খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

৫০ কিলোমিটার সড়কে গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
৫০ কিলোমিটার সড়কে গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া কার্পেটিং ও খানাখন্দের কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বিশেষ করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা অংশে পরিস্থিতি শোচনীয়। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। মহাসড়কের দুটি টোল প্লাজার আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন টোল আদায় হলেও সড়কের দুরবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

নবীগঞ্জের শেরপুর এলাকা থেকে আউশকান্দি বাজার, মিনাজপুর, জালালপুর, সৈয়দপুর, গোপলার বাজার, দেবপাড়া বাজার, ফুলতলী বাজার, পানিউমদা বাজার, বড়চর, বাহুবল ও মীরপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মালবাহী ট্রাক, লরি, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকিতে।

হানিফ বাসের চালক রহিম আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে হয়। সড়কের গর্তের কারণে যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন।

ট্রাকচালক কদর আলী বলেন, মালবাহী ট্রাক নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে অনীহা থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে চলতে হয়। বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কতটা গভীর গর্ত রয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

যাত্রী আব্দুল আলী বলেন, ভাঙা সড়কে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে নবীগঞ্জ অংশ দিয়ে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সড়কের বড় গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন অনেক সময় পথচারীদের ব্যবহৃত অংশ দিয়ে চলাচল করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সড়কের পাশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার জানান, মহাসড়কের বর্তমান অবস্থা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সংস্কারকাজে অনিয়মের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে দ্রুত মহাসড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, জনস্বার্থে মহাসড়কের দুরবস্থার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন। প্রয়োজনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ দিয়ে সড়ক, সেতু ও পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার, কাজের মান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকের ঢল

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকের ঢল

শরতের শেষভাগে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে পঞ্চগড়ের নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। বরফে ঢাকা শুভ্র পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের আলো পড়তেই কখনো লাল, কখনো কমলা, আবার কখনো ধূসর রূপে ধরা দিচ্ছে পর্বতটি। স্বচ্ছ আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন তেঁতুলিয়ায়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা গেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর ওপারে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর পিরামিডের মতো চূড়া প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। তবে মেঘ ও কুয়াশার কারণে সব সময় দেখা মেলে না এই পর্বতশৃঙ্গের। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভোরের আলোয় ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয় পাহাড়টি। কিছুক্ষণ পর আবার হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে।

এদিকে পঞ্চগড়ে দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গত দুই দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। পর্যটকদের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শীতের আমেজ, ভোরের কুয়াশা ও শিশিরভেজা প্রকৃতি বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে ভ্রমণে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলো এলাকা, মহানন্দা, করতোয়া, ডাহুক ও ভেরসা নদীর তীরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তবে আকাশ মেঘমুক্ত না থাকলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পর্বতটির দেখা নাও মিলতে পারে। এ কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকদের অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, প্রতিবছর তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এই দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন।

তিনি জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিকনিক কর্নার নতুন করে সাজানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। পাশাপাশি মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, হিমেল আবহাওয়া ও কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের কারণে প্রতিবছরই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে তেঁতুলিয়া। পর্যটনসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কুমিল্লার হোসেনপুরে পাখির কলকাকলিতে মুখর গ্রাম

কুমিল্লা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
কুমিল্লার হোসেনপুরে পাখির কলকাকলিতে মুখর গ্রাম

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার হোসেনপুর গ্রাম এখন হাজারো পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই গ্রামের গাছপালায় ফিরতে শুরু করে নানা প্রজাতির পাখি। ডানা ঝাপটানোর শব্দ আর পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। গ্রামবাসীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও সুরক্ষায় গত সাত বছর ধরে গড়ে উঠেছে পাখিদের এই আপন আবাস।

সরেজমিন দেখা যায়, ছায়াঘেরা হোসেনপুর গ্রামের উঁচু গাছগুলোর ডালে ডালে পাখির বিচরণ। সাদা বক, পানকৌড়ি, শালিক, চড়ুই ও টিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। ভোরে খাবারের সন্ধানে দলবেঁধে উড়ে যায় তারা। দিনের আলো ফুরিয়ে আসার আগেই আবার ফিরে আসে পরিচিত নীড়ে। রাত কাটিয়ে ভোর হতেই শুরু হয় তাদের ব্যস্ততা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাখির প্রতি গ্রামবাসীর রয়েছে গভীর মমতা। সাত বছরে মানুষ ও পাখির মধ্যে গড়ে উঠেছে এক নিবিড় সম্পর্ক। পাখিরা গ্রামটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে, আর গ্রামবাসীও তাদের সুরক্ষায় সচেতন রয়েছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষই পাখি শিকার ও ক্ষতি করার বিরুদ্ধে সোচ্চার।

পাখির অবাধ বিচরণ ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী দর্শনার্থী। নিরিবিলি গ্রামীণ পরিবেশে পাখির এমন নিরাপদ বিচরণ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতে, পাখির উপস্থিতি গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধও জাগিয়ে তুলছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির মাসউদ বলেন, হোসেনপুরের পাখির অভয়ারণ্য টিকিয়ে রাখতে প্রথমেই গাছপালা সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পাখি শিকার পুরোপুরি বন্ধে স্থানীয়দের সমন্বয়ে একটি সচেতনতামূলক কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও ভালোবাসার পরিবেশ পেলে মানুষ যেমন কোনো স্থানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তেমনি পাখিরাও নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসে। হোসেনপুরের মানুষ পাখিদের যেভাবে আগলে রেখেছেন, তা প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, তাঁরা পাখিদের বিরক্ত করেন না। গ্রামে কেউ পাখি শিকার করতে পারে না। এ কারণে পাখিরা এই গ্রামকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে।

একই গ্রামের কলেজছাত্র ইমরান আহমেদ বলেন, পাখির কলকাকলিতে তাঁদের গ্রাম সব সময় মুখর থাকে। এখানে পাখি শিকার নিষিদ্ধ। পাখির আগমনে গ্রামের পরিবেশ আরও সুন্দর হয়েছে। এ দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় বলেন, হোসেনপুর গ্রামের পাখি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেউ যাতে পাখি শিকার করতে না পারে, সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হোসেনপুর গ্রামের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তবে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল টিকিয়ে রাখতে গাছপালা সংরক্ষণ, শিকার বন্ধ এবং স্থানীয় মানুষের সচেতনতা অব্যাহত রাখা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হোসেনপুরকে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ধরে রাখা সম্ভব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছাতিম ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
ছাতিম ফুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ মৌলভীবাজার

হেমন্তের আগমনে সুগন্ধি ফুলে ভরে উঠেছে মৌলভীবাজারের কয়েকটি এলাকার ছাতিম গাছ। ডালে ডালে ফুটে থাকা সাদা ফুলের মিষ্টি সুবাস আর অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট ও বনজঙ্গলে প্রচুর দেখা গেলেও বর্তমানে কমছে ঐতিহ্যবাহী এই গাছের সংখ্যা।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান সড়কের কাকিয়ারপুল ও বিরাহিমপুর এলাকায় রয়েছে তিনটি বিশালাকার ছাতিম গাছ। হেমন্তের শুরু থেকেই গাছগুলোর ডালপালা ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং সুবাস নিতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সেখানে ভিড় করছেন।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও ছাতিম ফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই গাছ। শান্তিনিকেতনে ছাতিম গাছের নিচে বসে তিনি লেখালেখি ও পাঠদান করতেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ছাতিমের পাতা উপহার দেওয়ার ঐতিহ্যও রয়েছে সেখানে।

কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসেও ছাতিম ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাসের বর্ণনা পাওয়া যায়। কবি মোহাম্মদ জায়েদ আজিজের কবিতাতেও উঠে এসেছে এই ফুলের প্রতি মুগ্ধতা। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষভাবে পরিচিত ছাতিম ফুল হেমন্তের প্রকৃতিতেও যোগ করেছে অনন্য সৌন্দর্য।

ছাতিম একটি সুগন্ধি ফুলের গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Alstonia scholaris। গাছটি Apocynaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং অনুকূল পরিবেশে প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ছাতিম পরিচিত একটি বৃক্ষ। সংস্কৃত ভাষায় একে ‘সপ্তপর্ণ’ বা ‘সপ্তপর্ণা’ বলা হয়।

বাংলাদেশের আর্দ্র ও জলসিক্ত পরিবেশে ছাতিম গাছ জন্মাতে দেখা যায়। এর নরম কাঠ দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ড, পেনসিল ও প্যাকিংবক্স তৈরি করা হয়। গাছটির ছাল ও আঠা ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব ঔষধি ব্যবহারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।

একসময় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের রাস্তার পাশে, বন-জঙ্গলে ও বসতবাড়ির আশপাশে প্রচুর ছাতিম গাছ দেখা যেত। কিন্তু কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছটি রোপণে মানুষের আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি নির্বিচারে গাছ কাটা ও বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে অন্যান্য বৃক্ষের সঙ্গে ছাতিমও হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে।

শ্রীমঙ্গল আনওয়ারুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফসা খাতুন বলেন, একসময় তাঁদের এলাকায় অনেক ছাতিম গাছ ছিল। হেমন্তে ফুল ফুটলে চারপাশ সুগন্ধে ভরে উঠত। ছোটবেলায় মা-চাচিদের কাছে তিনি এই গাছের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর ঐতিহ্যগত ঔষধি ব্যবহারের কথাও শুনেছেন।

তিনি আরও বলেন, কাঠের বাণিজ্যিক মূল্য কম হওয়ায় বর্তমানে ছাতিম গাছ রোপণে মানুষের আগ্রহ কম। ফলে ক্রমেই কমছে এর সংখ্যা। আগামী প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী গাছের পরিচয় ধরে রাখতে ছাতিম সংরক্ষণ ও নতুন করে গাছ লাগানো জরুরি।

হেমন্তে ছাতিম ফুলের তীব্র সুবাস প্রকৃতিকে মোহিত করলেও গাছটির সংখ্যা কমে যাওয়া পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন সামনে এনেছে। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছাতিম গাছ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে নতুন গাছ রোপণ করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি