খুঁজুন
                               
, ,
           

কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ কোথায়?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ  বাংলাদেশ কোথায়?

সাত বছরের মাহিদা আক্তার স্কুলে যাওয়ার বয়সী শিশু। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মিলেছে; অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই দিনে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাত বছরের মুসলিমা খাতুনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগে জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল সাত বছরের মরিয়ম বুশরা।

  • ধর্ষণ-হত্যা-নিখোঁজের ধারাবাহিকতায় ভেঙে পড়ছে সুরক্ষার বলয়
  • প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও রয়ে যাচ্ছে নীরব সহিংসতার বড় অংশ
  • পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সুরক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রশ্ন

তিন দিন পর উদ্ধার হয় তার মরদেহ। পুলিশ বলেছে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ঘটনাগুলো আলাদা জেলার, আলাদা পরিবারের। কিন্তু নির্মমতার ধরন প্রায় একই। ভুক্তভোগী শিশু। বয়স সাত। আর তিন ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার স্বাভাবিক বলয় ভেঙে গেছে। প্রশ্নটি তাই ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে—কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ জায়গা কোথায়?

পরিসংখ্যানের আড়ালে শিশুর মুখ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর কিংবা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে। শুধু আগস্টেই ৩৬ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অন্তত পাঁচ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন ঘটনায় ৩৬ কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

পরিসংখ্যানগুলো অবশ্য পুরো চিত্র নয়। কারণ এসব তথ্যের বড় অংশই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা কিংবা সংগৃহীত অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল। পরিবার, সামাজিক চাপ, ভয়, প্রভাবশালীদের হুমকি কিংবা ‘সম্মান’ রক্ষার মানসিকতায় অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না। ফলে প্রকাশিত সংখ্যার বাইরে থাকা নীরব সহিংসতার পরিমাণ কত—তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই।

নিখোঁজ মানেই নতুন আশঙ্কা
কন্যাশিশুদের নিরাপত্তার সংকট শুধু ধর্ষণ বা হত্যায় সীমাবদ্ধ নয়। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও পরিবারগুলোর জন্য তৈরি করছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। মুনঅ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় ২৫৪টি নিখোঁজ অ্যালার্টের মধ্যে ৩৭টি কন্যাশিশুর। তাদের পরিবার এখনো অপেক্ষায়। কারও সন্ধান মিলবে কি না, তারা জীবিত আছে কি না—এই অনিশ্চয়তাই হয়ে উঠেছে স্বজনদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সাত বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ বলেছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয় ফসলের ক্ষেত থেকে। এসব ঘটনা দেখায়, নিখোঁজের প্রতিটি অভিযোগকে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা কতটা জরুরি।

অপরাধের বয়স কমছে, নিরাপত্তা বাড়ছে না
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা, যৌন নিপীড়ন, দৈহিক নির্যাতন, আঘাত, অঙ্গহানি এবং ধর্ষণের পর হত্যার মতো অপরাধ ঘটছে। ভুক্তভোগীদের বয়স পাঁচ থেকে ১৫-১৬ বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ যে বয়সে শিশুর প্রধান নিরাপত্তা বলয় হওয়ার কথা পরিবার, স্কুল ও সমাজ—সেই বয়সেই তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার লক্ষ্য হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু তদন্তে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, মোবাইলে রিলস ও উত্তেজক কনটেন্ট দেখার প্রবণতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণগত নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি বিকৃত মানসিকতা ও অপরাধপ্রবণতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কোনো প্রযুক্তি বা কনটেন্টকে একক কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। অপরাধের দায় শেষ পর্যন্ত অপরাধীরই। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক পরিবেশ, অনলাইন নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতাগুলোও আলাদা করে দেখতে হবে।

২০২৫-এর চিত্রও ছিল ভয়াবহ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার ৭৮৬ জনের মধ্যে ৫৪৩ জনই কন্যাশিশু। ওই বছর ১৭৯ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়, যার মধ্যে ১০৪ জন কন্যাশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩১ জনকে—তাদের মধ্যে ১৮ জন কন্যাশিশু।

একই সময়ে ১৮৮ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন; তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জন কন্যাশিশু। যৌন নিপীড়নের শিকার ১৬৯ জনের ১১২ জনই কন্যাশিশু। সাইবার সহিংসতার শিকারও হয়েছে ছয় কন্যাশিশু। এক বছরের তথ্যই দেখিয়ে দেয়, এটি বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের ধারাবাহিকতা নয়। বরং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একাধিক ধরন একই সঙ্গে সক্রিয়।

নীরবতাই অপরাধীর শক্তি
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. মাখদুমা নার্গিসের মতে, কন্যাশিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, যৌন সহিংসতার পাশাপাশি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেও শিশুরা হত্যা ও নিখোঁজের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক নীরবতা, ভিকটিম ব্লেমিং, প্রভাবশালীদের চাপ এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে।

এই বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রকাশিত ঘটনা আর প্রকৃত ঘটনার মধ্যে ব্যবধান। কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর পরিবার যদি মামলা করতে ভয় পায়, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চাপ আসে কিংবা সামাজিক লজ্জার ভয়ে ঘটনা গোপন থাকে, তাহলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা শুধু আইনে নয়, প্রয়োগে
কন্যাশিশু সুরক্ষায় দেশে আইন আছে। কিন্তু আইন থাকা আর তার দ্রুত ও কার্যকর প্রয়োগ এক বিষয় নয়। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ষণের অভিযোগে দ্রুত চিকিৎসা, আলামত সংরক্ষণ, শিশুবান্ধব জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্ভরযোগ্য তদন্ত জরুরি। বিচারপ্রক্রিয়াও হতে হবে দ্রুত ও ভুক্তভোগীবান্ধব।

একই সঙ্গে স্কুল, পাড়া-মহল্লা ও অনলাইন পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। অভিভাবকের সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনি শিশুদেরও শেখাতে হবে কোথায়, কীভাবে এবং কার কাছে বিপদের কথা জানাতে হবে। মাহিদা, মুসলিমা, বুশরা কিংবা নিখোঁজ ৩৭ কন্যাশিশু—তাঁরা কোনো পরিসংখ্যানের সংখ্যা নন। প্রত্যেকের ছিল পরিবার, স্বপ্ন, স্কুল, বন্ধুত্ব আর ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়। রাষ্ট্র যদি শিশুর জন্য নিরাপদ পথ, নিরাপদ প্রতিষ্ঠান ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ‘শিশু সুরক্ষা’ শব্দটি কাগজেই থেকে যাবে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

আবারও প্রচারে ‘ইত্যাদি’র জামালপুর পর্ব

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
আবারও প্রচারে ‘ইত্যাদি’র জামালপুর পর্ব

দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বৈচিত্র্য তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র জামালপুর পর্ব আবারও প্রচারিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশ টেলিভিশনে রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর দর্শকরা পর্বটি দেখতে পারবেন।

জামালপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য

মেঘালয়ঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নকশিকাঁথা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য পরিচিত জামালপুরকে ঘিরে সাজানো হয়েছে বিশেষ এই পর্ব। এতে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন, স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন ও নানা সামাজিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

আয়োজনটিতে রয়েছে দুটি বিশেষ গান। একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম। অন্য গানটি দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছেন জামালপুরের সন্তান রাজিব ও সিঁথি সাহা। গানটির সঙ্গে স্থানীয় বাঙালি ও গারো শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশন অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।

থাকছে স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প

‘ইত্যাদি’র নিয়মিত দর্শকপর্বেও এবার গুরুত্ব পেয়েছে জামালপুর। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে চারজনকে নির্বাচন করা হয়। পরে তাঁরা জামালপুরের চার কালজয়ী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের স্মরণে তাঁদের বিখ্যাত চারটি গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করেন।

এ ছাড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি বা পিঠালি’, প্রাচীন ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’, নদীভাঙন ও বাল্যবিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে রয়েছে তথ্যবহুল প্রতিবেদন। জামালপুরে জন্ম নেওয়া চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানও অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।

বাপ্পী-ওসনাই দম্পতির জীবনসংগ্রাম

পর্বটির অন্যতম আকর্ষণ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা বাপ্পী-ওসনাই দম্পতির জীবনসংগ্রামের গল্প। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁদের ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে অনুষ্ঠানে।

দম্পতির অদম্য মনোবল ও আত্মনির্ভরতার গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি ‘ইত্যাদি’র পক্ষ থেকে তাঁদের দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

থাকছে বিদেশি প্রতিবেদন ও ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ

বিদেশি প্রতিবেদনে এবার উঠে এসেছে চীনের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির নগরী সুঝৌর বিভিন্ন চিত্র। পাশাপাশি থাকছে কাশেম টিভির সাংবাদিক ও নাতির জমজমাট আড্ডা, চিঠিপত্র বিভাগ এবং সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীক্ষ্ণ-তীর্যক নাট্যাংশ।

বরাবরের মতো ‘ইত্যাদি’র এই পর্বটিও রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। কেয়া কসমেটিকসের সৌজন্যে জামালপুর পর্বটির পুনঃপ্রচার করা হবে।

কালের আলো/এসএ

কানাডার ব্যবসা-সম্পদ ও লেনদেন নিয়ে শেখ নুর পরিবারের তথ্য সংগ্রহ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
কানাডার ব্যবসা-সম্পদ ও লেনদেন নিয়ে শেখ নুর পরিবারের তথ্য সংগ্রহ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের কানাডার ব্যবসা, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত ১৬৩টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেন, সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টার দুটি ঘটনা, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ১১৮টি প্রতিবেদন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ২৬টি নথি এবং আন্তদেশীয় লেনদেনের দুটি প্রতিবেদন রয়েছে।

নথিতে শেখ নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে। কানাডায় তাদের নাগরিকত্ব এবং একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক। শেখ নুর ইসলামকে ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তার ব্যবসার মধ্যে রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা ও ‘জুম জুম পিৎজা’র মালিকানার তথ্য রয়েছে। শীলা ইসলামের ডমিনোজ পিৎজা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও নথিতে রয়েছে।

তদন্ত নথিতে পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৯ কানাডিয়ান ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে ব্রিটিশ পাউন্ড, সিঙ্গাপুর ডলার, থাই বাথ ও মার্কিন ডলারে লেনদেনের তথ্যও রয়েছে। কানাডায় পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত, যৌথ ও কোম্পানির নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের কর নথিতে ২০২৩-২৪ করবর্ষে শেখ নুর ইসলামের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি টাকা এবং পরের করবর্ষে তা প্রায় ১০৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর নথিতে কানাডার ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট’, ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’ কিংবা ঢাকার ‘টস বন্ড’-এর নাম পাওয়া যায়নি। বিদেশি নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য কর নথিতে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিত গুদামে রাখার অভিযোগে দক্ষিণ গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত গুদাম দুটি হলেও অভিযানে মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায় বলে এনবিআর জানিয়েছে। তদন্ত ও যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কানাডায় শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধান এবং সাম্প্রতিক ওয়্যারহাউস সিলগালা করার বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার সঙ্গেও এসব অনুসন্ধানের সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সূত্র: কালবেলা

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তারকাদের ট্রলিংয়ে কেন বারবার নিশানায় নারী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
তারকাদের ট্রলিংয়ে কেন বারবার নিশানায় নারী

তারকাদের ঝলমলে জীবনের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ নতুন নয়। নতুন সিনেমা, প্রেম, বিয়ে, সন্তান কিংবা চেহারার পরিবর্তন—তারকাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের প্রায় সবকিছুই আলোচনায় থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সেই আগ্রহের পাশাপাশি বেড়েছে ট্রলিংও।

বিশেষ করে অভিনেত্রীদের পোশাক, বয়স, চেহারা, বিয়ে, মাতৃত্ব থেকে শুরু করে পেশাগত সিদ্ধান্ত—কোনো কিছুই যেন সমালোচনার বাইরে থাকছে না। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর যৌথ সিদ্ধান্তের দায়ও অনেক সময় শুধু স্ত্রীর ওপর চাপানো হচ্ছে। পুরুষ তারকার ক্ষেত্রে যে বিষয় স্বাভাবিকভাবে নেওয়া হয়, একই ঘটনায় নারী তারকাকে শুনতে হচ্ছে কটাক্ষ।

বলিউডের কয়েকজন আলোচিত তারকা দম্পতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ও পুরোনো ঘটনাগুলোতে এমন বৈপরীত্যের চিত্র দেখা গেছে।

মা হওয়ার পর ক্যাটরিনার চেহারা নিয়ে কটাক্ষ

ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল ২০২১ সালে বিয়ে করেন। ২০২৫ সালে তাঁদের ঘরে আসে ছেলে ভিহান। ৪২ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ক্যাটরিনার শরীর ও চেহারায় কিছু পরিবর্তন এসেছে।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাটরিনার পুরোনো ও বর্তমান ছবি পাশাপাশি রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলনা করেন অনেকে। তাঁর ওজন ও চেহারা নিয়েও করা হয় নানা মন্তব্য।

তবে একই সময়ে ভিকি কৌশলের চেহারাতেও বয়স ও সময়ের প্রভাব দেখা গেলেও তাঁকে একই মাত্রায় এমন মন্তব্যের মুখে পড়তে দেখা যায়নি।

পুরুষ অভিনেতার চুলে পাক ধরা কিংবা মুখে বয়সের ছাপ পড়লে অনেক সময় সেটিকে ‘পরিণত লুক’ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু নারী অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—তিনি আগের মতো দেখতে নন কেন?

ক্যাটরিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন সালমান খান, পরিণীতি চোপড়া থেকে পাকিস্তানি অভিনেতা আলী জাফরও। আলী জাফর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে আরও সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

সালমান খানও তারকাদের ওজন, চেহারা, পরিবার, সিনেমার সাফল্য কিংবা মা হওয়া নিয়ে ট্রলিংয়ের সমালোচনা করেন।

দীপিকার ‘বেবি বাম্প’ নিয়েও প্রশ্ন

রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের প্রথম সন্তান দুয়ার জন্ম হয়। পরে তাঁরা দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন।

প্রথমবার দীপিকার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশের পর শুভকামনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশে তাঁর ‘বেবি বাম্প’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেউ কেউ এমনকি সেটিকে ‘ভুয়া’ বলেও দাবি করেন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রণবীরের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসার পর সেই আলোচনা আরও বাড়ে। পাপারাজ্জিদের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ প্রশ্ন করেন, দীপিকা আদৌ অন্তঃসত্ত্বা কি না। কেউ আবার তাঁর বেবি বাম্পকে ‘নকল’ বলেন।

এ সময় সাংবাদিক ফায়ে ডি’সুজা দীপিকার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, তিনি ভোট দিতে বেরিয়েছেন, নিজের শরীর বা গর্ভাবস্থা নিয়ে কারও মতামত জানতে চাননি। তাঁর পোস্টে আলিয়া ভাট, পূজা ভাট, শাহিন ভাট ও সোনি রাজদানসহ অনেকে প্রতিক্রিয়া জানান।

দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরও একই ধরনের আলোচনা ফিরে আসে। সন্তানের জন্মের পর দুই সন্তানের বয়সের ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

সন্তান নেওয়া স্বামী-স্ত্রীর যৌথ সিদ্ধান্ত হলেও গর্ভাবস্থা, শারীরিক পরিবর্তন কিংবা সন্তান নেওয়ার সময় নিয়ে প্রশ্নের বড় অংশই অনেক সময় মায়ের দিকেই যায়।

কিয়ারার অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়েও ব্যক্তিগত জীবন টানা

সম্প্রতি ‘টক্সিক’ ছবির অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে আলোচনায় আসেন কিয়ারা আদভানি। বিশেষ করে ‘তবাহী’ গানে কিয়ারা ও যশের কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সমালোচনা শুধু দৃশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কিয়ারা বিবাহিত এবং মা—এই বিষয়টিও টেনে আনেন অনেকে। প্রশ্ন ওঠে, একজন বিবাহিত ও সন্তানের মা অভিনেত্রীর এমন দৃশ্যে অভিনয় করা উচিত কি না।

এখানে আলোচনায় আসে আরেকটি বিষয়। ওই দৃশ্যে কিয়ারা একা নন; তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন যশ। তিনিও বিবাহিত এবং এক কন্যাসন্তানের বাবা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত জীবন টেনে আক্রমণের বড় অংশ গেছে কিয়ারার দিকেই।

কিয়ারার পাশে দাঁড়িয়েছেন ছবির আরেক অভিনেত্রী হুমা কুরেশি। সহশিল্পী যশও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন। টালিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও প্রশ্ন তুলেছেন—বিয়ে ও মাতৃত্বের পর একজন নারী শিল্পীর কাছ থেকে কেন নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রত্যাশা করা হবে?

সাইফের বয়স বাড়া স্বাভাবিক, কারিনাকে ‘বুড়ি’ কটাক্ষ

সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর দুজনই দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। বয়সের সঙ্গে দুজনের চেহারাতেই স্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে।

সাইফ নিজেও বয়স বাড়ার পর শরীর ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু কারিনাকে বয়স ও চেহারা নিয়ে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে।

২০২২ সালে তাঁর যোগব্যায়ামের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বলিরেখা ও চেহারা নিয়ে নানা মন্তব্য করা হয়। কেউ কেউ তাঁকে ‘বুড়ি’ বলেও কটাক্ষ করেন।

পরে কারিনা সেই মন্তব্যের জবাব দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল—বয়সে বড় হওয়া অপমানের কিছু নয় এবং বয়সের সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতাও বাড়ে।

মা হওয়ার সময় নিয়েও প্রশ্ন শুনেছেন আলিয়া

২০২২ সালে রণবীর কাপুরকে বিয়ের কয়েক মাস পর মেয়ে রাহার জন্ম দেন আলিয়া ভাট। তখন ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশের পর অভিনন্দনের পাশাপাশি তাঁকে শুনতে হয় নানা প্রশ্ন। কেউ জানতে চান, ক্যারিয়ারের এমন সময়ে কেন মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। কেউ বলেন, আলিয়া মা হওয়ার জন্য ‘তাড়াহুড়া’ করেছেন। আবার কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে তাঁর অভিনয়জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আলিয়া পরে এসব প্রশ্নের জবাব দেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, সন্তান হওয়ার কারণে তাঁর পেশাগত জীবন কেন বদলে যাবে?

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে তিনি কাজ থেকে বিরতি নেবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন আলিয়া। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি একজন নারী, কোনো ‘পার্সেল’ নন।

রণবীরও একই সময়ে বাবা হয়েছেন এবং সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দুজনের। কিন্তু জনপরিসরের আলোচনায় বারবার সামনে এসেছে আলিয়ার ক্যারিয়ার এবং তিনি কখন মা হলেন—এই প্রশ্ন।

বিরাটের ব্যর্থতার দায়ও কখনো গেছে আনুশকার ওপর

বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা তাঁদের সন্তানদের প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষা করার ইচ্ছার কথাও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

তারপরও তাঁদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে। এমনকি বিরাটের বিদেশে বেশি সময় কাটানোর সিদ্ধান্তের পেছনেও আনুশকার প্রভাব রয়েছে—এমন দাবি করেছেন কেউ কেউ।

বিরাটের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে খারাপ সময় গেলেও একাধিকবার ট্রলের নিশানায় পড়েছেন আনুশকা। মাঠে বিরাটের ব্যর্থতার জন্যও তাঁকে দায়ী করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী।

অথচ একজন ক্রিকেটারের মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সরাসরি সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। তবুও এমন ঘটনায় আনুশকার ব্যক্তিগত জীবনকে টেনে আনা হয়েছে।

একই ঘটনায় কেন আলাদা মাপকাঠি?

ঘটনা আলাদা, তারকাও আলাদা। কখনো চেহারা ও বয়স, কখনো মাতৃত্ব, কখনো পেশাগত সিদ্ধান্ত; আবার কখনো স্বামীর ক্যারিয়ার কিংবা পরিবারের যৌথ সিদ্ধান্ত। তবে এসব ঘটনার মধ্যে একটি বিষয় বারবার দেখা যায়—সমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসছেন নারী তারকারা।

ক্যাটরিনার শরীর বদলালে প্রশ্ন ওঠে, ভিকির ক্ষেত্রে নয়। দীপিকার বেবি বাম্প নিয়ে চলে বিচার-বিশ্লেষণ। একই অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেও যশের তুলনায় বেশি ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখে পড়েন কিয়ারা। সাইফের বয়স বাড়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হলেও কারিনার বলিরেখা হয়ে ওঠে কটাক্ষের বিষয়। রণবীর-আলিয়ার যৌথ সিদ্ধান্তেও প্রশ্ন ওঠে আলিয়া কেন তখন মা হলেন। বিরাটের মাঠের ব্যর্থতার আঁচও গিয়ে পড়ে আনুশকার ওপর।

বিয়ে বা সন্তান হওয়ার পর একজন অভিনেত্রীর শরীর বদলাতে পারে। বয়সের সঙ্গে চেহারায় পরিবর্তন আসতে পারে। স্ত্রী কিংবা মা হওয়ার পরও একজন নারী নিজের পেশায় আগের মতো কাজ করতে পারেন।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু প্রতিক্রিয়ায় এখনো নারী ও পুরুষ তারকাদের জন্য ভিন্ন ধরনের প্রত্যাশা দেখা যায়। একই সিদ্ধান্তে স্বামীকে যে প্রশ্ন করা হয় না, স্ত্রীকে করা হয়। একই দৃশ্যে পুরুষ সহশিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন সামনে না এলেও নারী সহশিল্পীর ক্ষেত্রে তা আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

বলিউডের এসব ঘটনা তাই শুধু কয়েকজন তারকাকে ঘিরে ট্রলিংয়ের বিষয় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ও পুরুষ তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, বয়স, শরীর, মাতৃত্ব ও পেশাগত সিদ্ধান্তকে দেখার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও এতে সামনে আসে।

কালের আলো/এসএ