খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

সন্ধানী বার্তা রিপোর্ট :

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা। বিপরীতে বিরোধী বিএনপি শিবিরের পদযাত্রা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পুনরায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে দেশের প্রধান দু’রাজনৈতিক দল। চরমে ওঠে জনভোগান্তি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে সংঘর্ষ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির
পদযাত্রাকে ‘পতনযাত্রা’ বললেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন এটি ‘জয়যাত্রা’। দুটি কর্মসূচি নিয়ে আমাদের পৃথক পৃথক প্রতিবেদন।

মিছিল-স্লোগানে মুখর আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা
জয়যাত্রা নয়, এটা বিএনপির পতনযাত্রা : ওবায়দুল কাদের

রাজধানীতে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিশাল শোডাউন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে বিকেল থেকেই রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

শোভাযাত্রায় মৎসভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে তুলে ধরেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে ‘জয়যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। বিএনপির এই পদযাত্রাকে তিনি ‘পতনযাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কী বলেছে? পদযাত্রা, জনযাত্রা, বিজয়যাত্রা। আসলে পদযাত্রা, পরাজয় যাত্রা। পদযাত্রা, পতনযাত্রা। শুরু হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী দিয়েছে? তত্ত্বাবধায়ক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সরকারের পদত্যাগ দিয়েছে? তাদের কাছে দাবি করে কে? বিএনপি। কী পেয়েছে? একটা হাঁসের ডিম, ঘোড়ার ডিম।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমেরিকানরা আসছে, মনে করছে তারা তত্ত্বাবধায়ক দেবে, সংগ্রাম করতে হবে। তারা এলো, চলে গেল। বিএনপিকে দিয়ে গেল ঘোড়ার ডিম।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হবে না। পার্লামেন্টের বিলুপ্তি হবে না। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবার প্রশ্নই ওঠে না। শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথায় প্রধানমন্ত্রী সরে যাবেন? যতই ষড়ষন্ত্র করেন, বিষোদগার করেন কোনো লাভ হবে না।’

প্রতিটা নির্বাচনে তারা শান্তি চান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি মনে করছে ২০০১ সাল আর ২০০৬ সাল এই দুই সময়ের মতো তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আসবে। ওই সরকার নিয়ে এসে তারা জিতে যাবে। তাদের এই আশায় গুড়েবালি। তারা যা চেয়েছে কোনোদিনও হবে না। তত্ত্বাবধায়ক আদালত মেরে ফেলেছে। আমরা কিছু করিনি। বাতিল করেছে উচ্চ আদালত। ওরা তো আদালত মানে না। আইন মানে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি মানুষের পার্টি। বঙ্গবন্ধুর পার্টি, শেখ হাসিনার পার্টি। এই পার্টি কারও কাছে মাথা নত করে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের যত শয়তালের দল আছে, সব শয়তানর জায়গা হচ্ছে বিএনপি।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কী মেরামত করেছেন? খাম্বা!’

দ্রব্যমূল্য আস্তে আস্তে কমে যাবে আশ্বাস দিয়ে তিনি সরকারের গত তিন মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। বলেন, ‘বিএনপি ঘোড়ার ডিম ছাড়া কিছুই দিতে পারবে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ফখরুল, পাবলিকরে কী দিছেন?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল বুঝে গেছে, গতবারের মতো এবারও হারবে। এই দল ভুয়া। এদের সব কথা ভুয়া। ওদের আন্দোলন ভুয়া।’

কাদের বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বিএনপি নাকি ডিজিটাল করবে। তাদের সে স্বপ্ন ডিপ ফ্রিজে। এখন আর বলে না। তাদের ৩০ সালের স্বপ্ন ভুয়া।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলছি, আমাদের ধৈর্য ধরার সময়। আমরা বিজয়ী হবো। পরিবেশ যেন আশান্ত না হয়।’ কারও উস্কানিতে কান না দিয়ে নিজেদের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন দলের এই মুখপাত্র।

এ সময় বিএনপিকে ‘খালি কলসি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভরা কলসি নড়ে না। বিএনপি খালি কলসি।’ বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ‘হারা পার্টি বিশৃঙ্খলা করতে চায়’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘আমরা জেতা পার্টি।’

দলীয় সূত্র জানায়, শোভাযাত্রায় ব্যাপক জমায়েত করতে ঢাকার প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটকে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যর প্রতিবাদে’ শাস্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, সিটি কলেজ মোড়, কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে শেষ হয়।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, শোভাযাত্রার ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলের নানা ‘অপকর্মের’ চিত্রও তুলে ধরা হয়।

এদিকে, একই দিনে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলা ও মহানগরে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে অধিকসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাবেশ করার মাধ্যমে সারাদেশে শক্ত অবস্থানের কথা কূটনীতিকদের সামনে দেখাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ, এমনটিই বলেছেন দলটির নেতারা।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
পদযাত্রা আন্দোলনের জয়যাত্রা : মির্জা ফখরুল

সরকার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে ডাকা প্রথম দিনের পদযাত্রা কর্মসূচিতে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দলটির নেতাকর্মীরা টানা সাত ঘণ্টা রাজধানীতে হেঁটেছেন। ঢাকার এক মাথা থেকে আরেক মাথা হেঁটেই পাড়ি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর গাবতলী থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি বিকেলে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে গিয়ে শেষ হয়। বাংলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের বাইরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বড় কোনো গোলযোগ হয়নি।

বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে রায়সাহেব বাজারে এসে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এর আগে সকালে কর্মসূচির শুরুতে গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে নিজেদের আয়োজিত পদযাত্রাকে জয়যাত্রা বলে আখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পদযাত্রা আমাদের আন্দোলন ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা। এ পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায়ের জয়যাত্রা, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জয়যাত্রা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এখনি পদত্যাগ করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আবারও পরিষ্কার করে বলছি অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। কারণ গতকাল ঢাকায় একটি নির্বাচনের তামাশা দেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংকের হ্যাভিওয়েট একজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিরো আলম। সেখানে দেখলাম ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নাই। হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় তার সঙ্গে ভোট করতে গিয়ে তাকে মেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সেটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত তামাশা করে আর কোনো লাভ হবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছেন। এই ধরনের ভোট হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আজকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে এক দফা দাবি আদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের ভুইয়া, নাজিম উদ্দিন, যুবদলের সিনিয়র সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান প্রমুখ।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
প্রধান দুই দলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারাদেশের রাজনীতি। এতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে কয়েকটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। রাজবাড়ীতে সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে। এসব সংঘর্ষে দুই দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।

বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে।

পুলিশের দাবি, পদযাত্রা থেকে বিএনপির হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের গুলি ও হামলায় ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি দাবি করেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

কি‌শোরগ‌ঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পু‌লি‌শের ব‌্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএন‌পির শতা‌ধিক নেতাকর্মী আহত হ‌য়ে‌ছেন ব‌লে দাবি করেছে দল‌টি। সংঘ‌র্ষের সময় পু‌লি‌শের ওপর বৃ‌ষ্টির ম‌তো ইটপাটক‌কেল নি‌ক্ষেপ ক‌রে নেতাকর্মীরা। এসময় পু‌লিশও পাল্টা গু‌লি ক‌রে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের রথখলা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়া ঘটনা ঘটেছে।

পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকালে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রার উদ্দেশে জড়ো হয়েছিলেন। তখন তাদের সঙ্গে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পদযাত্রা থেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী কলেজ গেটে ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কালের আলো/বিএএ/এমএইচ

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ