সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ
স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ
চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে
বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে
বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]