খুঁজুন
                               
, ,
           

সুন্দরবনের পানি-মাটিতে প্লাস্টিক দূষণ, মাছে সিসা-নিকেল-তামা

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের পানি-মাটিতে প্লাস্টিক দূষণ, মাছে সিসা-নিকেল-তামা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নদী ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক। এর প্রভাব পড়ছে বনের জলজ প্রাণীর ওপরও। গবেষণায় শিলা কাঁকড়ার ফুলকায় গড়ে ১৮টি এবং অন্ত্রে ৩০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সুন্দরবনের পশুর নদের তিন প্রজাতির মাছ—পারশে, দাঁতিনা ও পাতা বাটায় ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এসব মাছের শরীরে সিসা, নিকেল, তামা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু পাওয়া গেছে। প্লাস্টিক দূষণ ও মাছের শরীরে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে পরিচালিত দুটি পৃথক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, নদী ও পলিমাটিতে জমে থাকা দূষিত উপাদান জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করছে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এসব উপাদান অন্য প্রাণী এবং মানুষের শরীরেও পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সুন্দরবনের পানি ও মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক
সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও অরণ্যক ফাউন্ডেশন গবেষণা পরিচালনা করেছে। গত ১৩ আগস্ট খুলনায় গবেষণাটির খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষক দল ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের তিনটি নদীর পানি ও মাটির নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদী, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী এবং শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদী।

পরীক্ষায় খোলপেটুয়া নদীর প্রতি ঘনমিটার পানিতে ৫৭০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। ভোলা নদীর পানিতে প্রতি ঘনমিটারে ৫৩০টি এবং শাকবাড়িয়া নদীর পানিতে ৩৬০টি কণা শনাক্ত করেন গবেষকেরা। নদীর পলিমাটিতেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। খোলপেটুয়া নদীর প্রতি কেজি পলিতে ৫৭টি, ভোলা নদীতে ৪৪টি এবং শাকবাড়িয়া নদীতে ৪৫টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, সুন্দরবনের পানি ও পলিমাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি জলজ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। এসব কণা দীর্ঘ সময় পরিবেশে থেকে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যচক্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

শিলা কাঁকড়ার ফুলকা ও অন্ত্রে প্লাস্টিক
খোলপেটুয়া নদী থেকে সংগ্রহ করা শিলা কাঁকড়ার নমুনা পরীক্ষা করে গবেষকেরা এর ফুলকায় গড়ে ১৮টি এবং অন্ত্রে ৩০টি প্লাস্টিক কণা পেয়েছেন। কাঁকড়ার শরীরে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পলিভিনাইল ক্লোরাইডের (পিভিসি) মতো প্লাস্টিকের উপাদানও শনাক্ত করা হয়েছে। এসব উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মো. আসাদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জলজ প্রাণীর বৃদ্ধি ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এসব কণা বড় প্রাণীর শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তারাও বিভিন্ন জটিলতার শিকার হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নদীর পলিতে আটকে থাকা প্লাস্টিক প্রাকৃতিক অণুজীব ও তলদেশে বসবাসকারী প্রাণীদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র নষ্ট করতে পারে। এ কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণকে শুধু পানির সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না; এর প্রভাব পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর পড়তে পারে।

পশুর নদের মাছে সিসা, নিকেল ও ক্যাডমিয়াম
সুন্দরবনের নদীগুলোতে প্লাস্টিক দূষণের পাশাপাশি ভারী ধাতুর উপস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পশুর নদের মাছ নিয়ে গবেষণাটি করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বায়োমেডিকেল অ্যান্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট। গবেষণার নিবন্ধ গত বছরের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ডিসকভার এনভায়রনমেন্ট-এ প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা পশুর নদের ছয়টি স্থান থেকে পারশে, দাঁতিনা ও পাতা বাটা মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা সংগ্রহের স্থানগুলোর মধ্যে ছিল রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোংলা শিল্পাঞ্চল, মোংলা সমুদ্রবন্দর, বানিশান্তা, করমজল ও হারবাড়িয়া। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরীক্ষায় মাছের শরীরে গড়ে প্রতি কেজিতে ৪ দশমিক ৩৫ মিলিগ্রাম সিসা, ৩ দশমিক ০৬ মিলিগ্রাম নিকেল, ১ দশমিক ৪২ মিলিগ্রাম তামা এবং ১ দশমিক ৪৬ মিলিগ্রাম ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাছের অন্ত্রে এসব ধাতুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ছিল; এরপর ছিল ফুলকায়। গবেষণায় উদ্ধৃত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহনশীল মাত্রার সঙ্গে তুলনা করে সিসা, ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ধাতুর গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণে মাছের প্রজাতি, নমুনার ধরন ও পরিমাপের একক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব ফলাফলের ব্যাখ্যায় গবেষণায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট মানদণ্ড বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিল্পবর্জ্যকে দূষণের অন্যতম উৎস বলছেন গবেষকেরা
গবেষণা দলের প্রধান ও বায়োমেডিকেল অ্যান্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইভানা পাভীন লিপি বলেন, পশুর নদের উজান থেকে আসা শিল্পবর্জ্য, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংলগ্ন এলাকা, মোংলা সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলের অপরিশোধিত কঠিন ও তরল বর্জ্য নদীর পানি ও পলিমাটিকে দূষিত করছে। একপর্যায়ে এসব দূষিত উপাদান মাছের শরীরে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, পশুর নদ ও সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শোধন না করে নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাও জরুরি।

অন্যদিকে ‘সুন্দরবনে জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম এনামুল হক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রথমে জুপ্ল্যাঙ্কটন ও ছোট জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে। পরে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে তা উচ্চস্তরের প্রাণীদের দেহে পৌঁছায়। তাঁর মতে, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

উজান থেকে প্লাস্টিক আসা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
অতীতের বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের উজান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য ও মাইক্রোপ্লাস্টিক সুন্দরবন হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান-পরবর্তী ত্রাণসামগ্রীর মাধ্যমেও বনের ভেতরে ৫৬ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, উজান থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য আসা বন্ধ করতে যৌথ নদী কমিশনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও এর চারপাশের ১০ কিলোমিটার পরিবেশগতভাবে সংকটপূর্ণ এলাকায় শিল্পকারখানা, কটেজ, রিসোর্ট ও নৌযানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ বিতরণে প্লাস্টিকের মোড়ক নিয়ন্ত্রণ, মোংলা বন্দর ও পরিবেশগত সংকটপূর্ণ এলাকার কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্রলার থেকে প্লাস্টিক ও তেলবর্জ্য ফেলা বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সুন্দরবনে প্লাস্টিক প্রবেশ বন্ধে উদ্যোগের কথা বন বিভাগের
সুন্দরবনে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে পর্যটক ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই বনে প্লাস্টিক নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের চারপাশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ছদ্মনামে লিখে ১০ লাখ ইউরোর স্প্যানিশ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ছদ্মনামে লিখে ১০ লাখ ইউরোর স্প্যানিশ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে

ছদ্মনামে লেখা উপন্যাসের জন্য স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার ‘প্রেমিও প্লানেতা’ জিতেছেন চিলি-আমেরিকান প্রখ্যাত লেখক ইসাবেল আলেন্দে। তাঁর উপন্যাস লা ওরা আন্তেস দেল আলবা (La hora antes del alba)-এর জন্য তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ ইউরো। সাহিত্যের জগতে দীর্ঘদিনের অবদানের পাশাপাশি এবার নিজের বহুল আলোচিত উপন্যাস দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর গল্পের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেও আলোচনায় এসেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পুরস্কারটির ৭৫তম আসরে বিজয়ী হিসেবে আলেন্দের নাম ঘোষণা করা হয়। বার্সেলোনায় আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়া উপস্থিত ছিলেন। ১০ লাখ ইউরোর এই পুরস্কারটি স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্যে অন্যতম বড় আর্থিক পুরস্কার হিসেবে পরিচিত। ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে এই সম্মাননা অর্জন করায় আলেন্দের নতুন বই এবং এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে পাঠক ও সাহিত্যাঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস’-এর গল্পে ফিরলেন আলেন্দে
ইসাবেল আলেন্দের নতুন উপন্যাসটি তাঁর ১৯৮২ সালে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত বই দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর ধারাবাহিকতা। আগের উপন্যাসের পরিচিত চরিত্রগুলোর জীবন ও অভিজ্ঞতাকে আবারও সামনে এনেছেন তিনি। কয়েক দশক ধরে পাঠকেরা জানতে চেয়েছেন, সেই উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আলবার জীবনে পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল। পাঠকদের সেই কৌতূহলই নতুন বইটি লেখার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলবা এস্তেবান ত্রুয়েবা। সে ক্লারা দেল ভায়ের নাতনি। চিলিতে স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের শাসনামলে কারাবন্দি হওয়া ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আলবার জীবন এগিয়ে যায়। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা তার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আলেন্দে জানিয়েছেন, নতুন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস-এর গল্পের জগৎকে পূর্ণতা দিতে চান। পুরোনো চরিত্রের পরবর্তী জীবন তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিহাস, রাজনৈতিক নিপীড়ন, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

পুরস্কার জিতে ‘নোবেল পাওয়ার মতো’ অনুভূতি
পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় আলেন্দে বলেন, ‘এটি যেন নোবেল পুরস্কার জেতার মতো।’ তাঁর বক্তব্যে এই সম্মাননার গুরুত্ব এবং নিজের দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি কখনো কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি। কারণ, প্রতিযোগিতায় সবার শেষে থাকার বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে চেয়েছেন। তবে বয়সের এই পর্যায়ে এসে হারানোর মতো খুব বেশি কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলেন্দের এই বক্তব্য তাঁর স্বভাবসুলভ রসবোধের পরিচয় দেয়। দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি অর্জন করলেও প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অনীহার কথা আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। এবার ছদ্মনামে লেখা উপন্যাসের জন্য পুরস্কার অর্জন তাঁর কর্মজীবনে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।

ছদ্মনামে লেখার আড়ালে ইতিহাস ও ব্যক্তিগত স্মৃতি
নতুন উপন্যাসটি ছদ্মনামে লেখা হলেও এর বিষয়বস্তু আলেন্দের পরিচিত সাহিত্যিক জগতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে চিলির রাজনৈতিক ইতিহাস, কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিমানুষের জীবনে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রভাব তাঁর লেখায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র আলবার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কারাবন্দিত্ব, নির্যাতন এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম উঠে এসেছে। এ ধরনের কাহিনি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের বিবরণ নয়; বরং রাজনৈতিক সহিংসতা কীভাবে পরিবার, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে, সেটিও তুলে ধরে।

দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস প্রকাশের পর থেকেই আলেন্দের সাহিত্যকর্মে ইতিহাস, পারিবারিক স্মৃতি, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নতুন উপন্যাসে পুরোনো চরিত্রের গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি সেই ধারাকে আবারও সামনে এনেছেন।

গণতন্ত্রের সংকট ও কর্তৃত্ববাদের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ
আলেন্দে তাঁর নতুন উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিরও মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের ওপর হুমকি, কর্তৃত্ববাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং ফ্যাসিবাদের উত্থান তাঁকে অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়। লেখকের নিজের জীবনও চিলির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৯৭৩ সালে অগাস্তো পিনোশের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দের সরকার উৎখাত হয়। এরপর ইসাবেল আলেন্দে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। সালভাদর আলেন্দে ছিলেন তাঁর বাবার চাচাতো ভাই।

পিনোশের শাসনামলে চিলিতে ব্যাপক রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা আলেন্দের ব্যক্তিগত জীবন ও সাহিত্যকর্মে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাসনের অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্বসাহিত্যে প্রতিষ্ঠা
চিলির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতা আলেন্দের জীবনকে নতুন পথে পরিচালিত করে। নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর লেখালেখির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে।

১৯৮২ সালে প্রকাশিত দ্য হাউস অব দ্য স্পিরিটস তাঁকে আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। উপন্যাসটিতে পারিবারিক ইতিহাস, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন একসঙ্গে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যকর্মও বিশ্বজুড়ে পাঠকের কাছে পরিচিতি লাভ করে। নতুন উপন্যাসের মাধ্যমে সেই পরিচিত জগতে ফিরে গিয়ে আলেন্দে একদিকে পুরোনো পাঠকদের দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, অন্যদিকে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতির সম্পর্কও সামনে এনেছেন।

প্রেমিও প্লানেতা জয়ে নতুন করে আলোচনায় আলেন্দে
বার্সেলোনায় আয়োজিত ৭৫তম প্রেমিও প্লানেতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আলেন্দের বিজয় ঘোষণা আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১০ লাখ ইউরোর পুরস্কারটি আর্থিক মূল্য ও মর্যাদার দিক থেকে স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এই অর্জনের তাৎপর্য শুধু অর্থমূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচিত উপন্যাসের ধারাবাহিকতা লেখা, রাজনৈতিক ইতিহাসকে সাহিত্যে রূপ দেওয়া এবং বর্তমান বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ—সব মিলিয়ে আলেন্দের নতুন বইটি তাঁর সাহিত্যিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এসএ

মধ্যপ্রদেশে মন্দিরের পথে ট্রাকচাপায় নিহত ১৫ তীর্থযাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রদেশে মন্দিরের পথে ট্রাকচাপায় নিহত ১৫ তীর্থযাত্রী

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীর্থযাত্রীদের ওপর উঠে গেছে ধানবোঝাই একটি ট্রাক। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

খাড়া ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীর্থযাত্রীদের ওপর ট্রাক
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধানবোঝাই ট্রাকটি চিনোর দিক থেকে গোয়ালিয়রের শীতলা মাতা মন্দিরের দিকে আসছিল। মন্দিরে যাওয়ার পথে একটি খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় চালক ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সড়কে থাকা তীর্থযাত্রীদের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকেও ধাক্কা লাগে।

নবরাত্রি উপলক্ষে ওই মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়েছিল। তাঁদের অনেকে মন্দিরে যাওয়ার পথে সড়কে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় দ্রুতগতিতে নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি তাঁদের ওপর উঠে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

নিহত ১৫, আহত প্রায় ২৯ জন
গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন পাঠানো হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং প্রায় ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর ছিল।

গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। এ সময় সড়কে থাকা তীর্থযাত্রীরা ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, তবু কীভাবে গেল ট্রাক
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নবরাত্রি উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকার পাশাপাশি সড়কে প্রতিবন্ধক ও পুলিশের তল্লাশিচৌকিও স্থাপন করা হয়েছিল। এরপরও ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড অতিক্রম করে মন্দিরের কাছে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং কী কারণে সেটি বাঁ দিকে ঘুরে চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তা খতিয়ে দেখতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, ট্রাকটির চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ অমান্য করা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকের অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীর
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ট্রাকটি অতিরিক্ত বোঝাই ছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিদের একজন তাঁর ভাই বলেও জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের উদ্ধার এবং হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজও জরুরি হয়ে পড়ে। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত
নবরাত্রির মতো ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশের ব্যারিকেড থাকার পরও এমন দুর্ঘটনা ঘটায় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে ট্রাকটির যান্ত্রিক অবস্থা, অতিরিক্ত বোঝাইয়ের অভিযোগ এবং সড়কে স্থাপিত ব্যারিকেড অতিক্রমের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/জেএন/এসএ

ময়লার ভাগাড় থেকে সবুজ উদ্যান, আমিনবাজারে রোপণ ৬ হাজার ৯৩০ গাছ

সাভার সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
ময়লার ভাগাড় থেকে সবুজ উদ্যান, আমিনবাজারে রোপণ ৬ হাজার ৯৩০ গাছ

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে ভোগান্তির শিকার হওয়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশে এসেছে পরিবর্তন। বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে সেখানে রোপণ করা হয়েছে ছয় হাজার ৯৩০টি গাছ। গাছপালা, ফুল ও সবুজ ঘাসে সাজানো হয়েছে মহাসড়কের পাশের এলাকা। রাতে সৌন্দর্য বাড়াতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও উইন্ড টারবাইন। ‘সফল রূপান্তর’ নামের এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধময় পরিবেশের পরিবর্তে সবুজে ঘেরা এলাকা দেখতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষ।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানিয়েছেন, রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি নিমগাছের চারা রোপণ করবেন। এর আগে তাঁর সাভার সেনানিবাসের নবম পদাতিক ডিভিশনের একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চার কিলোমিটার সড়কজুড়ে প্রায় সাত হাজার গাছ

রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম পথ আমিনবাজারে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে জমে থাকত ময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধের কারণে এ পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তেন যাত্রী ও পথচারীরা। বর্তমানে সেই জায়গায় সারি সারি গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও সবুজ ঘাস শোভা পাচ্ছে। মাটির ঢালে লাগানো হয়েছে ঘাস। এলাকাটির সুরক্ষায় দেওয়া হয়েছে নেটের বেড়া। মাটি ধসে পড়া ঠেকাতে নির্মাণ করা হয়েছে রিটেইনিং ওয়াল।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার মহাসড়কের পাশে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৯৩০টি গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন হাজার ৮১৫টি সুপারি, এক হাজার ২৭০টি নিম ও ৬০টি তালগাছ। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধক গাছ রোপণ করা হয়েছে।

রাতে এলাকাটি আলোকিত রাখতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও উইন্ড টারবাইন। এগুলো থেকে দৈনিক তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ১২০টি বাতি জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গাছপালার পরিচর্যার জন্য একজন মালি এবং রাতের নিরাপত্তায় তিনজন প্রহরী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বদলে গেল পরিবেশ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় যাওয়ার পথে আমিনবাজারের ময়লার ভাগাড় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এলাকাটি ঢাকা সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌরসভার বাইরে সাভার উপজেলার মধ্যে হওয়ায় ঢাকা জেলা প্রশাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রশাসকের তদারকিতে প্রথমে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পরে বালু দিয়ে জায়গাটি ভরাট করে গাছ লাগানো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সেখানে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা, সিজিয়াম, ঝাউ ও রঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার উইন্ডমিল ও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলও স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য দেওয়া হয়েছে ফেন্সিং নেট।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, আগে এ পথ দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধের কারণে মানুষকে নাক চেপে যেতে হতো। এখন সেখানে সবুজ ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বর্জ্য অপসারণের পর জায়গাটি পরিষ্কার ও ভরাট করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, ফুল ও মাধবীলতা লাগানো হয়েছে। গাছপালার পরিচর্যা এবং রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও লোকবল রাখা হয়েছে।

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, মহাসড়কের পাশে আবর্জনা দেখে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেশকে সবুজে ছেয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে গাছের চারা রোপণ করবেন।

স্থানীয় আমিনবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ সহ্য করে এ পথ দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। এখন সবুজের সমারোহ দেখে তাঁরা স্বস্তি পাচ্ছেন।

সাভারের সচেতন মহলও উদ্যোগটির প্রশংসা করেছে। তবে এ পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেখানে পুনরায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধময় পরিবেশ বদলে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশে গড়ে ওঠা সবুজায়ন এখন পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি