খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত সিদ্ধান্তে কুয়েতে সেনা মেডিকেল টিম, বাংলাদেশ-কুয়েত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত সিদ্ধান্তে কুয়েতে সেনা মেডিকেল টিম, বাংলাদেশ-কুয়েত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভয়ঙ্কর থাবায় বিশ্বজুড়ে লাখ ছাড়িয়েছে মৃত্যুর মিছিল। ইতালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে সবখানেই।

পৃথিবীর ‘ফুসফুস’ খ্যাত গহীন বনাঞ্চল আমাজানেও হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। ভয়াবহ ছোঁয়াচে এই জীবাণু বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে মরুর দেশ কুয়েতেও।

তবে আগে থেকেই সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রত্যাশার কথা জানান।
 
সেনাপ্রধান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করলে মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধুপ্রতীম দেশটির আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। তাঁর সময়োচিত সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যেই সেখানে পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্যের একটি মেডিকেল টিম।

এছাড়া কুয়েত সেনাবাহিনীর প্রতি প্রগাঢ় বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সৌজন্যমূলক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় মেডিকেল কিট।

বাংলাদেশী সেনাদের বন্দনায় মুখর কুয়েতের গণমাধ্যম
বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে কুয়েতে অবতরণ করে কুয়েত বিমান বাহিনীর একটি স্পেশাল কার্গো বিমান। সেখানে পৌঁছে যান ১০০ জনের সেনা মেডিকেল টিমও।

এরপর থেকেই কুয়েতের প্রথম সারির পেশাদার গণমাধ্যমসমূহ ভাসছে বাংলাদেশী সেনাদের বন্দনায়।

আক্ষেপ বা হতাশার এই সময়টিতে বাংলাদেশ সরকারের বিরল ভালোবাসা মরুভূমির দেশটির সবার মাঝেই এখন যেন বয়ে দিচ্ছে অবারিত আনন্দের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস।

দেশটির প্রথম সারির ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রচার করেছে কুয়েতের ডাকে সাড়া দিয়ে আবারও বাংলাদেশ সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর করোনার ভয়াবহতার মুখেও কুয়েতকে বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল হওয়ার বাস্তব চিত্র।

কান্না আর লাশের মিছিল ঠেকাতে অদম্য মনোবলে সর্বোচ্চ সেবা দিয়েই বাংলাদেশী সেনাদের মেডিকেল টিম মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করেই নিজেদের মেধা ও শ্রম ঢেলে দিবেন।

নিজেরা হয়ে উঠবেন মানবসেবার অগ্নিপরীক্ষায় বীরত্বের নায়কোচিত আদর্শ, এমন আশা জাগানিয়া খবরও প্রকাশিত হয়েছে তাদের গণমাধ্যমসমূহে।  

করোনায় কুয়েতকে চিকিৎসা সহায়তার নেপথ্যে
ইরানোর মতো ভয়ানক পরিস্থিতি এড়ানোর পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে সার্বিক চিকিৎসা সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনী। বাংলাদেশ সরকারও তাদের নিরাশ করেনি। দ্রুতই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর কুয়েতকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে ফোনে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেন।

পরে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

সরকার প্রধানের এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুয়েতে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও ১০০ সদস্যের সেনা মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। কুয়েত সরকারের নির্দেশে সেখানকার মানুষজনের চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করবে তারা।

করোনা মহামারী ঠেকাতে কুয়েতের যতো পদক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পর কুয়েতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

দেশটিতে এখনও কারও মৃত্যুবরণের কথা শোনা যায়নি। তবে করোনা মহামারী রুখে দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় দেশটির সরকার।

প্রথমেই দশ দেশের নাগরিকদের কুয়েত প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘরবন্দি করতে সচেতনতামূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সেনাদের কর্মদক্ষতায় খুশি কুয়েত
করোনার কালো থাবা থেকে কুয়েতকে মুক্ত করতে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দেশটিতে দু’টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হয়েছে। বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকরা নিজেদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়েই পরিচালনা করছেন এসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশী সেনা চিকিৎসকদের কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্প্রতি ফোনালাপে এসব সেনা চিকিৎসকদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, নৈতিক মনোবল ও পেশাদারিত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন কুয়েতের সর্বোচ্চ এ সামরিক কর্মকর্তা।

দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৩০ বছর
১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর কুয়েত রক্ষায় দেশটিতে মোতায়েন করা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠনের (ওকেপি) অংশ হিসেবে ইরাকের দখলদারিত্ব থেকে কুয়েত রক্ষায় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশি সেনারা।

সেই হিসেবে কুয়েতের স্বাধীনতার পুনর্গঠনেরও অংশীদার বাংলাদেশের সাহসী সেনা সদস্যরা।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পারদর্শী ও সাহসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম কুয়েতের আমীর পরিবারের মুখে মুখে। সাধারণ মানুষও বেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ত্যাগ ও তাদের ভূমিকার কথা। বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে সম্পর্ক অন্য রকম উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছে।

বন্ধু রাষ্ট্রের দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস যেমন বেড়েছে তেমনি জোরদার হয়েছে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও। কুয়েত সরকার ও তাদের সেনাবাহিনী সব সময় তাদের দেশ পুনর্গঠনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান ও আত্নত্যাগ কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই স্মরণ করেন।

উভয় দেশের কল্যাণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ ও কুয়েত সেনাবাহিনীর মধ্যকার সুস্পর্ক আরও জোরদার হয় গত বছরের ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কুয়েত সফরের মধ্যে দিয়ে।

চারদিনের সরকারি সেই সফরে সেনাপ্রধান কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাতে কুয়েতের শীর্ষ এ সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশকে কুয়েতের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র মতে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সবিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ ওই সফরের আড়াই মাসের মাথায় সুসংবাদ আসে। সেনাপ্রধানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দূয়ার খুলে দেয় কুয়েত সরকার।

তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওকেপি-৯ কন্টিনজেন্টের সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন থেকে বেড়ে ৬৩৯ জনে উন্নীত করার বিষয়টি ওই বছরের বৃহস্পতিবার (৩০ মে) অনুমোদন করে এবং শিগগির সেখানে চাহিদা মোতাবেক সেনা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন গর্বিত সেনা সদস্যরা
পারস্য উপসাগরের তীর ঘেষে গড়ে উঠা কুয়েতকে মাইনমুক্ত ও পুনর্গঠনে এখনও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা।

বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সেখানে সাহসিকতার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব পরিমন্ডলে উজ্জ্বল করেছেন গর্বিত সেনাসদস্যরা।

একইভাবে যদি দেশের মিশনগুলোও নিজ নিজ দায়িত্বে এমন প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতো তবে লাল-সবুজের বাংলাদেশের সুনাম-সুখ্যাতি আরও বাড়তো বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আবারও মানবতার জন্যই বুক চিতিয়ে লড়াই
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো কুয়েতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত মেডিকেল টিমের সুনাম রয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় কুয়েতের চরম এই দু:সময়েও বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকরা পরিবার, পরিজন, সন্তান-প্রিয়জন সব ভুলে মানবতার জন্যই বুক চিতিয়ে লড়াই করবেন।

কুয়েতের মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের সমর্পণ করে শক্তি, সাহস ও আশা জাগাবেন তাদের মনে।

পরাজয়ের গ্লানি গায়ে না মেখে বরাবরের মতো এবারও নিজেদের গৌরবদীপ্ত পথচলার ধারবাহিকতায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ের হাসি মুখে নিয়েই মানবতার বিজয় কেতন উড়িয়েই দেশে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশা সবার।

কালের আলো/এসআর/এমএএএমকে

‘কেতকীদি’ থেকে বাংলা সাহিত্যের অনন্য নাম, স্মৃতিতে কেতকী কুশারী ডাইসন

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
‘কেতকীদি’ থেকে বাংলা সাহিত্যের অনন্য নাম, স্মৃতিতে কেতকী কুশারী ডাইসন

শরৎকালের দিকে এগিয়ে যাওয়া এক বিষণ্ণ বিকেলে পুরোনো স্মৃতির দরজা খুলে যায়। সেই স্মৃতির কেন্দ্রে এমন একজন মানুষ, যিনি বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার জগতে দুই বাংলার পাঠকের কাছেই ছিলেন পরিচিত ও সম্ভ্রমজাগানো নাম—কেতকী কুশারী ডাইসন। তবে অনেকের কাছে তিনি যতটা না ‘কেতকী কুশারী ডাইসন’, তার চেয়েও বেশি আপন ছিলেন ‘কেতকীদি’ নামে।

ছবি<< সংগৃহীত

অক্সফোর্ডের বাড়িতে এক অন্যরকম জগৎ

বইয়ে ঠাসা পড়ার ঘর, লেখালেখির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও কিবোর্ড, আর বাড়ির সামনে নিজের মতো বেড়ে ওঠা গাছপালা—সব মিলিয়ে সেই বাড়িতে ছিল না কোনো বাড়তি আড়ম্বর। ছিল শান্ত, নিবিড় এক জীবনযাপন।

কেতকী চিনিয়েছিলেন হর্সচেস্টনাট, হানিসাকল ও উইপিং উইলোর মতো গাছ।  ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রেপসিডের ক্ষেত। প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর। ইংল্যান্ডের মাটি ও প্রকৃতি যেমন তাঁর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল, তেমনি বাংলাদেশের ও বাংলার স্মৃতিও তাঁর সৃষ্টির ভেতর থেকে কখনো হারিয়ে যায়নি।

ছবি<< সংগৃহীত

 

শিউলি আর হর্সচেস্টনাটের মধ্যে দেশ খোঁজা

কেতকীর কবিতায় প্রবাসজীবনের এই দ্বৈত অনুভূতির এক অনন্য প্রকাশ পাওয়া যায় ‘বৃষ্টির পর’ কবিতায়। বৃষ্টির পর ভেজা বিকেলে একটি লাল গাড়ির গায়ে লেপ্টে থাকা ফুল দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সেগুলো বুঝি শিউলি।

শরতের অগ্রদূত শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শুধু একটি ফুল নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘরে ফেরার স্মৃতি, উৎসব ও শৈশবের অনুভূতি। কিন্তু পরে মনে হয়, ফুলগুলো হয়তো ইংল্যান্ডের হর্সচেস্টনাটের ফুল। শিউলির সঙ্গে তার মিল খুঁজে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু ফুলের উৎস জানার আগেই গাড়িটি চলে যায়।

এই ছোট্ট ঘটনাটিই যেন প্রবাসী জীবনের এক বড় সত্যকে সামনে আনে—দূরের দেশে থেকেও মানুষ নিজের শিকড়কে খুঁজে ফেরে পরিচিত গন্ধ, ফুল, ঋতু ও স্মৃতির ভেতর।

ছবি<< সংগৃহীত

দোলনচাঁপায় ফুটেছিল প্রবাসের শারদ উপহার

কেতকীর ‘দোলনচাঁপায় ফুল ফুটেছে’ কবিতাতেও রয়েছে একই রকম শিকড়ের টান। বীরভূম থেকে একটি দোলনচাঁপার চারা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অক্সফোর্ডের বাড়িতে। শীত এলে গাছটির মাটির ওপরের অস্তিত্ব হারিয়ে যেত, বসন্তে আবার নতুন করে জীবন ফিরে পেত। কিন্তু বছরের পর বছর ফুল ফুটত না।

অবশেষে বাড়িতে আনার প্রায় ১২ বছর পর দোলনচাঁপায় ফুল ফুটল। দুর্গাপূজার প্রতিটি দিন যেন একটি করে ফুল দিয়ে প্রবাসী জীবনে নিয়ে এল বাংলার শরতের ঘ্রাণ।

দোলনচাঁপা যেন তখন শুধু একটি গাছ ছিল না, হয়ে উঠেছিল লেখিকার নিজের জীবনের প্রতীক। যে মানুষটি বহু দশক আগে দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে বসতি গড়েছিলেন, তিনিও যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদেশের মাটিতে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড় আরও গভীরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ছবি<< সংগৃহীত

দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে, বাংলা থেকে কখনো দূরে নয়

১৯৬০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে দেশ ছাড়েন কেতকী কুশারী ডাইসন। অক্সফোর্ডে পড়াশোনা শেষে কলকাতায় ফিরে কিছুদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে ১৯৬৪ সালে অক্সফোর্ডের সহপাঠী পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র রবার্ট ডাইসনকে বিয়ে করে আবার ব্রিটেনে ফিরে যান।

কয়েক বছর কানাডার ভ্যাংকুভারে থাকার সময় বাদ দিলে জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে অক্সফোর্ডশায়ারের কিডলিংটনে। সেখানেই সংসার, সন্তান পালন এবং লেখালেখির পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন বিস্তৃত গবেষণা ও সাহিত্যচর্চা।

সাধারণ ব্রিটিশ জীবনের পরিসরের মধ্যেই তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ঘর-সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।

ছবি<< সংগৃহীত

গবেষণার বিষয়েও ছিল আন্তর্বিদ্য দৃষ্টিভঙ্গি

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণার পরিসর ছিল বিস্তৃত এবং আন্তর্বিদ্য। তিনটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে দুটি ইংরেজিতে এবং একটি বাংলায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘A Various Universe: A Study of the Journals and Memoirs of British Men and Women in the Indian Subcontinent 1705–1856’, ‘In Your Blossoming Flower Garden: Rabindranath Tagore and Victoria Ocampo’ এবং ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ: রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও চিত্রকলায় রঙের ব্যবহার’।

প্রথম বইটি ছিল তাঁর ডক্টরেট গবেষণার ফল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতবর্ষে আসা ব্রিটিশ নারী-পুরুষের ডায়েরি, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা নিয়ে করা এই গবেষণার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন উপন্যাসের সম্ভাবনা।

সেই গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই পরে জন্ম নেয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’। গবেষণার বিষয়বস্তু ও নিজের প্রবাসজীবনের মধ্যে এক ধরনের সমান্তরালতাও তিনি দেখতে পেয়েছিলেন।

ছবি<< সংগৃহীত

 

রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো নিয়ে অভিনব নিরীক্ষা

তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’-তে গবেষণা ও কথাসাহিত্যকে একসঙ্গে নিয়ে আসেন কেতকী।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অনামিকা গবেষণার সূত্র ধরে রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক এবং তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও অন্তর্জগৎ অনুসন্ধান করে। একই সঙ্গে তাকে মোকাবিলা করতে হয় নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন ও সংকটের।

গবেষণা ও ব্যক্তিজীবনের এই দুই স্রোত ধীরে ধীরে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। কেতকীর সাহিত্যকর্মে গবেষণা ও সৃজনশীলতার এমন মেলবন্ধন তাঁর স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ছবি<< সংগৃহীত

রবীন্দ্রনাথের রঙের জগত নিয়েও গভীর অনুসন্ধান

কেতকীর গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টি ও তাঁর সাহিত্য-চিত্রকলায় রঙের ব্যবহার। একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞের লেখা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ থেকেই এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।

রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টির সীমাবদ্ধতার সঙ্গে তাঁর সাহিত্যিক চিত্রকল্প এবং চিত্রকলার রঙ ব্যবহারের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে সাহিত্য, শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি বিস্তৃত গবেষণাকর্ম।

প্রায় আট বছরের শ্রমে সম্পন্ন সেই গবেষণা তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো ‘আনন্দ পুরস্কার’ এনে দেয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক রবীন্দ্রচর্চায় এই কাজ নিয়ে দীর্ঘ নীরবতাও ছিল বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি<< সংগৃহীত

উপন্যাসের পাশাপাশি নাটকেও ছিল স্বতন্ত্র কণ্ঠ

কেতকী কুশারী ডাইসন শুধু কবি, গবেষক বা ঔপন্যাসিক ছিলেন না; নাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর তিনটি নাটক হলো ‘রাতের রোদ’ (১৯৯০), ‘মোৎসার্ট চকোলেট’ (১৯৯৮) এবং ‘সুপর্ণরেখা’ (২০০১)।

এসব নাটকে রাজনীতি, সমাজ, লিঙ্গ, পরিবেশ ও উপনিবেশোত্তর চিন্তার নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। ‘রাতের রোদ’-এর ইংরেজি অনুবাদ Nights Sunlight প্রকাশের পর পাশ্চাত্যের বিদ্বৎসমাজেও এটি আলোচনায় আসে।

‘মোৎসার্ট চকোলেট’-এ প্রবাসী দুই বাঙালি নারীর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উঠে আসে পরিচয়, উপনিবেশোত্তর বাস্তবতা, স্মৃতি এবং প্রবাসী জীবনের নানা স্তর।

ছবি<< সংগৃহীত

শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা দেশ

প্রবাসী বাঙালি নারীর স্মৃতির সঙ্গে শাড়ির সম্পর্কও তাঁর লেখায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। একটি শাড়ি হয়ে ওঠে স্মৃতির অ্যালবাম—কখনো বিশেষ মানুষের উপহার, কখনো কোনো বিশেষ মুহূর্তের স্মারক, আবার কখনো দেশ ছাড়ার আগের জীবনের চিহ্ন।

সেই স্মৃতির ভাঁজে ফিরে আসে মেহেরপুরের শৈশব, স্কুলজীবন, কলেজের দিন, প্রেসিডেন্সি কলেজের সাহিত্যচর্চা এবং বাংলা ভাষায় লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।

দেশ ছেড়েছিলেন, কিন্তু বাংলা ছাড়েননি। ব্রিটেনের মাটিতে বসেও মাতৃভাষাকে নিজের সৃষ্টির প্রধান আশ্রয় করে রেখেছিলেন কেতকী কুশারী ডাইসন। তাঁর সাহিত্য তাই একদিকে প্রবাসের জীবন, অন্যদিকে শিকড়ের টান—দুইয়েরই এক দীর্ঘ সংলাপ।

কবিতা, উপন্যাস, নাটক ও গবেষণার নানা শাখা পেরিয়ে কেতকীর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে মানুষ, প্রকৃতি, স্মৃতি, পরিচয়, দেশান্তর ও ভাষা। দোলনচাঁপার মতোই তাঁর সৃষ্টিশীলতাও যেন প্রতিকূল মাটিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বারবার নতুন করে ফুল ফুটিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

শ্রীলঙ্কার নীল জলে হারিয়ে পারশা, অবকাশের মুহূর্তে মুগ্ধ ভক্তরা

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার নীল জলে হারিয়ে পারশা, অবকাশের মুহূর্তে মুগ্ধ ভক্তরা

সমুদ্রের ঢেউ এসে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে পায়ের পাতা। সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু নীলের বিস্তৃতি। মাথার ওপর খোলা আকাশ, চারপাশে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য আর মুখজুড়ে প্রশান্তির হাসি—ব্যস্ততার শহর থেকে দূরে এমনই এক ছুটির আমেজে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী।

কখনো সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি, কখনো বালুচরে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ—শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের এমনই কিছু মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তার প্রকাশিত ছবিগুলোতে ধরা পড়েছে ভ্রমণের আনন্দ, প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা আর অবসর সময়কে নিজের মতো করে উপভোগ করার গল্প।

সংগীতের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে শ্রীলঙ্কায় পাড়ি জমিয়েছেন পারশা। সেখানে গিয়ে শুধু পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখাই নয়, সমুদ্রসৈকতের নির্মল পরিবেশে নিজের মতো করে সময় কাটাতেই যেন বেশি ব্যস্ত তিনি। আর সেই অবকাশযাপনের মুহূর্তগুলোই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে আগ্রহ।

নীল সমুদ্রের পাশে প্রশান্তির সময়

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার ভ্রমণের ছবিগুলোতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে সমুদ্র আর প্রকৃতির মেলবন্ধন। নীল পানির সামনে দাঁড়িয়ে কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়েছেন, আবার কখনো নিজের মতো করে উপভোগ করেছেন চারপাশের পরিবেশ।

ছবিতে তাকে দেখা গেছে বেশ স্বচ্ছন্দ ও হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে। সমুদ্রের বিশালতা আর খোলা আকাশ যেন তার অবকাশের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যস্ত কর্মজীবনের বাইরে এমন একটি সময় যে তার জন্যও বিশেষ, ছবিগুলোতেই যেন তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

শুধু ছবি তোলার জন্য নয়, বরং প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর মধ্যেও যে আলাদা এক আনন্দ রয়েছে, পারশার ভ্রমণের মুহূর্তগুলোতে সেটিই ফুটে উঠেছে।

ছবি>সংগৃহীত

সাদা পোশাকে নজর কাড়লেন পারশা

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার সাজেও ছিল ছুটির দিনের স্বাভাবিক ছোঁয়া। সাদা পোশাকে, মাথায় নান্দনিক হ্যাট আর খোলা চুলে তাকে দেখা গেছে বেশ প্রাণবন্ত রূপে।

অতিরিক্ত সাজসজ্জার বদলে সহজ-স্বাভাবিক লুকেই ক্যামেরার সামনে ধরা দিয়েছেন তিনি। সমুদ্রের নীল আর তার সাদা পোশাকের বৈপরীত্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।

একটি ছবিতে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। অন্য ছবিতে বালুচরে বসে কিংবা ঢেউয়ের কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর দৃশ্যও রয়েছে। সব মিলিয়ে তার পুরো লুকেই ছিল ভ্রমণের স্বাভাবিক আনন্দ।

ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি

সমুদ্রের কাছে গেলে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে ওঠার লোভ সামলানো কঠিন। পারশার ক্ষেত্রেও যেন তার ব্যতিক্রম হয়নি। সমুদ্রের পানিতে পা ভিজিয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি।

তার ভ্রমণের ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে, শ্রীলঙ্কার প্রকৃতিকে কেবল দূর থেকে দেখেননি পারশা; বরং সেটিকে উপভোগ করেছেন খুব কাছ থেকে। সমুদ্রের ঢেউ, বালুচর আর বাতাস—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে তার ছুটির দিনের এক অন্যরকম গল্প।

ছবি>সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবিতে তার হাসিমাখা মুহূর্তগুলোও আলাদা করে নজর কেড়েছে। ভক্তদের অনেকেই তার ভ্রমণের ছবি দেখে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কার সৌন্দর্যের পাশাপাশি পারশার স্বচ্ছন্দ উপস্থিতিরও প্রশংসা করেছেন।

বালুচরে ভালোবাসার চিহ্ন

ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল বালুচরে নিজের মতো করে সময় কাটানো। সমুদ্রের ধারে বালুর ওপর ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে সেই মুহূর্তকেও ক্যামেরাবন্দি করেছেন পারশা।

ছবি>সংগৃহীত

ছোট্ট এই মুহূর্তটি তার ভ্রমণের ছবিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। বিশাল সমুদ্রের সামনে বালুচরে আঁকা সেই চিহ্ন যেন হয়ে উঠেছে ছুটির দিনের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি।

ছবি>সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের নজর কাড়ে। কেউ মুগ্ধ হয়েছেন প্রকৃতির সৌন্দর্যে, কেউ আবার পারশার ভ্রমণের মুহূর্তগুলোকে দেখেছেন তার জীবনের আনন্দঘন সময় হিসেবে।

ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা অবকাশ

সংগীতশিল্পীদের জীবন সাধারণত স্টুডিও, গান, অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততায় ঘেরা থাকে। সেই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়ার সুযোগ অনেক সময় হয়ে ওঠে কঠিন।

ছবি>সংগৃহীত

পারশার শ্রীলঙ্কা সফরটিও তাই নিছক একটি বিদেশভ্রমণ নয়; বরং ব্যস্ততার বাইরে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করা কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তিনি যেন কিছুটা স্বস্তির মুহূর্ত খুঁজে নিয়েছেন।

তার প্রকাশিত ছবিগুলোতে কাজের চাপ বা শহুরে ব্যস্ততার কোনো ছাপ নেই। বরং সেখানে রয়েছে হাসি, স্বস্তি আর ভ্রমণের নির্মল আনন্দ।

ছবি>সংগৃহীত

ভক্তদের নজরে পারশার নতুন মুহূর্ত

তারকারা যখন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের ভ্রমণ কিংবা অবকাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, তখন সেগুলো সহজেই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে। পারশার ক্ষেত্রেও ঘটেছে তেমনটাই।

শ্রীলঙ্কার নীল সমুদ্র, সাদা পোশাকে তার উপস্থিতি, ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বালুচরের নানা মুহূর্ত—সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে ভিন্ন এক পারশাকে দেখছেন তার অনুসারীরা।

ছবি>সংগৃহীত

মঞ্চের আলো কিংবা ক্যামেরার সামনে পারফরম্যান্সের বাইরে প্রকৃতির মাঝে তার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ভক্তদের কাছে তাই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

ভ্রমণের স্মৃতিতে জমছে নতুন গল্প

ভ্রমণ শেষ হয়ে গেলেও কিছু মুহূর্ত থেকে যায় স্মৃতি হয়ে। শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার কাটানো সময়গুলোও তেমনই কিছু স্মৃতি হয়ে তার সঙ্গে থেকে যাবে।

নীল সমুদ্রের ঢেউ, বালুচরে হাঁটা, খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে ধরা দেওয়া—প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল ছুটির দিনের আলাদা আবহ।

ছবি>সংগৃহীত

আর সেই মুহূর্তগুলোর কিছু অংশ যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন পারশা, তখন তার ব্যক্তিগত অবকাশের গল্পটিও পৌঁছে গেছে অনুসারীদের কাছে।

সংগীতের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর প্রতিদিনের ছুটে চলা জীবনের বাইরে শ্রীলঙ্কার নীল জলে কিছুটা সময়ের জন্য হারিয়ে যাওয়া পারশা মাহজাবীন পূর্ণীর এই ভ্রমণ তাই হয়ে উঠেছে প্রকৃতি, প্রশান্তি আর আনন্দের এক সুন্দর গল্প।

কালের আলো/জেএন

সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতায় যেন ভাটা পড়েনি।

পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি এখনো ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি।

ছবি>> সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিকে ঘিরেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পরিপাটি সাজে মুগ্ধতা

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্ট পরেছেন পূর্ণিমা। এর সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে ছিল না বাড়াবাড়ি।

তবে পোশাকের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর স্বাভাবিক হাসি ও সাবলীল উপস্থিতি। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

ছবি>> সংগৃহীত

‘নিজের ভেতরের আলোকে নিভতে দিও না’

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের উত্থান-পতনকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরাও। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলোই যেন বলে দেয়, পূর্ণিমার সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা ও আগ্রহ এখনো রয়ে গেছে।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।

অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজরে আসেন পূর্ণিমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির আলাদা জনপ্রিয়তা

ঢালিউডে বেশ কিছু জনপ্রিয় জুটির মধ্যে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়।

বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকেও আরও শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

ছবি>> সংগৃহীত

ছোট পর্দাতেও ছিল সফল উপস্থিতি

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। এরপর ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও মিলেছে

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি।

সময় বদলেছে, মুগ্ধতা নয়

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশও।

তবে দর্শকের চোখে পূর্ণিমার সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা নিয়মিত পর্দায় থাকলেও পূর্ণিমা অনিয়মিত হয়েও আলোচনায় থাকেন।

ছবি>> সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অনেক বছর, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কিংবা সৌন্দর্যের দীপ্তিতে যেন তার প্রভাব পড়েনি। তাই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা—যে সংখ্যা তাঁর মুগ্ধতাকে মাপতে পারে না।

কালের আলো/জেএন