খুঁজুন
                               
, ,
           

৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ: স্বস্তি কতটা, শক্তি কতটা?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ: স্বস্তি কতটা, শক্তি কতটা?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন পর একটি ইতিবাচক খবর—বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করলে সেই রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

অঙ্কটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কারণ রিজার্ভ কেবল একটি হিসাবের সংখ্যা নয়; এটি একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেন সামলানোর সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। খাদ্য আমদানি, জ্বালানি কেনা, শিল্পের কাঁচামাল আনা, বিদেশি ঋণ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধ—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় বৈদেশিক মুদ্রা। তাই রিজার্ভ বাড়লে প্রথম স্বস্তিটা আসে ডলার নিয়ে। ডলারের সরবরাহ নিয়ে হঠাৎ বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে। আমদানি বিল মেটানোর সক্ষমতা বাড়ে। ব্যাংকিং খাতেও বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফেরে।

কিন্তু এখানেই থেমে গেলে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ প্রশ্ন এখন শুধু ‘রিজার্ভ কত?’ নয়। প্রশ্ন হলো—‘রিজার্ভ কেন বাড়ছে, কতটা ব্যবহারযোগ্য এবং এই বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা অর্থনীতির বাস্তব সংকট কতটা কমাতে পারবে?’

চার বছর পর ৩৭ বিলিয়নের ঘরে
বাংলাদেশের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের অঙ্কটি প্রতীকীও বটে। কয়েক বছর আগে এই পর্যায়ের রিজার্ভ ছিল স্বাভাবিক বাস্তবতা। এরপর বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি ব্যয়, ডলার সংকট এবং রিজার্ভ ক্ষয়ের ধারায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়নে পৌঁছায়। জুলাই শেষে কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন হলেও আগস্টে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অর্থাৎ এটি এক দিনের কোনো উল্লম্ফন নয়। কয়েক মাস ধরে রিজার্ভে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব।

কারণ একসময় বাংলাদেশকে রিজার্ভ বাঁচাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছিল। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ব্যবসায়ীদের আমদানি পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে হয়েছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে ফিরে আসা অবশ্যই বড় পরিবর্তন।

কিন্তু ৩৭ বিলিয়ন মানেই হাতে ৩৭ বিলিয়ন নয়
রিজার্ভ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির জায়গাটি এখানেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভের অঙ্ক এবং আইএমএফের BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ এক নয়। ২৪ আগস্ট এই দুই অঙ্কের মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। এর অর্থ এই নয় যে গ্রস রিজার্ভের ওই অংশ ‘নেই’। বরং আন্তর্জাতিক হিসাবপদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়সহ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যে পরিমাণকে তুলনামূলকভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দেখা হয়, BPM6 সেই বাস্তবতাকে বেশি প্রতিফলিত করে।

তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচার করতে শুধু বড় অঙ্কের গ্রস রিজার্ভ দেখলে হবে না। বরং দেখতে হবে—বাস্তবে কতটা বৈদেশিক মুদ্রা হাতে রেখে আমদানি, ঋণ পরিশোধ এবং সম্ভাব্য বৈদেশিক চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব। এখানেই ৩৭ বিলিয়নের উচ্ছ্বাসকে কিছুটা বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনা দরকার।

রিজার্ভ বাড়ছে কেন?
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে দৃশ্যমান কারণগুলোর একটি হলো রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ৪৮ দিনে বাংলাদেশে ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই এসেছে ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ রেমিট্যান্স সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায়। প্রবাসীরা বৈধ পথে বেশি অর্থ পাঠালে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের প্রবাহ বাড়ে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ডলার সরবরাহের চাপ কমে এবং রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে শৃঙ্খলা ফেরার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে কেবল ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা জমা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রবাহ এবং বাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতাও রয়েছে।

তাহলে কি ডলার সংকট শেষ?
এখানেও উত্তর—পুরোপুরি নয়। রিজার্ভের উন্নতি ডলার সংকটের ঝুঁকি কমায়, কিন্তু অর্থনীতির বৈদেশিক মুদ্রার সব চাপ একসঙ্গে শেষ করে দেয় না। কারণ, বাংলাদেশের ডলারের প্রয়োজন অব্যাহত। খাদ্য, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি—সবকিছুর জন্য আমদানি দরকার। আবার বিদেশি ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দায়ও

পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি যদি আমদানির চাহিদা দ্রুত বাড়ে, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপও বাড়তে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। রিজার্ভ বাড়ছে—এটি ভালো খবর। কিন্তু সেই রিজার্ভ কত দ্রুত ব্যয় হচ্ছে, কেন ব্যয় হচ্ছে এবং ব্যয়ের বিপরীতে অর্থনীতিতে কতটা উৎপাদনশীল সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে—সেটিই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে রিজার্ভের ভূমিকা কোথায়?
এখন আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে—রিজার্ভ বাড়লে কি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কমবে? আংশিকভাবে হ্যাঁ, কিন্তু সরাসরি নয়।।বাংলাদেশ যদি পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে রাখতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ে। প্রয়োজনীয় এলসি খোলা সহজ হয়। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আমদানিকারকদের ওপর ডলার সংকটের চাপ কমে। অর্থাৎ রিজার্ভ জ্বালানি সংকট সমাধানের আর্থিক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। কিন্তু রিজার্ভ নিজে গ্যাস উৎপাদন বাড়ায় না, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ায় না কিংবা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দূর করে না।

এখানেই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হাতে ডলার আছে—এটি একটি সক্ষমতা। কিন্তু সেই ডলার দিয়ে সময়মতো জ্বালানি আমদানি করা, বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো—এসব হলো নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। তাই ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ‘সমাধান’ বলা যাবে না। বরং এটি সংকট মোকাবিলার জন্য একটি বড় আর্থিক বাফার তৈরি করে।

স্বস্তি আছে, তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বিশেষ করে এমন একটি অর্থনীতির জন্য, যেখানে কিছুদিন আগেও ডলার সংকট ছিল, আমদানি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়েছিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ ছিল—সেখানে রিজার্ভের পুনরুদ্ধার আস্থার জায়গা তৈরি করে।।কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, রিজার্ভ কোনো দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। রেমিট্যান্স বাড়ছে—এটি ভালো। রিজার্ভ বাড়ছে—এটিও ভালো। ডলারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল হচ্ছে—এটিও স্বস্তির। কিন্তু এর সঙ্গে রপ্তানি, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যও শক্তিশালী হতে হবে। কারণ শুধু রিজার্ভ জমিয়ে একটি অর্থনীতি দীর্ঘদিন শক্তিশালী থাকে না। রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পেছনে যে আয় ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকে, সেটিই শেষ পর্যন্ত টেকসই শক্তি তৈরি করে।

৩৭ বিলিয়ন এখন পরীক্ষা
তাই বাংলাদেশের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় একটি স্বস্তির মাইলফলক হিসেবে—চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে নয়। এই রিজার্ভ এখন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কিছুটা বেশি নীতিগত জায়গা দিচ্ছে। জ্বালানি আমদানি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও প্রয়োজনীয় আমদানিতে ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়ছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা হবে সামনে। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ ধরে রাখা যায় কি না, রপ্তানি আয় বাড়ে কি না, আমদানি ব্যবস্থাপনা কতটা শৃঙ্খলিত থাকে এবং সবচেয়ে বড় কথা—এই বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা অর্থনীতির উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কতটা কাজে লাগানো যায়। কারণ রিজার্ভের অঙ্ক বড় হওয়া স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু সেই স্বস্তিকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করাই এখন বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। ৩৭ বিলিয়ন ডলার তাই শেষ গন্তব্য নয়। এটি বরং একটি প্রশ্নের নতুন শুরু—বাংলাদেশ কি এবার রিজার্ভ শুধু বাড়াবে, নাকি সেই রিজার্ভের শক্তিতে অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে?

কালের আলো/এম/এএইচ

মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফরে ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন করে গতি আনার বার্তা মিলেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। ফলে পশ্চিম সীমান্তের লাদাখের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল-বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ।

অমীমাংসিত পূর্ব সীমান্ত
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের প্রধান সংকট হিসেবে পূর্ব লাদাখই আলোচনায় ছিল। কিন্তু সীমান্তের পূর্ব প্রান্তে বিরোধের চরিত্র আরও জটিল। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডের ওপর দাবি করে অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ নামে অভিহিত করে আসছে। বিভিন্ন সময় অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের জন্য চীনা নামও ঘোষণা করেছে বেইজিং।

নয়াদিল্লি এসব দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের অবস্থান, অরুণাচল প্রদেশ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ যতই এগোক, অরুণাচল প্রশ্নটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে থাকছে।

উত্তর-পূর্বে একসঙ্গে বহু স্বার্থ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। তিব্বত, আন্তঃসীমান্ত নদী, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত অবকাঠামো এবং মিয়ানমার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ-সবগুলো বিষয় এ অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে তিব্বত মালভূমিতে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে অরুণাচল সীমান্তে সড়ক, সেতু ও সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা দুই দেশের নিরাপত্তা হিসাবকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত
শি-মোদি বৈঠকের আগে অবশ্য সম্পর্কের বরফ গলার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ আট দফা ঐকমত্যে পৌঁছায়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। অরুণাচল প্রদেশের তাকসিংকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে এই যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ-দুই পথেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।

দিল্লির সামনে কঠিন ভারসাম্য
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখা। মোদির বক্তব্যে সেই দ্বৈত নীতিই স্পষ্ট হয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নের দরজা খোলা, কিন্তু তার চাবি সীমান্তে শান্তি। এই অবস্থায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের সীমান্ত অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা, দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগ বাড়ানো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অরুণাচলেই আসল পরীক্ষা
শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে কি না, তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে সীমান্তে। আর সেই পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অরুণাচল প্রদেশ। কারণ লাদাখে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি পূর্ব সীমান্তের ভূখণ্ডগত দাবি, আন্তঃসীমান্ত নদী, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রশ্নও সমাধানের পথে এগোতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নেতার পেছনে থেকে কেউ মাদক ব্যবসা করলে তাকেও সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মিরাজ শেখের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের মাধ্যমে ওই পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং জামিনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

মব জাস্টিসের বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে মব জাস্টিস করে জামিন ঠেকানো বা আদালতের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে বিকেলে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠ যথেষ্ট নয়-প্রয়োজন নিবিড় পরিচর্যা, উপযুক্ত থেরাপি, দক্ষতা বিকাশ এবং সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ। ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষায়িত শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শনে এসে সেই সমন্বিত ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্কুলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স’ উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের (ওডব্লিউসিসি) সভাপতি সালেহা খান। পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় অতিথিকে। পুরো পরিদর্শনজুড়ে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহায়ক থেরাপি এবং দক্ষতা তৈরির কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

শিশুকে সীমাবদ্ধতায় নয়, সম্ভাবনায় দেখার উদ্যোগ
বাফওয়ার উদ্যোগে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ব্লু স্কাই’ এখন শুধু একটি বিশেষায়িত স্কুল নয়, এটি শিক্ষা ও থেরাপিকে একসঙ্গে নিয়ে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান বিভিন্ন শ্রেণি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপির কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রয়োজন এক নয়। কারও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, কারও প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, আবার কারও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কিংবা মানসিক বিকাশে বিশেষ সহায়তা দরকার। ‘ব্লু স্কাই’-এর ছয় ধরনের থেরাপি সেই ভিন্ন প্রয়োজনগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৮ জন শিক্ষক ও থেরাপিস্ট এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

শ্রেণিকক্ষ পেরিয়ে মূলধারায় ফেরার প্রস্তুতি
স্কুলটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা। সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার বা ব্রাদারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে প্রতিটি শিশুর শেখার গতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি শিক্ষাও। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষা ও থেরাপির শেষ লক্ষ্য কেবল শিশুকে সক্ষম করে তোলা নয়। একই সঙ্গে সেই সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা।

জুবাইদা রহমানের প্রশংসায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
পরিদর্শন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘ব্লু স্কাই’-এর সুযোগ-সুবিধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বাফওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। পরে তিনি বাফওয়া কর্নার পরিদর্শন করে বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প ও বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীও ঘুরে দেখেন তিনি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য বাফওয়ার উদ্যোগগুলোও তাঁর পরিদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই দুটি উদ্যোগকে পাশাপাশি দেখলে একটি অভিন্ন সামাজিক দর্শন স্পষ্ট হয়ে ওঠে-সহায়তার ওপর নির্ভরতা নয়, বরং সক্ষমতা তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ। ‘ব্লু স্কাই’ যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, থেরাপি ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে, সেখানে বাফওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নারীদের দক্ষতাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।

শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব

পরিদর্শনের শেষপর্বে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এই আয়োজন যেন ‘ব্লু স্কাই’-এর মূল দর্শনকেই সামনে আনে-বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সমাজের আনন্দ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবনের সমান অংশীদার।

ডা. জুবাইদা রহমানের এই পরিদর্শন শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর প্রশংসার মধ্য দিয়ে বিশেষ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব যেমন সামনে এসেছে, তেমনি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতার উদ্যোগও পেয়েছে দৃশ্যমান স্বীকৃতি। আর ‘ব্লু স্কাই’ যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে-বিশেষ চাহিদা কোনো শিশুর সম্ভাবনার সীমা নয়; প্রয়োজন শুধু তাকে নিজের সক্ষমতা মেলে ধরার উপযুক্ত সুযোগ করে দেওয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে