খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

‘সবার ভালোর কথা ভাইবা একলা রয়, ঘরে একলা রয়’ কন্ঠশিল্পী মমতাজের জনপ্রিয় একটি গান এখন মানুষের মুখে মুখে। এ গানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ঘরের ভেতর বন্দি থাকাই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

গোটা দুনিয়ার মতোই বাংলাদেশেও মানুষ মানুষ থেকে এতো দূরত্ব বজায় রাখেনি কখনও। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস গোটা দুনিয়ার মানুষ ও অর্থনীতির জন্য নিয়ে এসেছে চরম বিপর্যয়।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

জাতীয় জীবনে কঠিন এমন অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য দেশজুড়ে কঠোর হয়েছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

সড়কে সড়কে টহল দিয়ে সাধারণ মানুষকে যেমন সতর্ক করছেন তেমনি ‘সঙ্গনিরোধ’ নিশ্চিতেও তেড়েফুড়ে না ছুটে ইতিবাচক পদক্ষেপে জয় করেছেন দেশের মানুষের হৃদয়।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোর বাজার, পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিবিষ্টমনে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

শুধু কী তাই? করোনার সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার অজুহাতে যখন রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মিলছে না চিকিৎসা সেবা।

চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে কষ্ট আর ক্ষোভের অনলে পুড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। ঠিক এমন সময়েও বিপদে শেষ ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

বুধবার (০১ এপ্রিল) করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলা ও দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এই করোনাভাইরাসকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এবং সেই প্রস্তুতি নিয়ে আমরা আছি। সবাইকে সহযোগিতা করবো।’  

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, সাভার, লালমনিরহাটসহ দেশের প্রতিটি এলাকাতেই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সেনা সদস্যরা। দেশপ্রেম আর মানবিকবোধ থেকেই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেরা বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে তাদের এ সামাজিক কার্যক্রম ‘সিমিক’র সুনাম রয়েছে। নিজেদের চিরায়ত সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটছে এবার দেশের প্রতিটি এলাকায়।

এতে করে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত প্রতিটি মানুষের আস্থা আর ভালোবাসার অপর নাম হয়ে উঠেছেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা। সবাই একবাক্যে সেনা চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় নিজেদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সেবা পাচ্ছে না রোগীরা, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে একই চিত্র
করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর প্রভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের বেশিরভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে নুন্যতম সেবাও পাচ্ছে না সাধারণ রোগীরা। করোনার উপসর্গের সঙ্গে নুন্যতম মিল না থাকলেও রোগী ভর্তি অথবা চিকিৎসাসেবা দিতে চরম অনীহা প্রকাশ করছেন চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

গত ক’দিন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর গ্রিনরোড, পান্থপথ, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এই তো ক’দিন আগেও চিকিৎসকদের রাত অবধি রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন এসব হাসপাতালে সুনসান নীরব পরিবেশ। নেই নিরাপত্তারক্ষীদের হুইসেল বা গাড়ির জটলা।

চিকিৎসকরাও নিজেদের চেম্বার বন্ধ করে বাসায় অবস্থান করছেন। হাসপাতালের মূল ফটকেও ঝুলছে তালা। ভেতর থেকেও সাইনবোর্ডে জায়গা করে নিয়েছে ‘ক্লোজ’ শব্দটি। প্রায় অভিন্ন চিত্র রাজধানীর সরকারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বারডেম হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও।

ভয়ঙ্কর এমন চিত্র রাজধানীর বাইরের সরকারির হাসপাতাসমূহেও। খুলনায় চারটি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে রিফাত নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবরটি এখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’।

জ্বর, সর্দি-কাশির রোগীর বাইরে হৃদরোগ কিংবা কিডনি রোগে ভুগলেও মিলে না চিকিৎসা। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে করতেই বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ইতোমধ্যেই এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারগুলোর বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

চিকিৎসা বঞ্চিত বিপন্ন মানুষের পাশে সেনাবাহিনী
দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-দু:সময়ে সাধারণ মানুষের ‘প্রাণভ্রোমরা’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সব সময় বলে আসছেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলাসহ সব কাজে সুনাম অর্জন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুধু সামরিক অফিসার হিসেবে নয়, মানবিক গুণাবলীর কারণে বাংলাদেশের সেনারা মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।’

বাঙালি জাতির এমন সংকটময় মুহুর্তেও নিজেদের জীবনের কথা না ভেবে, নিজেদের পরিবার-স্বজনদের মায়া পেছনে ফেলে অন্ধকারে আশার আলো জ্বালিয়েছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় যখন চিকিৎসা সেবা হয়ে উঠেছে ‘সোনার হরিণ’ তখন উল্টো পিঠেই যেন চড়েছেন গর্বিত সেনা সদস্যরা।

তারা দাঁড়িয়েছেন অসহায় বিপন্ন মানুষের পাশে। বিনামূল্যে দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।

প্রায় প্রতিদিনই দেশের প্রতিটি এলাকায় এলাকায় জ্বর, ডায়াবেটিস, পেটের পীড়া ও পুষ্টিহীনতায় ভোগা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দিচ্ছেন সেনা চিকিৎসকরা।

বগুড়ায় সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশনের ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন জেলায় অসহায় সাধারণ রোগীদের জন্য চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনা সদস্যরা।

কালের আলো’র চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এ জেলাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার নিষেধজ্ঞার মধ্যে গ্রামে গ্রামে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পৌঁছে দিতে কাজ করছে সেনা সদস্যরা। শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরের পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসাবঞ্চিত না হোন, সেজন্য বাড়ির কাছেই চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ পৌছে দেয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেডিকেল ভ্যানে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তৃণমূল জনগোষ্ঠীকে।

স্থানীয় বারোঘরিয়া, গোহলাবাড়ির এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে সন্তুষ্ট এ জেলার বাসিন্দারা।

আমাদের খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এখানকার সদর উপজেলার দুর্গম রবিধানপাড়া এলাকায় হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৭৩ শিশুসহ শতাধিক নারী-পুরুষের সেবায় কাজ করছেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল।

আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুমিল্লা এরিয়া।

কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় টাউনহল মাঠ, ইপিজেড ও কালিয়াজুড়িতে প্রায় ৫ শতাধিক রোগীকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। রোগিদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন ডা.ক্যাপ্টেইন আয়েশা সিদ্দিকী।

৩৫ ফিল্ড অধিনায়ক কর্নেল মো. নাজমুল হুদা খান জানান, কুমিল্লা জেলাসহ বৃহত্তর কুমিল্লার ৬টি জেলায় সেনাবাহিনীর ৮টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

যারা অতি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন তারাই এ সেবা পাচ্ছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আমরা যাচ্ছি যেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দিনমজুর, পথশিশু, অসহায়রা আছেন তাদের সেবা দিচ্ছি।

গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, টঙ্গীর এরশাদ নগরের মজিদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ১১ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তারা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয়দের করণীয় নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার বোদা উপজেলার বালাভীড় আদিবাসী আশ্রয়ণ প্রকল্পে সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের কারণে দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে না পারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবার আয়োজন করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ এ চিকিৎসা সহায়তা ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য, আদিবাসী শিশু ও এলাকার গরিব দুস্থ নারী-পুরুষদের ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ এই স্বাস্থ্য ক্যাম্প থেকে মাইকে করোনা জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রচারণাও চালানো হয়।

আমাদের লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের তিস্তা-ধরলার নদীর চরাঞ্চলের অসহায় গরীব মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প।

রংপুর ৩৪ ইস্ট বেঙ্গল সেনাবাহিনীর (সিএমএইচ) চিকিৎসক ডা. মেজর কাওসার জানান, চরাঞ্চলের অসহায় গরীব মানুষরা যাতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, এ লক্ষ্যেই প্রত্যেকের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিনামূল্যে ওষুধসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি এখনো মূলত মৌলিক বা ‘বেসিক’ পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট, সোয়েটার, ইননারওয়্যার ও শিশুদের পোশাকের মতো পণ্যের রপ্তানি বেশি হলেও তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো সীমিত। ফলে বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা পোশাক খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ক্যালেন্ডার বছর ২০২৫-এর পোশাক রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩৮.৮২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। একই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) ইপিবি ও আইটিসির ট্রেড ম্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তুলনা করেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৭৬.৯৪ শতাংশই বেসিক ক্যাটাগরির পণ্য। অন্যদিকে বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এসব পণ্যের অংশ ৬১.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি বেসিক পণ্যের ওপর প্রায় ১৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি নির্ভরশীল।

প্যান্ট ও টি-শার্টে বেশি নির্ভরতা

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অংশ বটমওয়্যারের। মোট রপ্তানির ৩৩.৬৮ শতাংশ আসে প্যান্টজাতীয় পোশাক থেকে। বিশ্ববাজারে এ ধরনের পণ্যের অংশ ২১.৬৮ শতাংশ। একইভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ১৮.৬৪ শতাংশ আসে টি-শার্ট থেকে, যেখানে বিশ্ববাজারে এ হার ১০.০৯ শতাংশ।

তবে ছোট অ্যাক্সেসরিজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিপরীত। বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৭.৫২ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে তা মাত্র ০.৩৫ শতাংশ।

বেসিক ও উচ্চমূল্যের পণ্যের মাঝামাঝি ‘সেমি-বেসিক’ ক্যাটাগরির শার্ট ও ব্লাউজ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ১০.৩৩ শতাংশ অবদান রাখে। বিশ্ববাজারে এ হার ৭.৩৮ শতাংশ।

উচ্চমূল্যের পোশাকে বড় ব্যবধান

আউটারওয়্যার, ড্রেস, টেকনিক্যাল ওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও স্যুট—এই পাঁচ ধরনের পণ্যকে উন্নত বা ‘অ্যাডভান্সড’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়েছে। এসব পণ্যের সম্মিলিত অংশ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে মাত্র ৯.৩৫ শতাংশ। অথচ বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৩০.৪৬ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় ব্যবধান আউটারওয়্যারে। বিশ্ববাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ১৩.৪৫ শতাংশ আসে এ ক্যাটাগরি থেকে। বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৩.৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই বেসিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট ও সোয়েটারের মতো পণ্যে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বেশি হলেও বিশ্ববাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

তার মতে, শুধু একই ধরনের পণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। আউটারওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল ওয়্যার, ড্রেস ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পোশাকে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি পরিমাণ পোশাক রপ্তানি নয়, বরং বেশি মূল্য সংযোজন করা। এজন্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি সিনথেটিক ও নন-কটন পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্পোর্টসওয়্যারসহ বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

মহিউদ্দিন রুবেলের ভাষায়, পোশাক খাতের কৌশল এখন ‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’র দিকে নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারে অবস্থান শক্ত করতে পারলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি রপ্তানি আয় করা সম্ভব হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ও বিভিন্ন এইচএস-৬ পণ্যের হিসাবের মধ্যে ৩.৩৮ শতাংশ বা প্রায় ১.৩১৩ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশের পূর্ণ মিল পাওয়া যায়নি। বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি ইপিবির দুই ও ছয় ডিজিটের হিসাবের মধ্যকার একটি ব্যবধান। বিশ্ববাজারের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান প্রায় ০.৫৯ শতাংশ, যা মূলত রাউন্ডিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সরকারি বাসা বরাদ্দে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বন্ধ, আবেদন অনলাইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
সরকারি বাসা বরাদ্দে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বন্ধ, আবেদন অনলাইনে

অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন বাসা বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনলাইন পদ্ধতিতে সরকারি বাসার জন্য আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি বাসাগুলো পর্যায়ক্রমে অনলাইন ব্যবস্থায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আবাসন সংকটে ভোগান্তি

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর তুলনায় সরকারি বাসার সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে রাজধানীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজারের কিছু বেশি। বিপরীতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সব শ্রেণি মিলিয়ে বাসা বরাদ্দের সক্ষমতা ১৯ হাজার ৯১টি। অর্থাৎ মোট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাত্র ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশকে সরকারি বাসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে পরিদপ্তরের।

এই সীমিত আবাসনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাসা পেতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আজিমপুর, মতিঝিল ও ইস্কাটন এলাকায় চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

পরিদপ্তর সূত্র জানায়, আজিমপুর এলাকায় মাসে গড়ে ৮ থেকে ১০টি বাসা খালি হয়। অথচ এসব বাসার বিপরীতে গড়ে ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। ফলে একটি বাসা খালি হওয়ার পর তা বরাদ্দ পেতে আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি বাসার সংখ্যা কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটটি বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের আরও অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের পথে না গেলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালেই তৈরি হয়েছিল অনলাইন সক্ষমতা

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২০ সালেই অনলাইন বা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বাসা বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছিল। তবে নানা চাপ ও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে এতদিন এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে আবেদন, যাচাই ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে আসবে এবং দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও কমবে বলে তারা আশা করছেন।

গ্রেডভিত্তিক বাসা বরাদ্দ

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিব ভবনে গ্রেড-১ ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

গ্রেড-৩ তথা যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সুপিরিয়র শ্রেণিতে রয়েছে ৫৫৪টি বাসা। গ্রেড-৫ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য এফ শ্রেণিতে ১ হাজার ৪৭৭টি, গ্রেড-৬ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ই-শ্রেণিতে ১ হাজার ৪৭০টি বাসা রয়েছে।

এ ছাড়া ৭, ৮ ও ৯ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ডি-১ শ্রেণিতে ২ হাজার ৩৮২টি, ১০, ১১ ও ১২ গ্রেডের জন্য ডি-২ শ্রেণিতে ৪ হাজার ৪৭০টি এবং ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৭ হাজার ২৩২টি বাসা রয়েছে। এর বাইরে অস্থায়ী (পূর্ণ ও নির্ধারিত ভাড়া) এবং অস্থায়ী (একক আসন) শ্রেণির কিছু বাসাও রয়েছে।

অনলাইন পদ্ধতিতে সরকারি বাসা বরাদ্দের এ উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থায় বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপক স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

এ সময় তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগও করেছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় রূপান্তর করার জন্য বহু বছর ধরেই জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন এরদোগান।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের এটি মেনে নেওয়া উচিত, ১৯০টিরও বেশি দেশের সার্বিক ইচ্ছাকে মাত্র ৫টি দেশের খেয়ালখুশির ওপর জিম্মি করে রাখার যে ব্যবস্থা, তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এই ব্যবস্থা বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনেও পুরোপুরি ব্যর্থ।

এরদোয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল লক্ষ্য নিয়ে ৮১ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটি সেই মিশন বা উদ্দেশ্য পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। সংস্থাটিকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

গাজায় চলমান সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কঠোর সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, যাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র মনুষ্যত্ব, সমবেদনা ও দয়া রয়েছে এবং যাদের সামান্যতম ন্যায়বিচার ও বিবেকের বোধ রয়েছে, তাদের পক্ষে সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিনি নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস পর পর দুই বছর ধরে সাধারণ পরিষদের এই হলে নিজের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি।

আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের ওপর চালানো এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবিচার পুরো বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে আঘাত করে।

যেসব দেশ এখন পর্যন্ত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেগুলোকে অবিলম্বে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এরদোগান।

একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক আটক শিবির’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।

ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক গাজায় হামলা ও আগ্রাসনের জন্য শুরু থেকেই ইসরায়েলের অন্যতম সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

আঙ্কারার অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান স্পষ্টতই গণহত্যার শামিল।

দেশটি বারবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে। যদিও গণহত্যার সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে বর্বর  ইসরায়েল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ