খুঁজুন
                               
, ,
           

৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ: স্বস্তি কতটা, শক্তি কতটা?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ: স্বস্তি কতটা, শক্তি কতটা?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন পর একটি ইতিবাচক খবর—বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করলে সেই রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

অঙ্কটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কারণ রিজার্ভ কেবল একটি হিসাবের সংখ্যা নয়; এটি একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেন সামলানোর সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। খাদ্য আমদানি, জ্বালানি কেনা, শিল্পের কাঁচামাল আনা, বিদেশি ঋণ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দায় পরিশোধ—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় বৈদেশিক মুদ্রা। তাই রিজার্ভ বাড়লে প্রথম স্বস্তিটা আসে ডলার নিয়ে। ডলারের সরবরাহ নিয়ে হঠাৎ বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে। আমদানি বিল মেটানোর সক্ষমতা বাড়ে। ব্যাংকিং খাতেও বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফেরে।

কিন্তু এখানেই থেমে গেলে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ প্রশ্ন এখন শুধু ‘রিজার্ভ কত?’ নয়। প্রশ্ন হলো—‘রিজার্ভ কেন বাড়ছে, কতটা ব্যবহারযোগ্য এবং এই বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রা অর্থনীতির বাস্তব সংকট কতটা কমাতে পারবে?’

চার বছর পর ৩৭ বিলিয়নের ঘরে
বাংলাদেশের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের অঙ্কটি প্রতীকীও বটে। কয়েক বছর আগে এই পর্যায়ের রিজার্ভ ছিল স্বাভাবিক বাস্তবতা। এরপর বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি ব্যয়, ডলার সংকট এবং রিজার্ভ ক্ষয়ের ধারায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়নে পৌঁছায়। জুলাই শেষে কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন হলেও আগস্টে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অর্থাৎ এটি এক দিনের কোনো উল্লম্ফন নয়। কয়েক মাস ধরে রিজার্ভে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব।

কারণ একসময় বাংলাদেশকে রিজার্ভ বাঁচাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছিল। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ব্যবসায়ীদের আমদানি পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে হয়েছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে ফিরে আসা অবশ্যই বড় পরিবর্তন।

কিন্তু ৩৭ বিলিয়ন মানেই হাতে ৩৭ বিলিয়ন নয়
রিজার্ভ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির জায়গাটি এখানেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভের অঙ্ক এবং আইএমএফের BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ এক নয়। ২৪ আগস্ট এই দুই অঙ্কের মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। এর অর্থ এই নয় যে গ্রস রিজার্ভের ওই অংশ ‘নেই’। বরং আন্তর্জাতিক হিসাবপদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়সহ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যে পরিমাণকে তুলনামূলকভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দেখা হয়, BPM6 সেই বাস্তবতাকে বেশি প্রতিফলিত করে।

তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচার করতে শুধু বড় অঙ্কের গ্রস রিজার্ভ দেখলে হবে না। বরং দেখতে হবে—বাস্তবে কতটা বৈদেশিক মুদ্রা হাতে রেখে আমদানি, ঋণ পরিশোধ এবং সম্ভাব্য বৈদেশিক চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব। এখানেই ৩৭ বিলিয়নের উচ্ছ্বাসকে কিছুটা বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনা দরকার।

রিজার্ভ বাড়ছে কেন?
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে দৃশ্যমান কারণগুলোর একটি হলো রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ৪৮ দিনে বাংলাদেশে ৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগস্টের প্রথম ১৭ দিনেই এসেছে ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ রেমিট্যান্স সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায়। প্রবাসীরা বৈধ পথে বেশি অর্থ পাঠালে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের প্রবাহ বাড়ে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ডলার সরবরাহের চাপ কমে এবং রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে শৃঙ্খলা ফেরার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে কেবল ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা জমা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রবাহ এবং বাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতাও রয়েছে।

তাহলে কি ডলার সংকট শেষ?
এখানেও উত্তর—পুরোপুরি নয়। রিজার্ভের উন্নতি ডলার সংকটের ঝুঁকি কমায়, কিন্তু অর্থনীতির বৈদেশিক মুদ্রার সব চাপ একসঙ্গে শেষ করে দেয় না। কারণ, বাংলাদেশের ডলারের প্রয়োজন অব্যাহত। খাদ্য, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি—সবকিছুর জন্য আমদানি দরকার। আবার বিদেশি ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দায়ও

পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি যদি আমদানির চাহিদা দ্রুত বাড়ে, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপও বাড়তে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। রিজার্ভ বাড়ছে—এটি ভালো খবর। কিন্তু সেই রিজার্ভ কত দ্রুত ব্যয় হচ্ছে, কেন ব্যয় হচ্ছে এবং ব্যয়ের বিপরীতে অর্থনীতিতে কতটা উৎপাদনশীল সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে—সেটিই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে রিজার্ভের ভূমিকা কোথায়?
এখন আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে—রিজার্ভ বাড়লে কি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কমবে? আংশিকভাবে হ্যাঁ, কিন্তু সরাসরি নয়।।বাংলাদেশ যদি পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে রাখতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ে। প্রয়োজনীয় এলসি খোলা সহজ হয়। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আমদানিকারকদের ওপর ডলার সংকটের চাপ কমে। অর্থাৎ রিজার্ভ জ্বালানি সংকট সমাধানের আর্থিক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। কিন্তু রিজার্ভ নিজে গ্যাস উৎপাদন বাড়ায় না, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ায় না কিংবা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা দূর করে না।

এখানেই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হাতে ডলার আছে—এটি একটি সক্ষমতা। কিন্তু সেই ডলার দিয়ে সময়মতো জ্বালানি আমদানি করা, বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো—এসব হলো নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। তাই ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ‘সমাধান’ বলা যাবে না। বরং এটি সংকট মোকাবিলার জন্য একটি বড় আর্থিক বাফার তৈরি করে।

স্বস্তি আছে, তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বিশেষ করে এমন একটি অর্থনীতির জন্য, যেখানে কিছুদিন আগেও ডলার সংকট ছিল, আমদানি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়েছিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ ছিল—সেখানে রিজার্ভের পুনরুদ্ধার আস্থার জায়গা তৈরি করে।।কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, রিজার্ভ কোনো দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। রেমিট্যান্স বাড়ছে—এটি ভালো। রিজার্ভ বাড়ছে—এটিও ভালো। ডলারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল হচ্ছে—এটিও স্বস্তির। কিন্তু এর সঙ্গে রপ্তানি, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যও শক্তিশালী হতে হবে। কারণ শুধু রিজার্ভ জমিয়ে একটি অর্থনীতি দীর্ঘদিন শক্তিশালী থাকে না। রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পেছনে যে আয় ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকে, সেটিই শেষ পর্যন্ত টেকসই শক্তি তৈরি করে।

৩৭ বিলিয়ন এখন পরীক্ষা
তাই বাংলাদেশের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভকে সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায় একটি স্বস্তির মাইলফলক হিসেবে—চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে নয়। এই রিজার্ভ এখন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কিছুটা বেশি নীতিগত জায়গা দিচ্ছে। জ্বালানি আমদানি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও প্রয়োজনীয় আমদানিতে ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়ছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা হবে সামনে। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ ধরে রাখা যায় কি না, রপ্তানি আয় বাড়ে কি না, আমদানি ব্যবস্থাপনা কতটা শৃঙ্খলিত থাকে এবং সবচেয়ে বড় কথা—এই বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা অর্থনীতির উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কতটা কাজে লাগানো যায়। কারণ রিজার্ভের অঙ্ক বড় হওয়া স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু সেই স্বস্তিকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করাই এখন বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। ৩৭ বিলিয়ন ডলার তাই শেষ গন্তব্য নয়। এটি বরং একটি প্রশ্নের নতুন শুরু—বাংলাদেশ কি এবার রিজার্ভ শুধু বাড়াবে, নাকি সেই রিজার্ভের শক্তিতে অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে?

কালের আলো/এম/এএইচ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সফর স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সফর স্থগিত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার।

বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক।

জেলা প্রশাসক বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সফরের কথা ছিল। অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে নতুন সফরসূচি নির্ধারণ করা হতে পারে।

এর আগে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন, যানবাহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। একই চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সফরের বিস্তারিত সূচি ও সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের প্রথম সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। তার সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতরেও শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। তবে শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হলো।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।

পরদিন ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ঈদে মিলাদুন্নবীতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবীতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা রিজভীর

মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং কল্যাণ কামনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা ও কল্যাণ কামনা করেন।

বাণীতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ), এই পবিত্র দিনে বিশ্বজগতে এক সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের আবির্ভাব হয়। এই শিশুর শুভাগমনে সারা দুনিয়ায় রহমতের অবারিত দ্বার উন্মোচিত হয়। সততা, নম্রতা, উদারতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং নবীজির প্রদর্শিত পথে চলার জন্য এই দিনটি এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর অসীম শান্তি ও অফুরন্ত কল্যাণ কামনা করছি। তাদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিশ্বমানবের নিকট এক অসাধারণ আলোকবর্তিকা, শান্তি-সংগ্রাম-সম্প্রীতি ও মূল্যবোধের আঁধার চরম সত্যবাদী ও পরম বিশ্বস্ত হযরত মোহাম্মদ (সা.)। তার কালজয়ী মূল্যবোধ, মানবতা, সহমর্মিতা, উদারতা ও মানুষের প্রতি সহানুভূতি মানবজাতির কাছে চিরকালীন এক পরম শিক্ষা হয়ে থাকবে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৈশোরকাল থেকেই মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) মিথ্যার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা ছিলেন। তিনি কোনো দিন আমানতের খেয়ানত করেননি। অন্যের উপকার করাকে তিনি পরম কর্তব্য বলে মনে করতেন। বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)।

তিনি বলেন, পরম সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রেখে তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুয়াত লাভ করেন। কঠোর পরিশ্রমী প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তিনি তাওহিদের বাণী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করেও।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ করেন। এটি মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তির যাবতীয় নির্দেশাবলি অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষকে পরিপূর্ণ ও মর্যাদাশীল করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, তার জীবন ও কর্ম অনুসরণের মাধ্যমে মুসলিমরা শৃঙ্খলিত মানুষের মুক্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠাসহ নিজেদের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করার অনুপ্রেরণা পায়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি শেষ নবী সাইয়েদুল মুরসালিন হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর প্রতি সালাম জানাই।’ বাণীটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজারে মুক্তিযোদ্ধা দলের শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজারে মুক্তিযোদ্ধা দলের শ্রদ্ধা নিবেদন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানাধীন জিয়া উদ্যানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি এম এ শহীদ বাবলুসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ