খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

ক্রিকেটের মাঠে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মোহাম্মদ শামি। এবার তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনীতিতে পা রাখার জল্পনা। ভারতের জাতীয় লোক দল (আরএলডি) সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে শামির সাক্ষাতের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শামি বা আরএলডির পক্ষ থেকে এখনো রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কিংবা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

জয়ন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরেই যত আলোচনা

সম্প্রতি দিল্লিতে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন মোহাম্মদ শামি। পরে জয়ন্ত চৌধুরী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে শামির সম্ভাব্য রাজনৈতিক অভিষেক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে আমরোহা সদর আসন থেকে শামিকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

শামি নাকি ভাই হসিব?

শুধু মোহাম্মদ শামি নন, তার ভাই মোহাম্মদ হসিবের নামও আলোচনায় এসেছে। এর আগে হসিবের আমরোহা আসন থেকে আরএলডির সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে শামি নিজে নির্বাচনে না দাঁড়িয়ে ভাইকে রাজনীতির মাঠে নামাতে পারেন—এমন আলোচনাও চলছে।

তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শামি ও তার ভাই—দুজনের পক্ষ থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমরোহার সঙ্গে শামির পুরোনো সম্পর্ক

মোহাম্মদ শামির শিকড় উত্তরপ্রদেশের আমরোহায়। আমরোহা সদর তহসিলের সাহসপুর আলিনগর তার পারিবারিক এলাকা। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে ঘিরে ‘নিজের এলাকার মানুষ’ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শামির পরিবারেও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তার ভাই হসিব এর আগে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে—নতুন অধ্যায়?

মোহাম্মদ শামি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৫ সালের ৯ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন তিনি।

এর মধ্যেই জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে শামির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্যের চেয়ে জল্পনাই বেশি।

অতএব, ক্রিকেটের মাঠে পরিচিত এই পেসার সত্যিই রাজনীতির মাঠে নামবেন কি না, নাকি জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎটি ছিল নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ—সেটির উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই।

কালের আলো/এসএ

৬–১০ গ্রেডে চাকরি, নিয়োগ হবে ২২০ জন

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
৬–১০ গ্রেডে চাকরি, নিয়োগ হবে ২২০ জন

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্যভুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ১৭ ক্যাটাগরির পদে মোট ২২০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রকৌশলী থেকে শুরু করে আইন, ফিন্যান্স, নিরীক্ষা ও প্রটোকল—বিভিন্ন পেশাগত যোগ্যতার প্রার্থীদের জন্য রয়েছে আবেদনের সুযোগ। এসব পদের মধ্যে গ্রেড-৬, ৯ ও ১০-এর পদ রয়েছে।

৮১ পদ আইন বিভাগে

নিয়োগে সবচেয়ে বেশি পদ রয়েছে সিনিয়র অফিসার (ল)/সিনিয়র অফিসার (আইন)/আইন অফিসার পদে। এ পদে নিয়োগ পাবেন ৮১ জন।

এ ছাড়া সিনিয়র অফিসার (নিরীক্ষা) ২০ জন, সিনিয়র অফিসার (ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট) ১৪ জন এবং সিভিল প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট পদে ২২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।

ইলেকট্রিক্যাল, টেক্সটাইল, লেদার, আর্কিটেকচার ও মেকানিক্যাল প্রকৌশলীদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন পদ।

গ্রেড-১০-এও সুযোগ

গ্রেড-১০-এর পদগুলোর মধ্যে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) পদে ৩৬ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মেকানিক্যালে ৯ জন, ইলেকট্রিক্যালে ৮ জন এবং টেক্সটাইলে ৪ জন নেওয়া হবে।

সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (আর্কিটেকচার) পদে রয়েছে ১টি পদ। একই গ্রেডে প্রটোকল অফিসার পদেও ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।

গ্রেড-১০-এর এসব পদের বেতন স্কেল ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা।

সর্বোচ্চ বেতন আইন কর্মকর্তা পদে

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১৫ নম্বর পদ আইন কর্মকর্তা। এই পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি গ্রেড-৬ এবং বেতন স্কেল ৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা।

এ পদের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর। অন্য সব পদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর।

আবেদন করবেন যেভাবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পূর্বে আবেদন করা থাকলে বিদ্যমান সিভি আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করা যাবে।

নতুন প্রার্থীদের প্রথমে ‘Apply Online’-এ ক্লিক করে ‘Register Now’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর ‘Submit Application’-এ ক্লিক করলে আবেদন সম্পন্ন হবে এবং সিভি আইডি নম্বর পাওয়া যাবে।

এই সিভি আইডি ও পাসওয়ার্ড ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা জরুরি।

আবেদনের সময়সীমা

আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। আবেদন করা যাবে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

প্রার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

পে-স্কেলে বাড়ি ভাতার হিসাবেই যত গরমিল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
পে-স্কেলে বাড়ি ভাতার হিসাবেই যত গরমিল

নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গ্রেডভেদে বাড়ি ভাতার শতাংশে বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে মূল বেতন বাড়লেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট মাসিক প্রাপ্য বেতন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকি উচ্চতর গ্রেডে থাকা কর্মচারীর চেয়ে নিচের গ্রেডের কর্মচারীর মোট বেতন বেশি হওয়ারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেটের তথ্য বিশ্লেষণে এমন অসংগতি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ১৫, ১৬ ও ১৭ গ্রেডের বেতন ও বাড়ি ভাতা তুলনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

বাড়ি ভাতার হারেই বদলে যাচ্ছে বেতনের হিসাব
নতুন স্কেলে ১৫ গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা। এ গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৯৮০ টাকা। অন্যদিকে ১৬ গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা—১৫ গ্রেডের চেয়ে ৯০০ টাকা কম। কিন্তু এ গ্রেডে বাড়ি ভাড়ার হার ৪৫ শতাংশ হওয়ায় ভাতা দাঁড়াচ্ছে ৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। ফলে মূল বেতন কম হলেও বাড়ি ভাতার কারণে ১৬ গ্রেডের মোট প্রাপ্য ১৫ গ্রেডের তুলনায় ৯৭৫ টাকা বেশি।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ১৫ ও ১৭ গ্রেডের ক্ষেত্রেও। ১৭ গ্রেডের মূল বেতন ২১ হাজার ৪০০ টাকা, যা ১৫ গ্রেডের চেয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা কম। কিন্তু ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পাওয়ায় মোট প্রাপ্য ১৫ গ্রেডের চেয়ে ২৫০ টাকা বেশি হচ্ছে। আবার ১৪ গ্রেডের মূল বেতন ২৩ হাজার ৭০০ টাকা হলেও ১৬ গ্রেডের মোট প্রাপ্যের সঙ্গে ব্যবধান থাকছে মাত্র ১৭০ টাকা।

  • উচ্চতর গ্রেডে গিয়েও কমতে পারে মোট বেতন
  • অসন্তোষ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে

পদোন্নতির সুফল নিয়ে প্রশ্ন
এমন পরিস্থিতিতে পদোন্নতির পর সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, উচ্চতর গ্রেডে মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়ার শতাংশ কমে গেলে সেই বৃদ্ধির একটি বড় অংশ কার্যত সমন্বয় হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ি ভাড়া ভাতার শতকরা হারে পার্থক্য এবং ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ না থাকাই এই অসংগতির অন্যতম কারণ। ফলে নতুন পে-স্কেলে পদোন্নতি পাওয়ার পর একজন কর্মচারীর মোট মাসিক প্রাপ্য কতটা বাড়বে, সেটি শুধু মূল বেতন দিয়ে বোঝার সুযোগ থাকছে না।

পুরোনো ব্যবস্থায় ছিল ন্যূনতম বাড়ি ভাড়ার সুবিধা
বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে নতুন কাঠামোর পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। তবে ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া ৫ হাজার ৬০০ টাকা। ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে বাড়ি ভাড়া ৬০ শতাংশ, ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা। ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে ৫৫ শতাংশ, ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা। আর ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি মূল বেতনে ৫০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়, যার ন্যূনতম পরিমাণ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে বাড়ি ভাতার হার পরিবর্তনের কারণে সেই ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি কর্মচারীরা।

অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক, সংশোধনের দাবি
গেজেট প্রকাশের পর বাড়ি ভাতাসহ নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জুলাই থেকে কার্যকর, বকেয়া মিলবে পরে
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া আর্থিক সুবিধা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। এ জন্য সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথমে অনলাইনে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। আইবাস এ তথ্য দেওয়ার পর নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন সিস্টেমে দেখা যাবে। পরে ডিডিও এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও অনুমোদন শেষে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। এরপর নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন ও বকেয়া সুবিধার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের দাবি, পদোন্নতিতে মূল বেতন বাড়ার সুফল যেন বাড়ি ভাতার হার কমে যাওয়ায় নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্রেড বাড়ার সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধাও যেন যৌক্তিকভাবে বাড়ে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর। কাতার বিশ্বকাপ থেকে স্পেন বিদায় নেওয়ার পর লুইস এনরিকের জায়গায় জাতীয় দলের দায়িত্ব পান লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তখন হয়তো তিনিও ভাবেননি, স্পেনের ডাগআউটে তাঁর অধ্যায় এত দীর্ঘ হবে।

কাতার বিশ্বকাপের পর দে লা ফুয়েন্তেকে স্পেনের কোচ করায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কারণ, তার আগে প্রায় এক দশক কোনো সিনিয়র জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। তবে স্পেনের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।

এনরিকের বিদায়ের পর অনেক বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, স্পেনের দরকার এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ, যিনি ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের সোনালি প্রজন্মের মতো আরেকটি সফল দল তৈরি করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্বে দে লা ফুয়েন্তেই আস্থা অর্জন করেছেন।

ট্রফিই দিয়েছে চুক্তির পুরস্কার

দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তের সাফল্যের তালিকা দ্রুতই বড় হয়েছে। তাঁর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০২৪ ইউরো পর্যন্ত। এর মধ্যেই স্পেনকে ২০২৩ নেশনস লিগ ও ২০২৪ ইউরোর শিরোপা এনে দেন তিনি।

সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে তাঁর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত করা হয়। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর আবারও তাঁকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নতুন চুক্তিতে আরও ছয় বছর স্পেনের কোচ থাকবেন দে লা ফুয়েন্তে। অর্থাৎ ২০৩২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)।

মাদ্রিদে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে নতুন চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ চুক্তি

নতুন এই চুক্তি স্পেনের কোনো প্রধান কোচের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির রেকর্ড তৈরি করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, দে লা ফুয়েন্তে আগামী তিনটি বড় টুর্নামেন্টে স্পেনের ডাগআউটে থাকবেন। ২০২৮ ইউরো, ২০৩০ বিশ্বকাপ এবং তুরস্ক ও ২০৩২ ইউরো—এই তিন আসরেও তাঁর হাতেই থাকবে স্পেনের দায়িত্ব।

রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন চুক্তিতে ৬৫ বছর বয়সী কোচের বেতনও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

শুধু একটি ট্রফিই অধরা

দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এখন পর্যন্ত তিনটি বড় ট্রফি জিতেছে—নেশনস লিগ, ইউরো ও বিশ্বকাপ। তবে ২০২৫ নেশনস লিগের শিরোপাটি জেতা হয়নি।

সেই আসরের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যায় স্পেন। ফলে দে লা ফুয়েন্তের কোচিং অধ্যায়ে আপাতত সেটিই একমাত্র বড় ট্রফি, যা তাঁর হাতছাড়া হয়েছে।

৫০ ম্যাচে ৩৮ জয়

স্পেনের কোচ হিসেবে দে লা ফুয়েন্তের পরিসংখ্যানও তাঁর সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। এখন পর্যন্ত ৫০ ম্যাচে স্পেনকে ৩৮টি জয় এনে দিয়েছেন তিনি। ড্র করেছেন ১০ ম্যাচে, হার মাত্র ২টি।

এই দুই হারের একটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে—প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দে লা ফুয়েন্তের একমাত্র হার। অন্য পরাজয়টি এসেছে লন্ডনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে।

তাঁর অধীনে দীর্ঘ অপরাজিত যাত্রাও গড়েছে স্পেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন স্পেনের।

২০২২ সালে যাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই দে লা ফুয়েন্তেই এখন স্পেনের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পাওয়া কোচ। একের পর এক শিরোপা ও ধারাবাহিক সাফল্য তাঁকে ২০৩২ পর্যন্ত স্পেনের ডাগআউটে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ