খুঁজুন
                               
, ,
           

৩০ লাখের হাতে বাড়তি টাকা, নজর এখন বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
৩০ লাখের হাতে বাড়তি টাকা, নজর এখন বাজারে

একদিকে বেতন বাড়ার স্বস্তি, অন্যদিকে বাজারে দাম বাড়ার শঙ্কা—নতুন পে-স্কেল ঘিরে তৈরি হয়েছে এমনই দ্বিমুখী বাস্তবতা। সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। কিন্তু তাদের হাতে বাড়তি অর্থ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই বহন করতে হতে পারে।

গত সোমবার (৩০ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এর বিপরীতে বেসরকারি খাতের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি কর্মজীবীর বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লেও বেসরকারি খাতের আয় একই হারে না বাড়লে দুই খাতের মধ্যে আয়বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাড়তি টাকার প্রথম ধাক্কা বাজারে
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার মূল জায়গাটি হলো—৩০ লাখ মানুষের হাতে একসঙ্গে বাড়তি অর্থ পৌঁছালে ভোগের চাহিদা বাড়বে। সাধারণত অতিরিক্ত আয় পাওয়ার পর মানুষের প্রথম দিকের ব্যয় যায় খাদ্য, পোশাক, পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে। কিন্তু সরবরাহ যদি একই গতিতে না বাড়ে, তাহলে চাহিদার এই বাড়তি চাপ সরাসরি পণ্যের দামে প্রতিফলিত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের মতে, পে-স্কেল দেওয়া স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশের দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সরবরাহ না বাড়লে তার প্রভাব দামের ওপর পড়তে পারে।

মূলত তিনটি পথে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। প্রথমত, বাড়তি আয় থেকে ভোগ বাড়লে চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকারি বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপরও কর্মীদের বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামে চাপিয়ে দিলে তৈরি হবে খরচজনিত মূল্যস্ফীতি। তৃতীয়ত, বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকার যদি অতিরিক্ত ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভর করে, তাহলে অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা
নতুন পে-স্কেল শুধু বাজার নয়, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকেও বড় পরীক্ষার মুখে ফেলছে। পুরো কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটি এককালীন কোনো ব্যয় নয়; বেতন-ভাতা, পেনশন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধার ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন পে-স্কেলের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় বর্তমান রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো ছাড়া এ ব্যয় সামলানো সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই যখন বড় চ্যালেঞ্জ, তখন নতুন করে এত বড় স্থায়ী ব্যয় যুক্ত হওয়ায় বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বাড়বে।

ধাপে বাস্তবায়নে চাপ কমানোর চেষ্টা
সরকার অবশ্য একসঙ্গে পুরো ব্যয়ের চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে কার্যকর হবে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। সরকারের দৃষ্টিতে এই ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন তাৎক্ষণিক রাজস্ব চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি ব্যয়ের দায় থেকেই যাবে।

রাজস্ব বাড়ানোই টেকসই সমাধান
নতুন ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের সামনে মূলত তিনটি পথ—রাজস্ব বাড়ানো, অন্য খাতের ব্যয় কমানো অথবা ঋণ নেওয়া। এর মধ্যে সবচেয়ে টেকসই পথ রাজস্ব বাড়ানো। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি বন্ধ, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, অপ্রয়োজনীয় কর-ছাড় পুনর্বিবেচনা এবং উচ্চ আয় ও সম্পদের ওপর কার্যকর কর নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে বেতন-ভাতা মেটানো হলে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ বেতন ও পেনশন একবার বাড়লে তা কমানো কঠিন; ফলে এগুলো বাজেটের অনমনীয় ব্যয়ে পরিণত হয়।

ঋণ নিলে বাড়বে আরেক ঝুঁকি
২০২৬-২৭ অর্থবছরে অনুদান বাদে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। পে-স্কেলের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে আরও ব্যাংকঋণ নিতে হলে সরকারের সুদ ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও চাপে পড়তে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই উন্নতির আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই উন্নতির আশা

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ীর একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকট মোকাবিলায় ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। এ জন্য জ্বালানি আমদানি ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের জন্য সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সুবিধার কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করা যাবে। সরকার প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে।

এ ছাড়া সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টারসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) মওকুফের সুবিধাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর আশা, এসব উদ্যোগের ফলে আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে এবং আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কমে যাবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কওমি মাদরাসায় ৬ বোর্ড, দেশেই তৈরি হবে ড্রোন: জ্বালানি সংকটেও বড় পরিকল্পনা সরকারের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
কওমি মাদরাসায় ৬ বোর্ড, দেশেই তৈরি হবে ড্রোন: জ্বালানি সংকটেও বড় পরিকল্পনা সরকারের

দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণে ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে নির্দিষ্ট দুটি মাদরাসা পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও সংসদকে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস অনুসন্ধান, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি আমদানি সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল স্থাপনের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

কওমি মাদরাসায় ছয় শিক্ষা বোর্ড
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর অধীন কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে আইন প্রণয়ন করা হয়।

ওই আইনের আওতায় ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডগুলো হলো—বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ, তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ।

কওমি সনদে মিলবে চাকরির সুযোগ
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ তৈরির বিষয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ২৩ জুন ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় সহকারী মৌলভী (ক্বারী) এবং ইবতেদায়ি ক্বারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদকে কাম্য যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমে কিরাআত অথবা হিফজুল কোরআন সনদধারীরাও সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে চাকরির জন্য নতুন সুযোগ পাবেন।

দেশেই তৈরি হবে ড্রোন
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা জোরদারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার বিষয়েও সংসদে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘Instruction regarding In Aid to the Civil Power’-এর আওতায় বিভিন্ন দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালীন সময়ে অসামরিক প্রশাসনকে সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়। The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ১২৯ ধারার আওতায় আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

গ্যাস সংকট কাটাতে ১৫০ কূপের কর্মসূচি
দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে। চলমান আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে সাইসমিক জরিপ
নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজতে বড় পরিসরে সাইসমিক জরিপের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আওতায় ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

অফশোর-অনশোর অনুসন্ধানে জোর
গ্যাস অনুসন্ধানে সমুদ্র ও স্থল—দুই ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াতেও রয়েছে। অফশোর ও অনশোর উভয় ক্ষেত্রে গ্যাসের নতুন মজুত পাওয়া গেলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

২০২৮ সালের মধ্যে বাড়বে এলএনজি আমদানি
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোম এলাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই টার্মিনাল দিয়ে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে কওমি শিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও চাকরির সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধান ও এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে—এমনটাই সরকারের প্রত্যাশা।

কালের আলো/এম/এএইচ

এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা, ১২ কেজিতে কমেছে ১৩ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা, ১২ কেজিতে কমেছে ১৩ টাকা

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত দামে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। এতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের খুচরা দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকায় অন্যান্য ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও নির্ধারণ করেছে কমিশন। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার ৭২৭ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ১ হাজার ৬৫২ টাকা এবং ১৫ কেজি ১ হাজার ৯৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১১৪ টাকা, ১৮ কেজি ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৬৪২ টাকা, ২২ কেজি ২ হাজার ৯০৭ টাকা এবং ২৫ কেজি ৩ হাজার ৩০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ৩০ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ মূল্য বহাল থাকবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি