খুঁজুন
                               
, ,
           

পেনশন, আবাসন ও যুদ্ধ নিয়ে উত্তাল ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
পেনশন, আবাসন ও যুদ্ধ নিয়ে উত্তাল ইউরোপ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পেনশন অধিকার, আবাসন সংকট, দুর্নীতি ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালে নানা দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। কোথাও সরকারের পদত্যাগ ও নীতির পরিবর্তনের দাবি উঠেছে, কোথাও সামাজিক অধিকার রক্ষায় সরব হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কয়েকটি দেশে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও আগের সহিংসতার ঘটনার পর ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অধিকার এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ গ্রেপ্তার কয়েক হাজার
ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে বিক্ষোভের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হয়েছেন। শুধু রাজধানী প্যারিসেই আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। ফ্রান্সের পরিস্থিতি ইউরোপের অন্যান্য দেশের বিক্ষোভের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের কারণ এক না হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ অনেক ক্ষেত্রেই বিক্ষোভের পেছনে ভূমিকা রাখছে।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তেজনা
আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেশটিতে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

এই আন্দোলনের মধ্যে সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে তিরানায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভের কারণে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির পাশাপাশি সংঘর্ষে আহতদের সংখ্যা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

ইতালিতে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ
ইতালির মিলান, রোম, তুরিন, নেপলস, বোলোনিয়া ও ফ্লোরেন্সসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। যুদ্ধের বিরোধিতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ ছিল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিক্ষোভ চলাকালে কিছু অংশগ্রহণকারী বোতল, পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির আটটি শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ইতালিতে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে মানুষের অসন্তোষ সামনে এসেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ, আবাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এসব চাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ জোরালো হচ্ছে। তবে বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে তৎপর থাকতে হচ্ছে।

স্পেনে পেনশন অধিকার রক্ষায় রাজপথে অবসরভোগীরা
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পেনশনভোগী ও তাঁদের সমর্থকেরা অবসরকালীন অধিকার রক্ষার দাবিতে মিছিল করেছেন। তাঁদের প্রধান দাবি, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনের পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে না পড়েন। বিক্ষোভকারীরা ন্যূনতম পেনশন ন্যূনতম মজুরির সমান করার দাবিও জানিয়েছেন। পাশাপাশি নারী ও পুরুষের পেনশনের মধ্যে বৈষম্য কমানো এবং সরকারি পেনশনব্যবস্থা বেসরকারীকরণের উদ্যোগ প্রতিহত করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

পেনশনভোগীদের মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে গেলে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন। তাই পেনশন বাড়ানোর পাশাপাশি অবসরকালীন সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। মাদ্রিদের এই কর্মসূচি ইউরোপের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে। পেনশনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং সরকারি সহায়তার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন দেশে যে উদ্বেগ রয়েছে, স্পেনের আন্দোলন তারই একটি উদাহরণ।

পর্তুগালে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। বাড়ি ও ফ্ল্যাটের উচ্চমূল্য এবং আবাসনসংকটের কারণে অনেকের পক্ষে উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আবাসনব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আবাসনসংকট ইউরোপের বিভিন্ন শহরে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বাড়িভাড়া ও সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিশেষ করে তরুণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে সাশ্রয়ী বাসস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

লিসবনের বিক্ষোভে সেই অসন্তোষই প্রকাশ পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, আবাসনকে শুধু বাজারের পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভে সামনে আসছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট
ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল—দেশভেদে বিক্ষোভের কারণ ও দাবির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও সরকারবিরোধী আন্দোলন, কোথাও যুদ্ধের প্রতিবাদ, আবার কোথাও পেনশন ও আবাসনসংকটকে কেন্দ্র করে মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে এসব আন্দোলনের মধ্যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক অধিকার এবং সরকারি নীতির প্রতি অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও আহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একই সময়ে এ ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা জনজীবনের ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের উদ্বেগের প্রতিফলন। এসব আন্দোলনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: ইউরোনিউজ, এপি

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

 

তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
তামা নাকি স্টিলের বোতল, পানি পানের জন্য কোনটি ভালো?

পানি পানের জন্য প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে তামা কিংবা স্টিলের বোতল বেছে নিচ্ছেন অনেকে। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শরীরচর্চার সময়ও বাড়ছে এসব বোতলের ব্যবহার। তবে প্রশ্ন হলো, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী—তামা, নাকি স্টিল?

তামার পাত্রে পানি রাখার প্রচলন বহু পুরোনো। আয়ুর্বেদে তামার পাত্রে রাখা পানিকে ‘তাম্রজল’ বলা হয়। অন্যদিকে, স্টেইনলেস স্টিলের বোতল টেকসই, সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ জনপ্রিয়। তবে স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবি আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত তথ্য এক নয়। তাই বোতল বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি।

তামার বোতলে পানি রাখার সুবিধা ও সতর্কতা
তামা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। শরীরে আয়রন ব্যবহারে সহায়তা, শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এর ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তামার বোতলে পানি রাখলেই শরীরের প্রয়োজনীয় তামার ঘাটতি পূরণ হবে কিংবা বাড়তি স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যাবে।

তামার কিছু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তামার সংস্পর্শে কিছু জীবাণুর সংখ্যা কমতে পারে। তবে তামার বোতলে পানি রাখলেই তা সব ধরনের জীবাণুমুক্ত বা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। নিরাপদ পানির বিকল্প হিসেবে তামার বোতলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

তামার বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতাও প্রয়োজন। বেশি পরিমাণ তামা শরীরে প্রবেশ করলে বমি, বমিভাব ও পেটব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত গ্রহণে লিভারের ক্ষতিও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের শরীরে তামা বিপাকের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তামার পাত্রে রাখা পানি নিয়মিত পান করা উচিত নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তামার পাত্রে লেবুর রস বা অন্য অম্লীয় পানীয় রাখা এড়িয়ে চলতে হবে। অম্লীয় পদার্থের সংস্পর্শে তামা বেশি পরিমাণে পানীয়তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্টিলের বোতল কেন জনপ্রিয়?
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল একটি ব্যবহারিক পছন্দ। সাধারণত ভালো মানের স্টিল পানির সঙ্গে সহজে বিক্রিয়া করে না এবং পানির স্বাদও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করে না। এ ধরনের বোতল টেকসই, সহজে বহনযোগ্য এবং পরিষ্কার করাও তুলনামূলক সহজ।

ডাবল-ওয়াল বা ইনসুলেটেড স্টিলের বোতল পানি দীর্ঘ সময় গরম কিংবা ঠান্ডা রাখতে পারে। তবে কতক্ষণ তাপমাত্রা ধরে রাখবে, তা বোতলের নকশা ও মানের ওপর নির্ভর করে।

বোতল কেনার সময় খাদ্যপণ্য ব্যবহারের উপযোগী স্টেইনলেস স্টিল বেছে নেওয়া ভালো। নিয়মিত বোতলের ভেতর ও ঢাকনা পরিষ্কার করতে হবে। ভেতরে দাগ, ক্ষয় বা মরিচার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বোতলটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলুন।

তাহলে কোন বোতল বেছে নেবেন?
প্রতিদিনের পানি পানের জন্য অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে মানসম্মত স্টেইনলেস স্টিলের বোতল সুবিধাজনক পছন্দ। এতে পানি বহন করা সহজ, রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক ঝামেলাহীন। অন্যদিকে, তামার বোতল ব্যবহার করতে চাইলে এর স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি বিশ্বাস না করে নিরাপদ ব্যবহার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

মনে রাখতে হবে, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তামা বা স্টিলের বোতল ব্যবহার করলেই হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ত্বক ও চুলের উন্নতি হবে—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই বোতল নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত দাবির চেয়ে নিরাপত্তা, মান ও পরিচ্ছন্নতাকে বেশি গুরুত্ব দিন। সূত্র: এশিয়ানেট নিউজ

কালের আলো/এসএ/জেএন

শীতের আগেই ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঘরেই বানান ৪ স্ক্রাব

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
শীতের আগেই ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে ঘরেই বানান ৪ স্ক্রাব

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাতাসে বাড়ছে শীতের আমেজ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে অনেকের ত্বক হয়ে উঠছে শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে। বিশেষ করে মুখ, হাত-পা ও ঠোঁটে দেখা দিচ্ছে শুষ্কতার ছাপ। এ সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।

ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং সহায়ক হতে পারে। তবে খসখসে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে উল্টো জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে। তাই ত্বকের ধরন বুঝে কোমল উপায়ে যত্ন নেওয়া জরুরি। ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় স্ক্রাব।

ঘরেই তৈরি করুন চার ধরনের স্ক্রাব

১. চালের গুঁড়া ও মধুর স্ক্রাব
চালের গুঁড়া ও মধু দিয়ে তৈরি মিশ্রণ ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। তবে চালের গুঁড়া ত্বকে ঘষার সময় সতর্ক থাকুন, কারণ দানাদার উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে ঘর্ষণ তৈরি করতে পারে।

২. কফি ও অ্যালোভেরা
কফির গুঁড়ার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করা যায়। চাইলে এতে অল্প পরিমাণ ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগানোর আগে ছোট একটি জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। কফির দানার কারণে ত্বকে ঘর্ষণ হতে পারে, তাই মুখের সংবেদনশীল বা শুষ্ক অংশে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।

৩. অলিভ অয়েল ও মধু
শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে অলিভ অয়েল ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। অল্প অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট পর কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এ মিশ্রণে চিনি যোগ করে জোরে ঘষা এড়িয়ে চলুন।

৪. মুগ ডালের গুঁড়া
মুগ ডাল পিষে মিহি গুঁড়া করে নিন। এর সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে নরম পেস্ট তৈরি করতে পারেন। চাইলে মধুও যোগ করা যায়। মিশ্রণটি ত্বকে ব্যবহার করলে জোরে ঘষবেন না; অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন। মুগ ডালের গুঁড়া দিয়ে ট্যান বা ত্বকের কালচে ভাব নিশ্চিতভাবে দূর হয়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

স্ক্রাব ব্যবহারে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ত্বক খসখসে হলে প্রতিদিন স্ক্রাব করার প্রয়োজন নেই। বরং অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের সুরক্ষাবেষ্টনী ক্ষতিগ্রস্ত করে শুষ্কতা, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের দানাদার স্ক্রাব এড়িয়ে চলাই ভালো।

স্ক্রাব ব্যবহারের পর ত্বক আলতো করে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। দিনের বেলায় বাইরে গেলে সানস্ক্রিনও ব্যবহার করুন।

ত্বকে ফাটল, ক্ষত, একজিমা বা তীব্র জ্বালাপোড়া থাকলে স্ক্রাব ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, খসখসে ত্বকের যত্নে শুধু মৃত কোষ দূর করাই নয়, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: স্টাইলক্রেজ

কালের আলো/এসএ/জেএন

ভোটের আগে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
ভোটের আগে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবিতে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটির সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও পরে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নির্বাচনের আগে তদন্তের দাবিতে জোরালো আন্দোলন
ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের স্বজনেরা অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও।

‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংগঠনটিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। হামলার প্রায় তিন বছর পরও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। আয়োজকদের দাবি, সমাবেশে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ৭ অক্টোবরের হামলা শুধু একটি নিরাপত্তা বিপর্যয় ছিল না, বরং এর আগে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল, তা জানাও অত্যন্ত জরুরি। এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা না হলে নিহতদের পরিবারের কাছে প্রকৃত সত্য অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হামলায় নিহত জিম্মি ওরি দানিনোর বাবা এলহানান দানিনো সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সরকার স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে রাজি না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এলহানান দানিনো অভিযোগ করেন, সরকারের কাছে হয়তো এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যা প্রকাশ্যে আসুক, তা তারা চায় না। এ কারণেই তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে অনীহা দেখানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার প্রায় তিন বছর পার হয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়নি। তাঁর মতে, হামলার আগে কী ধরনের সতর্কসংকেত ছিল, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সেগুলো কীভাবে মূল্যায়ন করেছিল এবং হামলা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এত বড় একটি নিরাপত্তা বিপর্যয়ের পরও স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ না থাকে।

নিরাপত্তা ব্যর্থতার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহির দাবি
সমাবেশে আরেক জিম্মির মা ভিকি কোহেন বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সত্য কোনোভাবেই চাপা পড়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। তাঁর বক্তব্য, হামলার সময় ও তার আগে নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্ব পালনে যেসব ব্যর্থতা ছিল, সেগুলোর বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন ঘটেছে। নিরাপত্তা বিভাগের ব্যর্থতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভিকি কোহেনের মতে, শুধু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করলেই চলবে না। হামলার আগে ও পরে রাজনৈতিক পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। নিহতদের স্বজনদের বক্তব্য, একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসতে পারে। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াও সহজ হবে।

বিক্ষোভে যোগ দিলেন নেতানিয়াহুর বিরোধী নেতারা
তেল আবিবের এই সমাবেশে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান, ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ। বিরোধী নেতারা ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তাঁদের বক্তব্যে নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান বলেন, নির্বাচনের পর বুধবার থেকেই তাঁরা সত্য উদ্ঘাটন এবং নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার প্রকৃত কারণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে নির্বাচনের পর এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণের কারণে বিক্ষোভটি শুধু নিহতদের পরিবারের দাবি জানানোর সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নির্বাচনের আগে এটি সরকারের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয় বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তদন্তের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করতে পারে এবং তদন্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে সুপারিশ দিতে পারে। এ কারণে ৭ অক্টোবরের হামলার মতো বড় একটি নিরাপত্তা বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনে সম্মতি দেননি। তাঁর যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ দেওয়া একটি স্বাধীন কমিশন সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। ফলে তদন্ত কমিশনের গঠনপ্রক্রিয়া নিয়েও দেশটিতে রাজনৈতিক মতবিরোধ রয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের দাবি, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্যই একটি স্বাধীন কমিশন প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সরকারের অধীনে বা রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পরিচালিত কোনো তদন্তের পরিবর্তে এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা সমানভাবে পর্যালোচনা করা যাবে।

সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় নিহতদের পরিবার
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের দুর্বলতা ছিল এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা এখনো পর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার হয়নি। পরিবারগুলোর কাছে তদন্তের দাবি শুধু রাজনৈতিক জবাবদিহির বিষয় নয়, বরং স্বজন হারানোর পর সত্য জানার অধিকার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক জিম্মি ড্যানিয়েল আলোনি। তিনি বলেন, ওই দিন শুধু মানুষকে অপহরণ করা হয়নি, মানুষের নিরাপত্তাবোধও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে হামলার ফলে ইসরায়েলি সমাজে তৈরি হওয়া ভয়, অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। ড্যানিয়েল আলোনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নির্বাচনের আগে সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগে তেল আবিবের এই বিক্ষোভ নেতানিয়াহু সরকারের ওপর স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের চাপ আরও বাড়িয়েছে। নির্বাচনের প্রচারে নিরাপত্তা, জবাবদিহি এবং ৭ অক্টোবরের হামলার তদন্তের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে নিহতদের পরিবার ও বিক্ষোভকারীরা হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবস্থানের কারণে কমিশন গঠনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান স্পষ্ট, ৭ অক্টোবরের হামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দাবি অব্যাহত থাকবে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

কালের আলো/এসএ/আরআইকে