খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যশস্য সংরক্ষণে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় খাদ্যশস্য আমদানি, দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সংরক্ষণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা এবং যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উঠে আসে।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ লাভবান হতে পারেন। এ ধরনের সহযোগিতা শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় ও বিভিন্ন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের খাদ্যশস্য আমদানির প্রসঙ্গ তুলে খাদ্যমন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছিল। চাল নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল এবং এর মানও সন্তোষজনক ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় পাকিস্তানের বাসমতী চালের প্রশংসা করেন খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে সরবরাহের সময়সূচি ও পণ্যের মান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় এ অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কী পরিমাণ চাল আমদানি করা হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যশস্য সংরক্ষণে উপযুক্ত প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় বাংলাদেশের খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থা আরও উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন খাদ্যমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যকর হলে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তিনি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পাকিস্তানের বাজারে সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও আনারসের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চাহিদাকে কাজে লাগানো গেলে রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব পণ্যের রপ্তানি কতটা বাড়বে বা এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা বৈঠকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়তে পারে। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ এবং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাশে ওয়াকাস ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

এলপিজির ৬০০ কোটি টাকা গেল কার পকেটে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
এলপিজির ৬০০ কোটি টাকা গেল কার পকেটে?

একটি সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে একজন গ্রাহক বাড়তি দিচ্ছেন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এমন লাখো গ্রাহকের বাড়তি খরচ জমতে জমতে এক মাসেই ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সেই সংকটের মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ—রান্নার গ্যাস কিনতে গিয়ে, পুরোনো সিলিন্ডার বদলাতে গিয়ে, এমনকি গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেও।

এ যেন সংকটের এক অদ্ভুত অর্থনীতি। বাজারে গ্যাসের ঘাটতি, সিলিন্ডার নিয়ে হাহাকার, নির্ধারিত দামে পণ্য না পাওয়া—কিন্তু ভোক্তার খরচ থেমে নেই। বরং সংকট যত দীর্ঘ হচ্ছে, রান্নার জ্বালানি কিনতে পরিবারের ব্যয় তত বাড়ছে। এর মধ্যেই আবার মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী ২৯ অক্টোবর এ বিষয়ে গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

  • এক মাসে ৬০০ কোটি টাকার বেশি বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ
  • সিলিন্ডারপ্রতি ৬৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনছেন গ্রাহক, সংকটের মধ্যেই ফের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ
  • মজুতের অভিযোগ, অকার্যকর সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা ও দুর্বল বাজার তদারকিতে ভোগান্তি বাড়ছে গ্রাহকের

এলপিজির বাজারে এখন তাই শুধু গ্যাসের সংকট নেই; আছে বাড়তি দামের চাপ, সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনার অচলাবস্থা, আমদানিতে অসমতা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন। এক মাসে ৬০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এই সংকটের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ দিকটি সামনে এনেছে—ভোক্তার বাড়তি ব্যয় কার কাছে যাচ্ছে, আর সেই অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কীভাবে?

বাজার চলে অন্য হিসাবে
অক্টোবর মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। বাজারে সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার কিনতেই গ্রাহককে ৪৬৩ থেকে ৬৬৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার তুলনায় রাজধানীতে দাম আরও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ব্যবধানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। একটি পরিবারের মাসিক বাজেটে রান্নার গ্যাস অপরিহার্য ব্যয়। দাম নির্ধারণের পরও যদি সেই দামে সিলিন্ডার না মেলে, তাহলে সরকারি মূল্যঘোষণার বাস্তব সুফল কোথায়? আর যে গ্রাহক বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁর সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় কে নেবে? সংকটের মধ্যে কোথাও পুরোনো সিলিন্ডার ফেরত নেওয়া হচ্ছে না। ফলে গ্যাস শেষ হলে খালি সিলিন্ডার বদলে নতুন গ্যাস নেওয়ার পরিবর্তে নতুন সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অর্থাৎ বাড়তি দাম দিয়ে গ্যাস কেনার পাশাপাশি সিলিন্ডারের জন্যও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

৬০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায়
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে এক মাসেই ভোক্তাদের কাছ থেকে ৬০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কথাও বলেছেন।

এই অভিযোগের তাৎপর্য বুঝতে বাজারের বাস্তব চিত্রই যথেষ্ট। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারে শত শত টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এই বাড়তি ব্যয় বহন করছেন এমন মানুষ, যাঁদের রান্নার গ্যাসের বিকল্প সহজে পাওয়া যায় না। কারও কাছে এটি মাসিক বাজেটের বড় ধাক্কা, কারও কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলানোর নতুন সংকট।

৬০০ কোটি টাকা তাই শুধু একটি বড় অঙ্ক নয়; এটি ভোক্তাদের সম্মিলিত বাড়তি ব্যয়ের প্রতীক। এই অর্থের বিপরীতে কত পরিবার বাড়তি খরচ করেছে, কত সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এবং বাজারের কোন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়েছে—এসবের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি। শামসুল আলমের দাবি, মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করতে হবে। দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বাজারে সংকট থাকলেই দাম বাড়বে, আর সেই বাড়তি খরচ নির্বিচারে ভোক্তাকে বহন করতে হবে—এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।

গ্যাস আছে, সিলিন্ডার নেই
দেশে এলপিজি আমদানির অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে ২৩টি কোম্পানির। কিন্তু গত আগস্টে আমদানি করেছে ১৩টি এবং সেপ্টেম্বরে মাত্র ১০টি কোম্পানি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনে বাজারে সরবরাহ করছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ প্রায় নামমাত্র।

লোয়াব ও বিইআরসি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার রয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ১০টি কোম্পানির সিলিন্ডার প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সেলিম খানের দাবি, প্রায় আড়াই কোটি সিলিন্ডার অলস পড়ে আছে। তাঁর ভাষ্য, ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি নিয়মিত এলপিজি সরবরাহ করছে না।

এই পরিস্থিতির একটি অদ্ভুত দিক আছে। একদিকে বাজারে সিলিন্ডার আছে, অন্যদিকে গ্রাহককে নতুন সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। কারণ, বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানির সিলিন্ডার অনেক খুচরা বিক্রেতা নিতে চাইছেন না। অথচ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ম অনুসারে কোম্পানিগুলোর যেকোনো সিলিন্ডার ফেরত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তিনটি এলপিজি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, একজন গ্রাহকের কাছে একটি সিলিন্ডার নিয়মিত পৌঁছে দিতে সরবরাহব্যবস্থায় চারটি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক সিলিন্ডার কার্যক্রমের বাইরে থাকলে আমদানি বাড়িয়েও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন। নিষ্ক্রিয় সিলিন্ডারগুলো ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারলে সরবরাহের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আমদানি হলেও স্বস্তি নেই
নিয়মিত আমদানিকারকদের তথ্য জানায়, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। একসময় মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টন পর্যন্ত আমদানি করা হলেও এখন সেই পরিমাণে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, চাহিদা বাড়লেও আমদানি সেই হারে বাড়ছে না।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, আমদানি কমেনি; তাই সরবরাহ সংকট হওয়ার কথা নয়। যেসব কোম্পানি আমদানি করতে পারছে না, তাদের ঋণপত্র খোলার জটিলতা কমাতে জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

কিন্তু বাজারের বাস্তবতা হলো, মোট আমদানির পরিমাণ আর প্রতিটি এলাকার গ্রাহকের কাছে গ্যাস পৌঁছানো এক বিষয় নয়। কোনো কোম্পানি সরবরাহ কমালে, কোনো পরিবেশক গ্যাস না পেলে কিংবা সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা অকার্যকর হলে আমদানি থাকা সত্ত্বেও সংকট তৈরি হতে পারে।

সংকটের মধ্যেই নতুন দাম, বাড়তি কমিশনের দাবি
এলপিজির দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, জাহাজভাড়া, বিমা, ডলারের বিনিময় হার ও জ্বালানি তেলের দাম বিবেচনা করে বিইআরসি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। তাই নতুন করে দাম সমন্বয় প্রয়োজন। পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও কমিশন বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত দামে ব্যবসা চালানো কঠিন। তাদের প্রস্তাব, প্রতি সিলিন্ডারে পরিবেশক পর্যায়ের কমিশন ৮০ টাকা বাড়াতে হবে। খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, আমদানিকারক বা অপারেটর কোম্পানিগুলোর বক্তব্য, প্রতি মাসে সৌদি আরবের ঘোষিত এলপিজি মূল্য, প্রিমিয়াম, জাহাজভাড়া, বিমা ও ডলারের দর ধরে দাম সমন্বয় করা হলেও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।

ব্যাংকের ঋণপত্রে জট, বাজারে সরবরাহের চাপ
আমদানি বন্ধ রাখা কোম্পানিগুলোর দাবি, গত দুই বছর ধরে তারা ঋণপত্র খুলতে সমস্যায় পড়ছে। শতভাগ অর্থ জমা না দিলে ব্যাংক ঋণপত্র দিচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় লেনদেনেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, নিয়মিত আমদানিকারকেরা বলছেন, বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে আমদানিতে বাধা নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকে বড় অঙ্কের দায় রয়েছে, তাদের আর্থিক জটিলতার কারণেই আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এই জটিলতা বাজারের সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু ঋণপত্র খোলার সুযোগ বাড়ানো যথেষ্ট নয়।

সংকট কাটার আশ্বাস, কিন্তু কবে?
ফ্রেশ এলপি গ্যাসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেছেন, আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আগামী মাসে সরবরাহ সংকট থাকবে না বলে তাঁরা আশা করছেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতির উন্নতিও হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকের কাছে সংকট কাটার অর্থ হলো—দোকানে গেলে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া, পুরোনো সিলিন্ডার বদলে নতুন গ্যাস নেওয়া এবং রান্নার জ্বালানি কিনতে বাড়তি অর্থ গুনতে না হওয়া। সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস তখনই অর্থবহ হবে, যখন এই পরিবর্তন বাস্তবে দেখা যাবে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

আইসিটি ও জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
আইসিটি ও জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকার জন্যও ধন্যবাদ জানান তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় মাসুমি কাকিনোকি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ইপিএ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এসব খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে সার উৎপাদন খাতেও জাপানের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

সার উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সার কারখানার অবস্থান, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বৈঠক-পরবর্তী তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানো গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও উৎপাদনশিল্পে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং দেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নারিকেলবাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় এ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জের নারিকেলবাগ এলাকায় আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে তারা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ইউনিট সরাসরি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হলেও তিনি কারখানার শ্রমিক, কর্মচারী নাকি অন্য কেউ—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কারখানাটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। কেরানীগঞ্জের এই অগ্নিকাণ্ডে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং কারখানার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি