খুঁজুন
                               
, ,
           

শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

সন্ধানী বার্তা রিপোর্ট :

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা। বিপরীতে বিরোধী বিএনপি শিবিরের পদযাত্রা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পুনরায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে দেশের প্রধান দু’রাজনৈতিক দল। চরমে ওঠে জনভোগান্তি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে সংঘর্ষ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির
পদযাত্রাকে ‘পতনযাত্রা’ বললেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন এটি ‘জয়যাত্রা’। দুটি কর্মসূচি নিয়ে আমাদের পৃথক পৃথক প্রতিবেদন।

মিছিল-স্লোগানে মুখর আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা
জয়যাত্রা নয়, এটা বিএনপির পতনযাত্রা : ওবায়দুল কাদের

রাজধানীতে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিশাল শোডাউন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে বিকেল থেকেই রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

শোভাযাত্রায় মৎসভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে তুলে ধরেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে ‘জয়যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। বিএনপির এই পদযাত্রাকে তিনি ‘পতনযাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কী বলেছে? পদযাত্রা, জনযাত্রা, বিজয়যাত্রা। আসলে পদযাত্রা, পরাজয় যাত্রা। পদযাত্রা, পতনযাত্রা। শুরু হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী দিয়েছে? তত্ত্বাবধায়ক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সরকারের পদত্যাগ দিয়েছে? তাদের কাছে দাবি করে কে? বিএনপি। কী পেয়েছে? একটা হাঁসের ডিম, ঘোড়ার ডিম।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমেরিকানরা আসছে, মনে করছে তারা তত্ত্বাবধায়ক দেবে, সংগ্রাম করতে হবে। তারা এলো, চলে গেল। বিএনপিকে দিয়ে গেল ঘোড়ার ডিম।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হবে না। পার্লামেন্টের বিলুপ্তি হবে না। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবার প্রশ্নই ওঠে না। শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথায় প্রধানমন্ত্রী সরে যাবেন? যতই ষড়ষন্ত্র করেন, বিষোদগার করেন কোনো লাভ হবে না।’

প্রতিটা নির্বাচনে তারা শান্তি চান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি মনে করছে ২০০১ সাল আর ২০০৬ সাল এই দুই সময়ের মতো তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আসবে। ওই সরকার নিয়ে এসে তারা জিতে যাবে। তাদের এই আশায় গুড়েবালি। তারা যা চেয়েছে কোনোদিনও হবে না। তত্ত্বাবধায়ক আদালত মেরে ফেলেছে। আমরা কিছু করিনি। বাতিল করেছে উচ্চ আদালত। ওরা তো আদালত মানে না। আইন মানে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি মানুষের পার্টি। বঙ্গবন্ধুর পার্টি, শেখ হাসিনার পার্টি। এই পার্টি কারও কাছে মাথা নত করে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের যত শয়তালের দল আছে, সব শয়তানর জায়গা হচ্ছে বিএনপি।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কী মেরামত করেছেন? খাম্বা!’

দ্রব্যমূল্য আস্তে আস্তে কমে যাবে আশ্বাস দিয়ে তিনি সরকারের গত তিন মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। বলেন, ‘বিএনপি ঘোড়ার ডিম ছাড়া কিছুই দিতে পারবে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ফখরুল, পাবলিকরে কী দিছেন?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল বুঝে গেছে, গতবারের মতো এবারও হারবে। এই দল ভুয়া। এদের সব কথা ভুয়া। ওদের আন্দোলন ভুয়া।’

কাদের বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বিএনপি নাকি ডিজিটাল করবে। তাদের সে স্বপ্ন ডিপ ফ্রিজে। এখন আর বলে না। তাদের ৩০ সালের স্বপ্ন ভুয়া।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলছি, আমাদের ধৈর্য ধরার সময়। আমরা বিজয়ী হবো। পরিবেশ যেন আশান্ত না হয়।’ কারও উস্কানিতে কান না দিয়ে নিজেদের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন দলের এই মুখপাত্র।

এ সময় বিএনপিকে ‘খালি কলসি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভরা কলসি নড়ে না। বিএনপি খালি কলসি।’ বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ‘হারা পার্টি বিশৃঙ্খলা করতে চায়’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘আমরা জেতা পার্টি।’

দলীয় সূত্র জানায়, শোভাযাত্রায় ব্যাপক জমায়েত করতে ঢাকার প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটকে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যর প্রতিবাদে’ শাস্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, সিটি কলেজ মোড়, কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে শেষ হয়।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, শোভাযাত্রার ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলের নানা ‘অপকর্মের’ চিত্রও তুলে ধরা হয়।

এদিকে, একই দিনে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলা ও মহানগরে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে অধিকসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাবেশ করার মাধ্যমে সারাদেশে শক্ত অবস্থানের কথা কূটনীতিকদের সামনে দেখাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ, এমনটিই বলেছেন দলটির নেতারা।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
পদযাত্রা আন্দোলনের জয়যাত্রা : মির্জা ফখরুল

সরকার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে ডাকা প্রথম দিনের পদযাত্রা কর্মসূচিতে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দলটির নেতাকর্মীরা টানা সাত ঘণ্টা রাজধানীতে হেঁটেছেন। ঢাকার এক মাথা থেকে আরেক মাথা হেঁটেই পাড়ি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর গাবতলী থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি বিকেলে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে গিয়ে শেষ হয়। বাংলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের বাইরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বড় কোনো গোলযোগ হয়নি।

বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে রায়সাহেব বাজারে এসে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এর আগে সকালে কর্মসূচির শুরুতে গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে নিজেদের আয়োজিত পদযাত্রাকে জয়যাত্রা বলে আখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পদযাত্রা আমাদের আন্দোলন ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা। এ পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায়ের জয়যাত্রা, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জয়যাত্রা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এখনি পদত্যাগ করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আবারও পরিষ্কার করে বলছি অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। কারণ গতকাল ঢাকায় একটি নির্বাচনের তামাশা দেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংকের হ্যাভিওয়েট একজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিরো আলম। সেখানে দেখলাম ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নাই। হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় তার সঙ্গে ভোট করতে গিয়ে তাকে মেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সেটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত তামাশা করে আর কোনো লাভ হবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছেন। এই ধরনের ভোট হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আজকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে এক দফা দাবি আদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের ভুইয়া, নাজিম উদ্দিন, যুবদলের সিনিয়র সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান প্রমুখ।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
প্রধান দুই দলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারাদেশের রাজনীতি। এতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে কয়েকটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। রাজবাড়ীতে সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে। এসব সংঘর্ষে দুই দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।

বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে।

পুলিশের দাবি, পদযাত্রা থেকে বিএনপির হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের গুলি ও হামলায় ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি দাবি করেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

কি‌শোরগ‌ঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পু‌লি‌শের ব‌্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএন‌পির শতা‌ধিক নেতাকর্মী আহত হ‌য়ে‌ছেন ব‌লে দাবি করেছে দল‌টি। সংঘ‌র্ষের সময় পু‌লি‌শের ওপর বৃ‌ষ্টির ম‌তো ইটপাটক‌কেল নি‌ক্ষেপ ক‌রে নেতাকর্মীরা। এসময় পু‌লিশও পাল্টা গু‌লি ক‌রে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের রথখলা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়া ঘটনা ঘটেছে।

পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকালে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রার উদ্দেশে জড়ো হয়েছিলেন। তখন তাদের সঙ্গে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পদযাত্রা থেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী কলেজ গেটে ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কালের আলো/বিএএ/এমএইচ

চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে চটকদার বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, বর্তমান সরকার স্বল্প ব্যয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে দেশের তরুণেরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাতার সরকার বাংলাদেশের চারটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রকে তাদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ইউরোপে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে বিকল্প ও উদ্ভাবনী উপায়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

নুরুল হক বলেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেককে অবৈধ অভিবাসনের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে এনএসডিএকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষক, অ্যাসেসর, প্রশিক্ষণার্থী এবং তরুণ-যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকল হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনালাপে এ সহযোগিতা চান তিনি। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্যাস সংকট নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সোমবার আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় সেই চিঠি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ফোনালাপে আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার আশ্বাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার কিছু সুযোগ আছে কি না তারা জানাবেন। তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ। না হলে কোন ফর্মে তারা সহযোগিতা করতে পারে, সেটা তারা জানাবেন।

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই কাজ করছে তথ্য দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ করছি। এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা, পরামর্শ কিংবা সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সহযোগিতা করতে পারে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

টানা ৫ দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
টানা ৫ দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা 

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা পাঁচ দিন দেশের ভিন্ন জায়গায় ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে অধিদফতর।

পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে আজ সকাল ৬টায় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করেছে। এটি আরও পশ্চিম উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন বিহার-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এলাকায় অবস্থান করছে।

গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামী শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আগামী শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত এই পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ