খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সিন্ডিকেটের খপ্পরে বাঁধার মুখে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
সিন্ডিকেটের খপ্পরে বাঁধার মুখে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

পর্যটনের স্বর্গভূমি বলা হয় কক্সবাজারকে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এ শহরের বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরটির রানওয়ে ৯ হাজার বর্গফুট থেকে ১২ হাজার বর্গফুটে উন্নীত করতে আহ্বান করা হয় দরপত্র।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন মেনেই দরপত্র চূড়ান্ত করে। সিভিল এভিয়েশন পোস্ট কোয়ালিফেকশনের মাধ্যমেই সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যে কোম্পানিটিকে নির্বাচন করেছে সেটি দরপত্রে দেওয়া বাজেট থেকে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা কম দর দিয়েছে।

কিন্তু অভিযোগের ফাঁদ পেতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাঁধাগ্রস্ত করতে কূটকৌশলী আচরণ শুরু করেছে চিহ্নিত একটি সিন্ডিকেট। নিজের মিশন বাস্তবায়নে ভুল তথ্যে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দাখিল করছেন।

কিন্তু কোন সুবিধা করতে না পেরে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন অপকৌশল গ্রহণ করছেন। এভিয়েশন খাতে শক্ত সেই সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমেছে সম্প্রসারিত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটির ভাগ্যাকাশে।

জানা যায়, একটি আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরের আদর্শ রানওয়ে ধরা হয় সাড়ে ১০ হাজার ফিট। কিন্তু সেই হিসেবে মোটেও আদর্শিক নয় কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ে। এ বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই আন্তরিক।

তিনিই এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণে কার্যকর নির্দেশ প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে।

২০১৫ সালের ২ জুলাই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধাানমন্ত্রী। ওই সময় বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করা করা হয়।

সূত্র মতে, শুরুর দিকে এ বিমানবন্দরের প্রকল্প পরিচালকের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযোগ্যতায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। পরবর্তীতে শত কোটি টাকা অপচয় করায় ওই প্রকল্প পরিচালককে বরখাস্ত করা হয়।

একই সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী বন্ধু মিয়ানমারের সঙ্গে নানা হিসাব-নিকাশে কক্সবাজার বিমানবন্দরটির বাড়তি তাৎপর্য রয়েছে। সামরিক কৌশলগত কারণেও আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এ বিমানবন্দরের।

আবার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীতকরণের পাশাপাশি বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণও পুনরায় অপরিহার্য হয়ে উঠে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সব সময় কক্সবাজারে থাকে বিদেশি পর্যটকের ঢল। কিন্তু পর্যটকরা ঢাকা হয়ে কক্সবাজারে আসেন। ফলে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।

এসব বিবেচনা করেই আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার উদ্যো গ্রহণ করা হয়। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পর্যটকদের আর ঢাকা হয়ে কক্সবাজারে আসতে হবে না।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ে ১২ হাজার ৫’শ ফুটে উন্নীত করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি ১০ হাজার ৭’শ ফুটে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সেই মোতাবেক সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ে আরও এক হাজার ৭০০ বর্গফুট বাড়াতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

নিয়ম মোতাবেক বেবিচকের আহ্বানকৃত দরপত্রে বুয়েটের স্বনামধন্য শিক্ষকরা কারিগরি মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু দরপত্রটি প্রশ্নবিদ্ধ করতে গোয়েবলসীয় কায়দায় অভিযোগের তুবড়ি ছুটাতে শুরু করে একটি সিন্ডিকেট।

নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা একটি কোম্পানিকে ব্যবহার করে সিভিল এভিয়েশনে ভুল তথ্যে অভিযোগও দাখিল করেন।

এরপর সিভিল এভিয়েশন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) ২০০৮’র বিধি-৮ মোতাবেক সেই অভিযোগের যথাযথ জবাব প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই কোম্পানিটি মন্ত্রণালয় বা সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ) আর কোন অভিযোগ করেনি।

সূত্র মতে, বৃহৎ এ প্রকল্প কাজের দরপত্রে ৮ টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান রেসপন্সিভ হয়েছে। এখানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) ২০০৮’র বিধি-৮ অমান্যের ঘটনাও ঘটেনি।

দরপত্র থেকে ছিটকে পড়া পক্ষটি পোস্ট কোয়ালিফিকেশন ছাড়াই সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচন করার অভিযোগ করেন। অথচ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) মোতাবেকই পোস্ট কোয়ালিফিকেশন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্র মতে, দরপত্র মূল্যায়ন শর্ত মতেই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের অভিজ্ঞতা নূন্যতম ১৫ বছর থাকতে হয়। আর দরপত্রের কার্যাদেশ পাওয়া কোম্পানিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সেই হিসেবে কোম্পানিটির অভিজ্ঞতার বয়স ৩১ বছর। ২০১১ সালের জুন মাসের দিকে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তিত হয়। কাজেই তাদের অভিজ্ঞতা দরপত্রের শর্তের চেয়েও বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলছেন, ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) ধারায় নাম দেওয়া থাকে কোন কোন কোম্পানি দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

অর্থাৎ, কালো তালিকাভূক্ত কোম্পানিসমূহের নাম সিপিটিইউতে অন্তর্ভূক্ত থাকে। কিন্তু সিপিটিউতে কালো তালিকাভুক্ত ৯৫ কোম্পানির মধ্যে কার্যাদেশ পাওয়া এ কোম্পানির নাম নেই।’

অবশ্য কেউ কেউ বলাবলি করছেন, করোনার অজুহাত দেখিয়ে দরদাতার দাখিলকৃত দলিলপত্র যাচাই-বাছাই না করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে, এমনকি দরদাতার টার্নওভারসংক্রান্ত ব্যাংকের ডকুমেন্টও দেখা হয়নি। কিন্তু এমন অভিযোগেরও কোন ভিত্তি মেলেনি।

বেবিচক সূত্র বলছে, দরপত্রে অংশগ্রহণ করা কোম্পানিসমূহ সেই দেশের বাংলাদেশী দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যায়িত হয়েছে। ব্যাংক থেকেই সব তথ্য নিয়েই দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

চীনের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও কোন ফাঁক-ফোকরের সুযোগ রাখা হয়নি।

সূত্র মতে, একটি সিন্ডিকেট সিভিল এভিয়েশনের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা তৈরির টার্গেট করেছে। প্রথম দিকে তারাই প্রপাগান্ডা চালিয়েছিল, চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (সিএইচইসি) কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলেও নিজেরা কাজ ভাগিয়ে নিতেই নানামুখী অপকৌশল বাস্তবায়নে মরিয়া চিহ্নিত এ চক্রটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান কালের আলোকে বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে সব প্রক্রিয়া মেনেই ওই কোম্পানিকে কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো.মাহবুব আলী কালের আলোকে বলেন, ‘সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবেই ওই কোম্পানি কাজটি পেয়েছে। এখানে কোন অনিয়মের প্রশ্নই উঠে না। পুরো কার্যক্রমেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

পরিশ্রম ও সততা মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস চেয়ারম্যান এসব বলেন। চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চারটি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়।

রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসাইন, গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী এবং নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম সুমন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমরা দেশের আগামীর স্বপ্ন সারথী। স্বপ্নই মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং বড় হওয়ার সাহস দেয়। যার স্বপ্ন যত বড়, সে তত বড় মানুষ। একজন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন। বড় স্বপ্ন দেখা এবং তা অর্জনের জন্য সততার সঙ্গে পরিশ্রম করাই মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়।

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমাদের স্বপ্ন সফল করতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমই তোমাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আর মাদকের অতলগ্রাসী ছোবল এবং সোশাল মিডিয়ার কুপ্রভাব থেকে নিজেদের হেফাজত করতে হবে।

ড. মো. আতাউর রহমান শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, গজারিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার সাহা, গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোক্তার হোসেন ও ফিরোজ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মুক্তার হোসেন ভূইয়া। অনুষ্ঠানে গজারিয়া পাইলট মডেল হাই স্কুল, গজারিয়া গার্লস হাই স্কুল, ইসমানিচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের সফলতা কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই তথ্য জানিয়েছে।

তেহরান-ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও দ্বিতীয় দফার বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বার্তা নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির মাঝে ইসরায়েল ওই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি ওই সূত্র বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে চুক্তির বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে এবং বিবদমান দুই পক্ষই আলোচনার পরবর্তী দফার জন্য শিগগিরই পুনরায় বৈঠকে বসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তারা বলেছেন, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হতে যাওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন; যাতে কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। আঞ্চলিক ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে উভয় পক্ষই ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিতর্কিত বিষয়—পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান সফরে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মাঝে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসন এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে ‘আশার আলো’ দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এই আশাবাদ তৈরি করেছে। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

গত শনিবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি দুই দেশের মধ্যে বিরল সরাসরি বৈঠকগুলোর একটি। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও সংলাপ শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ঘনিয়ে এসেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ। হ্যাঁ, আমি এটিকে শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি বলেই মনে করি।”

এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এ জন্য পাকিস্তানকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান কেন প্রথম পছন্দ—এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, “এর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ—এ কারণে আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমরা এমন কোনো দেশে কেন যাব, যার এ বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই?”

পাকিস্তানের উদ্যোগ
মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকায় তারা মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হবে। আর তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেহবাজ শরিফ। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার।

অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা সমন্বয়ের লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল এই সফর করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘বার্তা আদান-প্রদান’ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় তেহরানে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানি কর্মকর্তারা। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বাঘাই আরও জানান, ইরান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। তবে এ কর্মসূচির ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য দুই পক্ষকেই কঠিন কিছু শর্তে ছাড় দিতে হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান বড় বাধা হয়ে আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেভিড মিলার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

সিএনএনকে তিনি বলেন, ইরান তাড়াহুড়ো করে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়; বরং তাদের হাতে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তারা আলোচনায় কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ হুসাইন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই সংলাপ আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি করতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইরান বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, আলোচনার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখেও ইরান নতিস্বীকার করেনি। তাই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কূটনৈতিক আপসের পথেই এগোতে হবে।

পাকিস্তানের সাবেক নৌ কমোডর ও কূটনীতিক মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল জাজিরাকে বলেন, প্রথম দফার আলোচনাতেই বড় কোনো অগ্রগতি আশা করা অবাস্তব ছিল। তবে দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসানোই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। দ্বিতীয় দফার উদ্যোগ প্রমাণ করে, কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন