খুঁজুন
                               
, ,
           

সৌদির দিকে হুতিদের দুই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
সৌদির দিকে হুতিদের দুই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই সঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে আসা একটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জোট। এদিকে সৌদি আরবের বিমান হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাঁদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও আকাশপথে নিরাপত্তা সতর্কতার ঘটনায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের তথ্য জানান। তাঁর দাবি, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রিয়াদে আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের খবরের আগে রোববার স্থানীয় সময় ভোরে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার হুমকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘরের ভেতরে অথবা জানালা ও দরজা থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তায় বলা হয়, এলাকায় শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুমকি রয়েছে। তবে সতর্কবার্তাটি পাঠানোর কয়েক মিনিট পর প্রত্যাহার করা হয়। হঠাৎ এমন সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে সতর্কবার্তা প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

খামিস মুশাইত লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। জোটের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদের দিকে আসা একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উৎক্ষেপণস্থল, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং সেগুলো ধ্বংস করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও ইয়েমেনের সংঘাতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১২
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাইজ প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং আহতদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বেসামরিক মানুষের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে উদ্ধারকাজে দেরি হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।

ধামার প্রদেশেও হামলা, নিহত তিন শিশু
তাইজ প্রদেশের হামলার আগে ইয়েমেনের ধামার প্রদেশে রাতভর বিমান হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। একাধিক এলাকায় হামলার খবর সামনে আসায় ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানি এবং আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু, সামরিক অবস্থান কিংবা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সব ঘটনার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।

ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ হুতিদের
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দাবি, সৌদি বিমান হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্লাস্টার বোমা বিস্ফোরিত হলে একটি মূল অস্ত্র থেকে বহু ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিস্ফোরক বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কিছু অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে গেলে পরবর্তী সময়েও বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক হামলায় এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, ঘটনাস্থলের প্রমাণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি এবং ইয়েমেনে বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর একই সময়ে সামনে এসেছে। এতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অংশ। এই সংঘাতে সামরিক অভিযান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা আক্রমণের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ ঘটনাগুলোতে সৌদি আরবের সামরিক জোট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করলেও ইয়েমেনে হামলার অভিযোগ এবং ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে নতুন হামলা হয় কি না, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা কমাতে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তার ওপর। সূত্র: সিবিএস নিউজ ও বার্তা সংস্থা এএফপি

কালের আলো/এএএন/এসএ

অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান

সাংবাদিকরা জাতির বিবেক ও সমাজের দর্পণ। তাঁরা অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সরকার, গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। উন্নয়ন বলতে শুধু আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝায় না; বরং একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার নিদর্শন ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নামে মেট্রোরেল স্টেশনের নামকরণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নীতিগতভাবে তিনি এ দাবির সঙ্গে একমত। তবে এটি বাস্তবায়নের আগে কারিগরি সম্ভাব্যতা, সফটওয়্যারের পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজসহ দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ সদস্য

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন পুলিশ সদস্য। এ সময় সরকারি স্থাপনা, দোকানপাট ও সুপারমার্কেটে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দেশটির বিভিন্ন শহরে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু গ্রেপ্তার ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যের বরাতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষ যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং দেশের সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেও অনেক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।

দ্রব্যমূল্যের চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবির মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত কর্মসূচিতেও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। ফলে আন্দোলনটি নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর দাবির বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সামাজিক অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরে।

তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাই সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। কিছু স্থানে সহিংস গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সরকারি ভবন ও দোকানপাটে হামলা, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস
বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি শহরে সরকারি ভবন, বিলাসবহুল পণ্যের দোকান এবং সুপারমার্কেটকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতার ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সহিংসতার ব্যাপকতা এবং পুলিশের আহত হওয়ার সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে।

সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ অভিযোগ করেন, মূল বিক্ষোভ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে ‘কাস্যুর’ নামে পরিচিত সুযোগসন্ধানী দুষ্কৃতকারীরা সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এসব গোষ্ঠী লুটপাট চালানোর সুযোগ পেয়েছিল। তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যারা সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ মোকাবিলার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা নেই সরকারের
বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। একই সঙ্গে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

জরুরি অবস্থা জারি না করার সিদ্ধান্তের অর্থ, সরকার আপাতত বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার মধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়। তবে গ্রেপ্তার অভিযান, পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ধরন ও তীব্রতা এক রকম ছিল না। অনেক জায়গায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ও লুটপাট পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

লিমোজে সিটি হলে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বিক্ষোভ চলাকালে ফ্রান্সের লিমোজ শহরে একটি সিটি হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভবনটির অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আগুনে সেটি ‘প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে’। এতে স্থানীয় প্রশাসনিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিটি হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বিক্ষোভের সহিংস রূপকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে লিমোজের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফ্রান্সের সামনে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অসন্তোষ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ
ফ্রান্সজুড়ে এই বিক্ষোভ দেশটির অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। একদিকে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে বিক্ষোভের পেছনে থাকা মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ ও সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষণগতভাবে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক অসন্তোষের সমাধান করা কঠিন হতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা এবং জনসাধারণের আস্থার মতো বিষয়গুলোও পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আপাতত ফ্রান্স সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হচ্ছে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আহত পুলিশ সদস্যদের ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। আগামী দিনে বিক্ষোভের তীব্রতা কমে আসে কি না এবং সরকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা পর্যবেক্ষণে থাকবে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এএএন/এসএ

প্রধানমন্ত্রী

সেনাসদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
সেনাসদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন: প্রধানমন্ত্রী

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ৯ম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান

পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে (পিজিআর) জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়।

এ অর্জনে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই সেনাবাহিনীর জন্ম। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িত।

বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

এই বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রক্রিয়াধীন ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে চায়।

তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি