খুঁজুন
                               
, ,
           

জীবন বদলাতে চান? আগে বদলান নিজের সম্পর্কে এই বিশ্বাসগুলো

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
জীবন বদলাতে চান? আগে বদলান নিজের সম্পর্কে এই বিশ্বাসগুলো
জীবনে আরও ভালো করতে কে না চান! কেউ চান ক্যারিয়ারে সফল হতে, কেউ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে, আবার কেউ চান সুন্দর সম্পর্ক ও মানসিক প্রশান্তি। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানুষ পরিশ্রম করেন, নতুন অভ্যাস গড়ে তোলেন এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এত প্রচেষ্টার পরও অনেক সময় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না। এর পেছনে কি শুধু পরিস্থিতি দায়ী, নাকি নিজের চিন্তাভাবনা ও বিশ্বাসও অজান্তে বাধা হয়ে দাঁড়ায়?

ব্যক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষের বিশ্বাস, আত্মপরিচয় ও মানসিকতা তার আচরণ এবং সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থাকলে অনেক সময় মানুষ নতুন সুযোগ গ্রহণ করতে ভয় পান, ব্যর্থতার আশঙ্কায় পিছিয়ে যান কিংবা নিজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিতে পারেন না। তাই জীবন বদলাতে শুধু কাজের পরিমাণ বাড়ানো নয়, নিজের ভেতরের চিন্তাভাবনাগুলোও বোঝা জরুরি।

মনের ভেতরেও চলে অদৃশ্য সফটওয়্যার

একটি কম্পিউটারের কথা ভাবুন। এর যন্ত্রাংশ যত উন্নতই হোক, সফটওয়্যারে সমস্যা থাকলে সেটির কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রেও বিষয়টি কিছুটা একই রকম। আমাদের বিশ্বাস, চিন্তা, অনুভূতি, প্রত্যাশা এবং নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া ধারণাগুলো আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

কেউ হয়তো জীবনে সফল হতে চান, কিন্তু মনে মনে বিশ্বাস করেন, ‘আমি যথেষ্ট যোগ্য নই।’ কেউ ভালোবাসার সম্পর্ক চান, অথচ তাঁর মধ্যে কাজ করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়। আবার কেউ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চাইলেও ভাবেন, ‘আমার মতো মানুষের পক্ষে বড় কিছু করা সম্ভব নয়।’

এ ধরনের ধারণা সব সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। কিন্তু এগুলো দৃঢ়ভাবে মনে গেঁথে গেলে মানুষ নিজের সামর্থ্যকে ছোট করে দেখতে পারেন। নতুন কাজ শুরু করা, ঝুঁকি নেওয়া কিংবা ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করার ক্ষেত্রেও অনীহা তৈরি হতে পারে।

ফলে সমস্যাটি শুধু বাইরের পরিস্থিতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া ধারণাও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।

নিজের সমালোচনা নয়, নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন

ভুল করলে অনেকেই নিজেদের কঠোরভাবে বিচার করেন। সামান্য ব্যর্থতাকে বড় করে দেখেন, অন্যের সঙ্গে তুলনা করেন কিংবা নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেন। অথচ আত্ম-উন্নয়নের জন্য নিজেকে দোষারোপ করার চেয়ে নিজের আচরণ ও চিন্তাভাবনা পর্যবেক্ষণ করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করা যেতে পারে—আমি নিজের সম্পর্কে কী বিশ্বাস করি? কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে নিজেকে কী বলি? অতীতের কোনো অভিজ্ঞতা কি এখনো আমার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে? আমার চিন্তাভাবনা কি আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে, নাকি পিছিয়ে দিচ্ছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে বোঝা যায়, কোন ধারণাগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে, আর কোনগুলো ভয়, অনুমান কিংবা অতীতের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে।

নিজেকে বোঝার অর্থ নিজের সব চিন্তাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। বরং কোন চিন্তা উপকারী, কোনটি অযৌক্তিক এবং কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন—তা নিরপেক্ষভাবে খুঁজে দেখা।

সাফল্য পেলেই কি আত্মবিশ্বাস আসে?

অনেকেই মনে করেন, ভালো চাকরি, পদোন্নতি, অর্থসম্পদ কিংবা মানুষের প্রশংসা অর্জন করতে পারলেই নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ দূর হবে। কিন্তু বাস্তবে বাহ্যিক সাফল্য সব সময় ভেতরের অনিশ্চয়তা দূর করতে পারে না।

কেউ পদোন্নতি পাওয়ার পরও ভাবতে পারেন, তিনি যথেষ্ট ভালো নন। কেউ ভালো আয় করার পরও অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করে অসন্তুষ্টিতে ভুগতে পারেন। আবার কেউ পুরস্কার বা স্বীকৃতি পাওয়ার পরও আশঙ্কা করতে পারেন, পরবর্তী সময়ে হয়তো আর সফল হতে পারবেন না।

এভাবে নিজের মূল্য প্রমাণের জন্য একের পর এক অর্জনের পেছনে ছুটতে গিয়ে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। তখন সাফল্য উপভোগ করার বদলে নতুন কোনো অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

এ কারণে লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি নিজের প্রচেষ্টা, সামর্থ্য ও মূল্যবোধকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, মানুষের ব্যক্তিগত মূল্য শুধু তার পদ, আয়, জনপ্রিয়তা কিংবা অর্জনের ওপর নির্ভর করে না।

পুরোনো বিশ্বাস কীভাবে অগ্রগতির পথে বাধা হয়

মানুষের অনেক বিশ্বাস তৈরি হয় শৈশব, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক অভিজ্ঞতা কিংবা জীবনের কোনো কষ্টকর ঘটনার মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হলে কেউ নিজের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠতে পারেন। আবার কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়ার পর কেউ ধরে নিতে পারেন, তিনি আর কখনো সফল হতে পারবেন না।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব ধারণা অভ্যাসের মতো মনের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে। একপর্যায়ে মানুষ সেগুলোকে প্রশ্ন না করেই সত্য বলে ধরে নেন।

কিন্তু অতীতের কোনো অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া বিশ্বাস বর্তমানের বাস্তবতার সঙ্গে সব সময় সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। একসময় ব্যর্থতার ভয় কাউকে সতর্ক থাকতে সাহায্য করলেও পরবর্তী সময়ে সেই ভয় নতুন সুযোগ গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাই নিজের বিশ্বাসগুলো যাচাই করা জরুরি। নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই ধারণার পক্ষে বাস্তব প্রমাণ কী? এর বিপরীতে কোনো অভিজ্ঞতা আছে কি? এই বিশ্বাস আমাকে সাহায্য করছে, নাকি অকারণে পিছিয়ে রাখছে? চাইলে নিজের সম্পর্কে আরও বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক কোন ধারণা তৈরি করা সম্ভব?

নিজেকে গ্রহণ করাই পরিবর্তনের শুরু

নিজের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করার অর্থ নিজেকে ছোট করা নয়। বরং কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা বুঝতে পারাই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, ভুলকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা এবং ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে নিজেকে অযোগ্য ভাবার পরিবর্তে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে, কোথায় ভুল হয়েছে এবং পরবর্তীবার কীভাবে আরও ভালো করা সম্ভব।

একই সঙ্গে নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সব সময় অন্যকে সন্তুষ্ট করা কিংবা নিজেকে প্রমাণ করার চাপে থাকলে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

জীবন বদলাতে ছোট পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ

নিজের মানসিকতা পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও অভ্যাস বদলাতে সময় লাগতে পারে। তবে নিয়মিত আত্মপর্যালোচনা এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা যায়।

যেমন, কোনো কাজ শুরু করার আগে ‘আমি পারব না’ ভাবার পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘আমি এখনো পুরোপুরি জানি না, তবে শিখতে পারি।’ কোনো ব্যর্থতার পর নিজেকে অযোগ্য ভাবার বদলে সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা গেল, তা খুঁজে দেখা যেতে পারে।

এ ধরনের পরিবর্তন সমস্যাকে অস্বীকার করা নয়; বরং নিজের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা তৈরি করা। পাশাপাশি শুধু ইতিবাচক চিন্তা করলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক সুযোগ, পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্যান্য বাস্তব পরিস্থিতিও মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে নিজের চিন্তাভাবনা ও আচরণ সম্পর্কে সচেতন হলে যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতে পারে।

জীবন বদলাতে তাই শুধু নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ কিংবা আরও বেশি পরিশ্রম করাই যথেষ্ট নয়। নিজের সম্পর্কে কী ভাবছি, কোন বিশ্বাস আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে এবং কোন অভ্যাস আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কখনো কখনো পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ নতুন কিছু শুরু করা নয়; বরং নিজের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করে আসা কোনো ধারণাকে নতুন করে প্রশ্ন করা। সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে নিজেকে আরও ভালোভাবে বোঝার এবং নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন বিএনপির বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে—এমন মূল্যায়ন করছেন দলটির নেতাদের অনেকে। তাদের মতে, অতীতে যে সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য ভোটভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। এই সমর্থন ভবিষ্যতেও ধরে রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

এই প্রেক্ষাপটে শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশেষভাবে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজার আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর জোর দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।

  • ভোটের মাঠে বদলে যাওয়া সমীকরণ ধরে রাখার লক্ষ্য
  • নির্বাচনী সমর্থনকে দীর্ঘমেয়াদি ভরসায় রূপ দিতে চায় ক্ষমতাসীন দল
  • দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতে এমপি-মন্ত্রীদের মাঠে থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের

ভোটের সমীকরণে নতুন বাস্তবতা
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকে আওয়ামী লীগের সমর্থনভিত্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে বিএনপির নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অংশ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন। তবে এই সমর্থনের ব্যাপ্তি বা ভোটের পরিসংখ্যান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পুরো সম্প্রদায়কে একটি দলের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিএনপি এখন এই সমর্থনকে কেবল নির্বাচনী সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছে না; বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবেও ধরে রাখতে চাইছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় তৈরি হওয়া আস্থাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তারেক রহমানের নির্দেশনায় নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা
সরকার গঠনের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত ১১ অক্টোবরের বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ মনে করায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের।

দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে—নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। দুর্গাপূজায় নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় নির্দেশনার লক্ষ্য শুধু উৎসবের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নয়; বরং সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি জোরদার করা।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা
দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির আমলে এটিই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার সারা দেশে শুরু হওয়া এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপির আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে পরাজিত কোনো পক্ষ কিংবা অন্য কোনো মহল দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং স্থানীয় নেতাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদেরও নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সতর্কতার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অপ্রীতিকর ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া, গুজব প্রতিরোধ এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর জোর
নেত্রকোণা-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ও দলের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তারা। উৎসব যাতে আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেটিই তাদের প্রধান প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির গঠিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের ভাষ্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তারেক রহমান আগেই সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রশাসক, দলীয় নেতা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ইউনিট পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে তাদের পাশে থাকতে হবে। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নাকি দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পরীক্ষা?
বিএনপির সামনে এখন দুটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দুর্গাপূজাসহ ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের বাইরেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রাখা। শুধু উৎসবের সময় নেতাদের উপস্থিতি কিংবা নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জন করা কঠিন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তৈরি করতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে না দেখে তাদের স্বতন্ত্র মতামত, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক পছন্দকে সম্মান করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো সম্প্রদায়ের সমর্থন স্থায়ীভাবে কোনো দলের একক সম্পদ নয়। সেই সমর্থন নির্ভর করে রাজনৈতিক আচরণ, সুশাসন ও জনগণের অভিজ্ঞতার ওপর। হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন ধরে রাখার রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর পথ হবে নাগরিক হিসেবে তাদের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা। বিএনপি যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও জবাবদিহির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে বর্তমান উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, শোকে তৌসিফ-ক্ষোভে ইরফান সাজ্জাদ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, শোকে তৌসিফ-ক্ষোভে ইরফান সাজ্জাদ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় গভীর কষ্টের কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে প্রাণহানির ঘটনায় শোক, স্বজন হারানোর বেদনা এবং পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
‘এটা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে’

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তৌসিফ মাহবুব। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এটা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।’

অভিনেতার সংক্ষিপ্ত এই পোস্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর গভীর শোক ও কষ্টের প্রতিফলন ঘটেছে। শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই ঘটনাটি নিয়ে শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ইরফান সাজ্জাদের ক্ষোভ

এদিকে, একই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। রিসোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে অতিথিদের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই কীভাবে এসব রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনা করে।

নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ইরফান সাজ্জাদ লিখেছেন, ‘মন চাইলো বানিয়ে ফেললাম একটা রিসোর্ট! শুরু করলাম ব্যবসা! আর যাদের জন্যই ব্যবসা তাদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবার দরকারই বা কি!! টাকা তো আসতেসেই! শিশুসহ এখন পর্যন্ত ১০ জনের প্রাণহানি! ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা এসব নাম সর্বস্ব রিসোর্টগুলো কিভাবে ব্যবসা করে যায়! বাচ্চাকে খুঁজে বেড়ানো ওই মায়ের আর্তনাদ সহ্য করতে পারছি না।’

সন্তানকে খুঁজতে থাকা মায়ের আর্তনাদে ব্যথিত অভিনেতা

ইরফান সাজ্জাদের পোস্টে বিশেষভাবে উঠে এসেছে সন্তানকে খুঁজতে থাকা এক মায়ের আর্তনাদের কথা। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর বেদনা এবং এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারের কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

একই সঙ্গে রিসোর্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মূলত উঠে এসেছে, পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ব্যবসা পরিচালনাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না

অগ্নিকাণ্ডের পর টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না।

এ তথ্য সামনে আসার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, রিসোর্ট ও হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি অবস্থায় অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

কক্সবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে বেড়াতে যান এবং বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা পর্যটন ব্যবসায় নিরাপত্তাবিধি মানা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তৌসিফ মাহবুবের শোক প্রকাশ এবং ইরফান সাজ্জাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া—দুটিই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মানবিক দিক ও নিরাপত্তার গুরুত্ব সামনে এনেছে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন অনেকে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

টানা ১০ দিনের ছুটি, নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
টানা ১০ দিনের ছুটি, নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ

শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। কর্মব্যস্ত নগরজীবন থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ অবকাশ যুক্ত হওয়ায় এবার অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, পূজার ছুটিকে ঘিরে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়ছে। বিভিন্ন গন্তব্যের বাসের টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কেউ পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউবা ছুটির দিনগুলো কাটাতে ছুটছেন আত্মীয়স্বজনের কাছে।

চলতি বছর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির সময় আরও দীর্ঘ। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি ও পূজার ছুটি মিলিয়ে টানা ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। এ কারণে যেসব পরিবারের সন্তান স্কুলে পড়ে, তাদের জন্য একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রায় ৯ থেকে ১০ দিনের ছুটি কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন সিথি রায়। তিনি বলেন, রাজধানীতে কর্মরত মানুষের জন্য পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ খুব বেশি আসে না। কর্মব্যস্ততা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে বছরের অন্য সময়ে বাড়ি যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এবারের দীর্ঘ ছুটি সেই সুযোগ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। সন্তানদের গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতে তাদের নিয়ে নানাবাড়ি যাচ্ছেন সিথি রায়। একই টার্মিনাল থেকে কুমিল্লাগামী যাত্রী অসিত কুমার দে বলেন, এবার পূজায় টানা ছুটি পাওয়ায় পরিবারের সবাই মিলে আগেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। সাধারণত এক-দুই দিনের বেশি ছুটি পাওয়া যায় না। এবার দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটানো যাবে। সন্তানদের স্কুলও আগেভাগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিড় এড়াতে একটু আগেই রওনা হয়েছেন তাঁরা।

সায়েদাবাদের মতো মহাখালী বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে বাড়ি ফেরা মানুষের ব্যস্ততা। সেখান থেকে ময়মনসিংহগামী বেসরকারি চাকরিজীবী মো. তানভীর আহমেদ জানান, সরকারি ছুটি শুরু হতে আরও দু-এক দিন বাকি থাকলেও অফিসের জমে থাকা ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে তিনি আগেই ছুটি নিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ দিনের মতো ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তানভীর আহমেদ বলেন, ঢাকায় একা থেকে সময় কাটানোর চেয়ে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে পূজা ও ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতেই তিনি যাচ্ছেন। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আগেভাগে যাত্রা করছেন, যাতে ছুটির মূল সময়ে পরিবহনের অতিরিক্ত চাপ এড়ানো যায়।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রীচাপ বেড়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনালের এক পরিবহন মালিক প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সরকারি ছুটি শুরু হলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। ফলে ছুটির সময় বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যস্ততা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানীর কর্মব্যস্ত জীবন থেকে বিরতি নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে খুশি অনেক নগরবাসী। দীর্ঘ ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ফেরা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার প্রত্যাশা তাঁদের যাত্রাকে আরও আনন্দমুখর করে তুলেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি