খুঁজুন
                               
, ,
           

খুলনার কয়রা

৭১ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ১৪ মাসেও অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
৭১ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ১৪ মাসেও অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ

খুলনার কয়রা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৮০ শতাংশ। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে নদপাড়ের মাটি ধসে পড়েছে। প্রকল্পের কাজের ধীরগতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্লক গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কাশিরহাটখোলা, গাজীপাড়া ও গাববুনিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের তীর রক্ষায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বর্ধন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্সকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পের কাজ তদারকি করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা-২ বিভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি ছিল ৭৫ শতাংশ। গত শুক্রবার পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের পর ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও অগ্রগতি বেড়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। এর মধ্যে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৪৫০ মিটার নদীতীর রক্ষায় তিন লাখ ৮২ হাজার সিসি ব্লক ডাম্পিং এবং এক লাখ ১১ হাজার ব্লক স্থাপনের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এ পর্যন্ত তিন লাখ ২২ হাজার ব্লক ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে প্রায় ৬০০ মিটার বাঁধে ব্লক বসানোর কাজ এখনো বাকি।

ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে। সিসি ব্লক তৈরির সরঞ্জাম আনা ও মাঠ প্রস্তুত করতেই ছয় মাস সময় লেগেছে। পরে ব্লক তৈরিতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রথমে কপোতাক্ষ নদের চিকন দানার বালু দিয়ে ব্লক তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। এলাকাবাসীর বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। পরে বাইরে থেকে মোটা দানার বালু এনে আবার কাজ শুরু করা হয়।

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, নিম্নমানের ব্লক তৈরির বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা এবং অনিয়মের কারণেই কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তাঁর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সুযোগ বুঝে ব্লক তৈরি করেন এবং রাতে সেগুলো নদে ফেলা হয়। কত ব্লক তৈরি ও ডাম্পিং করা হয়েছে, সে তথ্যও এলাকাবাসীকে জানানো হয়নি।

আরেক বাসিন্দা দেবাশীষ মণ্ডল বলেন, এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরেও কাজ শেষ হয়নি। কাজ চলমান থাকা অবস্থায় কয়েকটি স্থানে চরের মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে।

একই ব্লক বারবার গণনার অভিযোগ

উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পাওয়ার পর কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন স্থানীয় এক শ্রমিক সরদারের সহায়তায় আবার কাজ শুরু করেন।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, পাউবোর টাস্কফোর্সের দল ব্লক গণনা করে চলে যাওয়ার পর সেগুলো সব সময় নদে ফেলা হয় না। একই ব্লক বারবার গণনায় দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থের অনিয়ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঠিকাদার ও পাউবোর বক্তব্য

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্সের সাইট ব্যবস্থাপক তানভীর আহমেদ বলেন, প্রকল্পের নথিতে দৈর্ঘ্য এক হাজার ৪৫০ মিটার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সাড়ে ১১শ মিটার এলাকায় কাজ করা হবে। এর বেশির ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, কাশিরহাট এলাকায় কয়েকটি দোকান ও বিদ্যুতের খুঁটির কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া গাজীপাড়া এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার অংশে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অভিযোগ অস্বীকার করে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী বলেন, টাস্কফোর্সের উপস্থিতিতে ব্লক গণনা শেষে সেগুলো ডাম্পিং করা হয়। দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং প্রকল্প এলাকার কয়েকটি স্থাপনা সরাতে সময় লাগায় কাজ পিছিয়েছে। তবে বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি, ব্লক ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং নদপাড়ের মাটি ধসে পড়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নির্ধারিত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করা না গেলে নদীতীর সুরক্ষার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন।
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র প্রদর্শনের দাবি

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হলেও এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এলাকায় মাদক বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র বা ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান, আটক ছয়

ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি