খুঁজুন
                               
, ,
           

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার 

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার 

দু-এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন রাষ্ট্রপতি। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করার জন্য বিএনপির হাইকমান্ড থেকে সম্প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে। পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতিকে কোনো ধরনের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।

বিএনপি এবং বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগ করার পর চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) থাই এয়ারওয়েজে ১২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে যান তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সফরসূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরবেন।’

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশে সর্বশেষ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন—অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত জমির উদ্দিন সরকার। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান। তিনি ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত এই পদে ৭৮ দিন দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নতুন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বলে খবর বের হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ চাকরি জীবনের সততা ও সরকারপ্রধানের আস্থায় তাকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, খতিয়ে দেখা দরকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
সাইফুর রহমানের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, খতিয়ে দেখা দরকার: রিজভী

বিএনপির সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যু নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত তাঁর ১৭তম শাহাদতবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সাইফুর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ছিলেন জাতির সম্পদ ও বিএনপির গৌরব। তাই তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন থাকাটা স্বাভাবিক। এটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল কি না, নাকি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল—তা খুঁজে বের করা দরকার।

সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, তাঁর সময়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও পরবর্তী সময়ে এটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, সাইফুর রহমানের সময়ে ব্যাংক লুট, ব্যাপক অর্থপাচার কিংবা ব্যাংক থেকে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো ঘটনা শোনা যায়নি। তাঁর নীতি ও ব্যবস্থাপনায় দেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল ছিল।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সাইফুর রহমানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন রিজভী। উত্তরাঞ্চলের মৌসুমি অভাব মোকাবিলায় বিকল্প কর্মসংস্থান, কৃষির বহুমুখীকরণ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

রিজভী বলেন, সাইফুর রহমান শুধু দেশের অর্থনীতিতেই অবদান রাখেননি, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সম্মানিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাইফুর রহমানের ছোট ছেলে ও সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। এতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খালাস নিতে গিয়ে মিলল না ৪০ ফুটের কনটেইনার, তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
খালাস নিতে গিয়ে মিলল না ৪০ ফুটের কনটেইনার, তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্সভর্তি ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কনটেইনারটিতে শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামাল থাকায় উদ্বেগে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের নামে আমদানি করা এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের কনটেইনারটি ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজে করে গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে আসে।

পরে আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। কাস্টমস ও বন্দরের প্রয়োজনীয় রাজস্ব ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধের পর গত ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি খালাস নিতে গেলে সেটি কিপ ডাউন ও ডেলিভারি দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ সময় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটিকে কনটেইনারটির অবস্থান খুঁজে বের করতে বলা হয়। পরে ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোঁজ করেও কনটেইনারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি টার্মিনাল ম্যানেজার, এটিও ও টিওকে প্রতিদিন জানানো হয়।

এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, সব ধরনের কাস্টমস ও বন্দরের চার্জ পরিশোধের পর কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গিয়ে সেটি পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কনটেইনারটির কোনো হদিস মিলছে না। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় আটকে আছে। নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পাওয়ায় গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের রপ্তানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, অভিযোগের চিঠি তারা পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড নিশ্চিতে নতুন উদ্যোগ ইসির

জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের সব ধরনের নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের অনলাইনে কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সফটওয়্যার প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নির্ভরশীল। অতীতে অনেক অপেশাদার ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মী সাংবাদিক কার্ড পেয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইসির নতুন উদ্যোগে যেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকরা সহজে কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে তথ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিভিশন, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনলাইনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। তবে পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ছাড়াই ওয়েবসাইট চালু করায় আবেদনকারীদের তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের আপত্তি ও সমালোচনার পর ওই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কমিশন।

এবার আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ ও কার্যকর সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি