খুঁজুন
                               
, ,
           

শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
শোভাযাত্রা বনাম পদযাত্রা

সন্ধানী বার্তা রিপোর্ট :

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা। বিপরীতে বিরোধী বিএনপি শিবিরের পদযাত্রা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে পুনরায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে দেশের প্রধান দু’রাজনৈতিক দল। চরমে ওঠে জনভোগান্তি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে সংঘর্ষ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির
পদযাত্রাকে ‘পতনযাত্রা’ বললেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন এটি ‘জয়যাত্রা’। দুটি কর্মসূচি নিয়ে আমাদের পৃথক পৃথক প্রতিবেদন।

মিছিল-স্লোগানে মুখর আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা
জয়যাত্রা নয়, এটা বিএনপির পতনযাত্রা : ওবায়দুল কাদের

রাজধানীতে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিশাল শোডাউন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে বিকেল থেকেই রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। তাদের মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই কর্মসূচি শুরু হয়।

শোভাযাত্রায় মৎসভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে তুলে ধরেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে ‘জয়যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। বিএনপির এই পদযাত্রাকে তিনি ‘পতনযাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কী বলেছে? পদযাত্রা, জনযাত্রা, বিজয়যাত্রা। আসলে পদযাত্রা, পরাজয় যাত্রা। পদযাত্রা, পতনযাত্রা। শুরু হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী দিয়েছে? তত্ত্বাবধায়ক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সরকারের পদত্যাগ দিয়েছে? তাদের কাছে দাবি করে কে? বিএনপি। কী পেয়েছে? একটা হাঁসের ডিম, ঘোড়ার ডিম।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমেরিকানরা আসছে, মনে করছে তারা তত্ত্বাবধায়ক দেবে, সংগ্রাম করতে হবে। তারা এলো, চলে গেল। বিএনপিকে দিয়ে গেল ঘোড়ার ডিম।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক হবে না। পার্লামেন্টের বিলুপ্তি হবে না। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবার প্রশ্নই ওঠে না। শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।’

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কথায় প্রধানমন্ত্রী সরে যাবেন? যতই ষড়ষন্ত্র করেন, বিষোদগার করেন কোনো লাভ হবে না।’

প্রতিটা নির্বাচনে তারা শান্তি চান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপি মনে করছে ২০০১ সাল আর ২০০৬ সাল এই দুই সময়ের মতো তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আসবে। ওই সরকার নিয়ে এসে তারা জিতে যাবে। তাদের এই আশায় গুড়েবালি। তারা যা চেয়েছে কোনোদিনও হবে না। তত্ত্বাবধায়ক আদালত মেরে ফেলেছে। আমরা কিছু করিনি। বাতিল করেছে উচ্চ আদালত। ওরা তো আদালত মানে না। আইন মানে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি মানুষের পার্টি। বঙ্গবন্ধুর পার্টি, শেখ হাসিনার পার্টি। এই পার্টি কারও কাছে মাথা নত করে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের যত শয়তালের দল আছে, সব শয়তানর জায়গা হচ্ছে বিএনপি।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কী মেরামত করেছেন? খাম্বা!’

দ্রব্যমূল্য আস্তে আস্তে কমে যাবে আশ্বাস দিয়ে তিনি সরকারের গত তিন মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। বলেন, ‘বিএনপি ঘোড়ার ডিম ছাড়া কিছুই দিতে পারবে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ফখরুল, পাবলিকরে কী দিছেন?’ তিনি বলেন, ‘ফখরুল বুঝে গেছে, গতবারের মতো এবারও হারবে। এই দল ভুয়া। এদের সব কথা ভুয়া। ওদের আন্দোলন ভুয়া।’

কাদের বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বিএনপি নাকি ডিজিটাল করবে। তাদের সে স্বপ্ন ডিপ ফ্রিজে। এখন আর বলে না। তাদের ৩০ সালের স্বপ্ন ভুয়া।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলছি, আমাদের ধৈর্য ধরার সময়। আমরা বিজয়ী হবো। পরিবেশ যেন আশান্ত না হয়।’ কারও উস্কানিতে কান না দিয়ে নিজেদের কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন দলের এই মুখপাত্র।

এ সময় বিএনপিকে ‘খালি কলসি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভরা কলসি নড়ে না। বিএনপি খালি কলসি।’ বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ‘হারা পার্টি বিশৃঙ্খলা করতে চায়’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘আমরা জেতা পার্টি।’

দলীয় সূত্র জানায়, শোভাযাত্রায় ব্যাপক জমায়েত করতে ঢাকার প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটকে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যর প্রতিবাদে’ শাস্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, সিটি কলেজ মোড়, কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে শেষ হয়।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, শোভাযাত্রার ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলের নানা ‘অপকর্মের’ চিত্রও তুলে ধরা হয়।

এদিকে, একই দিনে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলা ও মহানগরে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে অধিকসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাবেশ করার মাধ্যমে সারাদেশে শক্ত অবস্থানের কথা কূটনীতিকদের সামনে দেখাতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ, এমনটিই বলেছেন দলটির নেতারা।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
পদযাত্রা আন্দোলনের জয়যাত্রা : মির্জা ফখরুল

সরকার পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে ডাকা প্রথম দিনের পদযাত্রা কর্মসূচিতে নিজেদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দলটির নেতাকর্মীরা টানা সাত ঘণ্টা রাজধানীতে হেঁটেছেন। ঢাকার এক মাথা থেকে আরেক মাথা হেঁটেই পাড়ি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর গাবতলী থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি বিকেলে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে গিয়ে শেষ হয়। বাংলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের বাইরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বড় কোনো গোলযোগ হয়নি।

বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে রায়সাহেব বাজারে এসে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এর আগে সকালে কর্মসূচির শুরুতে গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গাবতলীতে আয়োজিত সমাবেশে নিজেদের আয়োজিত পদযাত্রাকে জয়যাত্রা বলে আখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই পদযাত্রা আমাদের আন্দোলন ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা। এ পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায়ের জয়যাত্রা, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জয়যাত্রা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এখনি পদত্যাগ করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আবারও পরিষ্কার করে বলছি অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। কারণ গতকাল ঢাকায় একটি নির্বাচনের তামাশা দেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংকের হ্যাভিওয়েট একজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিরো আলম। সেখানে দেখলাম ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নাই। হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় তার সঙ্গে ভোট করতে গিয়ে তাকে মেরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সেটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত তামাশা করে আর কোনো লাভ হবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছেন। এই ধরনের ভোট হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আজকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে এক দফা দাবি আদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের ভুইয়া, নাজিম উদ্দিন, যুবদলের সিনিয়র সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান প্রমুখ।

পদযাত্রা ঘিরে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
প্রধান দুই দলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারাদেশের রাজনীতি। এতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে কয়েকটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। রাজবাড়ীতে সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে। এসব সংঘর্ষে দুই দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।

বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে।

পুলিশের দাবি, পদযাত্রা থেকে বিএনপির হামলায় ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের গুলি ও হামলায় ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি দাবি করেছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে বিএনপির মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

কি‌শোরগ‌ঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পু‌লি‌শের ব‌্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএন‌পির শতা‌ধিক নেতাকর্মী আহত হ‌য়ে‌ছেন ব‌লে দাবি করেছে দল‌টি। সংঘ‌র্ষের সময় পু‌লি‌শের ওপর বৃ‌ষ্টির ম‌তো ইটপাটক‌কেল নি‌ক্ষেপ ক‌রে নেতাকর্মীরা। এসময় পু‌লিশও পাল্টা গু‌লি ক‌রে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে শহরের রথখলা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়া ঘটনা ঘটেছে।

পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকালে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রার উদ্দেশে জড়ো হয়েছিলেন। তখন তাদের সঙ্গে মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পদযাত্রা থেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী কলেজ গেটে ভাঙচুর করে এবং সেখানে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কালের আলো/বিএএ/এমএইচ

হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

সেদিন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগদান করেছেন।

শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। ব্রিটেন থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী। এরপর ২০০৭ সালে তিনি হাইকোর্ট এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

পরে ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডিএমপির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৫৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৫৪৬

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৬২টি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৭ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৭৭, মতিঝিলে ৭৩, তেজগাঁওয়ে ১০৯, মিরপুরে ১২৫, গুলশানে ৪২, উত্তরা বিভাগে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন এবং সিটিটিসি বিভাগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৪ কেজি ১২০ গ্রাম গাঁজা, ২ হাজার ১৯৬ পিস ইয়াবা, ৫১ গ্রাম হেরোইন, ৩০ বোতল বিদেশি মদ, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়: ডেপুটি স্পিকার

মেধার মূল্যায়ন ও প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মতো বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আর রাজপথে নেমে জীবন দিতে না হয়, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটরিয়ামে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনে তারা রাজপথেও নেমেছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ব্যবস্থাকে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই বলছি, এনাফ ইজ এনাফ। আমরা ভবিষ্যতে আর রাজপথে গিয়ে বুলেটকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, প্রত্যেকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই আন্দোলন কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল। অতীতে মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়া এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে সুযোগবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি স্বপ্ন নিয়ে আসে। কেউ দরিদ্র বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে, কেউ কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীর পরিবার থেকে আসে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্নের পাশাপাশি পরিবারের স্বপ্নও বহন করে। রাষ্ট্রকে সেই স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি নিজে কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার বাবার অনেক প্রত্যাশা ছিল আমাকে নিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে ছাত্রজীবনে প্রত্যাশামতো পড়াশোনা করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

মুহসীন হলে থাকার সময় দেয়ালে লেখা ‘মানুষ তার আশার সমান বড় হয়’ বাক্যটি নিজের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, নেত্রকোনার গারো পাহাড়ের পাদদেশের একটি এলাকা থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলাম। আমাদের চোখের সামনে কোনো সীমানা রাখা যাবে না। আপনারা প্রত্যেকেই মেধাবী। কিন্তু সেই মেধার বিকাশের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও চর্চা প্রয়োজন। আমরা কেউ জানি না, ভবিষ্যতে কে কোথায় পৌঁছাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা বিকাশের ‘চারণক্ষেত্র’ উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।

নবীনবরণ শুধু ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করার অনুষ্ঠান নয় মন্তব্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এর মধ্য দিয়ে তাদের কাঁধে বাড়তি দায়িত্বও তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই দায়িত্ব প্রথমে নিজের প্রতি, এরপর পরিবার, সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতি।

বিসিএস ও সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বিসিএস একটি স্বপ্ন। তবে কর্মজীবনে ভালো অবস্থানে যাওয়ার পর যেন দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে না যায়। নিজের ও পরিবারের ভালো থাকার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের কেউ ভবিষ্যতে সামাজিক নেতা হবেন, কেউ গবেষক হবেন, কেউ বিশ্বখ্যাত অবস্থানে পৌঁছাবেন। কিন্তু একটি অনুরোধ, নিজের দায়িত্ব কখনও ভুলবেন না। সেই দায়িত্ব নিজের কাছ থেকে শুরু হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় পরে স্বাধীনতা পেলেও দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। শুধু স্বাধীন দেশ, পতাকা ও পাসপোর্ট পাওয়ার গর্বের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে প্রশ্ন করতে হবে, নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য কতটা কাজ করা হয়েছে।

সরকারের একার পক্ষে বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও ইতিবাচক কাজগুলোও আরও বেশি সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণা ও কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা বেশি আলোচিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া গবেষণা দেশকে যেভাবে সমৃদ্ধ করছে, তা তুলনামূলক কম আলোচনায় আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাম্প্রতিক বন্য প্রাণী সংরক্ষণসহ বিভিন্ন গবেষণা ও কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নবীনদের দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ব্যক্তিগত অবস্থান ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন কাটানো সম্ভব হলেও সেটিই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। নিজের জ্ঞান ও কর্মজীবনকে পরিবার, সমাজ ও দেশের কাজে লাগাতে পারলেই তা অর্থবহ হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রসঙ্গ টেনে কায়সার কামাল বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন। কয়েক মাস আগে থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনকে দেখে আসার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাদের ত্যাগের উদ্দেশ্য হিসেবে মানুষের অধিকার, মেধার মূল্যায়ন এবং সবার জন্য ভালো থাকার মতো রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেফালী বেগমসহ শিক্ষক ও নবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ