খুঁজুন
                               
, ,
           

বিকিনি পরতে নারাজ রাশমিকা, পাশে দাঁড়িয়ে যা বললেন বিজয়

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
বিকিনি পরতে নারাজ রাশমিকা, পাশে দাঁড়িয়ে যা বললেন বিজয়

চলচ্চিত্রে খোলামেলা পোশাক, বিকিনি কিংবা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে তারকাদের নানা সময় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বাণিজ্যিক সিনেমার চাহিদা আর ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। এবার সেই বিষয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। জানালেন, কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি পরা কিংবা অতিরিক্ত শরীর প্রদর্শনের প্রয়োজন হলেও নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত সীমারেখার সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি।

সম্প্রতি করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ সিজন ৯’-এ অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন রাশমিকা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা বিজয় দেবরাকোন্ডা। শুটিং সেটে কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হলে অভিনেতাদের কীভাবে নিজেদের অবস্থান জানানো উচিত, সেই আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বিজয়।

‘আমি ওই ধরনের মানুষ নই’, স্পষ্ট রাশমিকা
রাশমিকার ভাষ্য, বাণিজ্যিক সিনেমার প্রচলিত ফর্মুলার কারণে অনেক সময় অভিনেতাদের এমন পোশাক পরতে হয়, যা ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মেলে না। তবে সিনেমার চাহিদা থাকলেই নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিতে হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি।

অভিনেত্রীর বক্তব্য, কোনো চরিত্রে বিকিনি পরা কিংবা শরীর প্রদর্শনের প্রয়োজন থাকতে পারে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিতে তিনি দ্বিধা করেন না। নিজের জন্য কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করে রেখেছেন রাশমিকা। যেসব পরিচালক তার সেই সীমারেখাকে সম্মান করেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।

রাশমিকার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিনয়ের পেশাগত চাহিদা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যকার পার্থক্য। একজন অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত থাকলেও নিজের শরীর ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

শুটিং সেটে ‘না’ বলা কেন কঠিন?
রাশমিকা আরও জানান, শুটিং সেটে কোনো পরিচালক বা নির্মাতার সামনে সরাসরি ‘না’ বলা সব সময় সহজ হয় না। বিশেষ করে কাজের পরিবেশে যখন নির্মাতার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন নিজের অস্বস্তির কথা প্রকাশ করাটা অনেক অভিনেতার জন্য কঠিন হতে পারে।

একটি সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর প্রত্যাশা, পেশাগত দায়িত্ব এবং কাজ হারানোর আশঙ্কার মতো বিষয়ও অভিনেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তি থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ করা সহজ হয় না। রাশমিকার বক্তব্যে সেই বাস্তবতার দিকটিই উঠে এসেছে। তার মতে, নিজের সীমারেখা সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা এবং সেই সীমাকে সম্মান করে এমন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনেতাদের পাশে দাঁড়ালেন বিজয় দেবরাকোন্ডা
আলোচনায় রাশমিকার পাশে দাঁড়িয়ে বিজয় দেবরাকোন্ডাও অভিনেতাদের পেশাগত চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, সিনেমার চুক্তিতে সই করার পর অনেক সময় অভিনেতাদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়। তখন কোনো দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানালে তাদের পেশাদারত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা হতে পারে।

বিজয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ প্রশ্ন করতে পারেন—একজন পেশাদার অভিনেতা হয়েও কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্য করতে আপত্তি কেন? কিন্তু একজন অভিনেতা পেশাদার হলেই যে সব ধরনের দৃশ্য বা পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

তার মতে, কোনো দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি থাকলে অভিনেতার সেই কথা নির্ভয়ে জানানোর সুযোগ থাকা উচিত। আপত্তি প্রকাশ করলেই কাউকে ‘অপেশাদার’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। বরং শুটিং সেটে এমন পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, যেখানে শিল্পীরা নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও অস্বস্তির কথা বলতে পারেন।

মানসিক ভরসা পান বিজয়ের কাছ থেকে
রাশমিকা স্বীকার করেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় বিজয় দেবরাকোন্ডার কাছ থেকে মানসিক ভরসা ও সাহস পান তিনি। শুটিং সেটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা কিংবা অস্বস্তির কথা জানানো কঠিন হয়ে উঠলে কাছের মানুষের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজয়ের বক্তব্যেও সেই সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। তার মতে, একজন অভিনেতাকে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য নির্মাতা, সহশিল্পী ও প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকা জরুরি।

ব্যক্তিগত সীমারেখা ও পেশাদারত্বের প্রশ্ন
চলচ্চিত্রে চরিত্রের প্রয়োজনে পোশাক ও অভিনয়ের ধরন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কোনো দৃশ্যে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পীর সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্যও গুরুত্বপূর্ণ। রাশমিকা ও বিজয়ের বক্তব্য সেই বিষয়টিকেই সামনে এনেছে।

একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী কোনো নির্দিষ্ট পোশাক কিংবা দৃশ্য করতে না চাইলে সেটিকে পেশাগত অযোগ্যতা হিসেবে দেখা উচিত নয়—এমনটাই মনে করেন বিজয়। অন্যদিকে, রাশমিকার বক্তব্য হলো, নিজের সীমারেখা আগে থেকেই স্পষ্ট করে রাখলে কাজের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা পরিষ্কার থাকে। তারকাদের এই আলোচনা তাই শুধু বিকিনি বা খোলামেলা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং চলচ্চিত্রের কর্মপরিবেশে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, পারস্পরিক সম্মান এবং মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।

কালের আলো/এসএ/টিসি

স্নাতকোত্তর পাসে গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
স্নাতকোত্তর পাসে গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাডমিন বিভাগে ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী নারী ও পুরুষ প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬।

পদ, যোগ্যতা ও বেতন
গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিনিয়র অফিসার পদে আবেদন করতে প্রার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে চার বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ পদের জন্য প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। নির্বাচিত প্রার্থীর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

এক নজরে নিয়োগের তথ্য
প্রতিষ্ঠানের নাম গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। নিয়োগ দেওয়া হবে অ্যাডমিন বিভাগে সিনিয়র অফিসার পদে। পদসংখ্যা একটি। চাকরিটি বেসরকারি ও পূর্ণকালীন। নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা চার বছর এবং বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। কর্মস্থল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

আবেদন করবেন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীরা ২৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবেদন ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি: গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্যারিয়ার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে [এখানে ক্লিক করুন](https://career.green.edu.bd/).

কালের আলো/এসএ/ইএকে

 

সাহিত্যে প্রকৃতি: গাছ, নদী ও ঋতু কীভাবে হয়ে ওঠে গল্পের চরিত্র

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
সাহিত্যে প্রকৃতি: গাছ, নদী ও ঋতু কীভাবে হয়ে ওঠে গল্পের চরিত্র

সাহিত্যের জগতে গাছ কেবল গাছ নয়, নদী শুধু জলধারা নয়, আর ঋতু কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তনও নয়। লেখকের কলমে প্রকৃতির এসব উপাদান কখনো হয়ে ওঠে মানুষের মনের আয়না, কখনো গল্পের নীরব সাক্ষী, আবার কখনো কাহিনির এমন এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা চরিত্রের অনুভূতি ও গল্পের পরিণতিকে প্রভাবিত করে। মানুষের আনন্দ, বিষাদ, প্রেম, বিচ্ছেদ কিংবা অপেক্ষার অনুভূতি প্রকাশে প্রকৃতি তাই সাহিত্যে বারবার ফিরে আসে ভিন্ন ভিন্ন রূপে।

বাংলা সাহিত্য থেকে বিশ্বসাহিত্য—প্রকৃতি দীর্ঘদিন ধরেই গল্প, কবিতা ও উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। কখনো নদীর স্রোতে এগিয়ে চলে কাহিনি, কখনো ঝরা পাতায় ফুটে ওঠে বিচ্ছেদের বেদনা, আবার কখনো বসন্তের আগমন নতুন জীবনের সম্ভাবনা তৈরি করে। এভাবেই প্রকৃতি সাহিত্যের পটভূমি ছাড়িয়ে নিজেই হয়ে ওঠে এক জীবন্ত চরিত্র।

গাছের নীরবতায় লুকিয়ে থাকে জীবনের গল্প
একটি গাছকে ঘিরে মানুষের স্মৃতি, সম্পর্ক ও আবেগের অসংখ্য গল্প তৈরি হতে পারে। বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো গাছটি হতে পারে শৈশবের সাক্ষী, প্রেমিক-প্রেমিকার গোপন দেখা করার স্থান কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো প্রিয় মানুষের স্মৃতিচিহ্ন। গাছের শিকড় যেমন মাটির গভীরে ছড়িয়ে থাকে, তেমনি মানুষের অতীতও শিকড়ের মতো জড়িয়ে থাকে তার পরিচয় ও অনুভূতির সঙ্গে।

সাহিত্যে গাছ অনেক সময় স্থায়িত্ব, আশ্রয়, অপেক্ষা ও জীবনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঝড়ের মধ্যেও দাঁড়িয়ে থাকা গাছ মানুষের প্রতিকূলতা মোকাবিলার শক্তির কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, শুকিয়ে যাওয়া কিংবা ভেঙে পড়া গাছ একটি সম্পর্কের অবসান, হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন অথবা জীবনের অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

লেখক যখন গাছের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করেন, তখন প্রকৃতির একটি সাধারণ উপাদানও গল্পের আবেগ বহন করতে শুরু করে। পাঠক তখন শুধু গাছটিকে দেখেন না, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের জীবনকেও অনুভব করেন।

নদী শুধু জলধারা নয়, জীবনেরও প্রতিচ্ছবি
বাংলা সাহিত্যে নদীর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে জনপদ, জীবিকা, সংস্কৃতি ও মানুষের অসংখ্য স্মৃতি। নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কখনো জীবিকার, কখনো ভালোবাসার, আবার কখনো ভাঙন ও হারানোর। তাই সাহিত্যে নদী একই সঙ্গে জীবনদায়ী শক্তি এবং অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসে পদ্মা নদী কেবল কাহিনির পটভূমি নয়; জেলেদের জীবনসংগ্রাম, জীবিকার অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে নদী গভীরভাবে যুক্ত। নদীর পরিবেশ ও গতিপ্রকৃতি উপন্যাসের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে বুঝতে সাহায্য করে।

নদীর স্রোত কখনো সময়ের প্রবাহের কথা মনে করায়, আবার নদীভাঙন মানুষের হারিয়ে ফেলা ঘরবাড়ি ও শিকড়ের বেদনা প্রকাশ করে। নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাওয়ার দৃশ্যও সাহিত্যে পরিবর্তন, যাত্রা কিংবা নতুন জীবনের সন্ধানের প্রতীক হতে পারে।

এ কারণেই নদীকেন্দ্রিক সাহিত্য পড়তে গিয়ে পাঠক শুধু প্রকৃতির বর্ণনা পান না; দেখতে পান নদীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের স্বপ্ন, সংকট ও টিকে থাকার সংগ্রাম।

ঋতু বদলের সঙ্গে বদলায় গল্পের আবহ
ঋতু পরিবর্তন সাহিত্যে সময়ের অগ্রগতির পাশাপাশি মানুষের মনের পরিবর্তন প্রকাশেরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার বৃষ্টি, শরতের সাদা কাশফুল, হেমন্তের ফসল কিংবা শীতের কুয়াশা—প্রতিটি ঋতুর নিজস্ব দৃশ্য ও অনুভূতি রয়েছে। লেখকেরা এসব বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে গল্পের পরিবেশ তৈরি করেন এবং চরিত্রের আবেগকে আরও স্পষ্ট করে তোলেন।

বসন্তকে প্রায়ই নতুন শুরু, প্রেম ও জীবনের জাগরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বর্ষা কখনো বিরহ, অপেক্ষা কিংবা স্মৃতির আবহ তৈরি করে। শরতের নির্মল আকাশে ফুটে উঠতে পারে প্রশান্তি, আর শীতের কুয়াশা গল্পে আনতে পারে নিঃসঙ্গতা, অনিশ্চয়তা কিংবা রহস্যের অনুভূতি।

তবে সাহিত্যে ঋতুর অর্থ সব সময় একরকম নয়। একই বৃষ্টি একজন চরিত্রের কাছে আনন্দের, অন্যজনের কাছে কষ্টের কারণ হতে পারে। কারও কাছে বসন্ত নতুন প্রেমের সূচনা, আবার কারও কাছে হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি। প্রকৃতির দৃশ্যের সঙ্গে চরিত্রের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যুক্ত হওয়ার কারণেই একই ঋতু ভিন্ন গল্পে ভিন্ন অর্থ বহন করে।

প্রকৃতি যখন চরিত্রের মনের আয়না
মানুষ সব সময় নিজের অনুভূতি সরাসরি প্রকাশ করতে পারে না। কখনো অভিমান, কখনো ভয়, কখনো আনন্দ কিংবা গভীর দুঃখ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাহিত্যে প্রকৃতি তখন হয়ে ওঠে অনুভূতি প্রকাশের বিকল্প ভাষা।

গল্পের চরিত্র যখন মন খারাপ করে একা বসে থাকে, তখন জানালার বাইরে বৃষ্টি কিংবা আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ তার মনের অবস্থার সঙ্গে মিল তৈরি করতে পারে। আবার দীর্ঘ অন্ধকারের পর সূর্যের আলো ফুটে ওঠা চরিত্রের জীবনে আশার প্রত্যাবর্তন বোঝাতে পারে।

এই কৌশলে লেখক প্রকৃতির বর্ণনাকে কেবল সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য ব্যবহার করেন না; বরং চরিত্রের অন্তর্গত জগৎকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। ফলে প্রকৃতি ও মানুষের অনুভূতি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।

রবীন্দ্রসাহিত্য থেকে জীবনানন্দ: প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন ভাষা
বাংলা সাহিত্যে প্রকৃতির ব্যবহার বৈচিত্র্যময়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ও গানে ঋতু, ফুল, পাখি, আকাশ ও প্রকৃতির নানা রূপ মানুষের অনুভূতি, সৌন্দর্যবোধ এবং জীবনচেতনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাঁর রচনায় প্রকৃতি কখনো আনন্দের উৎস, কখনো বিরহের সঙ্গী, আবার কখনো মানুষের আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্র।

অন্যদিকে, জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বাংলার প্রকৃতি বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে উপস্থিত। ধানক্ষেত, নদী, পাখি, কুয়াশা ও গ্রামীণ দৃশ্য তাঁর কাব্যজগতে শুধু দৃশ্যমান সৌন্দর্য নয়; স্মৃতি, সময়, নিঃসঙ্গতা ও ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাঁর কবিতায় প্রকৃতির পরিচিত উপাদানগুলো এক স্বতন্ত্র অনুভূতির জগৎ তৈরি করে।

এই দুই কবির রচনাতেই দেখা যায়, প্রকৃতিকে শুধু চোখে দেখার বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সাহিত্যিক সম্ভাবনা সীমিত থেকে যায়। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির সম্পর্ক তৈরি হলেই তা গভীর অর্থ বহন করতে শুরু করে।

প্রকৃতি গল্পের গতিপথও বদলে দিতে পারে
প্রকৃতি শুধু আবহ তৈরি করে না; অনেক সময় গল্পের ঘটনাপ্রবাহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঝড়ের কারণে কোনো চরিত্রের যাত্রা থেমে যেতে পারে, বন্যায় বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের জীবন, খরায় দেখা দিতে পারে খাদ্যসংকট, আবার নদীর স্রোত কাউকে পৌঁছে দিতে পারে অচেনা গন্তব্যে।

এ ধরনের গল্পে প্রকৃতি নিষ্ক্রিয় পটভূমি নয়। তার পরিবর্তন মানুষের সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব, নির্ভরতা কিংবা সহাবস্থান তখন কাহিনির মূল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে গ্রামীণ জীবননির্ভর সাহিত্যে ফসলের মৌসুম, বৃষ্টি, নদীভাঙন কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনের বাস্তবতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসবের মধ্য দিয়ে লেখক দেখাতে পারেন, মানুষের পরিকল্পনা ও আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় বৃহত্তর প্রাকৃতিক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।

প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের নতুন পাঠ
বর্তমান সময়ে পরিবেশদূষণ, বন উজাড়, নদীদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় মানুষের জীবনকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। এসব বাস্তবতা সাহিত্যে প্রকৃতির উপস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। গাছ হারিয়ে যাওয়া, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া কিংবা ঋতুচক্রের পরিচিত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে স্মৃতি, সংকট, উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা গল্প।

প্রকৃতিনির্ভর সাহিত্য পাঠককে পরিবেশের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নির্ভরতার সম্পর্কও বুঝতে সাহায্য করে। একটি নদী হারিয়ে গেলে শুধু জলধারা হারায় না; তার সঙ্গে বদলে যেতে পারে মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও স্মৃতির জগৎ। একটি গাছ কেটে ফেলা হলে হারিয়ে যেতে পারে ছায়ার পাশাপাশি বহুদিনের পরিচিত একটি পরিবেশও।

সাহিত্যের শক্তি এখানেই—এটি পরিচিত দৃশ্যের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অচেনা অর্থকে সামনে আনে।

পটভূমি থেকে জীবন্ত চরিত্র
গাছ, নদী ও ঋতু সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তখনই, যখন সেগুলো মানুষের জীবন ও অনুভূতির সঙ্গে অর্থপূর্ণভাবে যুক্ত হয়। কখনো গাছ বহন করে স্মৃতি, নদী প্রকাশ করে জীবনসংগ্রাম, আর ঋতু তুলে ধরে সময় ও মনের পরিবর্তন। কখনো প্রকৃতি নিজেই গল্পের সংঘাত তৈরি করে, আবার কখনো নীরবে চরিত্রের পাশে থেকে কাহিনির আবেগকে গভীর করে তোলে।

তাই সাহিত্য পাঠের সময় প্রকৃতির বর্ণনাকে শুধু দৃশ্যের সৌন্দর্য হিসেবে দেখলে অনেক অর্থই অদেখা থেকে যায়। পাতার ঝরন, নদীর স্রোত কিংবা ঋতুর বদলের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে চরিত্রের না-বলা কথা, সময়ের চিহ্ন এবং জীবনের গভীর কোনো উপলব্ধি।

প্রকৃতি তখন আর গল্পের বাইরের কোনো বিষয় থাকে না। লেখকের ভাষায় তা হয়ে ওঠে কাহিনির অবিচ্ছেদ্য অংশ—কখনো নীরব সাক্ষী, কখনো অনুভূতির প্রতিধ্বনি, আবার কখনো নিজেই গল্পের এক জীবন্ত চরিত্র।

কালের আলো/এসএ/জেএন

৩ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই বিপাকে আলিস

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
৩ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই বিপাকে আলিস

দীর্ঘ তিন বছর তিন মাসের অপেক্ষা শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনার আলিস আল ইসলাম। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে পথচলা শুরু হয়েছিল তার। কিন্তু অভিষেকের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন এই স্পিনার। তার বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেছেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।

গত ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় আলিসের। এর ঠিক পরদিন, ২২ অক্টোবর, তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার খবর সামনে আসে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পরপরই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তনের পরই নতুন ধাক্কা
আলিসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথটি সহজ ছিল না। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আগের বিতর্ক এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। সেই বাধা পেরিয়ে আবারও জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এই স্পিনার। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি তার ক্যারিয়ারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ম্যাচ কর্মকর্তারা আপত্তি তোলায় এবার তাকে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। নির্ধারিত পরীক্ষায় তার বোলিং অ্যাকশন যাচাই করা হবে।

আগেও প্রশ্ন উঠেছিল বোলিং অ্যাকশন নিয়ে
আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কের শুরু ২০১৯ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। সে সময় ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় আসেন তিনি। মূল ধারার ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচ না খেলেই এমন চমকপ্রদ অভিষয় তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল।

তবে অভিষেকের মাত্র দুই দিন পরই তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আম্পায়াররা রিপোর্ট জমা দেন। পরবর্তী সময়ে অ্যাকশন অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় তাকে। সেই বাধা কাটিয়ে বোলিং অ্যাকশন সংশোধন করে আবার ক্রিকেটে ফেরেন আলিস।

বিপিএলে দ্বিতীয়বারও উঠেছিল আপত্তি
প্রথমবারের ধাক্কা সামলে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন আলিস। তার পারফরম্যান্স আবারও নির্বাচকদের নজরে আনে তাকে। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিপিএলে চিটাগং কিংসের হয়ে খেলার সময় নতুন করে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ফরচুন বরিশাল ও রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়াররা তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আপত্তি জানান। এর ফলে আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পান এই স্পিনার।

এশিয়ান গেমসে আপত্তি ওঠেনি
আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেকের আগে অক্টোবরের শুরুতে জাপানে এশিয়ান গেমসেও খেলেছিলেন আলিস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিলেও ওই ম্যাচে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওয়ানডে অভিষেকের পরদিনই নতুন করে রিপোর্ট জমা পড়ায় বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। একই খেলোয়াড়ের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিভিন্ন ম্যাচে ভিন্ন পরিস্থিতিতে আপত্তি ওঠার বিষয়টি ক্রিকেটে ম্যাচ কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ ও আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার গুরুত্বও সামনে আনে।

১৪ দিনের মধ্যে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা
নিয়ম অনুযায়ী, আলিসকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। সেখানে তার বোলিং অ্যাকশন নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং চালিয়ে যেতে পারবেন আলিস। অর্থাৎ, রিপোর্ট জমা পড়ার অর্থ এই নয় যে ইতিমধ্যেই তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

সামনে বড় পরীক্ষা আলিসের
আলিস আল ইসলামের জন্য এটি ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একাধিকবার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেও প্রতিবারই ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন তিনি। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখার পাশাপাশি বোলিং অ্যাকশন নিয়ে ওঠা নতুন প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে তাকে।

দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সবার নজর আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারের বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষার দিকে। সেই পরীক্ষার ফলই নির্ধারণ করবে আলিসের বোলিং নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

কালের আলো/এসএ/টিসি