খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিলাম:শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিলাম:শফিকুর রহমান

সরকারের পতন নয়, বরং সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে সরকার বিরোধীদলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সরকারের পতন চাইনি, চেয়েছিলাম সফলতা। কারণ সরকারের সফলতা মানে দেশের সফলতা।” তাঁর অভিযোগ, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। এর মধ্য দিয়ে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, বিএনপিই বিরোধীদলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত সাত মাসে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আগের স্বৈরাচারী শাসনের পথেই সরকার হাঁটছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধীদল নীরব থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, তাঁরা সরকারের পতন নয়, দেশের সফলতা চেয়েছিলেন। দেশকে কোনো সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তরুণেরা জেগে উঠেছে এবং পূর্ণ মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না। ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন ঘটানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, শত কারচুপির পরও জনগণ জামায়াতকে যে আসন দিয়েছে, সেই ৮৯ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন। বিএনপি অবস্থান পরিবর্তন করলেও জামায়াত তাদের অবস্থান বদলাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বেন তাঁরা।

সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান

আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, সরকার পরিচালনায় জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগে সরকারি সুবিধা বিতরণের মাধ্যমে ভোটকে প্রভাবিত করা যাবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অলি আহমদ আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে আমূল পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে নিজেদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে সরকার’

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার ছিল। প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের অঙ্গীকারও ছিল। কিন্তু সরকার এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের ঘৃণা ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সফররত জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহযোগিতা চান। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপ। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক মনোভাব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান বিশেষ দূত। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শরণার্থী সেলের প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার ডানকান কেইথ উইলসন, পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার প্নু পেই দেট চায়েলসহ অন্য সদস্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

বয়স ৩০ কিংবা ৪০ পেরিয়ে গেছে। কৈশোরের ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তার দিনও অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন, চিবুক কিংবা চোয়ালের পাশে উঠেছে যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ। কয়েক দিন পর আবারও দেখা দিল নতুন ফুসকুড়ি। অথচ রূপচর্চার রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তাহলে বয়স বাড়ার পরও কেন ফিরে আসছে ব্রণের সমস্যা?

কৈশোরের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক বেশি হলেও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে এই সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। আবার কারও ত্বক বছরের পর বছর পরিষ্কার থাকার পর ৩০ বা ৪০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ব্রণ দেখা দিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যবহৃত প্রসাধনীসহ নানা কারণে এমনটা হতে পারে। তবে বারবার মুখ ধুলেই যে ব্রণ থেকে মুক্তি মিলবে, বিষয়টি তেমন নয়।

হরমোনের পরিবর্তন কি ব্রণের কারণ?
প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন। বিশেষ করে চিবুক ও চোয়ালের চারপাশে বারবার ব্রণ দেখা দিলে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও পেরিমেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা ত্বকের তেল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের (পিসিওএস) কারণেও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর ইনসুলিনের প্রতি যথাযথভাবে সাড়া না দিলেও হরমোনের কার্যক্রম ও ত্বকের তেল উৎপাদনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব ব্রণের পেছনে হরমোন দায়ী নয়। ব্রণ যদি নিয়মিত ফিরে আসে এবং এর পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মানসিক চাপ বাড়লেও ত্বকে দেখা দিতে পারে ব্রণ
কাজের অতিরিক্ত চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের দুশ্চিন্তা শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, ত্বকেও তার ছাপ পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে ত্বকের প্রদাহ ও ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। রাতের পর রাত কম ঘুমানো এবং বিশ্রামের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষ করে কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ত্বকে ব্রণ ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তাহলে নিজের ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।ত্বকের যত্নে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কি ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে?
খাদ্যাভ্যাসও কিছু মানুষের ব্রণের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাদা রুটি, মিষ্টি পানীয় ও পেস্ট্রি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের প্রবণতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার কিংবা শরীরচর্চার পর ব্যবহৃত হুই প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার শরীরে খাবারের প্রভাব এক রকম নয়।তাই মুখে ব্রণ দেখা দিলেই দুধ, পনির বা শরীরচর্চার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং কোন খাবার খাওয়ার পর ব্রণ বাড়ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ব্রণ ঢাকতে ব্যবহৃত প্রসাধনীই কি সমস্যার কারণ?
অনেক সময় ব্রণ ঢাকার জন্য যে মেকআপ বা প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, সেটিই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ত্বকের উপযোগী নয় এমন ভারী মেকআপ, ময়েশ্চারাইজার কিংবা অন্যান্য স্কিনকেয়ার পণ্য লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রসাধনীর কারণে সৃষ্ট এ ধরনের ব্রণকে ‘অ্যাকনে কসমেটিকা’ বলা হয়। সম্প্রতি নতুন কোনো ফাউন্ডেশন, ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করার পর ব্রণ দেখা দিলে পণ্যটির সঙ্গে সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একসঙ্গে অনেক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। প্রসাধনী কেনার সময় ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পণ্য লোমকূপ বন্ধ করার প্রবণতা কমাতে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। বাইরের ধুলাবালি ও দূষণ ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। তবে ত্বক পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ব্রণের সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মুখ অপরিষ্কার থাকলেই কি ব্রণ হয়?
ব্রণ নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না রাখার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। লোমকূপে তেল ও মৃত ত্বককোষ জমে যাওয়া, প্রদাহ এবং হরমোনসহ বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখে। তাই ব্রণ কমানোর আশায় শক্তিশালী ফেসওয়াশ দিয়ে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা জোরে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে।প্রতিদিনের ত্বক পরিচর্যার রুটিন সহজ রাখাই ভালো। মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকের উপযোগী নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি ব্রণ খোঁটা বা চেপে ফাটানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থায়ী দাগ কিংবা গর্ত তৈরি হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাঝেমধ্যে এক-দুটি ব্রণ উঠলে তা নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে ব্রণ যদি বারবার ফিরে আসে, গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক হয় কিংবা ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি করে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ব্রণের পাশাপাশি মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা মুখে অতিরিক্ত লোম গজানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। এসব লক্ষণ পিসিওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে শুধু ব্রণ বা এসব উপসর্গের উপস্থিতি দিয়েই কোনো রোগ নিশ্চিত করা যায় না; প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করবেন।

বয়স বাড়লেও ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব
৩০ কিংবা ৪০ বছর বয়সে ব্রণ দেখা দেওয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ সব সময় কাজ করে না। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং অনুপযুক্ত প্রসাধনী—এককভাবে কিংবা একাধিক কারণ একসঙ্গে এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই হঠাৎ ব্রণ দেখা দিলে নিজে থেকে একের পর এক ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করে ত্বকের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সূত্র: টাইমস ইন্টারটেইনমেন্ট

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

কুটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও ঘাটতি রয়েছে, যা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তথ্য বিনিময়ের ঠিক কোন পর্যায়ে ঘাটতি ছিল, কী ধরনের তথ্য পাওয়া বা জানানো যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়েও দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের ঘাটতির সঙ্গে জেনেভা কনভেনশনের কোনো নির্দিষ্ট বিধানের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে সংশ্লিষ্ট দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কখন কী তথ্য পেয়েছিল—এসব বিষয়ে সরবরাহ করা বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য নেই।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি