খুঁজুন
                               
, ,
           

গুণগত নিষ্পত্তিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকার আদালতের চিত্র

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
গুণগত নিষ্পত্তিতে বদলে যাচ্ছে ঢাকার আদালতের চিত্র

মামলার সংখ্যা কমিয়ে আনা নয়, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করাই এখন ঢাকার অধস্তন আদালতে মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় অগ্রাধিকার। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রায়ের পরিসংখ্যানে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় আসামিদের সাজা পাওয়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪২ শতাংশে।

আগের দুই সরকারের সময়ে এই হার ছিল ২২ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রতি ১০০ আসামির মধ্যে প্রায় ১৪ জন বেশি সাজা পাচ্ছেন। বিচারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার ‘কোয়ালিটি ডিসপোজাল’ বা গুণগত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে। ঢাকার সিএমএম আদালতের ৪৭ মাসে রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সাক্ষী হাজিরে নতুন উদ্যোগ
বর্তমান সিএমএম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে মামলার গুণগত নিষ্পত্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের যথাযথভাবে আদালতে হাজির করা এবং তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। সাক্ষীদের প্রসেস যথাযথভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, প্রসেস কার্যকর হচ্ছে কি না—তা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হলে তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে যথাসম্ভব সেদিনই সাক্ষ্যগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেসব সাক্ষীর মোবাইল নম্বর রয়েছে, তাদের এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তারিখ জানানো হচ্ছে। এক মাস আগে, তিন দিন আগে এবং সাক্ষ্য দেওয়ার আগেও দেওয়া হচ্ছে স্মরণবার্তা। এতে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি এবং সাক্ষ্য রেকর্ডের হার বেড়েছে।

প্রমাণনির্ভর মামলায় দ্রুত নিষ্পত্তি
মামলার গুণগত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে চুরি, মারামারি ও অন্যান্য প্রমাণনির্ভর মামলা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব মামলায় আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে আদালতের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়াও এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। বিচারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে শুধু মামলার সংখ্যা কমানোর জন্য নিষ্পত্তির পরিবর্তে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষীরা আদালতে হাজির হওয়ায় এবং তাদের সাক্ষ্য রেকর্ড হওয়ায় মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিচারকের সামনে আসছে। ফলে যেসব মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হচ্ছে, সেসব মামলায় সাজা দেওয়ার সুযোগও বাড়ছে।

সাজা শুধু প্রমাণিতদের
গুণগত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো—একটি মামলায় একাধিক আসামি থাকলেও সবাইকে একসঙ্গে সাজা দেওয়া হচ্ছে না। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, শুধু তাকেই সাজা দেওয়া হচ্ছে। আর পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে দেওয়া হচ্ছে খালাস। আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, সিএমএম আদালতের বিচারকদের মধ্যে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে সাজার হার সবচেয়ে বেশি। তার আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণকে গুরুত্ব দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাজা এবং প্রমাণিত না হলে খালাস দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ২৩ মাসে রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় আসামিদের সাজা পাওয়ার হার ছিল ২২ দশমিক ২১ শতাংশ। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে হার ছিল ২২ দশমিক ২৯ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সাজার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪২ শতাংশে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় ২২ শতাংশের কাছাকাছি থাকা সাজার হার ছয় মাসে ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়াকে বিচারসংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সাক্ষ্যগ্রহণে গতি, সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রমাণনির্ভর মামলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে বিচারিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে।

সামনে আরও ভালো ফলের প্রত্যাশা
সাজার হার বাড়লেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামি খালাস পাচ্ছেন। বিচারসংশ্লিষ্টদের মতে, এর বড় কারণ তদন্তের দুর্বলতা, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারা এবং সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে ব্যর্থতা।

তবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে সাজার হার আরও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে মামলার গুণগত মান নিশ্চিত করা গেলে দুর্বল ও ভিত্তিহীন মামলার সংখ্যাও কমে আসবে। সব মিলিয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা,সন্ধানী বার্তা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক কথোপকথন নজর কেড়েছে। চট্টগ্রাম সফরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে অভ্যর্থনা জানাতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এসপি মাসুদ আলমকে দেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে মাসুদ আলমও ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন। তাঁদের এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের দৃশ্য সামনে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দিতে চট্টগ্রাম সফরে যান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, শুভেচ্ছা বিনিময়
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী সামরিক বিমানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ৭টা ৪০ মিনিটে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। বিমান থেকে নেমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উপস্থিতিও নজর কাড়ে। করমর্দনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত’।

এসপি মাসুদকে দেখে প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর
শুভেচ্ছা বিনিময়ের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সঙ্গে করমর্দন করেন তারেক রহমান। এ সময় তাঁর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ জবাবে এসপি মাসুদ আলম ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন সফরের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছে। তবে তাঁদের কথোপকথনের বাইরে কোনো বিশেষ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আলোচনায় এসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়
মাসুদ আলম এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সে সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আলোচনায় আসে। ২৮তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৬ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে যান। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সফরসূচিতে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কর্মসূচিও ছিল। চট্টগ্রাম সফরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই এসপি মাসুদ আলমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ার পাশে বেগুনি ফুলের মেলা, মুগ্ধ পর্যটকরা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নজর কাড়ছে পর্যটক ও পথচারীদের। বড় বড় সবুজ পাতার ফাঁকে লম্বা মঞ্জরিতে ফুটে থাকা বেগুনি রঙের ফুলে সেজেছে সড়কের পাশের বনাঞ্চল। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। উদ্ভিদটির নাম কুডজু। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ফুলের দেখা মেলে। শরতের শেষভাগ থেকে শীতের আগমনী সময়ে লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটা বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি কিংবা লালচে-বেগুনি ফুল প্রকৃতিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। লাউয়াছড়া ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও মুগ্ধ হচ্ছেন এ ফুলের সৌন্দর্যে।

সড়কের পাশে নজর কাড়ছে কুডজু ফুল
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পথে ব্যাপকভাবে এ ফুলের উপস্থিতি চোখে পড়ে বছর দুয়েক আগে। এর আগে অনেকের কাছেই উদ্ভিদটি তেমন পরিচিত ছিল না। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় সবুজ পাতার মধ্যে ফুটে থাকা বেগুনি ফুল সহজেই নজর কাড়ছে। কেউ কেউ গাড়ি থামিয়ে মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ধারণ করছেন ভিডিও। বনাঞ্চলের সবুজ পরিবেশের সঙ্গে বেগুনি ফুলের রঙিন সমাহার পথচারীদের জন্য তৈরি করছে মনোরম দৃশ্য।

কুডজু কেমন উদ্ভিদ
বৃক্ষ গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, কুডজু শিম বা মটরশুঁটি পরিবারের একটি বহুবর্ষজীবী আরোহী লতা। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস কিউয়ের ‘প্ল্যান্টস অব দ্য ওয়ার্ল্ড অনলাইন’ তথ্যভান্ডারে এ উদ্ভিদের বিস্তৃতি এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উত্তর অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশও এর স্বাভাবিক বিস্তৃতির অন্তর্ভুক্ত।

কুডজুর ফুল সাধারণত লম্বা মঞ্জরিতে গুচ্ছাকারে ফোটে। ফুলের পাপড়ি বেগুনি, গোলাপি-বেগুনি অথবা লালচে-বেগুনি রঙের হতে পারে। ওপরের বড় পাপড়ির গোড়ায় হলুদ অংশও দেখা যায়। শিমজাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফুলগুলোর আকৃতি অনেকটা প্রজাপতির মতো। ফুলে সাধারণত মিষ্টি সুবাসও থাকে।

দ্রুত বেড়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়
ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং প্রকৃতিবিষয়ক লেখক-গবেষক চয়ন বিকাশ ভদ্রের মতে, কুডজু দ্রুতবর্ধনশীল একটি বহুবর্ষজীবী লতা। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও উপযুক্ত মাটি পেলে এটি দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে।

এর কাণ্ড লম্বা ও নমনীয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাণ্ড কিছুটা কাষ্ঠল হয়ে ওঠে। উপযুক্ত পরিবেশে লতাগুলো প্রায় ১০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। মাটির ওপর ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি অন্য গাছের কাণ্ড ও বিভিন্ন অবলম্বন আঁকড়ে ধরে ওপরের দিকে উঠে যায়।

কুডজুর পাতা সাধারণত তিনটি প্রশস্ত পত্রক নিয়ে গঠিত। পত্রকগুলো ডিম্বাকার থেকে হৃদপিণ্ডের মতো আকৃতির হতে পারে। ফুল ফোটার পর চ্যাপ্টা শুঁটির মতো ফল তৈরি হয়, যার ভেতরে থাকে বীজ। তবে শুধু বীজ নয়, মাটিতে ছড়িয়ে পড়া কাণ্ড ও শিকড়ের মাধ্যমেও উদ্ভিদটি নতুন জায়গায় বিস্তার লাভ করতে পারে।

উপকারিতা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে পরিবেশগত ঝুঁকি
কুডজুর রয়েছে নানা ব্যবহারিক গুরুত্ব। বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির ক্ষয়রোধ, অনাবাদি জমি আচ্ছাদন এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর শিকড় থেকে শ্বেতসারসমৃদ্ধ উপাদান সংগ্রহ করা হয়, যা পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে খাবার তৈরি ও ঘন করতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এর লতা থেকে আঁশ সংগ্রহ করে বস্ত্র, কাগজ ও ঝুড়ি তৈরির নজির রয়েছে।

তবে দ্রুত বিস্তারের কারণে উদ্ভিদটি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। ঘন পাতার আচ্ছাদন ছোট গাছ, গুল্ম ও অন্যান্য উদ্ভিদের ওপর সূর্যালোক পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে দীর্ঘ সময় কুডজুর আচ্ছাদনে থাকলে স্থানীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে এ উদ্ভিদের ব্যাপক বিস্তারকে এ ধরনের পরিবেশগত সমস্যার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে বাড়ছে আগ্রহ
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন সড়কের পাশে ফুটে থাকা কুডজু ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের বাড়তি আকর্ষণ। সবুজ বনভূমির পাশে বেগুনি ফুলের এই সমাহার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করছে বাড়তি আনন্দ।

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি উদ্ভিদটির বিস্তার ও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃতির এই রঙিন দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সচেতন থাকা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন দেখতে খুলনা-বাগেরহাটে তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন দেখতে খুলনা-বাগেরহাটে তারেক রহমান

মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোনের কার্যক্রম ঘুরে দেখতে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে তিনি একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দুই জেলায় নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সকালেই হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সকাল ৯টায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।

সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে হিরণ পয়েন্টসংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন সরকারপ্রধান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করার কথা রয়েছে তাঁর।

নৌপথে যাবেন মোংলা নৌঘাঁটিতে
নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে বাগেরহাটের বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমে যাবেন সরকারপ্রধান। সেখানে মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর পৌনে ২টায় ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত একটি সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল সোয়া ৩টায় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) ইকোনমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।মোংলা বন্দরের কার্যক্রম ও সম্প্রসারণসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে খুলনা ও বাগেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরেজমিনে দেখবেন সরকারপ্রধান।

বিকেলেই ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়েছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি