খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

সন্ধানী বার্তা রিপোর্ট :

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা। বিপরীতে বিরোধী বিএনপি শিবিরের পদযাত্রা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পুনরায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে দেশের প্রধান দু’রাজনৈতিক দল। চরমে ওঠে জনভোগান্তি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে সংঘর্ষ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির
পদযাত্রাকে ‘পতনযাত্রা’ বললেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন এটি ‘জয়যাত্রা’। দুটি কর্মসূচি নিয়ে আমাদের পৃথক পৃথক প্রতিবেদন।

মিছিল-স্লোগানে মুখর আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা
জয়যাত্রা নয়, এটা বিএনপির পতনযাত্রা : ওবায়দুল কাদের

রাজধানীতে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিশাল শোডাউন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে বিকেল থেকেই রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

শোভাযাত্রায় মৎসভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে তুলে ধরেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে ‘জয়যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। বিএনপির এই পদযাত্রাকে তিনি ‘পতনযাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কী বলেছে? পদযাত্রা, জনযাত্রা, বিজয়যাত্রা। আসলে পদযাত্রা, পরাজয় যাত্রা। পদযাত্রা, পতনযাত্রা। শুরু হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী দিয়েছে? তত্ত্বাবধায়ক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সরকারের পদত্যাগ দিয়েছে? তাদের কাছে দাবি করে কে? বিএনপি। কী পেয়েছে? একটা হাঁসের ডিম, ঘোড়ার ডিম।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমেরিকানরা আসছে, মনে করছে তারা তত্ত্বাবধায়ক দেবে, সংগ্রাম করতে হবে। তারা এলো, চলে গেল। বিএনপিকে দিয়ে গেল ঘোড়ার ডিম।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হবে না। পার্লামেন্টের বিলুপ্তি হবে না। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবার প্রশ্নই ওঠে না। শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথায় প্রধানমন্ত্রী সরে যাবেন? যতই ষড়ষন্ত্র করেন, বিষোদগার করেন কোনো লাভ হবে না।’

প্রতিটা নির্বাচনে তারা শান্তি চান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি মনে করছে ২০০১ সাল আর ২০০৬ সাল এই দুই সময়ের মতো তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আসবে। ওই সরকার নিয়ে এসে তারা জিতে যাবে। তাদের এই আশায় গুড়েবালি। তারা যা চেয়েছে কোনোদিনও হবে না। তত্ত্বাবধায়ক আদালত মেরে ফেলেছে। আমরা কিছু করিনি। বাতিল করেছে উচ্চ আদালত। ওরা তো আদালত মানে না। আইন মানে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি মানুষের পার্টি। বঙ্গবন্ধুর পার্টি, শেখ হাসিনার পার্টি। এই পার্টি কারও কাছে মাথা নত করে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের যত শয়তালের দল আছে, সব শয়তানর জায়গা হচ্ছে বিএনপি।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কী মেরামত করেছেন? খাম্বা!’

দ্রব্যমূল্য আস্তে আস্তে কমে যাবে আশ্বাস দিয়ে তিনি সরকারের গত তিন মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। বলেন, ‘বিএনপি ঘোড়ার ডিম ছাড়া কিছুই দিতে পারবে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ফখরুল, পাবলিকরে কী দিছেন?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল বুঝে গেছে, গতবারের মতো এবারও হারবে। এই দল ভুয়া। এদের সব কথা ভুয়া। ওদের আন্দোলন ভুয়া।’

কাদের বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বিএনপি নাকি ডিজিটাল করবে। তাদের সে স্বপ্ন ডিপ ফ্রিজে। এখন আর বলে না। তাদের ৩০ সালের স্বপ্ন ভুয়া।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলছি, আমাদের ধৈর্য ধরার সময়। আমরা বিজয়ী হবো। পরিবেশ যেন আশান্ত না হয়।’ কারও উস্কানিতে কান না দিয়ে নিজেদের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন দলের এই মুখপাত্র।

এ সময় বিএনপিকে ‘খালি কলসি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভরা কলসি নড়ে না। বিএনপি খালি কলসি।’ বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ‘হারা পার্টি বিশৃঙ্খলা করতে চায়’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘আমরা জেতা পার্টি।’

দলীয় সূত্র জানায়, শোভাযাত্রায় ব্যাপক জমায়েত করতে ঢাকার প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটকে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যর প্রতিবাদে’ শাস্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, সিটি কলেজ মোড়, কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে শেষ হয়।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, শোভাযাত্রার ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলের নানা ‘অপকর্মের’ চিত্রও তুলে ধরা হয়।

এদিকে, একই দিনে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলা ও মহানগরে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে অধিকসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাবেশ করার মাধ্যমে সারাদেশে শক্ত অবস্থানের কথা কূটনীতিকদের সামনে দেখাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ, এমনটিই বলেছেন দলটির নেতারা।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
পদযাত্রা আন্দোলনের জয়যাত্রা : মির্জা ফখরুল

সরকার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে ডাকা প্রথম দিনের পদযাত্রা কর্মসূচিতে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দলটির নেতাকর্মীরা টানা সাত ঘণ্টা রাজধানীতে হেঁটেছেন। ঢাকার এক মাথা থেকে আরেক মাথা হেঁটেই পাড়ি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর গাবতলী থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি বিকেলে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে গিয়ে শেষ হয়। বাংলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের বাইরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বড় কোনো গোলযোগ হয়নি।

বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে রায়সাহেব বাজারে এসে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এর আগে সকালে কর্মসূচির শুরুতে গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে নিজেদের আয়োজিত পদযাত্রাকে জয়যাত্রা বলে আখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পদযাত্রা আমাদের আন্দোলন ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা। এ পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায়ের জয়যাত্রা, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জয়যাত্রা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এখনি পদত্যাগ করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আবারও পরিষ্কার করে বলছি অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। কারণ গতকাল ঢাকায় একটি নির্বাচনের তামাশা দেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংকের হ্যাভিওয়েট একজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিরো আলম। সেখানে দেখলাম ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নাই। হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় তার সঙ্গে ভোট করতে গিয়ে তাকে মেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সেটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত তামাশা করে আর কোনো লাভ হবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছেন। এই ধরনের ভোট হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আজকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে এক দফা দাবি আদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের ভুইয়া, নাজিম উদ্দিন, যুবদলের সিনিয়র সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান প্রমুখ।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
প্রধান দুই দলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারাদেশের রাজনীতি। এতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে কয়েকটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। রাজবাড়ীতে সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে। এসব সংঘর্ষে দুই দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।

বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে।

পুলিশের দাবি, পদযাত্রা থেকে বিএনপির হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের গুলি ও হামলায় ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি দাবি করেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

কি‌শোরগ‌ঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পু‌লি‌শের ব‌্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএন‌পির শতা‌ধিক নেতাকর্মী আহত হ‌য়ে‌ছেন ব‌লে দাবি করেছে দল‌টি। সংঘ‌র্ষের সময় পু‌লি‌শের ওপর বৃ‌ষ্টির ম‌তো ইটপাটক‌কেল নি‌ক্ষেপ ক‌রে নেতাকর্মীরা। এসময় পু‌লিশও পাল্টা গু‌লি ক‌রে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের রথখলা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়া ঘটনা ঘটেছে।

পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকালে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রার উদ্দেশে জড়ো হয়েছিলেন। তখন তাদের সঙ্গে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পদযাত্রা থেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী কলেজ গেটে ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কালের আলো/বিএএ/এমএইচ

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের বড় লক্ষ্য নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের বড় লক্ষ্য নির্ধারণ

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ২০২৮ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করছে সরকার। বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৮০৯ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলো দেশের আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে ১৩টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫৭২ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার অতিরিক্ত রুফটপ সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু হবে।

তারা আরও জানান, বর্তমানে ১ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৬টি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সরকারি উদ্যোগে এবং ১ হাজার ৬২ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২০টি বেসরকারি খাতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিপিডিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। শিল্পখাতে নিজস্ব ব্যবহারের জন্য উৎপাদিত ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও অফ-গ্রিড নবায়নযোগ্য শক্তি যোগ করলে এই সক্ষমতা দাঁড়ায় ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াটে।

গত শনিবার প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৭৫৫ মেগাওয়াট, যেখানে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তা ছিল ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট।

চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা আনুমানিক ১৮ হাজার থেকে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ৩৭৭ দশমিক ১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যান্য উৎসের মধ্যে ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ, ০.৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস এবং ০.৪ মেগাওয়াট বায়োমাস থেকে উৎপাদিত হচ্ছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) গবেষণা অনুযায়ী, দেশে মোট ১ হাজার ৭৪৩ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা রয়েছে, যার উৎস সৌর পার্ক, নেট মিটারিংভিত্তিক ছাদ সৌর এবং সোলার হোম সিস্টেম।

রাষ্ট্রায়ত্ত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর পার্ক স্থাপন করছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি খাত বা স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদকরা (আইপিপি) জাতীয় গ্রিডে আরও ১৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো উদ্যোগ না থাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৭ (এসডিজি-৭)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদী বলেন, ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর প্ল্যান্ট স্থাপন করলে প্রায় ২ দশমিক ৯৪ থেকে ৩ কোটি টাকা আমদানি ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব।

তিনি বলেন, মানুষকে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করা গেলে সরকারের বিনিয়োগ ছাড়াই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

হাসান মেহেদী বলেন বলেন, পূর্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৩ হাজার একর জমি এখনও অব্যবহৃত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে এই জমিতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ কমানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (আইরেনা) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে চীন, যার উৎপাদন ১২ লাখ ২ হাজার ১৭৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ১১ হাজার ৬১০ দশমিক ১ মেগাওয়াট ও ভারত ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০১ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।

এ ছাড়া জার্মানি, জাপান, ব্রাজিল, স্পেন, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ভিয়েতনাম বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ফিলিপাইন ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, শ্রীলঙ্কা ১ হাজার মেগাওয়াট এবং পাকিস্তান ৮০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে।

শ্রীলঙ্কা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ‘সুরিয়া বালা সংগ্রামায়া’ (সৌরবিদ্যুতের জন্য সংগ্রাম) কর্মসূচির মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের মে মাসে ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানও দ্রুততম সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। দেশটির বর্তমান স্থাপিত সৌর সক্ষমতা প্রায় ৩২ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ ২০২২-এর পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। এরপর মানুষ বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

একই বিষয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করা সত্ত্বেও ২৪ কোটির বেশি মানুষের দেশ পাকিস্তান ‘বিশ্বের দ্রুততম সৌর বিপ্লবগুলোর অন্যতম’ হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে অবৈধ দখল মুক্ত হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে অবৈধ দখল মুক্ত হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খাল খনন। জনস্বার্থে এ কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সারাদেশে এ খাল খননের মাধ্যমে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা দখল মুক্ত হবে। অবৈধ দখলমুক্ত করতে গিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। ওইসব বিষয়গুলো আমরা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করবো।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে সদরের শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বিশ্ব খাল খনন উদ্বোধনী স্থান পরির্দশন করেন।

মন্ত্রী বলেন, সারাদেশের খালগুলো খালের স্থানেই রয়েছে। কেউ যদি অবৈধভাবে কোনো কিছু গড়ে তুলে, স্বাভাবিকভাবে তাকে ওই স্থান থেকে তা উঠিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাকি আইনগতভাবে মোকাবিলা আমরা করব। তবে আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য মহৎ। নতুন আঙ্গিকে ও নতুন উদ্যোমে একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এর জন্য সবার সহযোগিতা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউ রহমান খাল খননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। যা ছিলো একটি আন্দোলন ও বিপ্লব। সেই ধারাবাহিকতায় তার জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশের কয়েকটি স্থানে খালন খনন উদ্বোধন করেছেন। আবার অনেক জেলা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীরা কার্যক্রম শুরু করেছেন। একযোগে এই খাল খনন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ এর সুবিধা পাচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ বছর এই খাল খনন কর্মসূচি পড়েছিলো। কোনো সরকার এসব কর্মসূচির উদ্যোগ নেননি। যার ফলে অনেক জায়গায় খালের পাড়ে জমি দখল হয়েছে। খালের মধ্যে বর্জ্য কিংবা আবর্জনা স্তূপ হয়ে আছে। এগুলোকে আমরা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ দখল বলতে পারি।

এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমাসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর চাঁদপুর সফর উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিপি জানিয়েছে, বৈঠকে দেশের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাসিস্ট্যান্ট পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট মো. ইকবাল মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির পক্ষ থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আয়মান রাহাত এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সদস্য সচিব আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিদলকে এনসিপির কার্যালয় ঘুরে দেখান।

কালের আলো/এসআর/এএএন