খুঁজুন
                               
, ,
           

‘সেই তুমি’ থেকে ‘রুপালি গিটার’, আইয়ুব বাচ্চু আজও অমর সুরে

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
‘সেই তুমি’ থেকে ‘রুপালি গিটার’, আইয়ুব বাচ্চু আজও অমর সুরে

একটি গিটার, কয়েকটি তার আর আঙুলের জাদুতে যে অসংখ্য গল্প বলা যায়, তার অনন্য উদাহরণ আইয়ুব বাচ্চু। কখনো তাঁর গিটারের ঝংকারে জেগেছে বিদ্রোহ, কখনো বুকের গভীরে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস সুর হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে শ্রোতাদের হৃদয়ে। মঞ্চে গিটার হাতে দাঁড়িয়ে যখন তিনি সুরের ঝড় তুলতেন, তখন দর্শক-শ্রোতারা শুধু গান শুনতেন না, বরং ডুবে যেতেন এক অনন্য সংগীতমগ্নতায়। সেই মানুষটির কাঁধে আজ আর গিটার ওঠে না, মঞ্চে শোনা যায় না তাঁর কণ্ঠ। তবু ‘রুপালি গিটার’ কিংবা ‘সেই তুমি’ বাজলেই মনে হয়, বাংলা গানের আকাশে তাঁর জন্য নির্ধারিত জায়গাটি আজও শূন্য।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর সকালে থেমে যায় বাংলা ব্যান্ডসংগীতের অন্যতম উজ্জ্বল এক অধ্যায়। মাত্র ৫৬ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান আইয়ুব বাচ্চু। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে আট বছর। কিন্তু সময়ের ব্যবধান তাঁর গানকে ম্লান করতে পারেনি। ‘সেই তুমি’, ‘রুপালি গিটার’, ‘ফেরারি মন’ কিংবা ‘হাসতে দেখো, গাইতে দেখো’ বাজলেই মনে হয়, বাচ্চু ভাই যেন আজও আছেন—গিটারের তারে তারে, গানের প্রতিটি বাঁকে, শ্রোতাদের অনুভূতির গভীরে।

কৈশোর থেকে সংগীতের পথে যাত্রা
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। কৈশোরেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। সেই আগ্রহ ধীরে ধীরে পরিণত হয় আজীবনের সাধনায়। সংগীতজীবনের শুরুর দিকে ফিলিংসের সঙ্গে পথচলার পর ১৯৮০ সালে তিনি যুক্ত হন সোলস ব্যান্ডে। সেখানে দীর্ঘ সময় লিড গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করে নিজের দক্ষতা ও স্বতন্ত্র গিটারবাদনের ধরন গড়ে তোলেন।

সোলসে থাকাকালে গিটারবাদক হিসেবে পরিচিতি পেলেও বাচ্চুর স্বপ্ন ছিল আরও বড়। নিজের সংগীতভাবনা, সুরের বৈচিত্র্য এবং সৃজনশীলতাকে স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ১৯৯১ সালে গড়ে তোলেন এলআরবি—লাভ রানস ব্লাইন্ড। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম। বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

এলআরবির মাধ্যমে বাচ্চু এমন এক সংগীতধারা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে রকসংগীতের শক্তি, ব্লুজের আবহ এবং মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি একসঙ্গে মিশে যায়। তাঁর কণ্ঠ ও গিটারের সমন্বয় ব্যান্ডটিকে দ্রুত শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।

‘সেই তুমি’ ও ‘রুপালি গিটার’—প্রজন্ম পেরোনো আবেগ
এলআরবির ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘ফেরারি মন’ ও ‘স্বপ্ন’ অ্যালবামের গান শ্রোতাদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। এসব গানের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে প্রেম, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব, স্বপ্ন এবং জীবনের নানা টানাপোড়েন।

‘চলো বদলে যাই’ শুধু একটি জনপ্রিয় গান নয়, অনেক শ্রোতার কাছে এটি জীবনের প্রতি নতুন করে তাকানোর অনুপ্রেরণা। অন্যদিকে ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’ বিচ্ছেদের বেদনা ও হারানোর অনুভূতিকে এমনভাবে তুলে ধরেছে, যা অসংখ্য মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিশে গেছে।

আর ‘রুপালি গিটার’ যেন আইয়ুব বাচ্চুর শিল্পীসত্তারই প্রতীক। গানটির নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গিটার হাতে তাঁর সেই পরিচিত অবয়ব। গিটারকে শুধু বাদ্যযন্ত্র হিসেবে নয়, নিজের আবেগ ও আত্মপ্রকাশের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। তাই তাঁর গান শোনা মানে অনেকের কাছে কেবল সুর উপভোগ করা নয়, বরং ফিরে যাওয়া স্মৃতি, অনুভূতি ও জীবনের বিশেষ কিছু মুহূর্তে।

গায়ক পরিচয়ের বাইরে বহুমাত্রিক আইয়ুব বাচ্চু
আইয়ুব বাচ্চু শুধু একজন জনপ্রিয় গায়ক ছিলেন না। তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং অসাধারণ গিটারবাদক। সংগীতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। পরবর্তী সময়ে ‘ময়না’, ‘কষ্ট’ ও ‘সময়’সহ একাধিক একক অ্যালবামে নিজের বহুমাত্রিক প্রতিভার পরিচয় দেন তিনি। ব্যান্ডের গান কিংবা একক সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।

তাঁর গিটারবাদনের বিশেষত্ব ছিল সুরের ভেতর আবেগের গভীর প্রকাশ। রক ও ব্লুজের প্রভাব থাকলেও তাঁর বাজনায় ছিল নিজস্ব স্বাক্ষর। কখনো দ্রুতগতির গিটার রিফে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা, কখনো দীর্ঘ সুরের টানে প্রকাশ পেয়েছে বিষণ্নতা। গিটারের মাধ্যমে শ্রোতার মনে যে আবেগ তৈরি করা যায়, আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন তার অন্যতম সফল শিল্পী। বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতকে জনপ্রিয়তার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাঁর অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কাজ পরবর্তী প্রজন্মের বহু সংগীতশিল্পীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।

অনুপস্থিতিতেও অনুভূতির সঙ্গী
শিল্পীর চলে যাওয়ার পর তাঁর গান কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে থাকে, আইয়ুব বাচ্চুর ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট। আজও অনেকেই নিঃসঙ্গ রাতে শোনেন ‘একদিন ঘুম ভাঙা শহরে’। ‘আসলে কেউ সুখী নয়’ গানের কথায় খুঁজে পান নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি। আবার ‘সেই তুমি’ ফিরে আসে পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো সময়ের কথা মনে করিয়ে দিতে।

গানের এই স্থায়িত্বই একজন শিল্পীর প্রকৃত সার্থকতার পরিচয়। সময় বদলায়, শ্রোতাদের প্রজন্ম বদলায়, সংগীত শোনার মাধ্যমও পাল্টে যায়। কিন্তু যে গান মানুষের আবেগকে স্পর্শ করতে পারে, তা নতুন শ্রোতার কাছেও অর্থবহ হয়ে ওঠে। আইয়ুব বাচ্চুর গানও সেইভাবেই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে।

তাঁর কণ্ঠ আর নতুন কোনো গান নিয়ে মঞ্চে ফিরবে না—এ সত্য মেনে নেওয়া কঠিন। তবু তাঁর সৃষ্টি থেমে নেই। রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা ব্যক্তিগত প্লেলিস্টে তাঁর গান প্রতিনিয়ত ফিরে আসে। কোনো গান আনন্দ দেয়, কোনোটি পুরোনো স্মৃতি জাগায়, আবার কোনোটি কঠিন সময়ে নিঃশব্দ সঙ্গী হয়ে থাকে।

চট্টগ্রামে স্মৃতির প্রতীক ‘রুপালি গিটার’
জন্মশহর চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে ‘রুপালি গিটার’ ভাস্কর্য। এটি শুধু একজন সংগীতশিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন নয়; বাংলা ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে তাঁর অবস্থানেরও প্রতীক। তবে তাঁর স্মৃতি কেবল কোনো ভাস্কর্য কিংবা নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে তাঁর গানের যে অদৃশ্য স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে উঠেছে, সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।

আট বছর পেরিয়ে গেলেও আইয়ুব বাচ্চুকে ঘিরে আবেগের জায়গাটি ফুরিয়ে যায়নি। তাঁর গিটারের ঝংকারে এখনও কেউ খুঁজে পান সাহস, কেউ বিচ্ছেদের ভাষা, কেউবা ফিরে পান জীবনের হারিয়ে যাওয়া কোনো অধ্যায়। শিল্পী হিসেবে তাঁর শরীরী উপস্থিতি নেই, কিন্তু সুরের ভেতর তিনি আজও জীবন্ত।

হয়তো এ কারণেই ‘রুপালি গিটার’ কিংবা ‘সেই তুমি’ বাজলে মনে হয়, আইয়ুব বাচ্চু কোথাও হারিয়ে যাননি। তিনি আছেন তাঁর সৃষ্টিতে, শ্রোতাদের স্মৃতিতে এবং বাংলা ব্যান্ডসংগীতের প্রতিটি প্রজন্মের ভালোবাসায়। তাঁর গিটার থেমেছে, কিন্তু সেই গিটারের সুর থামেনি।

কালের আলো/জেএন/এসএ

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম, ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইশরাক হোসেন।
হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র প্রদর্শনের দাবি

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলার সময় একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল। তবে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা এবং পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হলেও এসব দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

এলাকায় মাদক বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন ইশরাক হোসেন।

তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারি পত্র বা ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযান, আটক ছয়

ইশরাক হোসেনের বিবৃতি অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গেন্ডারিয়া এলাকায় যান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদকসেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি