খুঁজুন
                               
, ,
           

সিন্ডিকেটের খপ্পরে বাঁধার মুখে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
সিন্ডিকেটের খপ্পরে বাঁধার মুখে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

পর্যটনের স্বর্গভূমি বলা হয় কক্সবাজারকে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এ শহরের বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরটির রানওয়ে ৯ হাজার বর্গফুট থেকে ১২ হাজার বর্গফুটে উন্নীত করতে আহ্বান করা হয় দরপত্র।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন মেনেই দরপত্র চূড়ান্ত করে। সিভিল এভিয়েশন পোস্ট কোয়ালিফেকশনের মাধ্যমেই সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যে কোম্পানিটিকে নির্বাচন করেছে সেটি দরপত্রে দেওয়া বাজেট থেকে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা কম দর দিয়েছে।

কিন্তু অভিযোগের ফাঁদ পেতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাঁধাগ্রস্ত করতে কূটকৌশলী আচরণ শুরু করেছে চিহ্নিত একটি সিন্ডিকেট। নিজের মিশন বাস্তবায়নে ভুল তথ্যে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দাখিল করছেন।

কিন্তু কোন সুবিধা করতে না পেরে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন অপকৌশল গ্রহণ করছেন। এভিয়েশন খাতে শক্ত সেই সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমেছে সম্প্রসারিত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটির ভাগ্যাকাশে।

জানা যায়, একটি আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরের আদর্শ রানওয়ে ধরা হয় সাড়ে ১০ হাজার ফিট। কিন্তু সেই হিসেবে মোটেও আদর্শিক নয় কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ে। এ বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই আন্তরিক।

তিনিই এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণে কার্যকর নির্দেশ প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে।

২০১৫ সালের ২ জুলাই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধাানমন্ত্রী। ওই সময় বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করা করা হয়।

সূত্র মতে, শুরুর দিকে এ বিমানবন্দরের প্রকল্প পরিচালকের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযোগ্যতায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। পরবর্তীতে শত কোটি টাকা অপচয় করায় ওই প্রকল্প পরিচালককে বরখাস্ত করা হয়।

একই সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী বন্ধু মিয়ানমারের সঙ্গে নানা হিসাব-নিকাশে কক্সবাজার বিমানবন্দরটির বাড়তি তাৎপর্য রয়েছে। সামরিক কৌশলগত কারণেও আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এ বিমানবন্দরের।

আবার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীতকরণের পাশাপাশি বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণও পুনরায় অপরিহার্য হয়ে উঠে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সব সময় কক্সবাজারে থাকে বিদেশি পর্যটকের ঢল। কিন্তু পর্যটকরা ঢাকা হয়ে কক্সবাজারে আসেন। ফলে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।

এসব বিবেচনা করেই আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার উদ্যো গ্রহণ করা হয়। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পর্যটকদের আর ঢাকা হয়ে কক্সবাজারে আসতে হবে না।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ে ১২ হাজার ৫’শ ফুটে উন্নীত করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি ১০ হাজার ৭’শ ফুটে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সেই মোতাবেক সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ে আরও এক হাজার ৭০০ বর্গফুট বাড়াতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

নিয়ম মোতাবেক বেবিচকের আহ্বানকৃত দরপত্রে বুয়েটের স্বনামধন্য শিক্ষকরা কারিগরি মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু দরপত্রটি প্রশ্নবিদ্ধ করতে গোয়েবলসীয় কায়দায় অভিযোগের তুবড়ি ছুটাতে শুরু করে একটি সিন্ডিকেট।

নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা একটি কোম্পানিকে ব্যবহার করে সিভিল এভিয়েশনে ভুল তথ্যে অভিযোগও দাখিল করেন।

এরপর সিভিল এভিয়েশন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) ২০০৮’র বিধি-৮ মোতাবেক সেই অভিযোগের যথাযথ জবাব প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই কোম্পানিটি মন্ত্রণালয় বা সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ) আর কোন অভিযোগ করেনি।

সূত্র মতে, বৃহৎ এ প্রকল্প কাজের দরপত্রে ৮ টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান রেসপন্সিভ হয়েছে। এখানে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) ২০০৮’র বিধি-৮ অমান্যের ঘটনাও ঘটেনি।

দরপত্র থেকে ছিটকে পড়া পক্ষটি পোস্ট কোয়ালিফিকেশন ছাড়াই সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচন করার অভিযোগ করেন। অথচ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) মোতাবেকই পোস্ট কোয়ালিফিকেশন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্র মতে, দরপত্র মূল্যায়ন শর্ত মতেই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের অভিজ্ঞতা নূন্যতম ১৫ বছর থাকতে হয়। আর দরপত্রের কার্যাদেশ পাওয়া কোম্পানিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সেই হিসেবে কোম্পানিটির অভিজ্ঞতার বয়স ৩১ বছর। ২০১১ সালের জুন মাসের দিকে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তিত হয়। কাজেই তাদের অভিজ্ঞতা দরপত্রের শর্তের চেয়েও বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলছেন, ‘সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) ধারায় নাম দেওয়া থাকে কোন কোন কোম্পানি দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

অর্থাৎ, কালো তালিকাভূক্ত কোম্পানিসমূহের নাম সিপিটিইউতে অন্তর্ভূক্ত থাকে। কিন্তু সিপিটিউতে কালো তালিকাভুক্ত ৯৫ কোম্পানির মধ্যে কার্যাদেশ পাওয়া এ কোম্পানির নাম নেই।’

অবশ্য কেউ কেউ বলাবলি করছেন, করোনার অজুহাত দেখিয়ে দরদাতার দাখিলকৃত দলিলপত্র যাচাই-বাছাই না করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে, এমনকি দরদাতার টার্নওভারসংক্রান্ত ব্যাংকের ডকুমেন্টও দেখা হয়নি। কিন্তু এমন অভিযোগেরও কোন ভিত্তি মেলেনি।

বেবিচক সূত্র বলছে, দরপত্রে অংশগ্রহণ করা কোম্পানিসমূহ সেই দেশের বাংলাদেশী দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যায়িত হয়েছে। ব্যাংক থেকেই সব তথ্য নিয়েই দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

চীনের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও কোন ফাঁক-ফোকরের সুযোগ রাখা হয়নি।

সূত্র মতে, একটি সিন্ডিকেট সিভিল এভিয়েশনের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা তৈরির টার্গেট করেছে। প্রথম দিকে তারাই প্রপাগান্ডা চালিয়েছিল, চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (সিএইচইসি) কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলেও নিজেরা কাজ ভাগিয়ে নিতেই নানামুখী অপকৌশল বাস্তবায়নে মরিয়া চিহ্নিত এ চক্রটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান কালের আলোকে বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে সব প্রক্রিয়া মেনেই ওই কোম্পানিকে কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো.মাহবুব আলী কালের আলোকে বলেন, ‘সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবেই ওই কোম্পানি কাজটি পেয়েছে। এখানে কোন অনিয়মের প্রশ্নই উঠে না। পুরো কার্যক্রমেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় আট মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংযোগ পুনরায় চালু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে না পারায় নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ বলেন, প্রায় আট মাস ধরে তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে থাকতে হয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকায় তাঁরা খুব কষ্টে আছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর অনুরোধ জানান। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, পদ্মার তলদেশে তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে এতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।দীর্ঘ আট মাসের ভোগান্তির পর নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের আশ্বাসে বিদ্যুৎ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তবে নতুন সংযোগ স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করবে এবং দেড় হাজার পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের আমন্ত্রণে ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনা করতে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের অভিজ্ঞ নিলাম সঞ্চালক চারু শর্মা। ব্যস্ততা থাকলেও তামিমের অনুরোধ ফেলতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়িতে ফেরার মতো অনুভূতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এই ভারতীয় নিলাম সঞ্চালক।

সোমবার ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার ফাঁকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন চারু শর্মা। বাংলাদেশে ফিরে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ছে জানিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান তামিম ইকবালকে।বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চারু শর্মা বলেন, ‘অতীতে কয়েকবার আসা হয়েছে। অনেক দিন পর বাংলাদেশে এলাম। তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ, সে-ই আমাকে কল করে। আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম। তবে বললাম, একদম ভেবো না, আমি চলে আসব। এখানে এসে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে নিজের বাড়িতে আছি।’

চারুর এই বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা এবং তামিমের আমন্ত্রণের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বাংলাদেশে প্রথম আসার সুনির্দিষ্ট সময়টি স্পষ্ট মনে নেই চারু শর্মার। তবে তাঁর ধারণা, ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সময় প্রথমবার এ দেশে এসেছিলেন তিনি। সেই সফরের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন এই নিলাম সঞ্চালক। চারু বলেন, ‘মনে নেই, তবে সম্ভবত ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। খুব উপভোগ করেছিলাম। অনেক বন্ধু হয়েছিল। প্রতি রাতে আমরা ঘুরতে বের হতাম। ধারাভাষ্যকার অনেকেই আমার ভালো বন্ধু। একজন শামীম চৌধুরী। আবারও সবার সাথে দেখা করার সুযোগ হয়েছে, আমি খুবই খুশি।’

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে ফিরে পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত চারু। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আগের সফরের স্মৃতি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়টি। ডি থ্রি ট্রফির নিলাম আয়োজনের ধারণাটিও পছন্দ হয়েছে চারু শর্মার। তাঁর মতে, এ ধরনের পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে দলগুলোর কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে নিলাম দীর্ঘায়িত না করে প্রতিযোগিতাটিকে আকর্ষণীয়ভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

নিলাম পরিচালনা নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কাজই করি। তবে নিলাম পরিচালনা আমার প্রিয় কাজ। এবং বিশেষ করে এখানে যে কনসেপ্টে নিলাম হচ্ছে, খুব ভালো লাগল। সবার বুঝতে একটু সময় লাগতে পারে। বেশি সময়ও লাগানো যাবে না। ২-৩ দিন ধরে নিলাম করলে তো আর হবে না। তবে এক্সাইটিং করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ক্যাটাগরি ‘এ’ তো রোমাঞ্চকর ছিল। এখন দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।’ চারুর মতে, নতুন পদ্ধতির সঙ্গে দলগুলোর মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিলামের গতি ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পুরো আয়োজনকে রোমাঞ্চকর করে তোলার চেষ্টাও করছেন তিনি।

ডি থ্রি ট্রফির নিলাম পরিচালনার দায়িত্বের পাশাপাশি চারু শর্মার এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ারও সুযোগ তৈরি করেছে। আগের সফরের বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে তিনি খুশি। বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়ির মতো অনুভূতির কথা জানানো এবং নিলাম আয়োজনের প্রশংসা—দুই বিষয়েই তাঁর ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তামিম ইকবালের আমন্ত্রণে আসা এই সফরে তাই নিলাম পরিচালনার পাশাপাশি পুরোনো স্মৃতিও নতুন করে ফিরে এসেছে চারু শর্মার কাছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান-আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান-আফগানিস্তান

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে অনুভূত এ ভূমিকম্পে দুই দেশের একাধিক অঞ্চলে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২। প্রথমদিকে এর মাত্রা ৫.৮ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.২ নির্ধারণ করা হয়।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতার কারণে দুই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ভূমিকম্পের পরপরই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।  আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়।

আফগানিস্তানের এসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশেই তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার খবর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র:রয়টার্স, জিও নিউজ ও টোলো নিউজ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি