খুঁজুন
                               
, ,
           

ময়লার ভাগাড় থেকে সবুজ উদ্যান, আমিনবাজারে রোপণ ৬ হাজার ৯৩০ গাছ

সাভার সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
ময়লার ভাগাড় থেকে সবুজ উদ্যান, আমিনবাজারে রোপণ ৬ হাজার ৯৩০ গাছ

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে ভোগান্তির শিকার হওয়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশে এসেছে পরিবর্তন। বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে সেখানে রোপণ করা হয়েছে ছয় হাজার ৯৩০টি গাছ। গাছপালা, ফুল ও সবুজ ঘাসে সাজানো হয়েছে মহাসড়কের পাশের এলাকা। রাতে সৌন্দর্য বাড়াতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও উইন্ড টারবাইন। ‘সফল রূপান্তর’ নামের এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধময় পরিবেশের পরিবর্তে সবুজে ঘেরা এলাকা দেখতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষ।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানিয়েছেন, রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি নিমগাছের চারা রোপণ করবেন। এর আগে তাঁর সাভার সেনানিবাসের নবম পদাতিক ডিভিশনের একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চার কিলোমিটার সড়কজুড়ে প্রায় সাত হাজার গাছ

রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম পথ আমিনবাজারে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে জমে থাকত ময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধের কারণে এ পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তেন যাত্রী ও পথচারীরা। বর্তমানে সেই জায়গায় সারি সারি গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও সবুজ ঘাস শোভা পাচ্ছে। মাটির ঢালে লাগানো হয়েছে ঘাস। এলাকাটির সুরক্ষায় দেওয়া হয়েছে নেটের বেড়া। মাটি ধসে পড়া ঠেকাতে নির্মাণ করা হয়েছে রিটেইনিং ওয়াল।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার মহাসড়কের পাশে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৯৩০টি গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন হাজার ৮১৫টি সুপারি, এক হাজার ২৭০টি নিম ও ৬০টি তালগাছ। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধক গাছ রোপণ করা হয়েছে।

রাতে এলাকাটি আলোকিত রাখতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও উইন্ড টারবাইন। এগুলো থেকে দৈনিক তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ১২০টি বাতি জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গাছপালার পরিচর্যার জন্য একজন মালি এবং রাতের নিরাপত্তায় তিনজন প্রহরী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বদলে গেল পরিবেশ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় যাওয়ার পথে আমিনবাজারের ময়লার ভাগাড় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এলাকাটি ঢাকা সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌরসভার বাইরে সাভার উপজেলার মধ্যে হওয়ায় ঢাকা জেলা প্রশাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রশাসকের তদারকিতে প্রথমে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পরে বালু দিয়ে জায়গাটি ভরাট করে গাছ লাগানো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা, সিজিয়াম, ঝাউ ও রঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার উইন্ডমিল ও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলও স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য দেওয়া হয়েছে ফেন্সিং নেট।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, আগে এ পথ দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধের কারণে মানুষকে নাক চেপে যেতে হতো। এখন সেখানে সবুজ ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বর্জ্য অপসারণের পর জায়গাটি পরিষ্কার ও ভরাট করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, ফুল ও মাধবীলতা লাগানো হয়েছে। গাছপালার পরিচর্যা এবং রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও লোকবল রাখা হয়েছে।

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, মহাসড়কের পাশে আবর্জনা দেখে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেশকে সবুজে ছেয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে গাছের চারা রোপণ করবেন।

স্থানীয় আমিনবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ সহ্য করে এ পথ দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। এখন সবুজের সমারোহ দেখে তাঁরা স্বস্তি পাচ্ছেন।

সাভারের সচেতন মহলও উদ্যোগটির প্রশংসা করেছে। তবে এ পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেখানে পুনরায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধময় পরিবেশ বদলে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশে গড়ে ওঠা সবুজায়ন এখন পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন।
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র প্রদর্শনের দাবি

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হলেও এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এলাকায় মাদক বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র বা ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান, আটক ছয়

ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি