খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রচলিত ধ্যান-ধারণা পাল্টে কালজয়ী মানবতার উজ্জ্বল আভায় সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২০, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রচলিত ধ্যান-ধারণা পাল্টে কালজয়ী মানবতার উজ্জ্বল আভায় সেনাবাহিনী

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই চোখের সামনে ভেসে আসে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনবাজি রাখা দেশপ্রেমিক এক বাহিনী। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা কিংবা ভোটের মাঠে সরকারি নির্দেশে ভয়-শঙ্কা দূর করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই তৎপরতা চালানোরও নজিরও রয়েছে জাতির এই সূর্য সন্তানদের।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আভিযানিক দক্ষতা ও সক্ষমতাতেও দু:সাহসী এ সেনারাই সেরাদের সেরা। দেশের সেবায় আত্ননিয়োগের সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল এই বাহিনী হাল সময়ে প্রচলিত সব ধারণা পাল্টে কালজয়ী নতুন চেহারায় নিজেদের উপস্থাপন করেছেন।

অতীতে বন্দুক উঁচিয়ে কঠোর মানসিকতার সেনাবাহিনী এবার করোনার মহাদুর্যোগে নিজেদের সম্পর্কিত প্রচলিত সব ধ্যান-ধারণাই আমুল বদলে দিয়েছেন। ‘মানবতার জননী’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই সৃজন-মননের সন্নিবেশে বহুমাত্রিক কাজের মাধ্যমেই মানবতার উজ্জ্বল আভায় বিনির্মাণ করেছেন নিজেদের।

সুবিশাল মহাসমুদ্রের ঔদার্য্যে সমাজ জীবনে পুরনো প্রচলিত রীতি ভেঙে নতুন নতুন কনসেপ্ট সামনে এনেছেন। হৃদয় দিয়েই যেন কিনেছেন দু:খ ভারাক্রান্ত, জীবন যুদ্ধে থমকে দাঁড়ানো অর্ধাহার-অনাহারে থাকা মানুষের হৃদয়।

মানবতা, মনুষ্যত্ব আর নিজেদের ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই নীরবে পথ চলেছেন ৫৬ হাজারের বর্গমাইলে। করোনা সঙ্কটেও মানবতার টানে অসহায়, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষকে পরম মমতার চাদরে পরশ বুলিয়েছেন।

গরিব ও অভাবী মানুষের জীবনের কঠিন বিপদসংকুল সময়ে পাশে থেকে মানবতা ও মনুষ্যত্বের মহোত্তম সঙ্গীতে কন্ঠ মিলিয়ে মহাকালের বিশাল ক্যানভাস রাঙিয়েছেন।

দেশ-কালের গন্ডি পেরিয়ে নিজেদের কীর্তি ও কৃতিত্বে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসের পাতায় কীভাবে ঠাঁই করে নিতে হয় সেটিও চোখ বরাবর আঙুল রেখেই যেন দেখিয়ে দিয়েছেন সবাইকে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কূশলী-বিচক্ষণ নেতৃত্ব, নিবিড় মনিটরিং আর দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনায় মানবিক মূল্যবোধের অপূর্ব সমন্বয়ে করোনা দুর্যোগে নতুন নতুন ভাবনা চিন্তার সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিকেও কাজে লাগিয়েছেন।

অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সম্মিলিত প্রয়াসে সুরক্ষিত করেছেন সতের কোটির বাংলাদেশকে।

দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব আর হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের নিয়মতান্ত্রিক কাজের বাইরেও হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলার যবনিকাপাত ঘটিয়ে ছেড়েছেন।

নির্জন রাতে দরজায় দরজায় গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার নতুন প্রথাও চালু করেছেন দেশের প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের আপদে-বিপদে পাশে দাঁড়ানো বাহিনীটির গর্বিত সদস্যরা।

নিজেদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন নানা দিকে, নানা প্রান্তে।

শারীরিক দূরত্ব বজায়ে বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত, বাজারে বা গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জীবাণুনাশক ট্যানেল, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেটিফিকেশনের (আরএফআইডি) মাধ্যমে খাবার সহায়তা, বিনামূল্যে পছন্দনীয় সব সবজির সমাহারে এক মিনিটের বাজার, প্রান্তিক কৃষকের লোকসান ঠেকাতে সবজি কিনে আবার দুস্থদের সরবরাহ করা ইত্যাকার থিউরিরও উদ্ভাবক সেনাবাহিনীই।

নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, অদম্য মনোবল, সাহস, কর্মদক্ষতা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে প্রায় দেড় মাসে সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেতুলিয়ায় সেনাবাহিনী জাতির প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকারও সুনাম ছড়িয়েছে।

দেশমাতৃকার সার্বিক সেবায় মহান ব্রত নিয়েই করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে বীরদর্পেই।

গরিব, কর্মহীন ও অসহায় মানুষের মুখে আহার তুলে দিতে ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলাই যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও নতুন কর্মপদ্ধতি চালু করে সেনাবাহিনী। সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য জেলায় জেলায় গ্রহণ করে পাইলট প্রকল্প।

মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেটিফিকেশনের (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের পদ্মা সেতুর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড।

নিজেদের রেশনের টাকায় তালিকা অনুযায়ী নিত্যপণ্য সামগ্রী কখনও নদী পেরিয়ে আবার পিচঢালা সড়ক বা গ্রামীণ আঁকাবাঁকা সড়ক মাড়িয়ে নীরবে-নিভৃতে দিনমান বা রাতে বাড়ির চৌহদ্দিতে পৌঁছে দিয়েও সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মাত্র এক মাসেই কমপক্ষে ২০ হাজার অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ইতোমধ্যেই দুই দিনে প্রায় দুই হাজার গরিব অসহায় মানুষ ‘এক মিনিটের বাজার’ থেকে চাল, ডাল, সবজিসহ সবকিছুই পেয়েছেন উপহার হিসেবে।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষজনকে ডাটাবেইজের আওতায় আনা হচ্ছে প্রথমে। পরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে টোকেন। সেই টোকেনের মাধ্যমেই মাত্র এক মিনিটেই পাচ্ছেন সবজিসহ রকমারি পণ্য। পরম মমতায় আপনজনের মতোই তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে এসব সামগ্রী।

অনন্য এ আয়োজন প্রকৃত অর্থেই জীবন বাস্তবতার কঠিন এই সময়ে বেঁচে থাকার নিয়ামক। হুইল চেয়ারে বন্দি জীবনের মানুষজনও পাচ্ছেন পেটের দায় মেটানোর পণ্য সামগ্রী।

সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করা ও সামাজিক দূরত্বের কঠোর অনুশাসন মানার মডেলও হয়ে উঠেছে এক মিনিটের বাজার।

চট্টগ্রামের এ মডেল প্রশংসিত হওয়ার পর রাঙ্গামাটিতে সাড়া ফেলেছে অভিনব এ বাজার। এতে খুশি সেখানকার অসহায় মানুষও। এসব বাজারের মাধ্যমে আবার কৃষকদেরও স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। করোনায় সবজির বাজারে ধ্বস নামার ঘটনায় ক্ষোভের অনলে পুড়তে থাকা কৃষকদেরও স্বস্তির উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে সেনা সদস্যরা।

কারণ, এক মিনিটের বাজারের কেজি কেজি সবজি কেনা হচ্ছে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই, ন্যায্যমূল্যে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, যশোরসহ প্রায় প্রতিটি জেলাতেই কৃষকদের বাঁচাতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের আস্থা ও গর্বের প্রতীক বাহিনীটির সদস্যরা।

সম্প্রতি সেনাবাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিংদের (জিওসি) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্সে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজেদের রেশনের একাংশ বাঁচিয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন বাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে ফসলের মাঠের নায়কদের আর্থিকভাবে লাভবান করতেই তাদের কাছ থেকে সবজি সংগ্রহ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অসহায়ের হাতে তুলে দেওয়ারও ‘গাইড লাইন’ দিয়েছেন।

সময়োপযোগী এসব নির্দেশনার মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে অভাবী মানুষজনও উপকৃত হচ্ছে। যুগান্তকারী এমন পদক্ষেপ আরও একবার জনমানসে সেনাবাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকাকেই মোটা দাগে উপস্থাপন করেছে।

সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে করোনার দহন দিনে টালমাটাল দেশকে অন্ধকার সরিয়ে আলোর পথে নিয়ে যেতে ক্লান্তিহীনভাবেই কাজ করে যাচ্ছে আপোসহীন ও রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মানুষকে সুরক্ষার এই যুদ্ধে সেনারা ঋজু ও অমল কন্ঠেই অবিচল রয়েছেন। দেশ ও দেশের মানুষের প্রশ্নে তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততা প্রাণিত করেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশকে।

আশা-নিরাশার সকাল, দোলাচলের দুপুর পেরিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর সোনালী সন্ধা বা গহীন রাতেও বাঙালির চিত্ত, মন ও মানসিকতায় গভীরভাবেই প্রোথিত হয়ে থাকবে দেশপ্রেমিক সেনাদের নাম।

কবির ভাষায় কন্ঠে কন্ঠেই যেন গুঞ্জণ-গুঞ্জরিত হবে- ‘বল বীর/বল উন্নত মম শির!’ চৌকস ও সুশৃঙ্খল সেনাদের জন্য ভালোবাসা অবিরাম।

কালের আলো/এমএএএমকে

বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সরকার সমর্থন করে না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ; বার

কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা; মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতিনৈতিকতাবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্যকর বিধান এবং গুজব, ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রেস কাউন্সিলের স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত পরিবেশ, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশ, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন বলেন, পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টসমূহের বিষয়বস্তু, প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদারের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে বাসসে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়ায়, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মোট ৩ হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ১ হাজার ৪৩৬টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ১ হাজার ২৩১টি, মাসিক পত্রিকা ৪৫২টি, পাক্ষিক পত্রিকা ২১৫টি এবং অর্ধসাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকার সংখ্যা ৫৪।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়াসহ সাত দফা দাবি আদায়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পল্টন মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।

মিছিলে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবি ছিল, এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন, ফ্যাসিস্ট আমলে বন্দুকের নলের মুখে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে ইসলামী ব্যাংকের দায় মেটানো ও ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, ব্যাংকটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকখাতে অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

এছাড়া, পূর্বঘোষিত সাত দফা দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে এই বৈরী আবহাওয়া অতিক্রম করতে পারে। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঝোড়ো আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নৌযান ও যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি