খুঁজুন
                               
, ,
           

শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

সন্ধানী বার্তা রিপোর্ট :

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা। বিপরীতে বিরোধী বিএনপি শিবিরের পদযাত্রা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পুনরায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে দেশের প্রধান দু’রাজনৈতিক দল। চরমে ওঠে জনভোগান্তি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে সংঘর্ষ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির
পদযাত্রাকে ‘পতনযাত্রা’ বললেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন এটি ‘জয়যাত্রা’। দুটি কর্মসূচি নিয়ে আমাদের পৃথক পৃথক প্রতিবেদন।

মিছিল-স্লোগানে মুখর আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা
জয়যাত্রা নয়, এটা বিএনপির পতনযাত্রা : ওবায়দুল কাদের

রাজধানীতে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিশাল শোডাউন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে বিকেল থেকেই রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

শোভাযাত্রায় মৎসভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে তুলে ধরেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে ‘জয়যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। বিএনপির এই পদযাত্রাকে তিনি ‘পতনযাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কী বলেছে? পদযাত্রা, জনযাত্রা, বিজয়যাত্রা। আসলে পদযাত্রা, পরাজয় যাত্রা। পদযাত্রা, পতনযাত্রা। শুরু হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী দিয়েছে? তত্ত্বাবধায়ক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সরকারের পদত্যাগ দিয়েছে? তাদের কাছে দাবি করে কে? বিএনপি। কী পেয়েছে? একটা হাঁসের ডিম, ঘোড়ার ডিম।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমেরিকানরা আসছে, মনে করছে তারা তত্ত্বাবধায়ক দেবে, সংগ্রাম করতে হবে। তারা এলো, চলে গেল। বিএনপিকে দিয়ে গেল ঘোড়ার ডিম।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হবে না। পার্লামেন্টের বিলুপ্তি হবে না। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবার প্রশ্নই ওঠে না। শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথায় প্রধানমন্ত্রী সরে যাবেন? যতই ষড়ষন্ত্র করেন, বিষোদগার করেন কোনো লাভ হবে না।’

প্রতিটা নির্বাচনে তারা শান্তি চান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি মনে করছে ২০০১ সাল আর ২০০৬ সাল এই দুই সময়ের মতো তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আসবে। ওই সরকার নিয়ে এসে তারা জিতে যাবে। তাদের এই আশায় গুড়েবালি। তারা যা চেয়েছে কোনোদিনও হবে না। তত্ত্বাবধায়ক আদালত মেরে ফেলেছে। আমরা কিছু করিনি। বাতিল করেছে উচ্চ আদালত। ওরা তো আদালত মানে না। আইন মানে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি মানুষের পার্টি। বঙ্গবন্ধুর পার্টি, শেখ হাসিনার পার্টি। এই পার্টি কারও কাছে মাথা নত করে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের যত শয়তালের দল আছে, সব শয়তানর জায়গা হচ্ছে বিএনপি।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কী মেরামত করেছেন? খাম্বা!’

দ্রব্যমূল্য আস্তে আস্তে কমে যাবে আশ্বাস দিয়ে তিনি সরকারের গত তিন মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। বলেন, ‘বিএনপি ঘোড়ার ডিম ছাড়া কিছুই দিতে পারবে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ফখরুল, পাবলিকরে কী দিছেন?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল বুঝে গেছে, গতবারের মতো এবারও হারবে। এই দল ভুয়া। এদের সব কথা ভুয়া। ওদের আন্দোলন ভুয়া।’

কাদের বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বিএনপি নাকি ডিজিটাল করবে। তাদের সে স্বপ্ন ডিপ ফ্রিজে। এখন আর বলে না। তাদের ৩০ সালের স্বপ্ন ভুয়া।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলছি, আমাদের ধৈর্য ধরার সময়। আমরা বিজয়ী হবো। পরিবেশ যেন আশান্ত না হয়।’ কারও উস্কানিতে কান না দিয়ে নিজেদের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন দলের এই মুখপাত্র।

এ সময় বিএনপিকে ‘খালি কলসি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভরা কলসি নড়ে না। বিএনপি খালি কলসি।’ বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ‘হারা পার্টি বিশৃঙ্খলা করতে চায়’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘আমরা জেতা পার্টি।’

দলীয় সূত্র জানায়, শোভাযাত্রায় ব্যাপক জমায়েত করতে ঢাকার প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটকে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যর প্রতিবাদে’ শাস্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, সিটি কলেজ মোড়, কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে শেষ হয়।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, শোভাযাত্রার ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলের নানা ‘অপকর্মের’ চিত্রও তুলে ধরা হয়।

এদিকে, একই দিনে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলা ও মহানগরে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে অধিকসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাবেশ করার মাধ্যমে সারাদেশে শক্ত অবস্থানের কথা কূটনীতিকদের সামনে দেখাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ, এমনটিই বলেছেন দলটির নেতারা।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
পদযাত্রা আন্দোলনের জয়যাত্রা : মির্জা ফখরুল

সরকার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে ডাকা প্রথম দিনের পদযাত্রা কর্মসূচিতে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দলটির নেতাকর্মীরা টানা সাত ঘণ্টা রাজধানীতে হেঁটেছেন। ঢাকার এক মাথা থেকে আরেক মাথা হেঁটেই পাড়ি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর গাবতলী থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি বিকেলে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে গিয়ে শেষ হয়। বাংলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের বাইরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বড় কোনো গোলযোগ হয়নি।

বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে রায়সাহেব বাজারে এসে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এর আগে সকালে কর্মসূচির শুরুতে গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে নিজেদের আয়োজিত পদযাত্রাকে জয়যাত্রা বলে আখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পদযাত্রা আমাদের আন্দোলন ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা। এ পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায়ের জয়যাত্রা, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জয়যাত্রা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এখনি পদত্যাগ করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আবারও পরিষ্কার করে বলছি অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। কারণ গতকাল ঢাকায় একটি নির্বাচনের তামাশা দেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংকের হ্যাভিওয়েট একজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিরো আলম। সেখানে দেখলাম ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নাই। হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় তার সঙ্গে ভোট করতে গিয়ে তাকে মেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সেটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত তামাশা করে আর কোনো লাভ হবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছেন। এই ধরনের ভোট হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আজকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে এক দফা দাবি আদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের ভুইয়া, নাজিম উদ্দিন, যুবদলের সিনিয়র সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান প্রমুখ।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
প্রধান দুই দলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারাদেশের রাজনীতি। এতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে কয়েকটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। রাজবাড়ীতে সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে। এসব সংঘর্ষে দুই দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।

বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে।

পুলিশের দাবি, পদযাত্রা থেকে বিএনপির হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের গুলি ও হামলায় ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি দাবি করেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

কি‌শোরগ‌ঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পু‌লি‌শের ব‌্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএন‌পির শতা‌ধিক নেতাকর্মী আহত হ‌য়ে‌ছেন ব‌লে দাবি করেছে দল‌টি। সংঘ‌র্ষের সময় পু‌লি‌শের ওপর বৃ‌ষ্টির ম‌তো ইটপাটক‌কেল নি‌ক্ষেপ ক‌রে নেতাকর্মীরা। এসময় পু‌লিশও পাল্টা গু‌লি ক‌রে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের রথখলা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়া ঘটনা ঘটেছে।

পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকালে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রার উদ্দেশে জড়ো হয়েছিলেন। তখন তাদের সঙ্গে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পদযাত্রা থেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী কলেজ গেটে ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কালের আলো/বিএএ/এমএইচ

সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
সময় পেরিয়েছে, সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে গেছে

রুপালি পর্দায় কয়েক দশক ধরে সৌন্দর্য, অভিনয় ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হয়ে আছেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষা, এসেছে নতুন প্রজন্ম, বদলেছে দর্শকের রুচি। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের মুগ্ধতায় যেন ভাটা পড়েনি।

পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি এখনো ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। নতুন কোনো ছবি প্রকাশ করলেই প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সময়ের সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে পরিণত এক দীপ্তি।

ছবি>> সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছবিকে ঘিরেও দেখা গেছে একই চিত্র। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ আর মুখের মিষ্টি হাসিতে পরিশীলিত এক লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পরিপাটি সাজে মুগ্ধতা

ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্ট পরেছেন পূর্ণিমা। এর সঙ্গে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার যোগ করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সব মিলিয়ে তাঁর সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে ছিল না বাড়াবাড়ি।

তবে পোশাকের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে তাঁর স্বাভাবিক হাসি ও সাবলীল উপস্থিতি। ছবিটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের প্রশংসায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর।

ছবি>> সংগৃহীত

‘নিজের ভেতরের আলোকে নিভতে দিও না’

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের উত্থান-পতনকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’

পূর্ণিমার এই কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরাও। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যগুলোই যেন বলে দেয়, পূর্ণিমার সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক কেবল তাঁর অভিনীত চরিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা ও আগ্রহ এখনো রয়ে গেছে।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পূর্ণিমার। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাতেই তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ।

অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের নজরে আসেন পূর্ণিমা। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।

রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির আলাদা জনপ্রিয়তা

ঢালিউডে বেশ কিছু জনপ্রিয় জুটির মধ্যে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির গ্রহণযোগ্যতা ছিল আলাদা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়।

বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমাটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেয়। সিনেমাটির জনপ্রিয়তা রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটিকেও আরও শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

ছবি>> সংগৃহীত

ছোট পর্দাতেও ছিল সফল উপস্থিতি

শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘লাল নীল বেগুনী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। এরপর ‘ল্যাবরেটরি’, ‘নিলিমার প্রান্তে’, ‘অমানিশা’, ‘শঙ্খচিল’, ‘লাভ অ্যান্ড কোং’সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও মিলেছে

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ছবি>> সংগৃহীত

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।

বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তাঁর উপস্থিতি।

সময় বদলেছে, মুগ্ধতা নয়

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে বয়স, বদলেছে সময়, বদলেছে চলচ্চিত্রের পরিবেশও।

তবে দর্শকের চোখে পূর্ণিমার সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট। নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা নিয়মিত পর্দায় থাকলেও পূর্ণিমা অনিয়মিত হয়েও আলোচনায় থাকেন।

ছবি>> সংগৃহীত

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অনেক বছর, কিন্তু দর্শকের ভালোবাসা কিংবা সৌন্দর্যের দীপ্তিতে যেন তার প্রভাব পড়েনি। তাই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা—যে সংখ্যা তাঁর মুগ্ধতাকে মাপতে পারে না।

কালের আলো/জেএন

সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
সিনেমার ব্যস্ততা ছেড়ে মালদ্বীপের নীল জলে নয়নতারা

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা। দীর্ঘদিন ধরেই একের পর এক সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তবে এবার সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে মালদ্বীপের মনোরম সমুদ্রসৈকতে অবকাশযাপন করছেন নয়নতারা। নীল সমুদ্র, সাদা বালুর সৈকত আর রোদেলা আবহে বেশ স্বচ্ছন্দ সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে।

সিনেমার শুটিং ও পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে পাওয়া এই সময়টুকু নিজের মতো করেই উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি, রোদ পোহানো এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অবকাশযাপনের কিছু মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গেও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

ছবি<< সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মালদ্বীপে কাটানো সময়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন নয়নতারা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেয়ার করা ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই তা ভক্ত-অনুরাগীদের নজর কাড়ে। ছবিগুলোতে রোদেলা দিনে সৈকতের বালুবেলায় হালকা হলুদ রঙের পোশাকে হেঁটে বেড়াতে দেখা যায় তাকে।

ছবি<< সংগৃহীত

নয়নতারার এই অবকাশযাপনের লুকেও ছিল বেশ স্বচ্ছন্দ ও স্টাইলিশ ছোঁয়া। চোখে সানগ্লাস, মাথায় টুপি এবং পরনে হালকা রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে ধরা দিয়েছেন তিনি। পেছনে নীল সমুদ্র আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আরও আকর্ষণীয় আবহ।

ছবি<< সংগৃহীত

ছবিগুলোর লোকেশন হিসেবে মালদ্বীপের ফারি দ্বীপপুঞ্জের উত্তর মালে অ্যাটলে অবস্থিত বিলাসবহুল রিসোর্ট পাতিনা মালদ্বীপকে ট্যাগ করেছেন নয়নতারা। সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে অভিনেত্রীর অবকাশযাপনের এসব ছবি প্রকাশের পর তার ভক্তদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

ছবি<< সংগৃহীত

তবে শুধু অবকাশযাপন নয়, কাজের জগতেও আলোচনায় রয়েছেন নয়নতারা। সম্প্রতি তাকে বড়পর্দায় দেখা গেছে ‘হাই’ সিনেমায়। বিষ্ণু এদাভান পরিচালিত রোমান্টিক কমেডি ঘরানার এই সিনেমায় দেবায়ানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন কাভিন।

সিনেমাটিতে ময়িল ও দেবায়ানি—সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চরিত্রের জীবন ও তাদের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা, মিথ্যা ও নানা নাটকীয় মোড়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে কাহিনি।

চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, সিনেমাটি গতানুগতিক রোমান্টিক গল্পের বাইরে খুব নতুন কিছু উপস্থাপন না করলেও এর নাটকীয়তা ও গল্পের বিভিন্ন জটিলতা দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে। সিনেমায় নয়নতারার অভিনয়ও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এদিকে সিনেমার পর্দায় ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অবকাশের মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন অভিনেত্রী। মালদ্বীপের সৈকতে তার রোদেলা দিনের ছবিগুলো তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমুদ্রের নীল জল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে নয়নতারার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান সামিরা খান মাহী

নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে সম্ভাবনাময় একজন সামিরা খান মাহী। সাবলীল অভিনয়, চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজ করার আগ্রহ দিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। ইমরাউল রাফাত পরিচালিত ‘বকুল ফুল’ নাটকে পাগলির চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি ‘বিয়ে করতে গিয়ে’, ‘সকাল বিকাল রাত্রি’, ‘গার্লস স্কোয়াড’সহ বেশ কিছু নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন।

শুরুটা মডেলিং দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে অভিনয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন মাহী। সামনে নিজেকে আরও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে মেলে ধরতে চান তিনি। নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয়ের দর্শন, জনপ্রিয়তা ও সিনেমায় কাজের ইচ্ছা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে মিডিয়ায় এলাম

২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শোর মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু মাহীর। ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’য় প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিংয়ে পা রাখেন তিনি। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন।

নিজের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে মাহী বলেন, “২০১৪ সালে একটি রিয়ালিটি শো ‘র‌্যাং আরটিভি ২০ ২০ কালারস মডেল সার্চ প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার শুরু। প্রথম রানারআপ হয়ে মডেলিং জগতে পা রাখি। এরপর বাংলালিংক, প্রাইড গার্লস, সেলরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছি।”

অভিনয়ে তার প্রথম কাজ ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’। এরপর একে একে অনেক নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

মাহী বলেন, “অভিনয়ের জগতে প্রথম পা রাখি ধারাবাহিক নাটক ‘তরুণ তুর্কী’র মাধ্যমে। এরপর ‘পারিবারিক গোলযোগ’, ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’, ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’, ‘শুভ্রার ওয়ারড্রব’, ‘আকাশ বাড়িয়ে দাও’, ‘ম্যাচিং ব্রাদার’, ‘এক পা দু-পা’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি।”

যে কাজগুলো বদলে দিয়েছে পথ

ক্যারিয়ারে বেশ কিছু কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন মাহী। বিশেষ করে ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’ ও ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে শুরু করে।

মাহীর ভাষায়, “আমি মনে করি, যে সময়টায় ‘গার্লস স্কোয়াড’, ‘হাঙর’, ‘বকুল ফুল’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম, তখন আরও কয়েকটি নাটকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছি। এরপর দর্শক আমাকে সিরিয়াসলি নেওয়া শুরু করেন।”

বর্তমান সময়ে অভিনয়ের সুযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেয়ে সেটি ধরে রাখাকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন মাহী।

“আগের থেকে জনপ্রিয়তা একটু ইজি; কিন্তু জনপ্রিয়তা পেলেই হয় না, টিকিয়ে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন তিনি।

দর্শকের ভালোবাসা পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন মাহী। তিনি বলেন, “আমি যে সময়ে শুরু করলাম, তখন আরও ২০ জনের মতো এসেছিলাম। সবাই তো আর ক্লিক করলেন না। এ ক্ষেত্রে এটাও বলা যায়, দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া এতটাও সোজা নয়। বিশেষ করে ভালোবাসা পাওয়াটা ভেরি ডিফিকাল্ট। আমার সৌভাগ্য, আমি অল্প সময়ে এটি পেয়েছি।”

ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই

এক ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না মাহী। বরং নিজেকে এমন একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চান, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সমানভাবে মানিয়ে নিতে পারেন।

“আমি ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হতে চাই। সব ধরনের অভিনয় করব,” বলেন তিনি।

তবে দর্শক অনেক সময় একজন শিল্পীকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করলে ভিউয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা হয় বলে মনে করেন মাহী।

তার কথায়, “দর্শক একরকম নিয়েই নেন। তো ওটার বাইরে চলে গেলে ভিউয়ে ঝামেলা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে ভিউ ম্যাটার করে না, যখন আপনি অনেক ভালো কাজ করেন।”

ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকের রুচিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মাহী বলেন, “আমরা যদি ভালো কিছু দিই, তাহলে অডিয়েন্সের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে। এখন একই জিনিস যদি দিতেই থাকি, যেটা তারা পছন্দ করেন, তখন তো উপলব্ধি পরিবর্তন হলো না। এজন্য মাঝেমধ্যে আমার মন খারাপ হয়।”

‘সবার নিজস্বতা থাকা দরকার’

অভিনয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজস্বতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন মাহী। নিজের বিশেষ দক্ষতার জায়গা হিসেবে সিলেটি ভাষায় কথা বলার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

মাহী বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সবার নিজস্বতা থাকা দরকার। যেমন আমার একটা বিশেষ দক্ষতা আছে, সিলেটী ভাষায় কথা বলতে পারি, যেটা দর্শক পছন্দ করেন। অনেকে আমাকে ভার্সেটাইল অভিনেত্রী বলেন।”

সহশিল্পীদের কাউকেই প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন না এই অভিনেত্রী। বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

“আমি কাউকে আমার প্রতিযোগী মনে করি না। কাউকে এমনটা মনে করলে হিংসার বিষয়টা চলে আসবে। আমি চাই সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে,” বলেন মাহী।

‘আমি একদম পানির মতো’

নিজের অভিনয়ের ধরন বোঝাতে বেশ চমৎকার একটি উদাহরণ দিয়েছেন মাহী। নিজেকে পানির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমি একদম পানির মতো। যেই পাত্রে রাখবেন, সেই পাত্রের আকারই ধারণ করব।”

চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই ক্ষমতাকেই নিজের অন্যতম শক্তি মনে করেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে চান মাহী।

“সেই জায়গা থেকে আমি সবার সঙ্গে নাইস। আমি কখনো কারও সঙ্গে খারাপ হতেই পারব না,” বলেন তিনি।

‘হাওয়া’ দেখে সিনেমায় আগ্রহ

ছোট পর্দা ও ওয়েবের পাশাপাশি বড় পর্দায়ও কাজ করতে চান মাহী। ‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার।

তবে প্রচলিত অর্থে শুধু গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা নেই তার। গল্প ও চরিত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান এই অভিনেত্রী।

মাহী বলেন, “‘হাওয়া’ সিনেমাটি দেখার পর সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা জেগেছে। তেমন গল্পের সিনেমায় বেশি কাজ করতে চাই। অনেক সুন্দর আর গ্ল্যামার লাগতে হবে, এটা আমি চাই না। ক্যারেক্টারটা প্লে করে আসতে চাই।”

‘হাওয়া’ সিনেমার তুষি চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ওখানে কিন্তু তুষিকে অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে, এমন না; কিন্তু চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

‘যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়’

কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন মাহী। শুধু নিয়মিত কাজ করার জন্য যেকোনো গল্প বা চরিত্রে অভিনয় করতে চান না তিনি। নিজের কাজের মধ্যে সবসময় বৈচিত্র্য রাখাই তার লক্ষ্য।

তার ভাষায়, “আমি আসলে মনে করি যেনতেন গল্প আর চরিত্রে কাজ করা উচিত নয়, কারণ আমি গতানুগতিক অভিনেত্রী হতে চাই না। বরাবরই আমার কাজের মধ্যে যেন ভ্যারিয়েশন থাকে, সেটিই আমার লক্ষ্য।”

কাজের সংখ্যা কম হলেও ভালো কাজকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে মাহী বলেন, “গল্প বাছতে গিয়ে দেখা যায়, অন্যদের থেকে আমার কাজ পরিমাণে কম। এতেই খুশি, কারণ ভালো কাজ কম হলেও তাতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়।”

সামিরা খান মাহীর কথায় স্পষ্ট, সংখ্যার চেয়ে কাজের মান এবং চরিত্রের বৈচিত্র্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়জীবনে তাই একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙতে চান তিনি। দর্শকের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়াই এখন তার লক্ষ্য।

কালের আলো/জেএন