খুঁজুন
                               
, ,
           

লাল শাড়িতে বধূরূপে তানজিন তিশা, মুগ্ধ ভক্তরা

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
লাল শাড়িতে বধূরূপে তানজিন তিশা, মুগ্ধ ভক্তরা

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই তারকা। নিয়মিতই নতুন ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের সঙ্গে নিজের বিভিন্ন মুহূর্ত ভাগ করে নেন তিনি। এবার গাঢ় লাল শাড়ি আর জমকালো বধূর সাজে ছবি প্রকাশ করে নেটিজেনদের নজর কেড়েছেন তিশা। প্রকাশিত ছবিগুলোতে ঐতিহ্যবাহী বধূরূপে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে। তার সাজ, গয়না ও মেকআপের সমন্বয় নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। ছবিগুলো প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তার সৌন্দর্য ও সাজের প্রশংসা করেছেন।

গাঢ় লাল শাড়িতে ঐতিহ্যবাহী বধূরূপ


তানজিন তিশার পরনে ছিল গাঢ় লাল রঙের জমকালো শাড়ি। শাড়ির পাড় ও আঁচলে সোনালি সুতার কারুকাজ তার সাজে যোগ করেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। মাথায় লাল ওড়নায় ঘোমটা, গলায় ভারী সোনালি চোকার, কানে ঝুমকা আর কপালে টিকলি—সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি বধূর সাজে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। হাতের সোনালি বালা ও লাল চুড়ির সমন্বয়ও তার সাজকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। লাল ও সোনালি রঙের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর এক বধূরূপ, যা ছবিগুলোতে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

মেকআপ ও চুলের স্টাইলেও নজরকাড়া তিশা


শুধু শাড়ি কিংবা গয়নাই নয়, তিশার মেকআপ ও চুলের সাজও প্রশংসা কুড়িয়েছে। পেছনে পরিপাটি খোঁপা, চোখে উইংড আইলাইনার এবং ঠোঁটে মানানসই লিপকালার তার পুরো লুককে দিয়েছে পরিপূর্ণতা।ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিক মেকআপের সমন্বয়ে তিশার সাজে ফুটে উঠেছে আভিজাত্য। গয়না ও পোশাকের রঙের সামঞ্জস্যও ছবিগুলোকে করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন।

ছবিতে ভক্তদের প্রশংসা


তিশার নতুন ছবিগুলো প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে অনুরাগীদের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শাকিব খান নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘তুমি আমার ক্রাশ’। ফারহানা নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘তুমি সেরা’। এ ছাড়া অনেকে ‘তিশা বিউটিফুল’ লিখে তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন। ভক্তদের এসব মন্তব্যে নতুন ছবিতে অভিনেত্রীর সাজ নিয়ে তাদের মুগ্ধতার প্রকাশ ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় তানজিন তিশা
নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তানজিন তিশা দেশের ছোট পর্দার পরিচিত মুখগুলোর একজন। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। নতুন ছবি ও বিভিন্ন মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিনি। এবার লাল শাড়ি ও বধূর সাজে প্রকাশিত ছবিগুলোও ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ছবিতে তার ঐতিহ্যবাহী সাজ ও সৌন্দর্যই হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কালের আলো/এসএ/জেএন

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

ঢাকা–টোকিও সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছে জাপান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

  • জাপানের সঙ্গে আলোচনায় ৮ সমঝোতা স্মারক
  • সই হতে পারে ৪–৫টি; বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা

জাপানের এই বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সফরটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা প্রটোকলভিত্তিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়ছে
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে টোকিওর। একই সঙ্গে হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থান থেকে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা জোরদার হলে তা উন্নয়ন অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত প্রত্যাশাকে কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, তার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আলোচনায় আট সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবগুলো চূড়ান্ত না-ও হতে পারে; এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনাধীন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

এই খাতগুলোর বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো বা উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও সম্পর্কের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান, ভাষাগত দক্ষতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা?
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি বড় সুযোগ হলো উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল কাজে লাগাতে পারলে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ নিতে পারে।

তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সংখ্যাই সম্পর্কের সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। এসব সমঝোতার আওতায় কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ কতটা সরাসরি উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সময় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসে চড়ার ছবি ঘিরে ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত এ নির্দেশ দেন।

ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে মামলা
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

পোস্টের ক্যাপশনে লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘মো. আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মামলার এজাহারে মন্তব্যটিকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তের দাবি পুলিশের
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মন্তব্য করা ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় তার বাবার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মোবাইল ফোন জব্দ, আরও তদন্তের আবেদন
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত আবেদনে দাবি করা হয়।

মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করার জন্য আবু বকর সিদ্দিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলার তদন্ত ও অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি