খুঁজুন
                               
, ,
           

ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে স্প্যানিশ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে স্প্যানিশ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে

ছদ্মনামে লেখা উপন্যাসের জন্য স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার ‘প্রেমিও প্লানেতা’ জিতেছেন চিলি-আমেরিকান প্রখ্যাত লেখক ইসাবেল আলেন্দে। তাঁর উপন্যাস লা ওরা আন্তেস দেল আলবা (La hora antes del alba)-এর জন্য তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ ইউরো। সাহিত্যের জগতে দীর্ঘদিনের অবদানের পাশাপাশি এবার নিজের বহুল আলোচিত উপন্যাস দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর গল্পের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেও আলোচনায় এসেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পুরস্কারটির ৭৫তম আসরে বিজয়ী হিসেবে আলেন্দের নাম ঘোষণা করা হয়। বার্সেলোনায় আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়া উপস্থিত ছিলেন। ১০ লাখ ইউরোর এই পুরস্কারটি স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্যে অন্যতম বড় আর্থিক পুরস্কার হিসেবে পরিচিত। ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে এই সম্মাননা অর্জন করায় আলেন্দের নতুন বই এবং এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে পাঠক ও সাহিত্যাঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস’-এর গল্পে ফিরলেন আলেন্দে
ইসাবেল আলেন্দের নতুন উপন্যাসটি তাঁর ১৯৮২ সালে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত বই দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর ধারাবাহিকতা। আগের উপন্যাসের পরিচিত চরিত্রগুলোর জীবন ও অভিজ্ঞতাকে আবারও সামনে এনেছেন তিনি। কয়েক দশক ধরে পাঠকেরা জানতে চেয়েছেন, সেই উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আলবার জীবনে পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল। পাঠকদের সেই কৌতূহলই নতুন বইটি লেখার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলবা এস্তেবান ত্রুয়েবা। সে ক্লারা দেল ভায়ের নাতনি। চিলিতে স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের শাসনামলে কারাবন্দি হওয়া ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আলবার জীবন এগিয়ে যায়। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা তার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আলেন্দে জানিয়েছেন, নতুন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর গল্পের জগৎকে পূর্ণতা দিতে চান। পুরোনো চরিত্রের পরবর্তী জীবন তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিহাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

পুরস্কার জিতে ‘নোবেল পাওয়ার মতো’ অনুভূতি
পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় আলেন্দে বলেন, ‘এটি যেন নোবেল পুরস্কার জেতার মতো।’ তাঁর বক্তব্যে এই সম্মাননার গুরুত্ব এবং নিজের দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি কখনো কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি। কারণ, প্রতিযোগিতায় সবার শেষে থাকার বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে চেয়েছেন। তবে বয়সের এই পর্যায়ে এসে হারানোর মতো খুব বেশি কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলেন্দের এই বক্তব্য তাঁর স্বভাবসুলভ রসবোধের পরিচয় দেয়। দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি অর্জন করলেও প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অনীহার কথা আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। এবার ছদ্মনামে লেখা উপন্যাসের জন্য পুরস্কার অর্জন তাঁর কর্মজীবনে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।

ছদ্মনামে লেখার আড়ালে ইতিহাস ও ব্যক্তিগত স্মৃতি
নতুন উপন্যাসটি ছদ্মনামে লেখা হলেও এর বিষয়বস্তু আলেন্দের পরিচিত সাহিত্যিক জগতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে চিলির রাজনৈতিক ইতিহাস, কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিমানুষের জীবনে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রভাব তাঁর লেখায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলবার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কারাবন্দিত্ব, নির্যাতন এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম উঠে এসেছে। এ ধরনের কাহিনি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের বিবরণ নয়; বরং রাজনৈতিক সহিংসতা কীভাবে পরিবার, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, সেটিও তুলে ধরে।

দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস প্রকাশের পর থেকেই আলেন্দের সাহিত্যকর্মে ইতিহাস, পারিবারিক স্মৃতি, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নতুন উপন্যাসে পুরোনো চরিত্রের গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি সেই ধারাকে আবারও সামনে এনেছেন।

গণতন্ত্রের সংকট ও কর্তৃত্ববাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ
আলেন্দে তাঁর নতুন উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিরও মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি, কর্তৃত্ববাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং ফ্যাসিবাদের উত্থান তাঁকে অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়। লেখকের নিজের জীবনও চিলির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৯৭৩ সালে অগাস্তো পিনোশের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দের সরকার উৎখাত হয়। এরপর ইসাবেল আলেন্দে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। সালভাদর আলেন্দে ছিলেন তাঁর বাবার চাচাতো ভাই।

পিনোশের শাসনামলে চিলিতে ব্যাপক রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা আলেন্দের ব্যক্তিগত জীবন ও সাহিত্যকর্মে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাসনের অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্বসাহিত্যে প্রতিষ্ঠা
চিলির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতা আলেন্দের জীবনকে নতুন পথে পরিচালিত করে। নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর লেখালেখির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে।

১৯৮২ সালে প্রকাশিত দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস তাঁকে আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। উপন্যাসটিতে পারিবারিক ইতিহাস, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন একসঙ্গে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যকর্মও বিশ্বজুড়ে পাঠকের কাছে পরিচিতি লাভ করে। নতুন উপন্যাসের মাধ্যমে সেই পরিচিত জগতে ফিরে গিয়ে আলেন্দে একদিকে পুরোনো পাঠকদের দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতির সম্পর্কও সামনে এনেছেন।

প্রেমিও প্লানেতা জয়ে নতুন করে আলোচনায় আলেন্দে
বার্সেলোনায় আয়োজিত ৭৫তম প্রেমিও প্লানেতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আলেন্দের বিজয় ঘোষণা আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১০ লাখ ইউরোর পুরস্কারটি আর্থিক মূল্য ও মর্যাদার দিক থেকে স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই অর্জনের তাৎপর্য শুধু অর্থমূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচিত উপন্যাসের ধারাবাহিকতা লেখা, রাজনৈতিক ইতিহাসকে সাহিত্যে রূপ দেওয়া এবং বর্তমান বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ—সব মিলিয়ে আলেন্দের নতুন বইটি তাঁর সাহিত্যিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এসএ

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন।
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র প্রদর্শনের দাবি

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হলেও এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এলাকায় মাদক বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র বা ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান, আটক ছয়

ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি