খুঁজুন
                               
, ,
           

বাণিজ্য বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি নিয়ে ইউরোপ সফরে শামা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
বাণিজ্য বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি নিয়ে ইউরোপ সফরে শামা

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশে সরকারি সফর করবেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। সফরকালে দুই দেশের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রতিমন্ত্রী। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা, পর্যটন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সেভিলে স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপোর উদ্বোধন
সফরের প্রথম পর্যায়ে ২৬ অক্টোবর স্পেনের সেভিল শহরে ‘তৃতীয় স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। ‘দৃঢ়তর অংশীদারিত্ব, অভিন্ন সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপোর উদ্যোক্তা স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এক্সপোটির অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে স্পেনের উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের সংযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সফরে গুরুত্ব পাবে শিল্প ও সংস্কৃতি
স্পেন সফর শেষে ২৯ ও ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সফর করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রসার, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার কথা রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প, ঐতিহ্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ সফরে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিকও গুরুত্ব পাবে।

অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে গুরুত্ব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফরের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানো। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও পর্যটন খাতেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে দেখবেন প্রতিমন্ত্রী। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ও এক্সপোতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সফর শেষে কী ধরনের সমঝোতা, চুক্তি বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

প্রকৌশল পড়েননি, তবু বানালেন উড়ন্ত গাড়ি; স্বপ্নপূরণে ১৩ বছরের সাধনা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
প্রকৌশল পড়েননি, তবু বানালেন উড়ন্ত গাড়ি; স্বপ্নপূরণে ১৩ বছরের সাধনা

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে লাগে দীর্ঘ সময়। দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াতের এই ভোগান্তিই একসময় নতুন স্বপ্ন দেখায় ভারতের এক তরুণকে। সেই স্বপ্ন থেকেই উড়ন্ত গাড়ি তৈরির উদ্যোগ। আনুষ্ঠানিক প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই দীর্ঘ ১৩ বছরের শেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর অধ্যবসায়ে বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা।

মানবিক বিভাগে স্নাতক করা তামতার তৈরি এক আসনের এই উড়ন্ত যানের নাম ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’। গত আগস্টে যানটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ, নিজস্ব উদ্যোগে হাতে-কলমে কাজ এবং পরিবারের সহায়তায় তিনি ধাপে ধাপে এগিয়েছেন এই উদ্ভাবনের পথে।

তবে প্রোটোটাইপটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হওয়া মানেই এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, এমন নয়। বাস্তবে ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে।

পাহাড়ি পথের ভোগান্তি থেকে উড়ন্ত গাড়ির ভাবনা
রবি তামতার বেড়ে ওঠা উত্তরাখণ্ডের জাগেশ্বর ধামের কাছে কাফলিখান এলাকায়। পাহাড়ি অঞ্চলের আঁকাবাঁকা ও দীর্ঘ সড়কপথে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যক্তিগত আকাশযান তৈরির ভাবনা তাঁর মাথায় আসে।

২০১৫ সালে উড়ন্ত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন তিনি। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে নিজের উদ্যোগ ‘হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে যানটির প্রোটোটাইপ তৈরি করেন।

তামতার লক্ষ্য, দুর্গম অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত সহজ করা। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তাঁকে এই উদ্ভাবনে উৎসাহিত করেছে।

কীভাবে উড়বে হাপিডা স্কাইনেক্স?
হাপিডা স্কাইনেক্স একটি এক আসনের বৈদ্যুতিক আকাশযানের প্রোটোটাইপ। এর নকশায় একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টিরোটর ড্রোনের প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রেখে তৈরি এই যানটি রানওয়ে ছাড়াই খাড়াভাবে ওঠানামার জন্য নকশা করা হয়েছে।

যানটির কাঠামো হালকা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে চালকের বসার জায়গা বা ককপিট এবং স্বচ্ছ ক্যানোপি রয়েছে। ব্যাটারিচালিত হওয়ায় এটি প্রচলিত বিমানের মতো তরল জ্বালানির ওপর নির্ভর করে না।

তবে বৈদ্যুতিক আকাশযান তৈরির ক্ষেত্রে শুধু উড়তে পারাই যথেষ্ট নয়। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা, একবার চার্জে কত দূর যাওয়া যাবে, যানের ভারসাম্য, আবহাওয়ার প্রভাব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে অবতরণের সক্ষমতা—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। হাপিডা স্কাইনেক্সের এসব সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো জানা যায়নি।

ইন্টারনেটই ছিল তাঁর শেখার বড় ভরসা
তামতা স্থানীয় একটি জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে নৈনিতাল ক্যাম্পাস থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রচলিত প্রকৌশল শিক্ষা বা বিশেষায়িত গবেষণাগারের সুযোগ না থাকলেও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তাঁকে থামাতে পারেনি।

অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত উপকরণ দেখে তিনি নিজের জ্ঞান বাড়িয়েছেন। এরপর হাতে-কলমে পরীক্ষা চালিয়ে উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর বাবা হরিশ রাম পেশায় একজন মেকানিক। পরিবারের সহায়তাও এই দীর্ঘ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে উড়ন্ত যান নির্মাণ অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। নকশা তৈরি থেকে শুরু করে মোটর, ব্যাটারি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও কাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরীক্ষা প্রয়োজন। তাই প্রোটোটাইপ তৈরির পাশাপাশি এর কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

উড়ন্ত গাড়ির আগেও ছিল নানা উদ্ভাবন
হাপিডা স্কাইনেক্সই তামতার প্রথম উদ্ভাবন নয়। এর আগে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একাধিক যন্ত্র তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে।

তাঁর উদ্ভাবনের তালিকায় রয়েছে মোবাইল ফোন চার্জ করার সুবিধাযুক্ত জুতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলে সহায়ক স্মার্ট লাঠি, বাঁশ চেরার যন্ত্র এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম। বন বিভাগের কাজে ব্যবহার উপযোগী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র তৈরির উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।

এসব উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন তামতা। এবার উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ তৈরি করে সেই প্রচেষ্টাকে আরও উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্য তাঁর।

দুর্গম এলাকায় যাতায়াতে কতটা কাজে আসবে?
পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ এবং স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে সক্ষম বৈদ্যুতিক আকাশযানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবে এমন যান ব্যবহার করতে হলে এর উড্ডয়নসীমা, বহনক্ষমতা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, আবহাওয়ায় চলার সক্ষমতা এবং পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

হাপিডা স্কাইনেক্সের ক্ষেত্রেও এসব বিষয় যাচাই করা বাকি। যাত্রী পরিবহন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাই অপরিহার্য।

রবি তামতার উদ্যোগ তাই আপাতত একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টা। প্রকৌশল বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও শেখার আগ্রহ, দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা তাঁকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এখন তাঁর তৈরি উড়ন্ত যানটি কতটা নিরাপদ, কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ/জেএন

জাপান সফরে বাণিজ্য বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
জাপান সফরে বাণিজ্য বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

টোকিওতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপানের ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক
জাপান সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় তুলে ধরা হতে পারে।

সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি সফরকালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।

রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি নিরাপত্তাও আলোচনায়
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সম্পর্কের ইতি টানার সময় হয়েছে কি না, বুঝবেন যে ৬ লক্ষণে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
সম্পর্কের ইতি টানার সময় হয়েছে কি না, বুঝবেন যে ৬ লক্ষণে

ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মান—একটি সুস্থ সম্পর্কের মূল ভিত্তি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কে যদি জমতে থাকে অবহেলা, সন্দেহ, অসম্মান আর মানসিক দূরত্ব, তাহলে একসময় প্রশ্ন জাগে—সম্পর্কটি কি আর টিকিয়ে রাখা উচিত? দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সহজ নয়। তবু কখনো কখনো নিজের মানসিক শান্তি, আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার কথা ভেবে সম্পর্কটি নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে পড়ে।

সম্পর্কে মতবিরোধ বা কঠিন সময় আসতেই পারে। তাই সাময়িক ঝগড়া কিংবা ভুল-বোঝাবুঝি মানেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়া নয়। তবে একই সমস্যা বারবার ফিরে এলে, আলোচনা করেও কোনো পরিবর্তন না হলে এবং সম্পর্কটি ক্রমাগত মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে উঠলে কিছু লক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

১. সম্মান হারিয়ে গেছে সম্পর্কে
ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অন্যতম শর্ত। সঙ্গী যদি নিয়মিত আপনাকে অপমান করেন, আপনার মতামতকে তুচ্ছ করেন কিংবা অন্যের সামনে ছোট করে দেখান, তাহলে বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার অজুহাতে কাউকে অসম্মান করার সুযোগ নেই। যে সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় লাগে কিংবা বারবার আত্মসম্মানে আঘাত সহ্য করতে হয়, সেই সম্পর্কের সুস্থতা নিয়ে ভাবা জরুরি।

২. ভালো থাকার চেয়ে কষ্টই বেশি
একটি সম্পর্ক সব সময় আনন্দের হবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি সম্পর্কের কারণে উদ্বেগ, মন খারাপ, হতাশা কিংবা মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে, তাহলে এর প্রভাব জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।

নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই সম্পর্কে আপনি কি নিরাপদ ও স্বস্তিতে থাকতে পারেন? নাকি সঙ্গীর প্রতিক্রিয়ার ভয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়? সম্পর্কটি যদি নিয়মিত আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নেয় এবং সমস্যার সমাধানে দুজনের কেউই কার্যকর উদ্যোগ না নেন, তবে পরিস্থিতি নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

৩. কথা বললেই বাড়ে দূরত্ব
সম্পর্কে সমস্যা সমাধানের জন্য খোলামেলা আলোচনা জরুরি। কিন্তু নিজের কষ্টের কথা বলতে গেলেই যদি ঝগড়া শুরু হয়, সঙ্গী যদি আপনার অনুভূতি শুনতে না চান কিংবা প্রতিটি আলোচনাকে দোষারোপে পরিণত করেন, তাহলে দূরত্ব বাড়তে পারে।

কখনো কখনো একই ছাদের নিচে থেকেও দুজন মানুষের মধ্যে গভীর মানসিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। একে অপরের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ কমে যায়, ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুজনের আন্তরিক আলোচনা প্রয়োজন। পরিবর্তনের কোনো সদিচ্ছা না থাকলে সম্পর্কটি ধরে রাখার বাস্তবতা নিয়েও ভাবতে হতে পারে।

৪. বিশ্বাস ভেঙে গেছে, সন্দেহ কমছে না
বিশ্বাস ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন। মিথ্যা বলা, প্রতারণা কিংবা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে আস্থায় ফাটল ধরতে পারে। এরপর প্রতিনিয়ত সন্দেহ, জবাবদিহি নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে তা পুনর্গঠন অসম্ভব নয়। তবে এর জন্য ভুল স্বীকার, স্বচ্ছতা এবং দুজনের আন্তরিক চেষ্টা প্রয়োজন। বারবার একই আচরণ ঘটলে কিংবা বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ না থাকলে সম্পর্কটি আপনাদের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর, তা ভেবে দেখা দরকার।

৫. সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা শুধু আপনার
একটি সম্পর্কের দায়িত্ব দুজনের। কিন্তু যদি প্রতিবার আপনাকেই মানিয়ে নিতে হয়, নিজের প্রয়োজন ও ইচ্ছা বিসর্জন দিতে হয়, কিংবা প্রতিটি সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব একাই নিতে হয়, তাহলে একসময় ক্লান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুজনেরই ভুল স্বীকার, আলোচনা এবং পরিবর্তনের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। একজন বারবার চেষ্টা করছেন, আর অন্যজন কোনো উদ্যোগই নিচ্ছেন না—এমন পরিস্থিতিতে শুধু পুরোনো স্মৃতি কিংবা বিচ্ছেদের ভয় থেকে সম্পর্ক ধরে রাখা আপনাকে আরও অসুখী করে তুলতে পারে।

৬. ভবিষ্যৎ নিয়ে দুজনের ভাবনা সম্পূর্ণ আলাদা
দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জীবনের লক্ষ্য, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ার, সন্তান, পরিবার, কোথায় বসবাস করবেন কিংবা কীভাবে জীবন কাটাতে চান—এসব বিষয়ে মতভেদ থাকতেই পারে।

সব বিষয়ে একমত হওয়া জরুরি নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুজনের অবস্থান যদি সম্পূর্ণ বিপরীত হয় এবং আলোচনা বা সমঝোতার কোনো পথ না থাকে, তাহলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। একে অপরকে বদলে দেওয়ার প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার বদলে নিজেদের চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সৎ আলোচনা করা ভালো।

নির্যাতন থাকলে নিরাপত্তাই প্রথম
শারীরিক আঘাত, হুমকি, ভয় দেখানো, জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ কিংবা নিয়মিত মানসিক নির্যাতনকে সাধারণ দাম্পত্য কলহ ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। ভালোবাসা বা সম্পর্কের অজুহাতে এসব আচরণ গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত মানুষ, পেশাদার সহায়তাকারী বা সংশ্লিষ্ট সেবার সাহায্য নিন। সম্পর্ক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে নিরাপদ পরিকল্পনা করে এগোনো জরুরি। তাৎক্ষণিক বিপদের মুখে থাকলে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে জরুরি সহায়তা নিন।

বিচ্ছেদের আগে নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করবেন
সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখতে পারেন—

সমস্যাগুলো কি সাময়িক, নাকি দীর্ঘদিন ধরে একই ঘটনা ঘটছে?

দুজনেই কি সম্পর্কের সমস্যা স্বীকার করছেন?

পরিবর্তনের জন্য কথার পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে?

এই সম্পর্কে নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারছেন?

সম্পর্কটিতে কি আপনার আত্মসম্মান ও নিরাপত্তা বজায় থাকছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা বুঝতে সাহায্য করতে পারে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলে পারস্পরিক আলোচনা বা দাম্পত্য পরামর্শও কাজে আসতে পারে।

সম্পর্কের ইতি টানা সব সময় ব্যর্থতার পরিচয় নয়, আবার কঠিন সময় এলেই বিচ্ছেদ একমাত্র সমাধানও নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—সম্পর্কটি দুজনের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর, সেখানে পরিবর্তনের বাস্তব সুযোগ আছে কি না এবং নিজের মানসিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকছে কি না। সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, তা যেন হয় নিজের মর্যাদা, প্রয়োজন ও সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে।

কালের আলো/ইএকে/জেএন