খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

‘সবার ভালোর কথা ভাইবা একলা রয়, ঘরে একলা রয়’ কন্ঠশিল্পী মমতাজের জনপ্রিয় একটি গান এখন মানুষের মুখে মুখে। এ গানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ঘরের ভেতর বন্দি থাকাই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

গোটা দুনিয়ার মতোই বাংলাদেশেও মানুষ মানুষ থেকে এতো দূরত্ব বজায় রাখেনি কখনও। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস গোটা দুনিয়ার মানুষ ও অর্থনীতির জন্য নিয়ে এসেছে চরম বিপর্যয়।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

জাতীয় জীবনে কঠিন এমন অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য দেশজুড়ে কঠোর হয়েছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

সড়কে সড়কে টহল দিয়ে সাধারণ মানুষকে যেমন সতর্ক করছেন তেমনি ‘সঙ্গনিরোধ’ নিশ্চিতেও তেড়েফুড়ে না ছুটে ইতিবাচক পদক্ষেপে জয় করেছেন দেশের মানুষের হৃদয়।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোর বাজার, পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিবিষ্টমনে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

শুধু কী তাই? করোনার সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার অজুহাতে যখন রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মিলছে না চিকিৎসা সেবা।

চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে কষ্ট আর ক্ষোভের অনলে পুড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। ঠিক এমন সময়েও বিপদে শেষ ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

বুধবার (০১ এপ্রিল) করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলা ও দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এই করোনাভাইরাসকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এবং সেই প্রস্তুতি নিয়ে আমরা আছি। সবাইকে সহযোগিতা করবো।’  

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, সাভার, লালমনিরহাটসহ দেশের প্রতিটি এলাকাতেই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সেনা সদস্যরা। দেশপ্রেম আর মানবিকবোধ থেকেই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেরা বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে তাদের এ সামাজিক কার্যক্রম ‘সিমিক’র সুনাম রয়েছে। নিজেদের চিরায়ত সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটছে এবার দেশের প্রতিটি এলাকায়।

এতে করে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত প্রতিটি মানুষের আস্থা আর ভালোবাসার অপর নাম হয়ে উঠেছেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা। সবাই একবাক্যে সেনা চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় নিজেদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সেবা পাচ্ছে না রোগীরা, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে একই চিত্র
করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর প্রভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের বেশিরভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে নুন্যতম সেবাও পাচ্ছে না সাধারণ রোগীরা। করোনার উপসর্গের সঙ্গে নুন্যতম মিল না থাকলেও রোগী ভর্তি অথবা চিকিৎসাসেবা দিতে চরম অনীহা প্রকাশ করছেন চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

গত ক’দিন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর গ্রিনরোড, পান্থপথ, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এই তো ক’দিন আগেও চিকিৎসকদের রাত অবধি রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন এসব হাসপাতালে সুনসান নীরব পরিবেশ। নেই নিরাপত্তারক্ষীদের হুইসেল বা গাড়ির জটলা।

চিকিৎসকরাও নিজেদের চেম্বার বন্ধ করে বাসায় অবস্থান করছেন। হাসপাতালের মূল ফটকেও ঝুলছে তালা। ভেতর থেকেও সাইনবোর্ডে জায়গা করে নিয়েছে ‘ক্লোজ’ শব্দটি। প্রায় অভিন্ন চিত্র রাজধানীর সরকারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বারডেম হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেও।

ভয়ঙ্কর এমন চিত্র রাজধানীর বাইরের সরকারির হাসপাতাসমূহেও। খুলনায় চারটি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে রিফাত নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর খবরটি এখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’।

জ্বর, সর্দি-কাশির রোগীর বাইরে হৃদরোগ কিংবা কিডনি রোগে ভুগলেও মিলে না চিকিৎসা। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে করতেই বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ইতোমধ্যেই এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারগুলোর বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

চিকিৎসা বঞ্চিত বিপন্ন মানুষের পাশে সেনাবাহিনী
দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-দু:সময়ে সাধারণ মানুষের ‘প্রাণভ্রোমরা’ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সব সময় বলে আসছেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলাসহ সব কাজে সুনাম অর্জন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুধু সামরিক অফিসার হিসেবে নয়, মানবিক গুণাবলীর কারণে বাংলাদেশের সেনারা মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।’

বাঙালি জাতির এমন সংকটময় মুহুর্তেও নিজেদের জীবনের কথা না ভেবে, নিজেদের পরিবার-স্বজনদের মায়া পেছনে ফেলে অন্ধকারে আশার আলো জ্বালিয়েছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় যখন চিকিৎসা সেবা হয়ে উঠেছে ‘সোনার হরিণ’ তখন উল্টো পিঠেই যেন চড়েছেন গর্বিত সেনা সদস্যরা।

তারা দাঁড়িয়েছেন অসহায় বিপন্ন মানুষের পাশে। বিনামূল্যে দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।

প্রায় প্রতিদিনই দেশের প্রতিটি এলাকায় এলাকায় জ্বর, ডায়াবেটিস, পেটের পীড়া ও পুষ্টিহীনতায় ভোগা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র ও ওষুধ দিচ্ছেন সেনা চিকিৎসকরা।

বগুড়ায় সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশনের ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন জেলায় অসহায় সাধারণ রোগীদের জন্য চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনা সদস্যরা।

কালের আলো’র চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, এ জেলাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার নিষেধজ্ঞার মধ্যে গ্রামে গ্রামে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পৌঁছে দিতে কাজ করছে সেনা সদস্যরা। শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরের পর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসাবঞ্চিত না হোন, সেজন্য বাড়ির কাছেই চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ পৌছে দেয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেডিকেল ভ্যানে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তৃণমূল জনগোষ্ঠীকে।

স্থানীয় বারোঘরিয়া, গোহলাবাড়ির এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগে সন্তুষ্ট এ জেলার বাসিন্দারা।

আমাদের খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এখানকার সদর উপজেলার দুর্গম রবিধানপাড়া এলাকায় হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৭৩ শিশুসহ শতাধিক নারী-পুরুষের সেবায় কাজ করছেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল।

আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কুমিল্লা এরিয়া।

কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় টাউনহল মাঠ, ইপিজেড ও কালিয়াজুড়িতে প্রায় ৫ শতাধিক রোগীকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। রোগিদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন ডা.ক্যাপ্টেইন আয়েশা সিদ্দিকী।

৩৫ ফিল্ড অধিনায়ক কর্নেল মো. নাজমুল হুদা খান জানান, কুমিল্লা জেলাসহ বৃহত্তর কুমিল্লার ৬টি জেলায় সেনাবাহিনীর ৮টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

যারা অতি প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন তারাই এ সেবা পাচ্ছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আমরা যাচ্ছি যেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দিনমজুর, পথশিশু, অসহায়রা আছেন তাদের সেবা দিচ্ছি।

গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, টঙ্গীর এরশাদ নগরের মজিদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ১১ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তারা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয়দের করণীয় নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার বোদা উপজেলার বালাভীড় আদিবাসী আশ্রয়ণ প্রকল্পে সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের কারণে দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে না পারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবার আয়োজন করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ এ চিকিৎসা সহায়তা ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য, আদিবাসী শিশু ও এলাকার গরিব দুস্থ নারী-পুরুষদের ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ এই স্বাস্থ্য ক্যাম্প থেকে মাইকে করোনা জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রচারণাও চালানো হয়।

আমাদের লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের তিস্তা-ধরলার নদীর চরাঞ্চলের অসহায় গরীব মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প।

রংপুর ৩৪ ইস্ট বেঙ্গল সেনাবাহিনীর (সিএমএইচ) চিকিৎসক ডা. মেজর কাওসার জানান, চরাঞ্চলের অসহায় গরীব মানুষরা যাতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, এ লক্ষ্যেই প্রত্যেকের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিনামূল্যে ওষুধসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধ, চরম আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।

এফএও জানিয়েছে, শস্য, উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য—সব প্রধান খাদ্যপণ্যের দামই আগস্টে বেড়েছে। এর মধ্যে চিনির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। গত এক বছরের মধ্যে চিনির দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

খাদ্যশস্যের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়ে দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। কৃষ্ণসাগরে সামরিক হামলার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম ও ভুট্টা রপ্তানিতেও প্রভাব পড়ছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ফলে খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সার সরবরাহ নিয়েও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক সার বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও এল নিনোর প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ফসলের উৎপাদন কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ায় খাদ্যশস্য উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছে, চরম আবহাওয়ার কারণে আগামী বছরের শেষ নাগাদ আরও প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারে পাইকারি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে কয়েক মাসের মধ্যে এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়ে। ফলে খাদ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

খাদ্যশস্য রাখার জায়গা বাড়াতে একের পর এক প্রকল্প। বরাদ্দ হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, বাড়ছে ব্যয়, তবু বাড়ছে না কাঙ্ক্ষিত সংরক্ষণ সক্ষমতা। কোথাও তিন বছরেও কাজ এগিয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ, কোথাও এক যুগ পেরিয়েও শেষ হয়নি নির্মাণ। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া একটি প্রকল্পে মাটি খোঁড়ার পরই থেমে গেছে কাজ। পরে যৌক্তিকতা না পাওয়ায় সেটি অসমাপ্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি খাদ্যগুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর নামে নেওয়া চার প্রকল্পে মোট ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, দফায় দফায় সংশোধন, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও স্থান পরিবর্তনের কারণে এসব বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতার ঘাটতি কাটাতে গিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য এবং পরিকল্পনা কমিশন ও বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তিন বছরেও এক-চতুর্থাংশ কাজ
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩ জেলায় নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ১৪৫টি স্থাপনায় মোট ১৯৫টি গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ৮১৪ কোটি টাকা থাকলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫৫ কোটি টাকা। শুধু ব্যয়ই বাড়েনি, বেড়েছে সময়ও। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। আইএমইডির হিসাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ১১ শতাংশ। এরই মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আইএমইডির পর্যবেক্ষণে মাদারীপুরের কালকিনি ও বাগেরহাট প্যাকেজে ধীরগতি দেখা গেছে। গাছ ও পুরোনো অবকাঠামো সরাতেও সময় লেগেছে। শরীয়তপুরের আঙ্গারিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরল এবং মোংলা এলএসডিতে জায়গার সংকট রয়েছে। এ ছাড়া লে-আউট জটিলতা, প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন, প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. সোহেলুর রহমান খান বলেন, সময়মতো পরিচালক নিয়োগ না হওয়া, নির্ধারিত স্থানে কাজ করতে না পারা, স্থান পরিবর্তন এবং রেট শিডিউলের কারণে ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন প্রকল্প পরিচালক টেন্ডারের উদ্যোগ নিলেও কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম এখন সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে।

এক যুগেও শেষ হয়নি ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার প্রকল্প
সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামোর সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ লাখ ৮৭ হাজার টন ধারণক্ষমতার সাতটি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনার মহেশ্বরপাশা, চট্টগ্রাম ও মধুপুরে এসব সাইলো নির্মাণের কথা। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ রয়েছে ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। চার দফা সংশোধনের পর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও পুরো কাজ শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের ৯৫ দশমিক ০৫ শতাংশই খরচ হয়ে গেছে। তারপরও বাকি কাজ শেষ করতে আবারও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পের মূল কার্যালয় ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রকল্প, শেষ পর্যন্ত বাতিল
খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্বাচনি এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুরে ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার চালের সাইলো নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি পর্যালোচনায় আসে। এরপর দেখা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি খোঁড়া ছাড়া বাস্তবে আর কোনো কাজ এগোয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ছিল শূন্য। প্রকল্প পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, নতুন ফিজিবিলিটি স্টাডিতে মহাদেবপুরে প্রকল্পটি নেওয়ার যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি। ফলে অসমাপ্ত অবস্থায় রেখেই প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—যে প্রকল্পের যৌক্তিকতাই শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না, সেটির পেছনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন কেন হয়েছিল?

মেরামতের প্রকল্পেও ধীরগতি
ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো মেরামতে ২৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ করার কথা। লক্ষ্য ছিল সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, খাদ্যশস্যের অপচয় কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ৩২ শতাংশ হলেও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৩ শতাংশ। প্রকল্প পরিচালক এ টি এম কাউছার হোসেন জানান, সময়মতো বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। ঠিকাদারদের বিলও আটকে রয়েছে।

সরকারি গুদাম বনাম বেসরকারি সক্ষমতা
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম। সরকারি গুদামে বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টন খাদ্যশস্য রাখা যায়। বিপরীতে বেসরকারি খাতের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ কোটি টন। অর্থাৎ বিপুল সরকারি বিনিয়োগের পরও সংরক্ষণ সক্ষমতার বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম নির্মাণ টেকসই সমাধান নয়। সহজ শর্তে ঋণ, কর অবকাশ ও ভর্তুকির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে খাদ্য সংরক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। তার মতে, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়তে থাকলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র, নির্মাণকাজের মান এবং অর্থ ব্যয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি কতটা?
খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও মজুদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম কিংবা গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সম্প্রতি মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুর্যোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবতা হলো, একদিকে খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ, অন্যদিকে সেই লক্ষ্যেই নেওয়া প্রকল্পের ধীরগতি। কোথাও ব্যয় বাড়ছে, কোথাও মেয়াদ; কোথাও আবার প্রকল্পের যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে। ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার এই চার প্রকল্প তাই শুধু গুদাম নির্মাণের হিসাব নয়—এটি সরকারি প্রকল্প পরিকল্পনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিরও পরীক্ষা। খাদ্য নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর খাতে জনগণের অর্থ খরচ করে যদি সময়মতো গুদামই না হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগের সুফল শেষ পর্যন্ত যাবে কোথায়—এ প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ থেকে ১৪ দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা দল। রোমাঞ্চকর ফাইনালে ত্রিশাল উপজেলা দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঈশ্বরগঞ্জ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দর্শকদের করতালি ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
ঈশ্বরগঞ্জের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ১১ নম্বর জার্সিধারী রাব্বুল। তাঁর জোড়া গোলেই শিরোপা নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ। ত্রিশাল একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে গোল্ডকাপ নিজেদের করে নেয় ঈশ্বরগঞ্জ।
ফাইনালের আগে ও ম্যাচ চলাকালে ঈশ্বরগঞ্জ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তাঁর উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা খেলোয়াড়দের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জের রাব্বুল। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ত্রিশালের ১০ নম্বর জার্সিধারী ফাহাদ। ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলা দল।
৭০ মিনিটের ফাইনাল দেখতে বিকেল থেকেই ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে ভিড় করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। ম্যাচ শুরুর পর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গ্যালারি। দুই দলের সমর্থকদের স্লোগান, উল্লাস ও করতালিতে পুরো স্টেডিয়ামে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
ফাইনাল শেষে বিজয়ী ঈশ্বরগঞ্জ ও রানার্সআপ ত্রিশাল দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। দুই দলের মধ্যে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান এবং ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় গত ২৫ আগস্ট শুরু হয় এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলাসহ জেলার ১৪টি দল এতে অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ফাইনালে ত্রিশালকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে ঈশ্বরগঞ্জ। রাব্বুলের জোড়া গোল ও দলের লড়াকু পারফরম্যান্সে গোল্ডকাপ এখন ঈশ্বরগঞ্জের ঘরে। শিরোপা জয়ের পথে খেলোয়াড়দের পাশে থেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জোগানো এমপি মাজেদ বাবুর ভূমিকাও প্রশংসা পেয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি