খুঁজুন
                               
, ,
           

অফিসের চাপে এই ৫ অভ্যাস অজান্তেই বাড়াতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
অফিসের চাপে এই ৫ অভ্যাস অজান্তেই বাড়াতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

সকালে তাড়াহুড়ো করে অফিসে যাওয়া, কাজের চাপে দুপুরের খাবার বাদ দেওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকা—ব্যস্ত কর্মজীবনে এমন অভ্যাস অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। দিনের কাজ শেষ হতে হতে রাত হয়ে যায়। এরপর দেরিতে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাওয়াও নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়। সময়ের অভাবে এসব অভ্যাসকে স্বাভাবিক মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অপর্যাপ্ত ঘুমসহ কিছু জীবনযাপন-সংক্রান্ত বিষয় টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, ওজন বেশি কিংবা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ আছে, তাঁদের দৈনন্দিন অভ্যাসের বিষয়ে আরও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

শুধু কী খাচ্ছেন, তা-ই নয়; কখন খাচ্ছেন, কতটা নড়াচড়া করছেন এবং পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস
অফিসে একটানা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা অনেকের পেশাগত জীবনের অংশ। কিন্তু দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটালে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের অভাব থাকলে এই নিষ্ক্রিয়তা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শরীরের পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে। শারীরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়তা পাওয়া যায়। বিপরীতে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকির কারণ একসঙ্গে থাকলে ইনসুলিন প্রতিরোধের আশঙ্কা বাড়তে পারে। এ অবস্থায় শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি যথাযথ সাড়া দিতে পারে না, ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই কাজের ফাঁকে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো, অল্প সময় হাঁটা কিংবা সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী হতে পারে।

দুপুরের খাবার বাদ দেওয়া ও অনিয়মিত সময়ে খাওয়া
কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই সময়মতো খাবার খান না। কেউ দুপুরের খাবার বাদ দেন, কেউ আবার ক্ষুধা লাগলে চা, বিস্কুট কিংবা অন্যান্য হালকা খাবার খেয়ে কাজ চালিয়ে যান। পরে একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের অনিয়ম সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব ফেলে না। তবে দীর্ঘদিন অসামঞ্জস্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকলে সুষম পুষ্টি গ্রহণ ব্যাহত হতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

কর্মব্যস্ততার মধ্যেও খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা ভালো। সম্ভব হলে বাড়ি থেকে সুষম খাবার নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। খাবারে শাকসবজি, ডাল, পরিমিত পরিমাণে শর্করাজাতীয় খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন রাখার চেষ্টা করা উচিত। অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

রাত করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস
কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় অনেকের রাতের খাবার খাওয়ার সময় পিছিয়ে যায়। কখনো রাত জেগে কাজ করার কারণে ক্ষুধা বেড়ে যায়, ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসক নিরাজ কুমার সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর করা ওই গবেষণায় দেরিতে খাবার খাওয়ার সঙ্গে ক্ষুধা বৃদ্ধি, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের পরিবর্তন এবং জেগে থাকা অবস্থায় শক্তি ব্যয়ের হার কমে যাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে।

তবে গবেষণার ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে, এমন নয়। তারপরও নিয়মিত খাবারের সময় বজায় রাখা এবং ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।

ঘুমের ঘাটতি ও অনিয়মিত রুটিন
কাজের চাপ, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা কিংবা রাত জেগে কাজ করার কারণে অনেকের ঘুমের সময় কমে যায়। দিনের পর দিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়া, শরীরের বিপাক এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।

অপর্যাপ্ত ঘুম ও অনিয়মিত ঘুমের রুটিন টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি শুধু ঘুমের ওপর নির্ভর করে না; বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কার্যক্রমসহ একাধিক বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।

তাই প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা ভালো।

ব্যায়ামের জন্য সময় না রাখা
অনেকেই মনে করেন, ব্যস্ত রুটিনে আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করা সম্ভব নয়। কিন্তু শারীরিক কার্যক্রমের জন্য সব সময় দীর্ঘ সময় বরাদ্দ করতে হবে, এমন নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে হাঁটা এবং নিয়মিত নড়াচড়া করাও কাজে আসতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করা উচিত। দ্রুত হাঁটা এর একটি উদাহরণ। ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী কার্যক্রমের ধরন নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বিরতি নিয়ে হাঁটা, কাছাকাছি দূরত্বে সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং অবসর সময়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও উপকার মিলতে পারে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বুঝতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। ফলে কেউ কেউ দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়েছে। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে এসব লক্ষণ না থাকলেও ঝুঁকির কারণ থাকলে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ওজন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলও পরীক্ষা করতে হবে।

কাজের চাপ থাকলেও অভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
কর্মজীবনের ব্যস্ততা সব সময় এড়ানো সম্ভব নয়। তবে কাজের ফাঁকে নিয়মিত নড়াচড়া করা, খাবারের সময় নির্ধারণ, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মতো অভ্যাস ধীরে ধীরে গড়ে তোলা যায়।

মনে রাখতে হবে, কোনো একটি অভ্যাসই একা ডায়াবেটিসের কারণ নয়। আবার স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলেই যে ডায়াবেটিস কখনো হবে না, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তবে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এসব পদক্ষেপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

কাজের চাপের কারণে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া যেন অবহেলিত না হয়। কারণ কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

পানি পানের জন্য প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে তামা কিংবা স্টিলের বোতল বেছে নিচ্ছেন অনেকে। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শরীরচর্চার সময়ও বাড়ছে এসব বোতলের ব্যবহার। তবে প্রশ্ন হলো, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী—তামা, নাকি স্টিল?

তামার পাত্রে পানি রাখার প্রচলন বহু পুরোনো। আয়ুর্বেদে তামার পাত্রে রাখা পানিকে ‘তাম্রজল’ বলা হয়। অন্যদিকে, স্টেইনলেস স্টিলের বোতল টেকসই, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ জনপ্রিয়। তবে স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবি আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত তথ্য এক নয়। তাই বোতল বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি।

তামার বোতলে পানি রাখার সুবিধা ও সতর্কতা
তামা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। শরীরে আয়রন ব্যবহারে সহায়তা, শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তামার বোতলে পানি রাখলেই শরীরের প্রয়োজনীয় তামার ঘাটতি পূরণ হবে কিংবা বাড়তি স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যাবে।

তামার কিছু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তামার সংস্পর্শে কিছু জীবাণুর সংখ্যা কমতে পারে। তবে তামার বোতলে পানি রাখলেই তা সব ধরনের জীবাণুমুক্ত বা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। নিরাপদ পানির বিকল্প হিসেবে তামার বোতলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

তামার বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতাও প্রয়োজন। বেশি পরিমাণ তামা শরীরে প্রবেশ করলে বমি, বমিভাব ও পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত গ্রহণে লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের শরীরে তামা বিপাকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তামার পাত্রে রাখা পানি নিয়মিত পান করা উচিত নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তামার পাত্রে লেবুর রস বা অন্য অম্লীয় পানীয় রাখা এড়িয়ে চলতে হবে। অম্লীয় পদার্থের সংস্পর্শে তামা বেশি পরিমাণে পানীয়তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্টিলের বোতল কেন জনপ্রিয়?
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল একটি ব্যবহারিক পছন্দ। সাধারণত ভালো মানের স্টিল পানির সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না এবং পানির স্বাদও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করে না। এ ধরনের বোতল টেকসই, সহজে বহনযোগ্য এবং পরিষ্কার করাও তুলনামূলক সহজ।

ডাবল-ওয়াল বা ইনসুলেটেড স্টিলের বোতল পানি দীর্ঘ সময় গরম কিংবা ঠান্ডা রাখতে পারে। তবে কতক্ষণ তাপমাত্রা ধরে রাখবে, তা বোতলের নকশা ও মানের ওপর নির্ভর করে।

বোতল কেনার সময় খাদ্যপণ্য ব্যবহারের উপযোগী স্টেইনলেস স্টিল বেছে নেওয়া ভালো। নিয়মিত বোতলের ভেতর ও ঢাকনা পরিষ্কার করতে হবে। ভেতরে দাগ, ক্ষয় বা মরিচার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বোতলটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলুন।

তাহলে কোন বোতল বেছে নেবেন?
প্রতিদিনের পানি পানের জন্য অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল সুবিধাজনক পছন্দ। এতে পানি বহন করা সহজ, রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক ঝামেলাহীন। অন্যদিকে, তামার বোতল ব্যবহার করতে চাইলে এর স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি বিশ্বাস না করে নিরাপদ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

মনে রাখতে হবে, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তামা বা স্টিলের বোতল ব্যবহার করলেই হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ত্বক ও চুলের উন্নতি হবে—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই বোতল নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত দাবির চেয়ে নিরাপত্তা, মান ও পরিচ্ছন্নতাকে বেশি গুরুত্ব দিন। সূত্র: এশিয়ানেট নিউজ

কালের আলো/এসএ/জেএন

শীতের আগেই ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঘরেই বানান ৪ স্ক্রাব

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
শীতের আগেই ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঘরেই বানান ৪ স্ক্রাব

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাতাসে বাড়ছে শীতের আমেজ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে অনেকের ত্বক হয়ে উঠছে শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে। বিশেষ করে মুখ, হাত-পা ও ঠোঁটে দেখা দিচ্ছে শুষ্কতার ছাপ। এ সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।

ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং সহায়ক হতে পারে। তবে খসখসে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে উল্টো জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে। তাই ত্বকের ধরন বুঝে কোমল উপায়ে যত্ন নেওয়া জরুরি। ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় স্ক্রাব।

ঘরেই তৈরি করুন চার ধরনের স্ক্রাব

১. চালের গুঁড়া ও মধুর স্ক্রাব
চালের গুঁড়া ও মধু দিয়ে তৈরি মিশ্রণ ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। তবে চালের গুঁড়া ত্বকে ঘষার সময় সতর্ক থাকুন, কারণ দানাদার উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে ঘর্ষণ তৈরি করতে পারে।

২. কফি ও অ্যালোভেরা
কফির গুঁড়ার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করা যায়। চাইলে এতে অল্প পরিমাণ ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগানোর আগে ছোট একটি জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। কফির দানার কারণে ত্বকে ঘর্ষণ হতে পারে, তাই মুখের সংবেদনশীল বা শুষ্ক অংশে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।

৩. অলিভ অয়েল ও মধু
শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে অলিভ অয়েল ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। অল্প অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট পর কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এ মিশ্রণে চিনি যোগ করে জোরে ঘষা এড়িয়ে চলুন।

৪. মুগ ডালের গুঁড়া
মুগ ডাল পিষে মিহি গুঁড়া করে নিন। এর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে নরম পেস্ট তৈরি করতে পারেন। চাইলে মধুও যোগ করা যায়। মিশ্রণটি ত্বকে ব্যবহার করলে জোরে ঘষবেন না; অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন। মুগ ডালের গুঁড়া দিয়ে ট্যান বা ত্বকের কালচে ভাব নিশ্চিতভাবে দূর হয়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

স্ক্রাব ব্যবহারে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ত্বক খসখসে হলে প্রতিদিন স্ক্রাব করার প্রয়োজন নেই। বরং অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের সুরক্ষাবেষ্টনী ক্ষতিগ্রস্ত করে শুষ্কতা, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের দানাদার স্ক্রাব এড়িয়ে চলাই ভালো।

স্ক্রাব ব্যবহারের পর ত্বক আলতো করে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। দিনের বেলায় বাইরে গেলে সানস্ক্রিনও ব্যবহার করুন।

ত্বকে ফাটল, ক্ষত, একজিমা বা তীব্র জ্বালাপোড়া থাকলে স্ক্রাব ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, খসখসে ত্বকের যত্নে শুধু মৃত কোষ দূর করাই নয়, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: স্টাইলক্রেজ

কালের আলো/এসএ/জেএন

ভোটের আগে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ভোটের আগে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবিতে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটির সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও পরে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নির্বাচনের আগে তদন্তের দাবিতে জোরালো আন্দোলন
ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের স্বজনেরা অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংগঠনটিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। হামলার প্রায় তিন বছর পরও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। আয়োজকদের দাবি, সমাবেশে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ৭ অক্টোবরের হামলা শুধু একটি নিরাপত্তা বিপর্যয় ছিল না, বরং এর আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল, তা জানাও অত্যন্ত জরুরি। এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা না হলে নিহতদের পরিবারের কাছে প্রকৃত সত্য অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হামলায় নিহত জিম্মি ওরি দানিনোর বাবা এলহানান দানিনো সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সরকার স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে রাজি না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এলহানান দানিনো অভিযোগ করেন, সরকারের কাছে হয়তো এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যা প্রকাশ্যে আসুক, তা তারা চায় না। এ কারণেই তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে অনীহা দেখানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার প্রায় তিন বছর পার হয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়নি। তাঁর মতে, হামলার আগে কী ধরনের সতর্কসংকেত ছিল, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সেগুলো কীভাবে মূল্যায়ন করেছিল এবং হামলা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এত বড় একটি নিরাপত্তা বিপর্যয়ের পরও স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ না থাকে।

নিরাপত্তা ব্যর্থতার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহির দাবি
সমাবেশে আরেক জিম্মির মা ভিকি কোহেন বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সত্য কোনোভাবেই চাপা পড়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। তাঁর বক্তব্য, হামলার সময় ও তার আগে নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্ব পালনে যেসব ব্যর্থতা ছিল, সেগুলোর বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন ঘটেছে। নিরাপত্তা বিভাগের ব্যর্থতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভিকি কোহেনের মতে, শুধু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করলেই চলবে না। হামলার আগে ও পরে রাজনৈতিক পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। নিহতদের স্বজনদের বক্তব্য, একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসতে পারে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াও সহজ হবে।

বিক্ষোভে যোগ দিলেন নেতানিয়াহুর বিরোধী নেতারা
তেল আবিবের এই সমাবেশে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান, ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ। বিরোধী নেতারা ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তাঁদের বক্তব্যে নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান বলেন, নির্বাচনের পর বুধবার থেকেই তাঁরা সত্য উদ্ঘাটন এবং নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে নির্বাচনের পর এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণের কারণে বিক্ষোভটি শুধু নিহতদের পরিবারের দাবি জানানোর সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নির্বাচনের আগে এটি সরকারের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয় বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তদন্তের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করতে পারে এবং তদন্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে সুপারিশ দিতে পারে। এ কারণে ৭ অক্টোবরের হামলার মতো বড় একটি নিরাপত্তা বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনে সম্মতি দেননি। তাঁর যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ দেওয়া একটি স্বাধীন কমিশন সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। ফলে তদন্ত কমিশনের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়েও দেশটিতে রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের দাবি, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্যই একটি স্বাধীন কমিশন প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সরকারের অধীনে বা রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পরিচালিত কোনো তদন্তের পরিবর্তে এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা সমানভাবে পর্যালোচনা করা যাবে।

সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় নিহতদের পরিবার
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের দুর্বলতা ছিল এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা এখনো পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার হয়নি। পরিবারগুলোর কাছে তদন্তের দাবি শুধু রাজনৈতিক জবাবদিহির বিষয় নয়, বরং স্বজন হারানোর পর সত্য জানার অধিকার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক জিম্মি ড্যানিয়েল আলোনি। তিনি বলেন, ওই দিন শুধু মানুষকে অপহরণ করা হয়নি, মানুষের নিরাপত্তাবোধও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে হামলার ফলে ইসরায়েলি সমাজে তৈরি হওয়া ভয়, অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। ড্যানিয়েল আলোনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নির্বাচনের আগে সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগে তেল আবিবের এই বিক্ষোভ নেতানিয়াহু সরকারের ওপর স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের চাপ আরও বাড়িয়েছে। নির্বাচনের প্রচারে নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং ৭ অক্টোবরের হামলার তদন্তের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে নিহতদের পরিবার ও বিক্ষোভকারীরা হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থানের কারণে কমিশন গঠনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান স্পষ্ট, ৭ অক্টোবরের হামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দাবি অব্যাহত থাকবে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

কালের আলো/এসএ/আরআইকে