খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত সিদ্ধান্তে কুয়েতে সেনা মেডিকেল টিম, বাংলাদেশ-কুয়েত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত সিদ্ধান্তে কুয়েতে সেনা মেডিকেল টিম, বাংলাদেশ-কুয়েত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভয়ঙ্কর থাবায় বিশ্বজুড়ে লাখ ছাড়িয়েছে মৃত্যুর মিছিল। ইতালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে সবখানেই।

পৃথিবীর ‘ফুসফুস’ খ্যাত গহীন বনাঞ্চল আমাজানেও হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। ভয়াবহ ছোঁয়াচে এই জীবাণু বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে মরুর দেশ কুয়েতেও।

তবে আগে থেকেই সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রত্যাশার কথা জানান।
 
সেনাপ্রধান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করলে মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধুপ্রতীম দেশটির আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। তাঁর সময়োচিত সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যেই সেখানে পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্যের একটি মেডিকেল টিম।

এছাড়া কুয়েত সেনাবাহিনীর প্রতি প্রগাঢ় বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সৌজন্যমূলক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় মেডিকেল কিট।

বাংলাদেশী সেনাদের বন্দনায় মুখর কুয়েতের গণমাধ্যম
বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে কুয়েতে অবতরণ করে কুয়েত বিমান বাহিনীর একটি স্পেশাল কার্গো বিমান। সেখানে পৌঁছে যান ১০০ জনের সেনা মেডিকেল টিমও।

এরপর থেকেই কুয়েতের প্রথম সারির পেশাদার গণমাধ্যমসমূহ ভাসছে বাংলাদেশী সেনাদের বন্দনায়।

আক্ষেপ বা হতাশার এই সময়টিতে বাংলাদেশ সরকারের বিরল ভালোবাসা মরুভূমির দেশটির সবার মাঝেই এখন যেন বয়ে দিচ্ছে অবারিত আনন্দের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস।

দেশটির প্রথম সারির ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রচার করেছে কুয়েতের ডাকে সাড়া দিয়ে আবারও বাংলাদেশ সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর করোনার ভয়াবহতার মুখেও কুয়েতকে বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল হওয়ার বাস্তব চিত্র।

কান্না আর লাশের মিছিল ঠেকাতে অদম্য মনোবলে সর্বোচ্চ সেবা দিয়েই বাংলাদেশী সেনাদের মেডিকেল টিম মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করেই নিজেদের মেধা ও শ্রম ঢেলে দিবেন।

নিজেরা হয়ে উঠবেন মানবসেবার অগ্নিপরীক্ষায় বীরত্বের নায়কোচিত আদর্শ, এমন আশা জাগানিয়া খবরও প্রকাশিত হয়েছে তাদের গণমাধ্যমসমূহে।  

করোনায় কুয়েতকে চিকিৎসা সহায়তার নেপথ্যে
ইরানোর মতো ভয়ানক পরিস্থিতি এড়ানোর পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে সার্বিক চিকিৎসা সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনী। বাংলাদেশ সরকারও তাদের নিরাশ করেনি। দ্রুতই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর কুয়েতকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে ফোনে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেন।

পরে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

সরকার প্রধানের এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুয়েতে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও ১০০ সদস্যের সেনা মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। কুয়েত সরকারের নির্দেশে সেখানকার মানুষজনের চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করবে তারা।

করোনা মহামারী ঠেকাতে কুয়েতের যতো পদক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পর কুয়েতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

দেশটিতে এখনও কারও মৃত্যুবরণের কথা শোনা যায়নি। তবে করোনা মহামারী রুখে দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় দেশটির সরকার।

প্রথমেই দশ দেশের নাগরিকদের কুয়েত প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘরবন্দি করতে সচেতনতামূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সেনাদের কর্মদক্ষতায় খুশি কুয়েত
করোনার কালো থাবা থেকে কুয়েতকে মুক্ত করতে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দেশটিতে দু’টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হয়েছে। বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকরা নিজেদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়েই পরিচালনা করছেন এসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশী সেনা চিকিৎসকদের কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্প্রতি ফোনালাপে এসব সেনা চিকিৎসকদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, নৈতিক মনোবল ও পেশাদারিত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন কুয়েতের সর্বোচ্চ এ সামরিক কর্মকর্তা।

দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৩০ বছর
১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর কুয়েত রক্ষায় দেশটিতে মোতায়েন করা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠনের (ওকেপি) অংশ হিসেবে ইরাকের দখলদারিত্ব থেকে কুয়েত রক্ষায় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশি সেনারা।

সেই হিসেবে কুয়েতের স্বাধীনতার পুনর্গঠনেরও অংশীদার বাংলাদেশের সাহসী সেনা সদস্যরা।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পারদর্শী ও সাহসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম কুয়েতের আমীর পরিবারের মুখে মুখে। সাধারণ মানুষও বেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ত্যাগ ও তাদের ভূমিকার কথা। বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে সম্পর্ক অন্য রকম উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছে।

বন্ধু রাষ্ট্রের দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস যেমন বেড়েছে তেমনি জোরদার হয়েছে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও। কুয়েত সরকার ও তাদের সেনাবাহিনী সব সময় তাদের দেশ পুনর্গঠনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান ও আত্নত্যাগ কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই স্মরণ করেন।

উভয় দেশের কল্যাণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ ও কুয়েত সেনাবাহিনীর মধ্যকার সুস্পর্ক আরও জোরদার হয় গত বছরের ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কুয়েত সফরের মধ্যে দিয়ে।

চারদিনের সরকারি সেই সফরে সেনাপ্রধান কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাতে কুয়েতের শীর্ষ এ সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশকে কুয়েতের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র মতে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সবিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ ওই সফরের আড়াই মাসের মাথায় সুসংবাদ আসে। সেনাপ্রধানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দূয়ার খুলে দেয় কুয়েত সরকার।

তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওকেপি-৯ কন্টিনজেন্টের সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন থেকে বেড়ে ৬৩৯ জনে উন্নীত করার বিষয়টি ওই বছরের বৃহস্পতিবার (৩০ মে) অনুমোদন করে এবং শিগগির সেখানে চাহিদা মোতাবেক সেনা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন গর্বিত সেনা সদস্যরা
পারস্য উপসাগরের তীর ঘেষে গড়ে উঠা কুয়েতকে মাইনমুক্ত ও পুনর্গঠনে এখনও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা।

বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সেখানে সাহসিকতার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব পরিমন্ডলে উজ্জ্বল করেছেন গর্বিত সেনাসদস্যরা।

একইভাবে যদি দেশের মিশনগুলোও নিজ নিজ দায়িত্বে এমন প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতো তবে লাল-সবুজের বাংলাদেশের সুনাম-সুখ্যাতি আরও বাড়তো বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আবারও মানবতার জন্যই বুক চিতিয়ে লড়াই
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো কুয়েতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত মেডিকেল টিমের সুনাম রয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় কুয়েতের চরম এই দু:সময়েও বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকরা পরিবার, পরিজন, সন্তান-প্রিয়জন সব ভুলে মানবতার জন্যই বুক চিতিয়ে লড়াই করবেন।

কুয়েতের মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের সমর্পণ করে শক্তি, সাহস ও আশা জাগাবেন তাদের মনে।

পরাজয়ের গ্লানি গায়ে না মেখে বরাবরের মতো এবারও নিজেদের গৌরবদীপ্ত পথচলার ধারবাহিকতায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ের হাসি মুখে নিয়েই মানবতার বিজয় কেতন উড়িয়েই দেশে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশা সবার।

কালের আলো/এসআর/এমএএএমকে

বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সরকার সমর্থন করে না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ; বার

কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা; মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতিনৈতিকতাবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্যকর বিধান এবং গুজব, ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রেস কাউন্সিলের স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত পরিবেশ, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশ, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন বলেন, পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টসমূহের বিষয়বস্তু, প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদারের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে বাসসে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়ায়, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মোট ৩ হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ১ হাজার ৪৩৬টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ১ হাজার ২৩১টি, মাসিক পত্রিকা ৪৫২টি, পাক্ষিক পত্রিকা ২১৫টি এবং অর্ধসাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকার সংখ্যা ৫৪।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়াসহ সাত দফা দাবি আদায়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পল্টন মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।

মিছিলে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবি ছিল, এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন, ফ্যাসিস্ট আমলে বন্দুকের নলের মুখে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে ইসলামী ব্যাংকের দায় মেটানো ও ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, ব্যাংকটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকখাতে অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

এছাড়া, পূর্বঘোষিত সাত দফা দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে এই বৈরী আবহাওয়া অতিক্রম করতে পারে। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঝোড়ো আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নৌযান ও যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি