খুঁজুন
                               
, ,
           

‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি এখনো মূলত মৌলিক বা ‘বেসিক’ পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট, সোয়েটার, ইননারওয়্যার ও শিশুদের পোশাকের মতো পণ্যের রপ্তানি বেশি হলেও তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো সীমিত। ফলে বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা পোশাক খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ক্যালেন্ডার বছর ২০২৫-এর পোশাক রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩৮.৮২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। একই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) ইপিবি ও আইটিসির ট্রেড ম্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তুলনা করেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৭৬.৯৪ শতাংশই বেসিক ক্যাটাগরির পণ্য। অন্যদিকে বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এসব পণ্যের অংশ ৬১.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি বেসিক পণ্যের ওপর প্রায় ১৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি নির্ভরশীল।

প্যান্ট ও টি-শার্টে বেশি নির্ভরতা

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অংশ বটমওয়্যারের। মোট রপ্তানির ৩৩.৬৮ শতাংশ আসে প্যান্টজাতীয় পোশাক থেকে। বিশ্ববাজারে এ ধরনের পণ্যের অংশ ২১.৬৮ শতাংশ। একইভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ১৮.৬৪ শতাংশ আসে টি-শার্ট থেকে, যেখানে বিশ্ববাজারে এ হার ১০.০৯ শতাংশ।

তবে ছোট অ্যাক্সেসরিজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিপরীত। বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৭.৫২ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে তা মাত্র ০.৩৫ শতাংশ।

বেসিক ও উচ্চমূল্যের পণ্যের মাঝামাঝি ‘সেমি-বেসিক’ ক্যাটাগরির শার্ট ও ব্লাউজ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ১০.৩৩ শতাংশ অবদান রাখে। বিশ্ববাজারে এ হার ৭.৩৮ শতাংশ।

উচ্চমূল্যের পোশাকে বড় ব্যবধান

আউটারওয়্যার, ড্রেস, টেকনিক্যাল ওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও স্যুট—এই পাঁচ ধরনের পণ্যকে উন্নত বা ‘অ্যাডভান্সড’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়েছে। এসব পণ্যের সম্মিলিত অংশ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে মাত্র ৯.৩৫ শতাংশ। অথচ বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৩০.৪৬ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় ব্যবধান আউটারওয়্যারে। বিশ্ববাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ১৩.৪৫ শতাংশ আসে এ ক্যাটাগরি থেকে। বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৩.৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই বেসিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট ও সোয়েটারের মতো পণ্যে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বেশি হলেও বিশ্ববাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

তার মতে, শুধু একই ধরনের পণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। আউটারওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল ওয়্যার, ড্রেস ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পোশাকে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি পরিমাণ পোশাক রপ্তানি নয়, বরং বেশি মূল্য সংযোজন করা। এজন্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি সিনথেটিক ও নন-কটন পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্পোর্টসওয়্যারসহ বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

মহিউদ্দিন রুবেলের ভাষায়, পোশাক খাতের কৌশল এখন ‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’র দিকে নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারে অবস্থান শক্ত করতে পারলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি রপ্তানি আয় করা সম্ভব হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ও বিভিন্ন এইচএস-৬ পণ্যের হিসাবের মধ্যে ৩.৩৮ শতাংশ বা প্রায় ১.৩১৩ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশের পূর্ণ মিল পাওয়া যায়নি। বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি ইপিবির দুই ও ছয় ডিজিটের হিসাবের মধ্যকার একটি ব্যবধান। বিশ্ববাজারের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান প্রায় ০.৫৯ শতাংশ, যা মূলত রাউন্ডিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কালের আলো/এমএসআইপি 

৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আগামী বছরের শুরুতে শুরু হয়ে ৬ জুনের মধ্যে শেষ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায়। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রমজান, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কখন শুরু হবে, তা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে না।

প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব

পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তুলনামূলক কম অর্থের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য এই ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

চলতি বছর নির্বাচন নিয়ে সংশয়

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসির নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, নির্বাচন আগামী বছর শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আবার বৈঠক হতে পারে। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন এবং ইসি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারে।

সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে মন্তব্য

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে কি না—জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণই এখনো নির্ধারিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা কঠিন।

নির্বাচনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করা ভালো।

তিনি আরও বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীও হননি। তাই প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। নির্বাচন হলে তখন মানুষের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আয়োজনে ডা. জুবাইদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আয়োজনে ডা. জুবাইদা

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে শিশুদের ভবিষ্যৎ, মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে হোয়াইট হাউজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ এ সমাবেশে মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যোগ দেন ডা. জুবাইদা। পরে তিনি মার্কিন ফার্স্ট লেডির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের জীবনসঙ্গী ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অনলাইনে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শিশুদের প্রযুক্তি ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ করা। একই সঙ্গে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো এ উদ্যোগের অংশ।

আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে গত মার্চে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এও মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন ডা. জুবাইদা। ওই সম্মেলনে তিনি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

মার্চের ওয়াশিংটন সম্মেলনের পর সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের আয়োজনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা এবং নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা দেখা গেল।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সড়কে এআইয়ের চোখ, নজরদারিতে ছিদ্র

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
সড়কে এআইয়ের চোখ, নজরদারিতে ছিদ্র

ঢাকার সড়কে যানজট যেন নগরজীবনের অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। প্রতিদিনের দীর্ঘ অপেক্ষায় নষ্ট হচ্ছে মানুষের লাখো কর্মঘণ্টা, যার অর্থনৈতিক মূল্যও দাঁড়াচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকায়। সেই ক্ষতি কমাতে এবার প্রযুক্তির চোখে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত, দুর্ঘটনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার লক্ষ্যে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–চালিত ক্যামেরা।

  • সবুজ নম্বরপ্লেট পড়তে পারছে না ক্যামেরা
  • পরিচয়হীন অটোরিকশাতেও আটকে যাচ্ছে প্রযুক্তি
  • বিদ্যুৎ বিভ্রাটেও ছেদ পড়ছে মনিটরিংয়ে

কিন্তু প্রযুক্তির চোখ যতই তীক্ষ্ণ হোক, বাস্তবতার কিছু ফাঁক এখনো তাকে আটকে দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নির্দিষ্ট নম্বরপ্লেট শনাক্ত না হওয়া, পরিচয়বিহীন যানবাহন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং একাধিক যান পাশাপাশি চললে গতির তথ্য আলাদাভাবে ধরতে না পারার মতো সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে।

নজরদারির পরিধি বাড়ছে
গত মাস থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ বা পিটিজেড ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫টি ক্যামেরা ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী তিন মাসে আরও ৫০টি এবং পরবর্তী ছয় মাসে ৫৫টি ক্যামেরা বসানো হবে। অর্থাৎ ধাপে ধাপে রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চলে আসবে এআই নজরদারির আওতায়।

সফটওয়্যারে ইতিমধ্যে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য, জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি থামানো, স্টপ লাইন অমান্য, লেন আটকে রাখা, আকস্মিক লেন পরিবর্তন, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্যামেরা সবসময় পড়তে পারছে না
প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হচ্ছে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় বিআরটিএর দেওয়া সবুজ রঙের কিছু নম্বরপ্লেট এআই ক্যামেরা ঠিকভাবে পড়তে পারছে না। ফলে আইন ভঙ্গের ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট গাড়ির পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

আরেকটি সমস্যা তৈরি করছে পরিচয়হীন অটোরিকশা। নম্বর বা নির্দিষ্ট পরিচিতি না থাকায় এসব যানবাহনের গতিবিধি শনাক্ত ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অর্থাৎ ক্যামেরার দৃষ্টিসীমায় অপরাধ ধরা পড়লেও অপরাধী যানকে চিহ্নিত করার পর্যায়ে এসে প্রযুক্তির সক্ষমতা থমকে যাচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, অস্পষ্ট নম্বরপ্লেট, মালিকানা ও ঠিকানা পরিবর্তনসহ নানা জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। রাতের বেলায় সবুজ নম্বরপ্লেট পড়তে না পারার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করে বলেন, রঙের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে।

মহাসড়কের অভিজ্ঞতাও স্বস্তির নয়
রাজধানীর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বড় পরিসরে এআই ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত আগস্ট থেকে মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে প্রায় দেড় হাজার ক্যামেরা কাজ করছে। সেখানে আইনভঙ্গ কমে আসার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রাথমিক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

তবে সেখানেও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। বড় গাড়ির আড়ালে হঠাৎ ছোট গাড়ি চলে এলে আলাদাভাবে তার গতি শনাক্তে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ট্রান্সফরমার চুরি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পাওয়ার ফেইলরের কারণে ক্যামেরার নজরদারিতেও ছেদ পড়ছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ক্যামেরা স্থাপনের পর মানুষ আগের তুলনায় সচেতন হয়েছে এবং মামলার সংখ্যাও কমছে। তবে লোডশেডিং, ট্রান্সফরমার চুরি ও পাওয়ার ফেইলরের কারণে মাঝেমধ্যে মনিটরিংয়ে সমস্যা হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

পরিচয় নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ
এআই ক্যামেরার কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে একটি মৌলিক বিষয়ের ওপর—রাস্তায় চলা প্রতিটি গাড়িকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে কি না। ডিএমপির কর্মকর্তা আনিসুর রহমানও মনে করেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে না আনলে শুধু ক্যামেরা দিয়ে ঢাকার যানজট কমানো কঠিন। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন পুরোপুরি চালু হলে যানজট কমাতে তা সহায়ক হতে পারে বলে তিনি জানান।
পুলিশ পরিদর্শক রাহাত খানের মতে, গাড়ির নম্বরপ্লেট একই ধরনের ও সহজে পাঠযোগ্য করা গেলে শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই নয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হবে। তার ভাষায়, গাড়ির পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে নজরদারির কার্যকারিতাও বাড়বে।

রাজধানীতে এআই ক্যামেরা বসানো নিঃসন্দেহে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের বড় পদক্ষেপ। কিন্তু ক্যামেরা যত বেশি বসবে, ততই স্পষ্ট হবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর দুর্বলতা।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মানসম্মত ও অভিন্ন নম্বরপ্লেট, হালনাগাদ মালিকানা তথ্য, পরিচয়বিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভুল সফটওয়্যার—সবকিছুকে একই কাঠামোয় আনতে না পারলে ক্যামেরার নজরদারি শতভাগ কার্যকর হবে না। অর্থাৎ ঢাকার সড়কে এখন প্রশ্ন শুধু ‘ক্যামেরা কতটি’ নয়; বরং ক্যামেরা যা দেখছে, সেই তথ্য দিয়ে কত দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ/এমকে