খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সহিংসতা, গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশ সদস্য

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন পুলিশ সদস্য। এ সময় সরকারি স্থাপনা, দোকানপাট ও সুপারমার্কেটে হামলা, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দেশটির বিভিন্ন শহরে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু গ্রেপ্তার ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্যের বরাতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষ যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি এবং দেশের সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেও অনেক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।

দ্রব্যমূল্যের চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন পরিষেবার ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবির মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত কর্মসূচিতেও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। ফলে আন্দোলনটি নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর দাবির বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সামাজিক অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরে।

তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাই সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। কিছু স্থানে সহিংস গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সরকারি ভবন ও দোকানপাটে হামলা, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস
বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি শহরে সরকারি ভবন, বিলাসবহুল পণ্যের দোকান এবং সুপারমার্কেটকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতার ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সহিংসতার ব্যাপকতা এবং পুলিশের আহত হওয়ার সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে।

সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ অভিযোগ করেন, মূল বিক্ষোভ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে ‘কাস্যুর’ নামে পরিচিত সুযোগসন্ধানী দুষ্কৃতকারীরা সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এসব গোষ্ঠী লুটপাট চালানোর সুযোগ পেয়েছিল। তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যারা সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ মোকাবিলার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা নেই সরকারের
বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। একই সঙ্গে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

জরুরি অবস্থা জারি না করার সিদ্ধান্তের অর্থ, সরকার আপাতত বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার মধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়। তবে গ্রেপ্তার অভিযান, পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ধরন ও তীব্রতা এক রকম ছিল না। অনেক জায়গায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ও লুটপাট পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

লিমোজে সিটি হলে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বিক্ষোভ চলাকালে ফ্রান্সের লিমোজ শহরে একটি সিটি হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া আগুনে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ভবনটির অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আগুনে সেটি ‘প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে’। এতে স্থানীয় প্রশাসনিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিটি হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বিক্ষোভের সহিংস রূপকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে লিমোজের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফ্রান্সের সামনে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অসন্তোষ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ
ফ্রান্সজুড়ে এই বিক্ষোভ দেশটির অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে। একদিকে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ রয়েছে, অন্যদিকে বিক্ষোভের পেছনে থাকা মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ ও সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষণগতভাবে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক অসন্তোষের সমাধান করা কঠিন হতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক কল্যাণব্যবস্থা এবং জনসাধারণের আস্থার মতো বিষয়গুলোও পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আপাতত ফ্রান্স সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হচ্ছে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আহত পুলিশ সদস্যদের ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। আগামী দিনে বিক্ষোভের তীব্রতা কমে আসে কি না এবং সরকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা পর্যবেক্ষণে থাকবে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/এএএন/এসএ

সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিলাম:শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিলাম:শফিকুর রহমান

সরকারের পতন নয়, বরং সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে সরকার বিরোধীদলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সরকারের পতন চাইনি, চেয়েছিলাম সফলতা। কারণ সরকারের সফলতা মানে দেশের সফলতা।” তাঁর অভিযোগ, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। এর মধ্য দিয়ে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, বিএনপিই বিরোধীদলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত সাত মাসে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আগের স্বৈরাচারী শাসনের পথেই সরকার হাঁটছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধীদল নীরব থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, তাঁরা সরকারের পতন নয়, দেশের সফলতা চেয়েছিলেন। দেশকে কোনো সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তরুণেরা জেগে উঠেছে এবং পূর্ণ মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না। ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, শত কারচুপির পরও জনগণ জামায়াতকে যে আসন দিয়েছে, সেই ৮৯ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন। বিএনপি অবস্থান পরিবর্তন করলেও জামায়াত তাদের অবস্থান বদলাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বেন তাঁরা।

সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান

আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, সরকার পরিচালনায় জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগে সরকারি সুবিধা বিতরণের মাধ্যমে ভোটকে প্রভাবিত করা যাবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অলি আহমদ আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে আমূল পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে নিজেদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে সরকার’

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার ছিল। প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের অঙ্গীকারও ছিল। কিন্তু সরকার এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের ঘৃণা ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

মিথ্যা সংবাদ ও পোস্টের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ চান শফিকুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
মিথ্যা সংবাদ ও পোস্টের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ চান শফিকুল আলম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ এবং ব্যক্তির চরিত্রহননের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম। মিথ্যা সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা পোস্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় মানহানি আইন কার্যকর করা এবং দেওয়ানি আইনের আওতায় জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিষয়ে মিডিয়া কমিটি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যমান আইন অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে পারছে না। বর্তমানে মতপ্রকাশের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা অনেক সময় বড় সংবাদমাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কখনো কখনো সামাজিক নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি বলেন, মানুষ রাগ, ক্ষোভ কিংবা বিভিন্ন মতামত প্রকাশে ক্রমেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এ সময় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক চিন্তাভাবনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

মানহানি আইন কার্যকরের তাগিদ

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে মানহানিসংক্রান্ত যে আইন রয়েছে, তা কার্যকর করা উচিত। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে আইনটি থাকলেও এর আওতায় কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই—এমন দাবি করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেটে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ঘটনা দেখা যায়। কেউ নিজের নাম দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করলে তাঁর বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা সংবাদ পেতে পারেন। এসব তথ্য তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দেখতে হতে পারে।

শফিকুল আলমের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে ঘটছে না; ক্লিকবেটের কারণে সংবাদপত্রও অনেক সময় এ ধরনের কাজ করছে। এসব সমস্যা প্রচলিত আইন দিয়ে মোকাবিলা করা হবে, নাকি সাইবার আইনের মাধ্যমে—তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত মানহানি আইনে মামলা হলে তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতের রায় চাইলেও তাঁর ক্ষতির দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

‘মিথ্যা সংবাদে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা কে দেবে’

শফিকুল আলম বলেন, খারাপ সাংবাদিকতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা পোস্টের কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁদের সুরক্ষা কে দেবে—এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা এসব ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে মানহানির বিষয়টি দেওয়ানি আইনের আওতায় মোকাবিলার যে ব্যবস্থা রয়েছে, বাংলাদেশেও সে ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার পরিবর্তে দেওয়ানি আইনের আওতায় প্রতিকার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে অন্যের চরিত্রহনন করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুল আলমের মতে, কোনো সংবাদমাধ্যম মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করলে তার দায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যে সংবাদপত্রগুলোর মামলা হারলে জরিমানা দেওয়ার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলেন।

‘ফ্রি স্পিচের নামে ওয়াইল্ড ওয়েস্ট তৈরি হচ্ছে’

শফিকুল আলম বলেন, কেউ ভুলবশত কোনো তথ্য প্রকাশ করেছেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে লক্ষ্য করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন—তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কারও সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি সরকারি চুক্তি না পাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব বা যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। অথচ এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

তাঁর মতে, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলতে পারেন। তবে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের পরিণতি নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ১৮ মাস কাজ করার সময় তিনি এসব বিষয় কাছ থেকে দেখেছেন উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

ইন্টারনেটে থেকে যায় মিথ্যা সংবাদ

শফিকুল আলম বলেন, ইন্টারনেটে প্রকাশিত তথ্য শুধু তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় না, বরং দীর্ঘদিন থেকে যায়। কেউ জনজীবন থেকে সরে গেলেও তাঁর নাম দিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করলে পুরোনো নেতিবাচক বা মিথ্যা প্রতিবেদন সামনে আসতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি বলেন, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।

নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, তিনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চান। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে, তবে মানুষকে সত্য বলতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে লক্ষ্য করে মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আলোচনায় উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি মানহানি আইন কার্যকর করা এবং দেওয়ানি আইনের আওতায় যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩১৯

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৯ জন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৫৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন। এ সময় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ১২২ জন।

এ ছাড়া, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯২ জন।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে একই সময়সীমায় নিশ্চিত হামে মোট ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি