খুঁজুন
                               
, ,
           

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সৌদির দিকে হুতিদের দুই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
সৌদির দিকে হুতিদের দুই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই সঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে আসা একটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জোট। এদিকে সৌদি আরবের বিমান হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাঁদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও আকাশপথে নিরাপত্তা সতর্কতার ঘটনায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের তথ্য জানান। তাঁর দাবি, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রিয়াদে আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের খবরের আগে রোববার স্থানীয় সময় ভোরে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার হুমকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘরের ভেতরে অথবা জানালা ও দরজা থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তায় বলা হয়, এলাকায় শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুমকি রয়েছে। তবে সতর্কবার্তাটি পাঠানোর কয়েক মিনিট পর প্রত্যাহার করা হয়। হঠাৎ এমন সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে সতর্কবার্তা প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

খামিস মুশাইত লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। জোটের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদের দিকে আসা একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উৎক্ষেপণস্থল, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং সেগুলো ধ্বংস করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও ইয়েমেনের সংঘাতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১২
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাইজ প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং আহতদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বেসামরিক মানুষের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে উদ্ধারকাজে দেরি হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।

ধামার প্রদেশেও হামলা, নিহত তিন শিশু
তাইজ প্রদেশের হামলার আগে ইয়েমেনের ধামার প্রদেশে রাতভর বিমান হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। একাধিক এলাকায় হামলার খবর সামনে আসায় ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানি এবং আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু, সামরিক অবস্থান কিংবা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সব ঘটনার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।

ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ হুতিদের
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দাবি, সৌদি বিমান হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্লাস্টার বোমা বিস্ফোরিত হলে একটি মূল অস্ত্র থেকে বহু ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিস্ফোরক বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কিছু অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে গেলে পরবর্তী সময়েও বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক হামলায় এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, ঘটনাস্থলের প্রমাণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি এবং ইয়েমেনে বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর একই সময়ে সামনে এসেছে। এতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অংশ। এই সংঘাতে সামরিক অভিযান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা আক্রমণের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ ঘটনাগুলোতে সৌদি আরবের সামরিক জোট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করলেও ইয়েমেনে হামলার অভিযোগ এবং ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে নতুন হামলা হয় কি না, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা কমাতে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তার ওপর। সূত্র: সিবিএস নিউজ ও বার্তা সংস্থা এএফপি

কালের আলো/এএএন/এসএ

সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক সোনাইছড়ি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ স্থানে পিচ ও ইট উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমে কাদাপানি। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী, প্রবীণ ও কর্মজীবী মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও কাদার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় যুবকেরা নিজ উদ্যোগে ইটের সুরকি ও খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও ভারী যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির কারণে তা স্থায়ী হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে পানি জমে রাস্তা ও পাশের ড্রেন একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ বাড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা।

শিক্ষার্থী ও রোগীদের ভোগান্তি বেশি

সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, স্কুলে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা কাদাপানিতে পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট করছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় লতিফপুর আলহাজ আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে যায়। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট হতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় রিকশা বা সিএনজি সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও চালকেরা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করেন। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাড়তি ভাড়ায় নাকাল যাত্রীরা

সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চলাচলেও সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা এই পথে চলাচলে অনীহা দেখাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ি চালালে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ফলে মেরামতের পেছনে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ কারণে কোনো কোনো চালক বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সিএনজিচালক মো. করিম বলেন, সোনাইছড়ি সড়কে গাড়ি চালালে প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। এ কারণে চালকেরা এই পথে ট্রিপ নিতে চান না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে তাঁদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়বে।

সড়কের দুরবস্থায় কর্মজীবী মানুষেরও ভোগান্তি বেড়েছে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রিদোয়ান জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শওকত মামুন বলেন, জরুরি কাজে বের হলেও সড়কের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও দুরূহ হয়ে যায়।

সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে রাস্তা ও ড্রেন একাকার হয়ে যায়। সুস্থ-সবল মানুষও হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছেন। প্রবীণদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটির বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। পণ্য পরিবহন ও কর্মস্থলে যাতায়াতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের দাবি, সোনাইছড়ি সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; এটি এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।

এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি