খুঁজুন
                               
, ,
           

সাধারণ বাঁশেই অসাধারণ সম্ভাবনা, বদলে দিতে পারে পরিবেশ ও অর্থনীতি

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
সাধারণ বাঁশেই অসাধারণ সম্ভাবনা, বদলে দিতে পারে পরিবেশ ও অর্থনীতি
দেখতে সাধারণ হলেও বাঁশের সম্ভাবনা অসাধারণ। ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাব, হস্তশিল্প থেকে শুরু করে আধুনিক স্থাপত্য, বস্ত্র ও পরিবেশবান্ধব পণ্য—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়ছে এই উদ্ভিদের ব্যবহার। শুধু তাই নয়, বাঁশের কচি কঞ্চি থেকে তৈরি হয় নানা খাবার, আর কিছু প্রজাতির ফুলের পর উৎপন্ন বীজও ব্যবহার করা হয় খাদ্য হিসেবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব বাঁশ দিবস। বাঁশের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২০০৯ সালে বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে দিবসটি চালু করা হয়।

দ্রুত বৃদ্ধি, টেকসই উপকরণ তৈরিতে সম্ভাবনা

বাঁশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত বেড়ে ওঠার ক্ষমতা। প্রজাতিভেদে এর বৃদ্ধির হার ভিন্ন হলেও কিছু বাঁশ অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এ কারণে কাঠের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, আসবাব, হস্তশিল্প, বস্ত্র ও নানা শিল্পপণ্যে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আধুনিক নকশার সমন্বয়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব টেকসই ও নান্দনিক পণ্য। এসব পণ্য স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

বাঁশভিত্তিক শিল্পের প্রসার হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাঁশ চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, কারুশিল্প এবং পণ্য বিপণনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য এটি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

পরিবেশ রক্ষায় বাঁশের ভূমিকা

বাঁশ শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, পরিবেশ সংরক্ষণেও এর গুরুত্ব রয়েছে। বাঁশ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বেড়ে ওঠার সময় বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। উপযুক্ত পরিবেশে বাঁশের শিকড় ও ভূমির ওপর বিস্তৃত অংশ মাটির ক্ষয় কমাতে এবং ভূমি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।

তবে বাঁশের পরিবেশগত সুফল নির্ভর করে এর প্রজাতি, চাষপদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের ধরনের ওপর। পরিকল্পিতভাবে বাঁশ চাষ এবং দায়িত্বশীলভাবে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমানো ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর আলোচনায় তাই বাঁশকে সম্ভাবনাময় একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গ্রামীণ উপকরণ থেকে আধুনিক স্থাপত্যে

বাংলাদেশে বাঁশ দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘরের খুঁটি, বেড়া, মাচা, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি ও মাছ ধরার সরঞ্জাম তৈরিতে এর ব্যবহার বহুল প্রচলিত। স্থানীয় কারুশিল্পেও বাঁশের রয়েছে ঐতিহ্যবাহী অবস্থান।

তবে আধুনিক বিশ্বে বাঁশের ব্যবহার এখন আর গ্রামীণ উপকরণে সীমাবদ্ধ নেই। বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক স্থাপনা, আধুনিক আসবাব, সাজসজ্জার সামগ্রী এবং বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্য। উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি ও সৃজনশীল নকশার কারণে বাঁশের ব্যবহার নতুন নতুন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশেও ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। মানসম্মত উৎপাদন, নকশার উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাঁশের কচি কঞ্চি দিয়ে তৈরি হয় খাবার

বাঁশের বহুমুখী ব্যবহারের একটি চমকপ্রদ দিক হলো খাদ্য হিসেবে এর ব্যবহার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঁশের কচি কঞ্চি বা কোড়ল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এগুলো সেদ্ধ করে, রান্না করে, আচার তৈরি করে কিংবা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে বাঁশের কোড়ল পরিচিত খাবার। তবে সব প্রজাতির বাঁশের কচি কঞ্চি সরাসরি খাওয়ার উপযোগী নয়। কিছু প্রজাতিতে প্রাকৃতিকভাবে সায়ানাইড-উৎপাদক যৌগ থাকতে পারে। তাই নিরাপদভাবে খাওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন ও সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ জরুরি।

বাঁশের ফুল ও বীজ ঘিরেও রয়েছে বিস্ময়

বাঁশের আরেকটি আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর ফুল ফোটার ধরন। অনেক প্রজাতির বাঁশ দীর্ঘ সময় পর ফুল দেয়। কোনো কোনো প্রজাতিতে একই সময়ের কাছাকাছি ব্যাপকভাবে ফুল ফোটার ঘটনাও দেখা যায়। প্রজাতিভেদে এই সময়ের ব্যবধান অনেক আলাদা হতে পারে।

বাঁশের ফুল ও বীজকে ঘিরে বিভিন্ন অঞ্চলে লোকজ বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিছু এলাকায় বাঁশের ফুলের পর উৎপন্ন বীজ সংগ্রহ করে খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের নজিরও পাওয়া যায়।

বাঁশের চাল: বীজ থেকেও খাবার

বাঁশের বীজ থেকে তৈরি খাবার অনেকের কাছে অপরিচিত। কিছু প্রজাতির বাঁশ ফুল দেওয়ার পর যে বীজ উৎপন্ন হয়, তা সংগ্রহ করে চালের মতো রান্না করে খাওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও এ ধরনের বীজকে বাঁশের চাল বলা হয়।

এটি ধানের চালের মতো দেখতে না হলেও খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের ঐতিহ্য রয়েছে কয়েকটি অঞ্চলে। তবে সব বাঁশের বীজ নিয়মিত খাদ্য হিসেবে পাওয়া যায় না। বাঁশের ফুল ফোটার সময় ও বীজ উৎপাদন প্রজাতিভেদে ভিন্ন হওয়ায় এর প্রাপ্যতাও সীমিত হতে পারে।

বিশ্ব বাঁশ দিবসের বার্তা—টেকসই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিশ্ব বাঁশ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার এবং পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজে এর অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। বাঁশকে শুধু বেড়া, ঘরের খুঁটি কিংবা হস্তশিল্পের উপকরণ হিসেবে না দেখে টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি করছে এ দিবস।

বাংলাদেশে বাঁশভিত্তিক শিল্পের আধুনিকায়ন, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ও দৈনন্দিন পণ্যে বাঁশের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও কাজে লাগানো যেতে পারে।

বাঁশের কচি কঞ্চি থেকে খাবার, বীজ থেকে খাদ্য, আর কাণ্ড থেকে ঘরবাড়ি, আসবাব ও শিল্পপণ্য—সব মিলিয়ে এই পরিচিত উদ্ভিদের ব্যবহার সত্যিই বহুমুখী। তাই বিশ্ব বাঁশ দিবস কেবল একটি উদ্ভিদকে স্মরণ করার দিন নয়; প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশ রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার সম্ভাবনা নতুন করে উপলব্ধি করারও উপলক্ষ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন বিএনপির বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে—এমন মূল্যায়ন করছেন দলটির নেতাদের অনেকে। তাদের মতে, অতীতে যে সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য ভোটভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। এই সমর্থন ভবিষ্যতেও ধরে রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

এই প্রেক্ষাপটে শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশেষভাবে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজার আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর জোর দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।

  • ভোটের মাঠে বদলে যাওয়া সমীকরণ ধরে রাখার লক্ষ্য
  • নির্বাচনী সমর্থনকে দীর্ঘমেয়াদি ভরসায় রূপ দিতে চায় ক্ষমতাসীন দল
  • দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতে এমপি-মন্ত্রীদের মাঠে থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের

ভোটের সমীকরণে নতুন বাস্তবতা
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকে আওয়ামী লীগের সমর্থনভিত্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে বিএনপির নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অংশ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন। তবে এই সমর্থনের ব্যাপ্তি বা ভোটের পরিসংখ্যান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পুরো সম্প্রদায়কে একটি দলের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিএনপি এখন এই সমর্থনকে কেবল নির্বাচনী সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছে না; বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবেও ধরে রাখতে চাইছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় তৈরি হওয়া আস্থাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তারেক রহমানের নির্দেশনায় নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা
সরকার গঠনের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত ১১ অক্টোবরের বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ মনে করায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের।

দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে—নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। দুর্গাপূজায় নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় নির্দেশনার লক্ষ্য শুধু উৎসবের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নয়; বরং সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি জোরদার করা।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা
দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির আমলে এটিই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার সারা দেশে শুরু হওয়া এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপির আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে পরাজিত কোনো পক্ষ কিংবা অন্য কোনো মহল দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং স্থানীয় নেতাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদেরও নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সতর্কতার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অপ্রীতিকর ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া, গুজব প্রতিরোধ এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর জোর
নেত্রকোণা-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ও দলের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তারা। উৎসব যাতে আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেটিই তাদের প্রধান প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির গঠিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের ভাষ্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তারেক রহমান আগেই সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রশাসক, দলীয় নেতা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ইউনিট পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে তাদের পাশে থাকতে হবে। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নাকি দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পরীক্ষা?
বিএনপির সামনে এখন দুটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দুর্গাপূজাসহ ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের বাইরেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রাখা। শুধু উৎসবের সময় নেতাদের উপস্থিতি কিংবা নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জন করা কঠিন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তৈরি করতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে না দেখে তাদের স্বতন্ত্র মতামত, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক পছন্দকে সম্মান করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো সম্প্রদায়ের সমর্থন স্থায়ীভাবে কোনো দলের একক সম্পদ নয়। সেই সমর্থন নির্ভর করে রাজনৈতিক আচরণ, সুশাসন ও জনগণের অভিজ্ঞতার ওপর। হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন ধরে রাখার রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর পথ হবে নাগরিক হিসেবে তাদের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা। বিএনপি যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও জবাবদিহির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে বর্তমান উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, শোকে তৌসিফ-ক্ষোভে ইরফান সাজ্জাদ

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, শোকে তৌসিফ-ক্ষোভে ইরফান সাজ্জাদ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় গভীর কষ্টের কথা জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে প্রাণহানির ঘটনায় শোক, স্বজন হারানোর বেদনা এবং পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
‘এটা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে’

টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তৌসিফ মাহবুব। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এটা আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন।’

অভিনেতার সংক্ষিপ্ত এই পোস্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর গভীর শোক ও কষ্টের প্রতিফলন ঘটেছে। শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই ঘটনাটি নিয়ে শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ইরফান সাজ্জাদের ক্ষোভ

এদিকে, একই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। রিসোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে অতিথিদের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই কীভাবে এসব রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনা করে।

নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ইরফান সাজ্জাদ লিখেছেন, ‘মন চাইলো বানিয়ে ফেললাম একটা রিসোর্ট! শুরু করলাম ব্যবসা! আর যাদের জন্যই ব্যবসা তাদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবার দরকারই বা কি!! টাকা তো আসতেসেই! শিশুসহ এখন পর্যন্ত ১০ জনের প্রাণহানি! ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা এসব নাম সর্বস্ব রিসোর্টগুলো কিভাবে ব্যবসা করে যায়! বাচ্চাকে খুঁজে বেড়ানো ওই মায়ের আর্তনাদ সহ্য করতে পারছি না।’

সন্তানকে খুঁজতে থাকা মায়ের আর্তনাদে ব্যথিত অভিনেতা

ইরফান সাজ্জাদের পোস্টে বিশেষভাবে উঠে এসেছে সন্তানকে খুঁজতে থাকা এক মায়ের আর্তনাদের কথা। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর বেদনা এবং এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারের কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

একই সঙ্গে রিসোর্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মূলত উঠে এসেছে, পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ব্যবসা পরিচালনাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না

অগ্নিকাণ্ডের পর টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না।

এ তথ্য সামনে আসার পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, রিসোর্ট ও হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি অবস্থায় অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

কক্সবাজার দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে বেড়াতে যান এবং বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা পর্যটন ব্যবসায় নিরাপত্তাবিধি মানা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তৌসিফ মাহবুবের শোক প্রকাশ এবং ইরফান সাজ্জাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া—দুটিই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মানবিক দিক ও নিরাপত্তার গুরুত্ব সামনে এনেছে।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন অনেকে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

টানা ১০ দিনের ছুটি, নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
টানা ১০ দিনের ছুটি, নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ

শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। কর্মব্যস্ত নগরজীবন থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ অবকাশ যুক্ত হওয়ায় এবার অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, পূজার ছুটিকে ঘিরে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়ছে। বিভিন্ন গন্তব্যের বাসের টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কেউ পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউবা ছুটির দিনগুলো কাটাতে ছুটছেন আত্মীয়স্বজনের কাছে।

চলতি বছর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির সময় আরও দীর্ঘ। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি ও পূজার ছুটি মিলিয়ে টানা ১০ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। এ কারণে যেসব পরিবারের সন্তান স্কুলে পড়ে, তাদের জন্য একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রায় ৯ থেকে ১০ দিনের ছুটি কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন সিথি রায়। তিনি বলেন, রাজধানীতে কর্মরত মানুষের জন্য পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ খুব বেশি আসে না। কর্মব্যস্ততা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে বছরের অন্য সময়ে বাড়ি যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এবারের দীর্ঘ ছুটি সেই সুযোগ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। সন্তানদের গ্রামের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতে তাদের নিয়ে নানাবাড়ি যাচ্ছেন সিথি রায়। একই টার্মিনাল থেকে কুমিল্লাগামী যাত্রী অসিত কুমার দে বলেন, এবার পূজায় টানা ছুটি পাওয়ায় পরিবারের সবাই মিলে আগেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। সাধারণত এক-দুই দিনের বেশি ছুটি পাওয়া যায় না। এবার দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটানো যাবে। সন্তানদের স্কুলও আগেভাগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিড় এড়াতে একটু আগেই রওনা হয়েছেন তাঁরা।

সায়েদাবাদের মতো মহাখালী বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে বাড়ি ফেরা মানুষের ব্যস্ততা। সেখান থেকে ময়মনসিংহগামী বেসরকারি চাকরিজীবী মো. তানভীর আহমেদ জানান, সরকারি ছুটি শুরু হতে আরও দু-এক দিন বাকি থাকলেও অফিসের জমে থাকা ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে তিনি আগেই ছুটি নিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ দিনের মতো ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তানভীর আহমেদ বলেন, ঢাকায় একা থেকে সময় কাটানোর চেয়ে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে পূজা ও ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতেই তিনি যাচ্ছেন। দীর্ঘ ছুটির সুযোগে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আগেভাগে যাত্রা করছেন, যাতে ছুটির মূল সময়ে পরিবহনের অতিরিক্ত চাপ এড়ানো যায়।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রীচাপ বেড়েছে। মহাখালী বাস টার্মিনালের এক পরিবহন মালিক প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সরকারি ছুটি শুরু হলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। ফলে ছুটির সময় বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যস্ততা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানীর কর্মব্যস্ত জীবন থেকে বিরতি নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে খুশি অনেক নগরবাসী। দীর্ঘ ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ফেরা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার প্রত্যাশা তাঁদের যাত্রাকে আরও আনন্দমুখর করে তুলেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি