শিল্প, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি। একইভাবে শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের বিষয় নয়; দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যম। আর বঙ্গোপসাগর শুধু ভৌগোলিক সীমারেখা নয়; বাণিজ্য, জ্বালানি, মৎস্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

শনিবার (০৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সংলাপ ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোক্তা থেকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ
  • দক্ষ তরুণ, সামাজিক সুরক্ষা ও নীল অর্থনীতিকে উন্নয়নের সঙ্গী করার পরিকল্পনা
  • বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা

কৃষির মাঠেই অর্থনীতির প্রথম ভিত্তি

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের শুরুতেই উঠে আসে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত।’ প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ সহজ করার পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা বাড়ানোর কথা জানান তিনি। কৃষির পরবর্তী ধাপ হিসেবে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।’ এখানে কৃষিকে কেবল উৎপাদনের জায়গায় না রেখে মূল্য সংযোজন, বাজার ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাই স্পষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ মাঠের উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চেইন তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগের জন্য নীতির নিশ্চয়তা

গ্রামীণ অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগকে প্রবৃদ্ধির দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানির সব খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।’ এই বক্তব্যে বিনিয়োগ আকর্ষণের সঙ্গে নীতির পূর্বানুমেয়তা ও ধারাবাহিকতাকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু বিনিয়োগ আহ্বান নয়, বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবেশ তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কার্ডে সামাজিক সুরক্ষা, মায়ের হাতে সহায়তা

অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষাকে লক্ষ্যভিত্তিক করার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই কাঠামোর মধ্যে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্যসেবার জন্য হেলথ কার্ড এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা এক জায়গায় পাওয়ার জন্য ইউনিভার্সাল কার্ডের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির লক্ষ্য হবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ফলে সামাজিক সুরক্ষাকে একাধিক বিচ্ছিন্ন কর্মসূচির বদলে সমন্বিত কাঠামোয় নেওয়ার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে।

ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা, নিয়োগে নারী অগ্রাধিকার

স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি জানান, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে; তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। এই কর্মীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেফারেল সেবা দেবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। পরিকল্পনাটির তাৎপর্য হলো—চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রোগী যাওয়ার অপেক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় নেওয়ার একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা।

সনদের বাইরে শিক্ষার নতুন লক্ষ্য

শিক্ষাকে কর্মজীবন ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিকল্পনায় সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তারের কথা রয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তির কথা জানান তিনি। মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তরুণদের প্রসঙ্গে এসে পরিকল্পনাটি আরও ভবিষ্যতমুখী হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপে সহায়তার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান তরুণেরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাক এবং ‘ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরিত করা হোক।

২০ হাজার কিলোমিটার খাল, ২৫ কোটি গাছ

উন্নয়ন পরিকল্পনায় পানি ও পরিবেশকে একই কাঠামোয় এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও পানিপথ পুনঃখননের পরিকল্পনা জানান তিনি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্যে কৃষি ও জলবায়ু—দুই দিকের প্রয়োজনই উঠে এসেছে। খাল ও জলপথ পুনঃখননের পরিকল্পনাকে কৃষির সহায়তা এবং জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যও জানান প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং গ্রিন ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার ৫৩টি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উন্নয়নের ভিত শক্ত করবে প্রতিষ্ঠান

অর্থনীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও জবাবদিহিকেও উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।’ প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সুদৃঢ় করার কথা জানিয়ে তিনি মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। অর্থাৎ তাঁর উপস্থাপিত উন্নয়ন-ভাবনায় অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করার বিষয়টিকেও ভিত্তি হিসেবে রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান

বাংলাদেশের বৈশ্বিক দায়িত্বের প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ এখনও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তাঁদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, স্থায়ী সমাধানও সেখানেই হতে হবে।

বঙ্গোপসাগর হবে অর্থনীতির নতুন দরজা?

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষভাগে উঠে আসে বঙ্গোপসাগর ও আঞ্চলিক সহযোগিতা। সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতিকে বিশ্বের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে বাণিজ্য, জথ সমৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে পারস্পরিক সুবিধা ও যৌথ সমৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

গ্রাম থেকে বৈশ্বিক সংযোগ

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বহুস্তরীয় চিত্র উঠে এসেছে—শুরুটা কৃষির মাঠে, পরের ধাপ শিল্প ও বিনিয়োগে; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষ তরুণ, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। পানি ও পরিবেশকে রাখা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে। আর বঙ্গোপসাগরকে দেখা হয়েছে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সংযোগের সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার হিসেবে। তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তব ফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের সক্ষমতা, অর্থায়ন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতার ওপর। পাঁচ বছরের পরিকল্পনার এই রূপরেখা তাই এখন বাস্তবায়নের পরীক্ষার সামনে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের বার্তা

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং সিজিএসের সভাপতি ও বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান। ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সংলাপ ৩ অক্টোবর শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। আলোচনায় বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জলবায়ু, প্রযুক্তি, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মতো বিষয় স্থান পেয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

খুলনায় রূপসা এক্সপ্রেসের ১২ চাকা লাইনচ্যুত, সীমান্ত এক্সপ্রেস অনিশ্চিত

খুলনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় রূপসা এক্সপ্রেসের ১২ চাকা লাইনচ্যুত, সীমান্ত এক্সপ্রেস অনিশ্চিত

খুলনায় রেলওয়ে ইয়ার্ডে রূপসা এক্সপ্রেসের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ওয়াশপিটে নেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বগি দুটির ১২টি চাকা লাইন থেকে ছিটকে পড়ে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, যাত্রা শেষে রূপসা এক্সপ্রেসের খালি ট্রেনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ওয়াশপিটে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় ইয়ার্ডের ভেতরে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটি খালি থাকায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

দুর্ঘটনার পর খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সীমান্ত এক্সপ্রেসের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কখন ট্রেনটি ছাড়তে পারবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া ঢাকাগামী ২৫ আপ নকশীকাঁথা এক্সপ্রেসের যাত্রাও প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

খুলনা স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। তবে সীমান্ত এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যুদ্ধ নয়, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায় বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ নয়, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন চায় বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের সঙ্গে জড়াতে চায় না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট শুধু একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিভিন্ন দেশকে ভোগাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতাও সহজে শেষ হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের অংশ এবং দেশটি স্থিতিশীলতা চায়। কারণ মানুষের প্রধান চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় বাংলাদেশের নেই। দিন শেষে এসব সংকটের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষই হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব যুদ্ধের প্রভাবেও বাংলাদেশকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করবে—এটাই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত। তাদের প্রয়োজন এমন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ, যেখানে তারা শান্তিতে কাজ করতে পারবেন এবং দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারবেন।

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ প্রতিপাদ্যে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনটি ৫ অক্টোবর শেষ হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গ্যাস সিলিন্ডারে বেশি দাম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
গ্যাস সিলিন্ডারে বেশি দাম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬ জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অধিদপ্তর জানায়, বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধ করতে এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।

অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি মানা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয়।

এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়েও সতর্ক করা হয়।

ভোক্তাদের সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি যাচাই করার পাশাপাশি মূল্যতালিকা দেখে রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।

গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ যোগাযোগ করা যাবে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি