জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি
প্রতিটি জন্মের সরকারি স্বীকৃতি এবং প্রতিটি মৃত্যুর নির্ভুল নথি নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সুশাসনের ভিত্তি গড়ে তোলে বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত সুশাসন’।
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে নির্ভুল জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করতে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান ড. মিখাল ক্রেজা এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ।
শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং সনদ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি নিবন্ধন কার্যালয় ও চারজন কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশন শ্রেণিতে শুদ্ধ নিবন্ধনের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পুরস্কৃত হয়। পৌরসভা শ্রেণিতে সম্মাননা পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভা।
ইউনিয়ন পরিষদ শ্রেণিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, নরসিংদী সদর উপজেলার কাঠালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়ন পরিষদকে পুরস্কৃত করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাইকে শুদ্ধ নিবন্ধনের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়।
সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে শ্রেষ্ঠ উপপরিচালক হিসেবে ঢাকা জেলার উপপরিচালক এবং শুদ্ধ নিবন্ধনে শ্রেষ্ঠ উপপরিচালক হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক পুরস্কার পান। একইভাবে শুদ্ধ নিবন্ধনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, জন্ম নিবন্ধন একটি শিশুর পরিচয়ের সরকারি স্বীকৃতি দেয় এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে মৃত্যু নিবন্ধন সরকারি নথিতে মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
জনসংখ্যা পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য এবং সরকারি সেবার চাহিদা নিরূপণেও জন্ম-মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array