খুঁজুন
                               
, ,
           

সম্পর্ক শেষ, তবু প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখেন কেন? জানুন কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সম্পর্ক শেষ, তবু প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখেন কেন? জানুন কারণ

সম্পর্ক শেষ হয়েছে, বন্ধ হয়েছে কথাবার্তাও। দুজনের জীবন হয়তো এগিয়ে গেছে দুই পথে। তবু গভীর রাতে কিংবা কাজের ফাঁকে হঠাৎ ফোনের সার্চবারে ভেসে ওঠে প্রাক্তনের নাম। নতুন কোনো ছবি দিয়েছেন কি না, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, বিচ্ছেদের পর কতটা ভালো আছেন—এসব জানতে বারবার ঢুঁ মারা হয় তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলে।

বিষয়টি অনেকের কাছেই পরিচিত। কেউ করেন নিছক কৌতূহল থেকে, কেউ পুরোনো স্মৃতির টানে, আবার কেউ খুঁজতে থাকেন এমন কোনো ইঙ্গিত, যা তাঁকে সম্পর্কের অতীত নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। কিন্তু সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরও কেন প্রাক্তনের অনলাইন জীবন নিয়ে এত আগ্রহ থেকে যায়? এর পেছনে কাজ করতে পারে অসমাপ্ত আবেগ, নিজের জীবনের সঙ্গে অন্যের তুলনা, একাকীত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বেঙ্গালুরুর মার্গ মাইন্ড কেয়ারের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সুহাস কে এ বিষয়ে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা ও অভ্যাসটি কমানোর কিছু উপায় তুলে ধরেছেন।

১. ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রাক্তনকে ভুলে থাকা কঠিন
একসময় সম্পর্ক ভেঙে গেলে প্রাক্তনের খবর জানতে পারস্পরিক পরিচিতদের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। বন্ধুদের স্টোরি, পরিচিতদের পোস্ট, অ্যালগরিদমের সাজেশন কিংবা পুরোনো ছবির স্মৃতি—যেকোনো কিছু হঠাৎ প্রাক্তনের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে।

একবার প্রোফাইলে ঢুঁ মারার পর নতুন কোনো আপডেট চোখে পড়লে আবারও দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। এভাবে সামান্য কৌতূহল ধীরে ধীরে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

২. প্রাক্তন ভালো আছেন, নাকি কষ্টে—জানতে ইচ্ছা করে
বিচ্ছেদের পর অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, প্রাক্তন কি তাঁকে ভুলে গেছেন? নতুন জীবনে সুখী হয়েছেন? সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তাঁর জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকে প্রাক্তনের ছবি, পোস্ট ও অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। কখনো নিজের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে প্রাক্তনের জীবনের তুলনাও শুরু হয়। প্রাক্তনকে হাসিখুশি দেখলে মনে হতে পারে, তিনি খুব সহজেই এগিয়ে গেছেন; আবার নতুন কারও সঙ্গে ছবি দেখলে তৈরি হতে পারে কষ্ট, ঈর্ষা কিংবা নিজের গুরুত্ব নিয়ে সংশয়।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ছবিই কারও জীবনের সম্পূর্ণ চিত্র নয়। সেখানে মানুষ সাধারণত নিজের জীবনের বাছাই করা মুহূর্তগুলোই তুলে ধরেন।

৩. মনের ভেতর রয়ে গেছে অসমাপ্ত আবেগ
সম্পর্ক শেষ হলেই আবেগের অবসান ঘটে না। বিচ্ছেদের পরও পুরোনো স্মৃতি, অভিমান, ভালোবাসা কিংবা কিছু প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ার কষ্ট থেকে যেতে পারে।

এ কারণে কেউ কেউ প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখে বোঝার চেষ্টা করেন, সম্পর্কটি তাঁর কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল কি না। কেউ খোঁজেন বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে নতুন কোনো ইঙ্গিত, কেউ আবার জানতে চান প্রাক্তনও একই ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন কি না।

তবে বারবার প্রোফাইল দেখা মানেই যে আবার সম্পর্কে ফিরতে চাওয়া, তা নয়। কখনো এটি হতে পারে অতীতকে বুঝে নেওয়া কিংবা মানসিকভাবে সেই অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। কিন্তু এই অভ্যাস যদি পুরোনো কষ্টকে বারবার উসকে দেয়, তাহলে তা মানসিকভাবে সামনে এগোনোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৪. কিছু মিস করার ভয় থেকে তৈরি হয় অভ্যাস
মনোবিজ্ঞানে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ বা ফোমো বলতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বা তথ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাকে বোঝানো হয়। প্রাক্তনের ক্ষেত্রেও এমন অনুভূতি কাজ করতে পারে।

মনে হতে পারে, তাঁর জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন ঘটছে, অথচ সেটি জানা হচ্ছে না। নতুন সম্পর্ক, ভ্রমণ, সাফল্য কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো ঘটনা—কিছুই যেন চোখ এড়িয়ে না যায়।

এর সঙ্গে একাকীত্ব, অবসর সময় এবং বারবার ফোন দেখার অভ্যাস যুক্ত হলে প্রাক্তনের প্রোফাইল পরীক্ষা করা নিয়মিত কাজে পরিণত হতে পারে। তখন অনেক সময় সচেতন সিদ্ধান্তের চেয়ে অভ্যাসের টানেই মানুষ সেই প্রোফাইলে ফিরে যান।

প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখা বন্ধ করবেন যেভাবে
এই অভ্যাস কমাতে শুধু নিজেকে বারবার নিষেধ করাই যথেষ্ট নয়। কখন, কেন এবং কী পরিস্থিতিতে প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখতে ইচ্ছা করে, তা বুঝে ধীরে ধীরে আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।

১. কোন পরিস্থিতিতে দেখতে ইচ্ছা করে, খেয়াল করুন
একাকী থাকলে, মন খারাপ হলে, রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা কোনো পুরোনো স্মৃতি মনে পড়লে কি প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখতে ইচ্ছা করে? কয়েক দিন নিজের আচরণ লক্ষ্য করুন। কোন পরিস্থিতি এই তাগিদ বাড়ায়, তা বুঝতে পারলে বিকল্প কোনো কাজে মন দেওয়া সহজ হবে।

২. প্রোফাইল দেখার সুযোগ সীমিত করুন
প্রাক্তনের পোস্ট বারবার সামনে এলে তাঁকে মিউট বা আনফলো করতে পারেন। প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে ব্লক করাও একটি বিকল্প। পুরোনো কথোপকথন আর্কাইভে রাখা এবং সার্চ হিস্ট্রি মুছে ফেলার মতো পদক্ষেপও সহজে প্রোফাইলে ঢোকার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এটি প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয় নয়; বরং নিজের মানসিক স্বস্তির জন্য কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা।

৩. ইচ্ছা হলেই সঙ্গে সঙ্গে ফোন ধরবেন না
প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখার তাগিদ এলে সঙ্গে সঙ্গে তা পূরণ না করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এ সময় হাঁটতে পারেন, গান শুনতে পারেন, বই পড়তে পারেন কিংবা কাছের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

ইচ্ছাটি কিছুক্ষণ পর কমে যায় কি না, খেয়াল করুন। এভাবে ধীরে ধীরে তাগিদ এবং নিজের আচরণের মধ্যে একটি বিরতি তৈরি করা সম্ভব।

৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিকে পুরো সত্য ভাববেন না
প্রাক্তনকে হাসিখুশি দেখেই ধরে নেবেন না যে তিনি কোনো কষ্ট ছাড়াই এগিয়ে গেছেন। একইভাবে তাঁর বিষণ্ন কোনো পোস্ট দেখেও নিজের মতো করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনের নির্বাচিত অংশই দেখা যায়। সেই অংশের সঙ্গে নিজের বাস্তব অনুভূতির তুলনা করলে অকারণ কষ্ট ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

৫. দেখার পর নিজের অনুভূতি বুঝুন
প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখার পর কেমন লাগে, তা গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ করুন। যদি বারবার মন খারাপ হয়, ঈর্ষা তৈরি হয়, উদ্বেগ বাড়ে কিংবা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এই অভ্যাস আপনার ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা ভেবে দেখুন।

প্রয়োজনে কিছুদিন প্রোফাইল দেখা থেকে বিরতি নিন। সেই সময় নিজের পছন্দের কাজ, বন্ধুবান্ধব, পরিবার ও ব্যক্তিগত লক্ষ্যগুলোর দিকে মনোযোগ দিন।

কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন?
বিচ্ছেদের পর মন খারাপ হওয়া বা প্রাক্তনের কথা মনে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই চিন্তা যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মানসিক চাপ তৈরি করে, দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করে, ঘুমের সমস্যা বাড়ায় কিংবা বারবার চেষ্টা করেও অভ্যাসটি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

প্রাক্তনের অনলাইন জীবন সম্পর্কে কৌতূহল থাকা মানেই আপনি দুর্বল, এমন নয়। সম্পর্কের স্মৃতি ও আবেগ সামলাতে প্রত্যেকের সময় আলাদা হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই অভ্যাস আপনার বর্তমান জীবনকে কতটা প্রভাবিত করছে, তা বোঝা।

সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরও প্রাক্তনের প্রোফাইল বারবার দেখা হয়তো সাময়িক কৌতূহল মেটায়। কিন্তু যদি প্রতিবারই পুরোনো কষ্ট ফিরে আসে, তাহলে নিজের জন্য কিছুটা দূরত্ব তৈরি করাই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।

কালের আলো/এসএ/জেএন

৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান-আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান-আফগানিস্তান

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে অনুভূত এ ভূমিকম্পে দুই দেশের একাধিক অঞ্চলে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.২। প্রথমদিকে এর মাত্রা ৫.৮ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫.২ নির্ধারণ করা হয়।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ও গভীরতার কারণে দুই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ভূমিকম্পের পরপরই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।  আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে দেশটির রাজধানী কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়।

আফগানিস্তানের এসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। দুই দেশেই তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার খবর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র:রয়টার্স, জিও নিউজ ও টোলো নিউজ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকবে জ্বালানি বাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকবে জ্বালানি বাজারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে। ২০২৭ সালেও যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজার ফিরে যাওয়ার বিশ্বাসযোগ্য কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ফাতিহ বিরল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকার পূর্বাভাস ছিল। অর্থাৎ, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে সেই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দামও বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের জন্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন এবং দামের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আইইএ প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। এর রেশ আগামী বছরেও থাকতে পারে। ফলে ২০২৭ সালে জ্বালানি বাজার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন প্রত্যাশার পক্ষে এখনো বিশ্বাসযোগ্য পথ দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে এসব দেশের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফাতিহ বিরল সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে দেশগুলোকে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বাজারের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। তবে আগামী বছর বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি ঠিক কতটা বদলাবে, তা সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করবে।  আইইএর সতর্কবার্তা বলছে, যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দ্রুত শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তাই ২০২৭ সালকে সামনে রেখে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জাবি থেকে পিএসসির সদস্য হলেন শামীমা সুলতানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
জাবি থেকে পিএসসির সদস্য হলেন শামীমা সুলতানা

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা। রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাঁকে জনস্বার্থে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এ নিয়োগ কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৯ অনুচ্ছেদের ১ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক শামীমা সুলতানা পিএসসির সদস্য পদে বহাল থাকবেন। এই দুইয়ের মধ্যে যে শর্তটি আগে পূরণ হবে, সেটিই তাঁর মেয়াদের শেষ সময় হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। পিএসসির সদস্য হিসেবে অধ্যাপক শামীমা সুলতানার নিয়োগ সেই কমিশনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলো।

অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রতিবাদস্বরূপ নিজের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সরিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এ ছাড়া তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ গণনা করা হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি