খুঁজুন
                               
, ,
           

৩০ লাখের হাতে বাড়তি টাকা, নজর এখন বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
৩০ লাখের হাতে বাড়তি টাকা, নজর এখন বাজারে

একদিকে বেতন বাড়ার স্বস্তি, অন্যদিকে বাজারে দাম বাড়ার শঙ্কা—নতুন পে-স্কেল ঘিরে তৈরি হয়েছে এমনই দ্বিমুখী বাস্তবতা। সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। কিন্তু তাদের হাতে বাড়তি অর্থ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই বহন করতে হতে পারে।

গত সোমবার (৩০ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এর বিপরীতে বেসরকারি খাতের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি কর্মজীবীর বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লেও বেসরকারি খাতের আয় একই হারে না বাড়লে দুই খাতের মধ্যে আয়বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাড়তি টাকার প্রথম ধাক্কা বাজারে
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার মূল জায়গাটি হলো—৩০ লাখ মানুষের হাতে একসঙ্গে বাড়তি অর্থ পৌঁছালে ভোগের চাহিদা বাড়বে। সাধারণত অতিরিক্ত আয় পাওয়ার পর মানুষের প্রথম দিকের ব্যয় যায় খাদ্য, পোশাক, পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে। কিন্তু সরবরাহ যদি একই গতিতে না বাড়ে, তাহলে চাহিদার এই বাড়তি চাপ সরাসরি পণ্যের দামে প্রতিফলিত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের মতে, পে-স্কেল দেওয়া স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশের দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সরবরাহ না বাড়লে তার প্রভাব দামের ওপর পড়তে পারে।

মূলত তিনটি পথে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। প্রথমত, বাড়তি আয় থেকে ভোগ বাড়লে চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকারি বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপরও কর্মীদের বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামে চাপিয়ে দিলে তৈরি হবে খরচজনিত মূল্যস্ফীতি। তৃতীয়ত, বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকার যদি অতিরিক্ত ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভর করে, তাহলে অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা
নতুন পে-স্কেল শুধু বাজার নয়, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকেও বড় পরীক্ষার মুখে ফেলছে। পুরো কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটি এককালীন কোনো ব্যয় নয়; বেতন-ভাতা, পেনশন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধার ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন পে-স্কেলের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় বর্তমান রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো ছাড়া এ ব্যয় সামলানো সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই যখন বড় চ্যালেঞ্জ, তখন নতুন করে এত বড় স্থায়ী ব্যয় যুক্ত হওয়ায় বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বাড়বে।

ধাপে বাস্তবায়নে চাপ কমানোর চেষ্টা
সরকার অবশ্য একসঙ্গে পুরো ব্যয়ের চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে কার্যকর হবে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। সরকারের দৃষ্টিতে এই ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন তাৎক্ষণিক রাজস্ব চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি ব্যয়ের দায় থেকেই যাবে।

রাজস্ব বাড়ানোই টেকসই সমাধান
নতুন ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের সামনে মূলত তিনটি পথ—রাজস্ব বাড়ানো, অন্য খাতের ব্যয় কমানো অথবা ঋণ নেওয়া। এর মধ্যে সবচেয়ে টেকসই পথ রাজস্ব বাড়ানো। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি বন্ধ, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, অপ্রয়োজনীয় কর-ছাড় পুনর্বিবেচনা এবং উচ্চ আয় ও সম্পদের ওপর কার্যকর কর নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে বেতন-ভাতা মেটানো হলে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ বেতন ও পেনশন একবার বাড়লে তা কমানো কঠিন; ফলে এগুলো বাজেটের অনমনীয় ব্যয়ে পরিণত হয়।

ঋণ নিলে বাড়বে আরেক ঝুঁকি
২০২৬-২৭ অর্থবছরে অনুদান বাদে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। পে-স্কেলের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে আরও ব্যাংকঋণ নিতে হলে সরকারের সুদ ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও চাপে পড়তে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘে ট্রাম্পের ৩৭ মিনিটের ভাষণ, যেসব দাবিতে উঠছে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে ট্রাম্পের ৩৭ মিনিটের ভাষণ, যেসব দাবিতে উঠছে প্রশ্ন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম দিনে মঙ্গলবার ৩৭ মিনিটের ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ, গ্রিনল্যান্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার ও ওয়াশিংটনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

ভাষণে ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। তবে তাঁর কয়েকটি দাবির সঙ্গে প্রকাশ্য তথ্য ও বিভিন্ন সরকারি হিসাবের অমিল রয়েছে।

আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি

ট্রাম্প দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন। তাঁর তালিকায় ছিল কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া, রুয়ান্ডা-কঙ্গো, ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, গাজা, ইসরায়েল-ইরান এবং মিসর-ইথিওপিয়ার সংঘাত।

তবে এসব ঘটনাকে একইভাবে ‘যুদ্ধ বন্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিবর্তে সীমান্ত সংঘাত বা কূটনৈতিক বিরোধ ছিল। আবার কিছু ক্ষেত্রে শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি হলেও সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দাবি

ভাষণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়েও ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগে বলা হয়েছিল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১২ বছরের মধ্যে সবাই মারা যাবে এবং পরে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ বদলে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ বলা হয়েছে।

তবে জলবায়ুবিজ্ঞানে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ ও ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ’ দুটি শব্দই ব্যবহৃত হয়। প্রথমটি মূলত পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বোঝায়, আর দ্বিতীয়টি তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ জলবায়ুর বিস্তৃত পরিবর্তনকে বোঝায়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এবারের সাধারণ পরিষদের ভাষণে জলবায়ু সংকটকে বৈশ্বিক বাস্তবতার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

২১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছে।

তবে এ দাবির পক্ষে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি। ভাষণের সময় হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে বড় বিনিয়োগের ঘোষণার পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার—যা ট্রাম্পের উল্লেখ করা ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক কম।

অস্ত্রভান্ডার নিয়ে বিতর্ক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে—এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অস্ত্র উৎপাদন করা হচ্ছে।

তবে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের পূর্ণাঙ্গ মজুতের তথ্য প্রকাশ করা হয় না। ফলে ট্রাম্পের দাবিটি সরাসরি যাচাই করা কঠিন। একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ওপর নজরদারি করা সরকারি পরিদর্শক সংস্থা এবং কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে কিছু অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনে অপরাধ কমার দাবি

রাজধানী ওয়াশিংটনে অপরাধ ৮৭ শতাংশ কমেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তবে পুলিশের প্রকাশিত হিসাবের সঙ্গে এ দাবির মিল নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের একই সময়ে ওয়াশিংটনে নথিভুক্ত অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। ফলে ট্রাম্পের উল্লেখ করা ৮৭ শতাংশ হ্রাসের সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যানের বড় পার্থক্য রয়েছে।

জাতিসংঘে ট্রাম্পের এবারের ভাষণে যুদ্ধ, নিরাপত্তা, জলবায়ু ও অর্থনীতির মতো বিষয়গুলোই প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

সুত্রঃ সিএনএন

কালের আলো/এসএ

জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন রাশেদ খাঁন

ছাত্রদল রাজপথে সক্রিয় না থাকলে ছাত্রলীগ জামায়াত-শিবিরকে পিটিয়ে আবারও গুপ্ত করে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ছাত্রলীগের ভয়ে যারা আগে গোপনে ছিল কিংবা ছাত্রলীগের পরিচয়ে টিকে ছিল, তারা এখন কীভাবে ছাত্রদলকে পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করতে চায়—এ প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, ছাত্রদল রাজপথে না থাকলে ছাত্রলীগ জামায়াত-শিবিরকে আবারও গুপ্ত করে দেবে।

রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, বর্তমানে বিরোধী দলে অবস্থান করেই জামায়াত-শিবির সরকারি দলের নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করার মতো আচরণ করছে। তার ভাষ্য, তারা ইতোমধ্যে ‘মজলুম থেকে জালিমে’ পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে তাদের ভূমিকা কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অতীতে শেখ হাসিনা যেভাবে বিএনপিকে এক দিনও শান্তিতে দেশ চালাতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, জামায়াত-শিবিরও বর্তমানে একই পথ অনুসরণ করছে বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

তিনি আরও বলেন, দলটির লাগাম টেনে না ধরলে পরিস্থিতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নারী রেফারিকে ‘এটা পুরুষদের খেলা’ বলায় হিগুয়েইন বরখাস্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
নারী রেফারিকে ‘এটা পুরুষদের খেলা’ বলায় হিগুয়েইন বরখাস্ত

নারী রেফারির সঙ্গে হাত মেলানোর সময় লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণের অভিযোগে ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে বরখাস্ত করেছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল কলম্বাস ক্রু। ক্লাবটির রিজার্ভ দল কলম্বাস ক্রু ২-এর কোচের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিগুয়েইন।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট ‘এমএলএস নেক্সট প্রো’-এর একটি ম্যাচে। হান্টসভিল সিটির কাছে ১-০ গোলে হারের পর এক নারী অফিশিয়ালের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় হিগুয়েইন তাঁর হাত ছাড়তে চাননি। একই সময়ে ওই নারী রেফারিকে তিনি বলেন, ‘ভুলে যেয়ো না, এটা পুরুষদের খেলা।’

পেশাদার ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের (পিআরও) অভিযোগ, হিগুয়েইন ওই নারী অফিশিয়ালের সঙ্গে দুবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শারীরিক হেনস্তা এবং যৌন বিদ্বেষমূলক আচরণ করেছেন। তিনবার বলার পরও তিনি রেফারির হাত চেপে ধরে রেখেছিলেন বলে সংগঠনটির দাবি।

ঘটনার পর হিগুয়েইনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে রেফারিদের সংগঠন এই শাস্তিকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করেছে। তাদের পক্ষ থেকে অন্তত ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়।

‘ক্লাবের প্রত্যাশিত আচরণ বজায় রাখতে পারেননি’

কলম্বাস ক্রুর জেনারেল ম্যানেজার ইসা তাল বলেন, ক্লাব, খেলোয়াড় ও সহকর্মীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই হিগুয়েইনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের আলোচনা এবং গত এক মাসের পর্যালোচনার পর ক্লাব কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে, দলের একজন কোচের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত, হিগুয়েইন তা বজায় রাখতে পারেননি।

‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদনে ক্লাবের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় হিগুয়েইন নিজের আচরণের জন্য অপরাধ স্বীকার বা অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। এমনকি প্রকাশ্যেও ক্ষমা চাননি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

রেফারিদের সংগঠনের ক্ষোভ

পেশাদার ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ফুটবলের প্রতিটি স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তাই নারী রেফারিদের কোনো ধরনের হেনস্তা বা অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হওয়া উচিত নয়।

সংগঠনটির ভাষ্য, নারী রেফারিরাও অন্য সব অফিশিয়ালের মতো সমান সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

হিগুয়েইন পরিবারের ফুটবল পরিচয়

৪১ বছর বয়সী ফেদেরিকো হিগুয়েইন আর্জেন্টাইন ফুটবলে ‘পিপা’ নামে পরিচিত। রিভার প্লেটের যুব দল দিয়ে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কলম্বাস ক্রু, ডি সি ইউনাইটেড ও ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলেছেন তিনি।

কলম্বাস ক্রুর মূল দলে আট মৌসুম খেলার পর গত বছর রিজার্ভ দলটির কোচ হন হিগুয়েইন। ২০২১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ে আসেন তিনি।

ফেদেরিকোর ছোট ভাই গঞ্জালো হিগুয়েইন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা এবং জুভেন্টাসের হয়ে সিরি আ জিতেছেন গঞ্জালো।

কালের আলো/এসএ