খুঁজুন
                               
, ,
           

নীল চা পান করলে শরীরে কী হয়, জানুন উপকারিতা ও সতর্কতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
নীল চা পান করলে শরীরে কী হয়, জানুন উপকারিতা ও সতর্কতা

চায়ের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। তবে লাল চা কিংবা দুধ চায়ের বাইরে এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে নানা ধরনের ভেষজ পানীয়। এর মধ্যে অন্যতম অপরাজিতা ফুলের নীল চা। উজ্জ্বল নীল রং, সহজে রং বদলে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণের কারণে পানীয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু এই চা কি সত্যিই শরীরের নানা উপকার করে, নাকি এর গুণাগুণ নিয়ে রয়েছে অতিরঞ্জিত প্রচারণা?

অপরাজিতা ফুল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচিত উদ্ভিদ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে লোকজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার হয়ে আসছে। আধুনিক গবেষণাতেও ফুলটির বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। প্রাথমিক কিছু গবেষণায় জারণরোধী কার্যকারিতা, রক্তে শর্করার পরিবর্তন, প্রদাহ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মনে রাখতে হবে, অপরাজিতা চা কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়।

নীল রঙের পেছনে রয়েছে বিশেষ উপাদান
অপরাজিতা ফুলের আকর্ষণীয় নীল রঙের অন্যতম কারণ অ্যান্থোসায়ানিন। এটি উদ্ভিদে থাকা এক ধরনের প্রাকৃতিক রঞ্জক, যার জারণরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফুলটিতে কুয়ারসেটিন, ক্যামফেরল ও মাইরিসেটিনের মতো আরও কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

নীল চায়ের বিশেষত্ব হলো, এতে লেবুর রস মেশালে রং বদলে বেগুনি কিংবা গোলাপি হয়ে যেতে পারে। লেবুর অম্লীয় উপাদানের প্রভাবে ফুলের রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসায় এমনটা ঘটে।

তবে শুধু রং কিংবা প্রাকৃতিক উপাদানের উপস্থিতি থেকেই কোনো পানীয়ের স্বাস্থ্যগত কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন মানুষের ওপর পরিচালিত নির্ভরযোগ্য গবেষণা।

শরীরের কোষের সুরক্ষায় কতটা কার্যকর?
শরীরে বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অস্থিতিশীল অণু তৈরি হয়। এগুলো অতিরিক্ত জমলে কোষের ক্ষতি করতে পারে। এ ধরনের ক্ষতিকর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা জারণরোধী উপাদান।

২০১৮ সালে ১৫ জন সুস্থ পুরুষের ওপর পরিচালিত একটি ছোট গবেষণায় অপরাজিতা ফুলের নির্যাস পরীক্ষা করা হয়। এতে রক্তের জারণরোধী ক্ষমতার কয়েকটি সূচকে উন্নতির পাশাপাশি কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সূচকে হ্রাস দেখা যায়।

গবেষণাটি আশাব্যঞ্জক হলেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল খুবই কম এবং পরীক্ষার সময়কালও ছিল সীমিত। তাই নিয়মিত নীল চা পান করলে দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কি ভূমিকা আছে?
অপরাজিতা চায়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণার আরেকটি ক্ষেত্র হলো রক্তে শর্করার মাত্রা। ছোট একটি মানব গবেষণায় চিনি গ্রহণের সঙ্গে অপরাজিতা ফুলের নির্যাস নেওয়ার পর খাবার-পরবর্তী রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের বৃদ্ধিতে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।

তবে এই ফলকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। গবেষণাটি সীমিতসংখ্যক সুস্থ মানুষের ওপর করা হয়েছিল। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পানীয়টি কতটা কার্যকর বা নিরাপদ, তা জানতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের পরিবর্তে অপরাজিতা চা পান করা উচিত নয়।

প্রদাহ কমানোর সম্ভাবনা
শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থার একটি অংশ হলো প্রদাহ। আঘাত বা সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজনীয় হলেও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অপরাজিতা উদ্ভিদের নির্যাস নিয়ে প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় প্রদাহ কমানোর সম্ভাব্য প্রভাব দেখা গেছে। তবে প্রাণীর শরীরে পাওয়া ফল মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই অপরাজিতা চা বাত, সন্ধির ব্যথা কিংবা অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগ সারাতে পারে—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।

স্মৃতিশক্তি ও মানসিক প্রশান্তিতে উপকার?
লোকজ চিকিৎসায় অপরাজিতা ফুলের ব্যবহার নিয়ে স্মৃতিশক্তি, উদ্বেগ এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার মতো বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে। ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণায় উদ্ভিদটির প্রচলিত ব্যবহার ও এ-সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়।

পরবর্তী কিছু পরীক্ষাগার ও প্রাণীভিত্তিক গবেষণাতেও অপরাজিতার সম্ভাব্য স্নায়ুরক্ষাকারী বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়ানো, মন শান্ত রাখা কিংবা উদ্বেগ কমানোর ক্ষেত্রে নীল চা কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিত করার মতো বড় পরিসরের গবেষণা এখনো সীমিত।

অর্থাৎ, সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে; কিন্তু একে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী?
অপরাজিতা ফুলে থাকা অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়ার ক্ষেত্রেও গবেষণা হয়েছে। কিছু পরীক্ষাগার ও প্রাণীভিত্তিক গবেষণায় রক্তের চর্বি, রক্তে শর্করা এবং জারণপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে এসব ফল মানুষের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই নীল চা হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করে বা হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখার নিশ্চয়তা দেয়—এমন দাবি করা যাবে না।

শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভেষজ পানীয়কে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করার উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়। অপরাজিতা চা নিয়েও এমন দাবি দেখা যায়। কিন্তু শরীর থেকে সব ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই চায়ের কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

মানবদেহে যকৃৎ ও বৃক্কসহ বিভিন্ন অঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই বর্জ্য ও বিপাকজাত পদার্থ অপসারণে কাজ করে। তাই শরীর পরিষ্কার করার অলৌকিক পানীয় হিসেবে নীল চাকে দেখার পরিবর্তে এর প্রাকৃতিক উপাদান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা জরুরি।

চিনি ছাড়া পান করাই ভালো
অপরাজিতা ফুলের চা স্বাভাবিকভাবেই ক্যাফেইনমুক্ত ভেষজ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করা যায়। ফলে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলতে চান এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে পানীয়টির ক্যালরি বেড়ে যায়। তাই স্বাদ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিনি ছাড়া বা অল্প চিনি দিয়ে পান করা যেতে পারে। লেবুর রস যোগ করলে স্বাদের পাশাপাশি পানীয়টির রঙেও পরিবর্তন আসে।

যেকোনো ভেষজ পানীয়ের ক্ষেত্রেই ব্যক্তিভেদে সহনশীলতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কোনো রোগ থাকলে, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করলে কিংবা গর্ভাবস্থায় এটি নিয়মিত বা ঘন নির্যাস আকারে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। অপরাজিতা চায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চমানের মানব গবেষণাও এখনো সীমিত।

সম্ভাবনা আছে, তবে প্রমাণের অপেক্ষা
নীল অপরাজিতা চায়ের আকর্ষণ শুধু এর দৃষ্টিনন্দন রঙে সীমাবদ্ধ নয়। এতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ বিজ্ঞানীদের আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রাথমিক গবেষণায় কয়েকটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রমাণের বড় অংশই সীমিতসংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণা, পরীক্ষাগার কিংবা প্রাণীভিত্তিক পরীক্ষা থেকে এসেছে। তাই নীল চাকে অলৌকিক ওষুধ হিসেবে না দেখে ক্যাফেইনমুক্ত একটি ভেষজ পানীয় হিসেবে গ্রহণ করাই যুক্তিযুক্ত। এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ/জেএন

চার পায়ে দাঁড়াতে পারে না, মাথা দিয়েই ‘ল্যাম্বরগিনি’ চালিয়ে ঘুরে বেড়ায় কিকি

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
চার পায়ে দাঁড়াতে পারে না, মাথা দিয়েই ‘ল্যাম্বরগিনি’ চালিয়ে ঘুরে বেড়ায় কিকি

জন্মের পর থেকেই জীবন ছিল কঠিন। জন্মগত শারীরিক জটিলতার কারণে চার পায়ে দাঁড়াতে পারত না ছোট্ট ভেড়াটি। অন্য ভেড়ার মতো দৌড়ে বেড়ানো তো দূরের কথা, নিজের মায়ের কাছ থেকেও মেলেনি আশ্রয়। কিন্তু প্রতিকূলতা তার জীবন থামিয়ে দিতে পারেনি। মানুষের মমতা, যত্ন আর ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগে এখন নিজের মতো করে চলাফেরা করছে কিকি। মাথা দিয়ে জয়স্টিক নিয়ন্ত্রণ করে চালায় মোটরচালিত হুইলচেয়ার, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ল্যাম্বরগিনি’।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নর্থ ডার্টমাউথের প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র ‘ডোন্ট ফরগেট আস, পেট আস’-এ এখন কিকির বসবাস। তার জীবনকাহিনি শুধু একটি অসহায় প্রাণীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহায়ক প্রযুক্তি কীভাবে জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তারও এক অনন্য উদাহরণ।

জন্ম থেকেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই
২০২১ সালের ডিসেম্বরে জন্ম হয় কিকির। জন্মগত শারীরিক জটিলতার কারণে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো বা হাঁটা সম্ভব ছিল না। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কিকির মা ‘ক্যাশ ভ্যালি ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয়েছিল। ভেড়ার ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ গর্ভস্থ বাচ্চার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অস্থিসন্ধির বিকাশে জটিলতা তৈরি করতে পারে। জন্মের পর কিকির মা তাকে দুধ খাওয়াতে অস্বীকার করে। ফলে তার জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রয়োজনীয় যত্ন ও পুষ্টির অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছিল ছোট্ট প্রাণীটি।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে খামারের মালিক ডেব প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রটির বোর্ড সদস্য মেগান কিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর মাত্র ১১ দিন বয়সে কিকিকে আশ্রয় দেওয়া হয় ‘ডোন্ট ফরগেট আস, পেট আস’ স্যাংচুয়ারিতে। বিশেষ যত্নের প্রয়োজন এমন নানা প্রাণীর আশ্রয়স্থল এই কেন্দ্রেই শুরু হয় কিকির জীবনের নতুন অধ্যায়।

চিকিৎসায় মিলল না কাঙ্ক্ষিত সমাধান
কিকিকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করানোর জন্য পরিচর্যাকারীরা নানা চেষ্টা করেন। ফিজিওথেরাপি, চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার পা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তবে কিকির পরিচর্যাকারীরা হাল ছাড়েননি। আশ্রয়কেন্দ্রের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেব ডেভলিন লক্ষ করেন, খেলনা ও আশপাশের জিনিসের প্রতি কিকির বেশ আগ্রহ রয়েছে। মাথা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস ঠেলে সে সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করত।

কিকির এই স্বাভাবিক আচরণ থেকেই নতুন একটি ভাবনার জন্ম হয়। তাকে অন্যের সাহায্যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার পরিবর্তে নিজের মতো করে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা শুরু করেন পরিচর্যাকারীরা।

মাথা দিয়েই চালায় ‘ল্যাম্বরগিনি’
কিকির জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ একটি মোটরচালিত যান। একটি মোটরচালিত হুইলচেয়ারের ভিত্তির সঙ্গে কার্গো স্ট্রলারের অংশ যুক্ত করে সেটিকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়। যানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জয়স্টিক। সেটি এমনভাবে বসানো হয়, যাতে কিকি মাথা বা থুতনি দিয়ে ঠেলে চলার দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

নতুন এই যান চালানোর সুযোগ পেয়ে কিকি দ্রুত কৌশলটি আয়ত্ত করে ফেলে। এখন সে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, পেছনে ফিরতে পারে, এমনকি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দিকও পরিবর্তন করতে পারে।

কিকির চলার এই বিশেষ যানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ল্যাম্বরগিনি’। নামের সঙ্গে মিল রেখে তার চলাফেরার উৎসাহও কম নয়। আশ্রয়কেন্দ্রের চত্বরে নিজের যান নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সে। কখনো এতটাই উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে যায় যে তাকে থামানোর জন্য পরিচর্যাকারীদের ডাকতে হয়। যে প্রাণীটি একসময় নিজের জায়গা থেকে নড়াচড়া করতেও পারত না, সেই কিকিই এখন নিজের চলাফেরার নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখেছে।

কিকির গল্প ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের কাছেও
কিকির জীবন শুধু তার নিজের জন্যই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেনি, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে অন্যদেরও। আশ্রয়কেন্দ্রটিতে তার সঙ্গে বসবাস করে আরও অনেক প্রাণী। তাদের সঙ্গেও সময় কাটায় কিকি, কখনো হয়ে ওঠে সঙ্গী, কখনো দেখায় মমতাপূর্ণ আচরণ।

তার ব্যতিক্রমী চলাফেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে ফক্স ১১-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেব ডেভলিন জানান, কিকির ভিডিও দেখে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসনকেন্দ্র ও থেরাপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রোগীদের উৎসাহ দিতে কিকির ভিডিও ব্যবহার করছেন।

কিকির গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেই জীবনের আনন্দ কিংবা স্বাধীনতার সব পথ বন্ধ হয়ে যায় না। উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং নতুন সমাধানের সুযোগ পেলে অনেক কিছুই সম্ভব।

সীমাবদ্ধতা নয়, সুযোগই বদলে দিতে পারে জীবন
কিকি হয়তো অন্য ভেড়ার মতো চার পায়ে ভর দিয়ে দৌড়াতে পারবে না। কিন্তু তার জীবন থেমে নেই। মানুষের যত্ন আর প্রযুক্তির সহায়তায় সে খুঁজে পেয়েছে চলাফেরার নিজস্ব পথ।

জন্মের পর যে প্রাণীটি মায়ের কাছ থেকেও আশ্রয় পায়নি, আজ সেই কিকিই মানুষের ভালোবাসায় ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের ‘ল্যাম্বরগিনি’ নিয়ে। তার গল্প মনে করিয়ে দেয়, কাউকে শুধু তার সীমাবদ্ধতা দিয়ে বিচার করা যায় না। কখনো একটু মমতা, কখনো প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নতুন ব্যবস্থা—এ দুয়ের সমন্বয়েই খুলে যেতে পারে স্বাধীনতার নতুন দরজা।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পি, বাতিল দুই শতাধিক ফ্লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পি, বাতিল দুই শতাধিক ফ্লাইট

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’ তাইওয়ানের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়টির প্রভাবে ইতিমধ্যে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার কর্মসূচিও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন ঝড়টির অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি চাম্পি। এটি এর আগে ‘সুপার টাইফুনে’ পরিণত হলেও বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হয়েছে। তবে ঝড়টির বাতাসের গতি ও বিস্তৃতির কারণে এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার বেগে বইছে বাতাস
আবহাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুন চাম্পির কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার বা ১৪১ মাইল রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়টির ব্যাসার্ধ বেড়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। ফলে তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকা এর প্রভাবের আওতায় চলে এসেছে।

বর্তমানে ঝড়টি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি উত্তর দিকে মোড় নিয়ে চীনের উপকূলের পাশ দিয়ে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা পরিবর্তিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।

উপকূলে ছয় মিটার পর্যন্ত ঢেউয়ের আশঙ্কা
টাইফুনটির প্রভাবে তাইওয়ানের উপকূলীয় এলাকায় ছয় মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস এবং উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জনগণকে পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তাইওয়ানে ফ্লাইট বাতিল, ব্যাহত যাতায়াত
ঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রুটের ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহণ মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া গেছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে আবহাওয়ার অবনতি হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

জাপানের দ্বীপপুঞ্জেও ঝড়ের প্রভাবের আশঙ্কা
তাইওয়ানের পাশাপাশি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতেও টাইফুন চাম্পির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ওকিনাওয়া অঞ্চলের ইয়োনাগুনি দ্বীপ ঝড়টির সম্ভাব্য প্রভাবের মুখে রয়েছে। জাপানের বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইনস, এএনএ ও স্কাইমার্ক বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে একশর বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝড়টির গতিপথ অনুযায়ী জাপানের দ্বীপাঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এ কারণে বিমান চলাচলের পাশাপাশি সামুদ্রিক যোগাযোগের ওপরও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সামরিক মহড়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন
টাইফুনের কারণে তাইওয়ানের কাছাকাছি জাপানি দ্বীপগুলোতে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-জাপান যৌথ সামরিক মহড়াতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ‘কিন সোর্ড’ নামের এই মহড়ায় প্রায় ৫৬ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই বছর মেয়াদি মহড়ার কর্মসূচি ঝড়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিদিন পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা হচ্ছে। সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ
টাইফুন চাম্পি কিছুটা দুর্বল হলেও এর শক্তিশালী বাতাস, বিস্তৃত প্রভাববলয় এবং সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তাইওয়ান ও জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা বজায় রয়েছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় ঢেউ ও পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ঝড়টির গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পূর্বাভাস ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ঘোষণা করা হতে পারে। তাইওয়ান ও জাপানের বাসিন্দাদের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ/আরআইকে

প্রাণখোলা হাসি কেন ভালো রাখে মন ও শরীর?

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
প্রাণখোলা হাসি কেন ভালো রাখে মন ও শরীর?

একটু হাসি বদলে দিতে পারে মন-মেজাজ, সহজ করতে পারে মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব। ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তায় ভরা জীবনে প্রাণখোলা হাসি হতে পারে মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার সহজ একটি উপায়। হাসি শুধু আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং মানসিক চাপ সামলাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কাউকে হাসতে দেখলে অনেক সময় নিজের অজান্তেই মুখে হাসি চলে আসে। প্রিয়জনের সঙ্গে মজার কোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত কাটানো—এসব ছোট ছোট অভিজ্ঞতা মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

হাসি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মানুষের আবেগ ও সামাজিক যোগাযোগে হাসির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। হাসি আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি অন্যের সঙ্গে আন্তরিকতা ও সংযোগ তৈরিতেও সাহায্য করে। পরিচিত মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা অনেক সময় অস্বস্তি কমায় এবং সম্পর্ককে আরও সহজ করে তোলে।

হাসির সময় মুখের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হয়। প্রাণখোলা হাসিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরনেও সাময়িক পরিবর্তন আসে। আনন্দের এমন মুহূর্তে অনেকের মন হালকা লাগে এবং শরীরে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

তবে হাসির প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। শুধু হাসলেই শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত হবে কিংবা সব ধরনের মানসিক চাপ দূর হয়ে যাবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে হাসি
দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপ, আর্থিক দুশ্চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ মানসিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এ সময় পছন্দের কোনো অনুষ্ঠান দেখা, মজার গল্প পড়া কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো মন ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

হাস্যরস কঠিন পরিস্থিতিকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে এবং সাময়িকভাবে দুশ্চিন্তা থেকে মনোযোগ সরাতে সাহায্য করতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে একাকিত্বও কিছুটা কমতে পারে।

তবে হাসি কোনো সমস্যার বিকল্প সমাধান নয়। দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা মানসিক অস্থিরতায় ভুগলে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

হাসি সম্পর্ককে করে আরও উষ্ণ
মানুষের মধ্যে যোগাযোগ তৈরিতে হাসির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তরিক হাসি অনেক সময় কথোপকথনকে সহজ করে, পারস্পরিক আস্থা বাড়ায় এবং পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসি-আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।

তবে হাসির ধরন ও পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে অপমান করা, অন্যের দুর্বলতা নিয়ে বিদ্রূপ করা কিংবা কারও অস্বস্তিকে উপহাসের বিষয় বানানো সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। তাই হাসি হওয়া উচিত আন্তরিক, স্বতঃস্ফূর্ত এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

প্রতিদিনের জীবনে হাসিখুশি থাকার উপায়
হাসিখুশি থাকার জন্য সব সময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। দৈনন্দিন রুটিনে ছোট কিছু পরিবর্তন আনন্দের মুহূর্ত বাড়াতে পারে।

প্রিয়জনদের সময় দিন: পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করুন। একসঙ্গে সময় কাটালে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

পছন্দের বিনোদন উপভোগ করুন: মজার সিনেমা, নাটক, বই কিংবা কৌতুক মন ভালো করতে সহায়তা করতে পারে।

নিয়মিত হাঁটুন: বাইরে হাঁটতে যাওয়া ও প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো মন-মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

নিজের জন্য সময় রাখুন: কাজের ফাঁকে বিরতি নিন এবং এমন কিছু করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয়।

ইতিবাচক মুহূর্তগুলোকে গুরুত্ব দিন: প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভিজ্ঞতা উপভোগ করার চেষ্টা করুন।

কিছু জায়গায় দলবদ্ধভাবে হাসির অনুশীলনের আয়োজন করা হয়, যা ‘লাফিং ক্লাব’ নামে পরিচিত। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে অনেকে অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। তবে এ ধরনের অনুশীলনকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

জোর করে হাসতে হবে না
সব সময় হাসিখুশি থাকা সম্ভব নয়, আর তা প্রয়োজনীয়ও নয়। জীবনে দুঃখ, হতাশা ও উদ্বেগের মতো অনুভূতি থাকাটাও স্বাভাবিক। মন খারাপ হলে নিজেকে জোর করে হাসতে বাধ্য করার পরিবর্তে নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা বেশি কার্যকর হতে পারে।

হাসি জীবনের সব সমস্যার সমাধান না করলেও আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করতে, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে এবং মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। তাই ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য একটু অবসর রাখুন, প্রিয়জনদের সঙ্গে হাসি-আনন্দ ভাগ করে নিন। কারণ, সুস্থ ও আনন্দময় জীবনের পথে ছোট ছোট সুখের মুহূর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/ইআকে/জেএন