খুঁজুন
                               
, ,
           

চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
চটকদার বিজ্ঞাপনে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সরকার কঠোর হবে: প্রতিমন্ত্রী

বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে চটকদার বিজ্ঞাপন ও প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, বর্তমান সরকার স্বল্প ব্যয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকেও আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে দেশের তরুণেরা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কাতার সরকার বাংলাদেশের চারটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রকে তাদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ইউরোপে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রথাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে বিকল্প ও উদ্ভাবনী উপায়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

নুরুল হক বলেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনেককে অবৈধ অভিবাসনের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে এনএসডিএকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষক, অ্যাসেসর, প্রশিক্ষণার্থী এবং তরুণ-যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা, রাতে কমতে পারে তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা, রাতে কমতে পারে তাপমাত্রা

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাতের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৯ শতাংশ।

মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকায় মঙ্গলবার সূর্যাস্ত হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে। বুধবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নেএকোনা(কেন্দুয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কেন্দুয়ায় প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘রাখি চারপাশ পরিষ্কার, করি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিকার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্য নিজেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এ সময় ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপজেলা পরিষদ চত্বরের সড়ক ও আশপাশে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা স্থান এবং এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য উৎসগুলো পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা, কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে কেন্দুয়া পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন N1 Kendua। কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
আমদানিতে বড় ছাড়, বাড়ছে নিয়মের শৃঙ্খলা

ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সহজ করা, আমদানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্য জোরদার করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেটে প্রকাশিত নতুন নীতিতে একদিকে আমদানিকারকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, অন্যদিকে পণ্যের উৎপত্তি, মান, পরীক্ষণ, সনদ ও বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পালনে আনা হয়েছে আরও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা।

আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নতুন নীতির সামগ্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্য শুধু আমদানির বাধা কমানো নয়; বরং ব্যবসার পরিবেশকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো।

মোটরসাইকেলে বড় পরিবর্তন
নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি মোটরসাইকেল আমদানিতে। এখন সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে। আগের ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতে এ সীমা ছিল ১৬৫ সিসি। অর্থাৎ এক লাফে আমদানিযোগ্য মোটরসাইকেলের সিসি সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

এর ফলে দেশের মোটরসাইকেল বাজারে বড় ইঞ্জিনের মডেলের সরবরাহ বাড়তে পারে। ভোক্তাদের সামনে যেমন নতুন মডেলের বিকল্প তৈরি হবে, তেমনি আমদানিকারকদের জন্যও নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এর প্রভাব শুধু বাজারে নতুন মডেল আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বড় সিসির মোটরসাইকেলের আমদানি বাড়লে সংশ্লিষ্ট শুল্ক, রাজস্ব, বাজার প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় সংযোজন বা উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এলসি ছাড়াই চুক্তিতে আমদানির সুযোগ
নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ। এখন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন।

ব্যবসার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিটি লেনদেনের জন্য একই ধরনের অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহকারী ও ক্রেতার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক, চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ কিংবা বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।

মূল্যসীমা তুলে দেওয়ার ফলে এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নমনীয়তা বাড়বে। বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত সরবরাহ প্রয়োজন এমন পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে দায়ও
তবে নীতির এই শিথিলতাকে শুধু ‘আমদানিতে ছাড়’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। নতুন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—ব্যবসা সহজ করার সঙ্গে সঙ্গে নথিপত্র ও তথ্যের দায়ও বাড়ানো হয়েছে। পণ্যের উৎপত্তি, মান, স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ, পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট সনদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের শুধু পণ্য আনার ব্যবস্থা করলেই হবে না; পণ্য কোথায় উৎপাদিত, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে এবং নির্ধারিত মান পূরণ করছে কি না—এসব তথ্যও যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করতে হবে।

এতে একদিকে ভুয়া উৎপত্তি, ভুল ঘোষণা বা নিম্নমানের পণ্য আমদানির ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে প্রস্তুতিমূলক কাগজপত্র ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনায় দুর্বল ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

‘পণ্যের দেশ’ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি পণ্যের Country of Origin বা উৎপত্তির দেশ নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো পণ্য এক দেশে তৈরি হয়ে অন্য দেশে সংযোজন, প্রক্রিয়াজাত কিংবা পুনঃরপ্তানি হলে প্রকৃত উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নতুন আমদানি নীতিতে এ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য উৎপত্তি সনদ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠবে।

এটি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি যাচাইয়ের প্রয়োজনও বাড়বে। সঠিক নথিপত্র না থাকলে বিশেষ শুল্ক সুবিধা কিংবা বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মানের প্রশ্নে ছাড় নয়
আমদানির পরিমাণ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমদানি করা পণ্যের মান নিশ্চিত করাও ততটাই জরুরি। নতুন নীতিতে পণ্যের স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষণ ও পরিদর্শনের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পাশাপাশি Technical Barriers to Trade (TBT), Codex Alimentarius এবং বিএসটিআই-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, বিশেষ করে খাদ্য, ভোগ্যপণ্য ও মাননিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের শুধু আমদানির অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি দেখলেই চলবে না; পণ্যের মান ও প্রয়োজনীয় সনদের বিষয়টিও আগেই নিশ্চিত করতে হবে।

ভোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ইতিবাচক হতে পারে। আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হলেও মান নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে বাজারে নিম্নমানের বা অনিরাপদ পণ্যের প্রবেশের ঝুঁকি থাকে। নতুন নীতির কাঠামো সেই জায়গায় একটি ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে।

বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা, তবে শর্তসাপেক্ষ
নতুন নীতিতে এফটিএ, সিইপিএ, ইপিএ, পিটিএ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাও। কোনো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলে শুধু চুক্তি থাকলেই হবে না; পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম, প্রয়োজনীয় সনদ এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

অর্থাৎ নতুন নীতির বার্তা অনেকটা এমন—আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দরজা আরও খোলা হবে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে প্রবেশের নিয়মও স্পষ্টভাবে মানতে হবে।

মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
নতুন আদেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমদানি সুবিধা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আমদানিকে শুধু ভোগের সঙ্গে না দেখে উৎপাদন ও রপ্তানির সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দ্রুত ও সহজে কাঁচামাল সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের জন্য আসল পরীক্ষা বাস্তবায়নে
নতুন আমদানি নীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বাস্তবায়ন। কাগজে নিয়ম সহজ হলেও মাঠপর্যায়ে যদি একই ধরনের তথ্য বারবার চাওয়া হয়, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা থাকে কিংবা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হয়, তাহলে নীতির কাঙ্ক্ষিত সুফল ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি পাবেন না। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদেরও আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কমপ্লায়েন্স, তথ্য সংরক্ষণ, উৎপত্তি সনদ, মান যাচাই ও সঠিক নথিপত্রে। অর্থাৎ নতুন নীতিতে ‘সহজ আমদানি’ মানেই ‘কম দায়িত্ব’ নয়।

সব মিলিয়ে আমদানি নীতি ২০২৬–২০২৯ বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোটরসাইকেল আমদানির সীমা বাড়ানো কিংবা চুক্তিভিত্তিক আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি আনতে পারে। একই সঙ্গে উৎপত্তি, মান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির শর্তকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে আমদানি ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। চ্যালেঞ্জ এখন একটাই—নীতির সুবিধা যেন কাগজে আটকে না থাকে। আমদানি প্রক্রিয়া সত্যিই দ্রুত, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করা গেলে নতুন নীতি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। আর বাস্তবায়নে জটিলতা থেকেই গেলে নতুন নিয়মও পুরোনো আমলাতান্ত্রিক বাধার কাছে তার কাঙ্ক্ষিত কার্যকারিতা হারাতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ