নজিরবিহীন নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা
নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা, পাঁচ দিনের ছুটি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, এবারের দুর্গোৎসবে সারা দেশে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য বিএনপি সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।
সহিংসতামুক্ত দুর্গোৎসবের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য বলেন, ইতিহাসে এবারই প্রথম সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিল্টন বৈদ্য বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগে আনন্দের সঙ্গে পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ধর্ম যার যার, নিরাপত্তার অধিকার সবার
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’—এই বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন এবারের দুর্গোৎসবে দেখা গেছে। তার মতে, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা আরও জোরদার হয়।
রাষ্ট্রীয় অনুদান ও পাঁচ দিনের ছুটিতে সন্তোষ
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, এবারের দুর্গাপূজায় রাষ্ট্রীয় অনুদান স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার তুলনায় সরকার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এতে পূজার আয়োজন আরও উৎসবমুখর করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান নেতারা।
এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিল্টন বৈদ্য। তিনি বলেন, দীর্ঘ ছুটির ফলে সাধারণ মানুষ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবারের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছেন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
সংগঠনটির নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুলিশ, এসআরবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধর্মীয় উসকানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে বলেও দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা।
সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতারা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের প্রতি প্রত্যাশা জানান তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সহসভাপতি রমেশ দত্ত, যুগ্ম মহাসচিব উত্তম সরকারসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]