খুঁজুন
                               
, ,
           

চার পায়ে দাঁড়াতে পারে না, মাথা দিয়েই ‘ল্যাম্বরগিনি’ চালিয়ে ঘুরে বেড়ায় কিকি

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
চার পায়ে দাঁড়াতে পারে না, মাথা দিয়েই ‘ল্যাম্বরগিনি’ চালিয়ে ঘুরে বেড়ায় কিকি

জন্মের পর থেকেই জীবন ছিল কঠিন। জন্মগত শারীরিক জটিলতার কারণে চার পায়ে দাঁড়াতে পারত না ছোট্ট ভেড়াটি। অন্য ভেড়ার মতো দৌড়ে বেড়ানো তো দূরের কথা, নিজের মায়ের কাছ থেকেও মেলেনি আশ্রয়। কিন্তু প্রতিকূলতা তার জীবন থামিয়ে দিতে পারেনি। মানুষের মমতা, যত্ন আর ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগে এখন নিজের মতো করে চলাফেরা করছে কিকি। মাথা দিয়ে জয়স্টিক নিয়ন্ত্রণ করে চালায় মোটরচালিত হুইলচেয়ার, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ল্যাম্বরগিনি’।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নর্থ ডার্টমাউথের প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র ‘ডোন্ট ফরগেট আস, পেট আস’-এ এখন কিকির বসবাস। তার জীবনকাহিনি শুধু একটি অসহায় প্রাণীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহায়ক প্রযুক্তি কীভাবে জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তারও এক অনন্য উদাহরণ।

জন্ম থেকেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই
২০২১ সালের ডিসেম্বরে জন্ম হয় কিকির। জন্মগত শারীরিক জটিলতার কারণে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো বা হাঁটা সম্ভব ছিল না। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কিকির মা ‘ক্যাশ ভ্যালি ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয়েছিল। ভেড়ার ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ গর্ভস্থ বাচ্চার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অস্থিসন্ধির বিকাশে জটিলতা তৈরি করতে পারে। জন্মের পর কিকির মা তাকে দুধ খাওয়াতে অস্বীকার করে। ফলে তার জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রয়োজনীয় যত্ন ও পুষ্টির অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছিল ছোট্ট প্রাণীটি।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে খামারের মালিক ডেব প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রটির বোর্ড সদস্য মেগান কিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর মাত্র ১১ দিন বয়সে কিকিকে আশ্রয় দেওয়া হয় ‘ডোন্ট ফরগেট আস, পেট আস’ স্যাংচুয়ারিতে। বিশেষ যত্নের প্রয়োজন এমন নানা প্রাণীর আশ্রয়স্থল এই কেন্দ্রেই শুরু হয় কিকির জীবনের নতুন অধ্যায়।

চিকিৎসায় মিলল না কাঙ্ক্ষিত সমাধান
কিকিকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করানোর জন্য পরিচর্যাকারীরা নানা চেষ্টা করেন। ফিজিওথেরাপি, চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার পা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তবে কিকির পরিচর্যাকারীরা হাল ছাড়েননি। আশ্রয়কেন্দ্রের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেব ডেভলিন লক্ষ করেন, খেলনা ও আশপাশের জিনিসের প্রতি কিকির বেশ আগ্রহ রয়েছে। মাথা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস ঠেলে সে সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করত।

কিকির এই স্বাভাবিক আচরণ থেকেই নতুন একটি ভাবনার জন্ম হয়। তাকে অন্যের সাহায্যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার পরিবর্তে নিজের মতো করে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তা শুরু করেন পরিচর্যাকারীরা।

মাথা দিয়েই চালায় ‘ল্যাম্বরগিনি’
কিকির জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ একটি মোটরচালিত যান। একটি মোটরচালিত হুইলচেয়ারের ভিত্তির সঙ্গে কার্গো স্ট্রলারের অংশ যুক্ত করে সেটিকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়। যানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জয়স্টিক। সেটি এমনভাবে বসানো হয়, যাতে কিকি মাথা বা থুতনি দিয়ে ঠেলে চলার দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

নতুন এই যান চালানোর সুযোগ পেয়ে কিকি দ্রুত কৌশলটি আয়ত্ত করে ফেলে। এখন সে সামনে এগিয়ে যেতে পারে, পেছনে ফিরতে পারে, এমনকি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দিকও পরিবর্তন করতে পারে।

কিকির চলার এই বিশেষ যানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ল্যাম্বরগিনি’। নামের সঙ্গে মিল রেখে তার চলাফেরার উৎসাহও কম নয়। আশ্রয়কেন্দ্রের চত্বরে নিজের যান নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সে। কখনো এতটাই উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে যায় যে তাকে থামানোর জন্য পরিচর্যাকারীদের ডাকতে হয়। যে প্রাণীটি একসময় নিজের জায়গা থেকে নড়াচড়া করতেও পারত না, সেই কিকিই এখন নিজের চলাফেরার নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখেছে।

কিকির গল্প ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের কাছেও
কিকির জীবন শুধু তার নিজের জন্যই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেনি, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে অন্যদেরও। আশ্রয়কেন্দ্রটিতে তার সঙ্গে বসবাস করে আরও অনেক প্রাণী। তাদের সঙ্গেও সময় কাটায় কিকি, কখনো হয়ে ওঠে সঙ্গী, কখনো দেখায় মমতাপূর্ণ আচরণ।

তার ব্যতিক্রমী চলাফেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে ফক্স ১১-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেব ডেভলিন জানান, কিকির ভিডিও দেখে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসনকেন্দ্র ও থেরাপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রোগীদের উৎসাহ দিতে কিকির ভিডিও ব্যবহার করছেন।

কিকির গল্প মানুষের সামনে তুলে ধরেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেই জীবনের আনন্দ কিংবা স্বাধীনতার সব পথ বন্ধ হয়ে যায় না। উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং নতুন সমাধানের সুযোগ পেলে অনেক কিছুই সম্ভব।

সীমাবদ্ধতা নয়, সুযোগই বদলে দিতে পারে জীবন
কিকি হয়তো অন্য ভেড়ার মতো চার পায়ে ভর দিয়ে দৌড়াতে পারবে না। কিন্তু তার জীবন থেমে নেই। মানুষের যত্ন আর প্রযুক্তির সহায়তায় সে খুঁজে পেয়েছে চলাফেরার নিজস্ব পথ।

জন্মের পর যে প্রাণীটি মায়ের কাছ থেকেও আশ্রয় পায়নি, আজ সেই কিকিই মানুষের ভালোবাসায় ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের ‘ল্যাম্বরগিনি’ নিয়ে। তার গল্প মনে করিয়ে দেয়, কাউকে শুধু তার সীমাবদ্ধতা দিয়ে বিচার করা যায় না। কখনো একটু মমতা, কখনো প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নতুন ব্যবস্থা—এ দুয়ের সমন্বয়েই খুলে যেতে পারে স্বাধীনতার নতুন দরজা।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

ঘরে কোরআন, আচরণে কতটা? নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে

ধর্ম ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
ঘরে কোরআন, আচরণে কতটা? নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে

ঘরে যত্ন করে রাখা হয় পবিত্র কোরআন। রমজানে বাড়ে তিলাওয়াত, সন্তানদের শেখানো হয় সূরা, ধর্মীয় আয়োজনেও থাকে কোরআন পাঠ। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি ও মানুষের অধিকার রক্ষায় কোরআনের শিক্ষা কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে—এ প্রশ্ন সামনে এনেছেন মুহিবুল হাসান রাফি। তাঁর মতে, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু তিলাওয়াত বা মুখস্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনের আচরণেও বাস্তবায়ন করা জরুরি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন আচরণের সম্পর্ক তুলে ধরেন। সেখানে ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, অনলাইন আচরণ এবং সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোরআন শুধু তিলাওয়াত নয়, জীবন পরিচালনার নির্দেশনা
পবিত্র কোরআন মানুষের জীবন পরিচালনার পথনির্দেশক। সুরা আল-ইসরার ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথ দেখায়, যা সর্বাধিক সরল।’ আয়াতটির আলোকে নিবন্ধে বলা হয়েছে, কোরআনের শিক্ষা মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও কর্মে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

কোরআন কতবার পড়া হলো কিংবা কতটি সূরা মুখস্থ করা হলো, শুধু তা দিয়ে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কের পূর্ণতা নির্ধারণ করা যায় না। এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সত্য বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অন্যের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়েও কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণের প্রকাশ ঘটে।

ব্যক্তিগত সততা ও লেনদেনে কোরআনের শিক্ষা
সমাজে ধর্মীয় পরিচয় ও দৈনন্দিন আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি নিবন্ধে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। নামাজ ও তিলাওয়াতের পাশাপাশি ব্যবসায় সততা, সঠিক ওজন দেওয়া, কর্মীর ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখাও ধর্মীয় নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ৯০ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে। এ আয়াতে আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিবন্ধের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশনা বাস্তব জীবনে অনুসরণের মধ্য দিয়েই ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবহারিক দিক প্রকাশ পায়।

একজন ব্যবসায়ী সঠিক ওজন দিচ্ছেন কি না, একজন নিয়োগকর্তা কর্মীর ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছেন কি না কিংবা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজের কর্তব্য সততার সঙ্গে পালন করছেন কি না—এসব বিষয়কে কোরআনের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানতে হবে কোরআনের নির্দেশনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, গুজব প্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং মতভিন্নতা থেকে বিদ্বেষ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের মতে, কোরআনের নৈতিক নির্দেশনা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত জীবনের জন্য নয়; অনলাইনেও তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ৬ নম্বর আয়াতে কোনো সংবাদ এলে তা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সূরার ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে উপহাস, অপমান, কুধারণা ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।

এ নির্দেশনার আলোকে কোনো খবর যাচাই না করে শেয়ার করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে অপমান করা কিংবা অন্যের সম্মানহানি হয় এমন বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পোস্ট করলেও আচরণে শালীনতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখা প্রয়োজন।

অর্থ বুঝে কোরআন পড়ার ওপর গুরুত্ব
কোরআন তিলাওয়াত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টাও জরুরি। নিবন্ধে বলা হয়েছে, শুধু উচ্চারণে সীমাবদ্ধ না থেকে কোরআনের বক্তব্য নিয়ে চিন্তা করা, নির্ভরযোগ্য তাফসির পড়া এবং শেখা বিষয়গুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পবিত্র কোরআনের সুরা মুহাম্মাদের ২৪ নম্বর আয়াতে প্রশ্ন করা হয়েছে, তারা কি কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? এ আয়াত কোরআনের বক্তব্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় তিলাওয়াতের পাশাপাশি আয়াতের অর্থ বোঝা এবং একটি শিক্ষা নিজের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। কোনো আয়াতের শিক্ষা যদি মানুষকে মিথ্যা বলা থেকে বিরত রাখে, রাগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কিংবা অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে, তবে কোরআন পাঠের প্রভাব তার আচরণেও প্রকাশ পায়।

পরিবারেই শুরু হতে পারে কোরআনের শিক্ষার চর্চা
সন্তানদের কোরআন শেখানোর পাশাপাশি এর নৈতিক শিক্ষা বোঝানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধে। সত্যবাদিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণ এবং অন্যের অধিকার সম্মান করার মতো বিষয়গুলো পরিবার থেকেই শেখানো সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সন্তান যদি পরিবারের বড়দের সত্য বলতে, কথা রাখতে এবং অন্যের প্রতি সম্মান দেখাতে দেখে, তাহলে সে এসব মূল্যবোধ বাস্তবে শেখার সুযোগ পায়। ফলে কোরআনের শিক্ষা শুধু বই বা মুখস্থ পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পারিবারিক জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

কোরআন শেখা ও শেখানোর গুরুত্ব
কোরআন শেখা ও শেখানোর ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বুখারিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০২৭।

হাদিসটি কোরআন শেখা ও অন্যকে শেখানোর গুরুত্ব তুলে ধরে। নিবন্ধে এ শিক্ষার সঙ্গে কোরআন বোঝা ও তা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তাও যুক্ত করা হয়েছে। কোরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে ধারণ করা এবং যথাযথভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা ব্যক্তিগত ও সামাজিক নৈতিকতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।

কোরআনের শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান
নিবন্ধে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ককে নিয়মিত আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানুষ ভুল করতে পারে, তবে ভুল বুঝতে পারা, সংশোধনের চেষ্টা করা এবং নৈতিক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

কোরআন ঘরে রাখা এবং নিয়মিত তিলাওয়াত করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় চর্চা। তবে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি, পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও মানুষের অধিকার রক্ষার মতো বিষয়েও এর শিক্ষা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

লেখাটির মূল বক্তব্য হলো, কোরআনের প্রতি সম্মান শুধু সংরক্ষণ ও তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের সিদ্ধান্ত, কথাবার্তা ও আচরণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত জীবন থেকে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সব জায়গায় কোরআনের নৈতিক নির্দেশনা অনুসরণের মধ্য দিয়েই এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

আবেগ নয়, ওয়াজে প্রাধান্য পাক বিশুদ্ধ জ্ঞান ও দলিল

ধর্ম ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
আবেগ নয়, ওয়াজে প্রাধান্য পাক বিশুদ্ধ জ্ঞান ও দলিল

ওয়াজ-মাহফিলে কোরআন-হাদিসের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা, বক্তার যোগ্যতা এবং দায়িত্বশীল বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি। দ্বীনি বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, আরবি ভাষা ও মৌলিক ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি এবং শালীন উপস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ওয়াজের উদ্দেশ্য শুধু শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করা নয়; বরং বিশুদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন। নিবন্ধে ওয়াজ-মাহফিলের গুরুত্বের পাশাপাশি বক্তাদের যোগ্যতা, কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি যাচাই এবং জটিল ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

দ্বীনি বক্তব্যে জ্ঞান ও আমানতদারির গুরুত্ব
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ওয়াজ-মাহফিল মানুষের কাছে দ্বীনি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একজন বক্তা যখন কোরআনের আয়াত বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন, তখন শ্রোতারা তাঁর বক্তব্যকে ধর্মীয় নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এ কারণে বক্তব্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা বক্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ৪৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক উল্লেখ করেন, কোনো বিষয়ে না জানলে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, দ্বীনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কোরআন-হাদিস উদ্ধৃতিতে সতর্কতার আহ্বান
নিবন্ধে কোরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা, দুর্বল বা জাল হাদিসকে সহিহ হিসেবে উপস্থাপন এবং প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে ধর্মীয় বক্তব্য ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব কারণে শ্রোতাদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন লেখক।

এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে মিথ্যা আরোপের বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, কোনো হাদিসের উৎস ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে সেটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

আরবি ভাষা ও ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি প্রয়োজন
একজন ওয়ায়েজের জন্য আরবি ভাষা, আকাইদ, ফিকহ, তাফসির, হাদিস, উসুলে হাদিস, সীরাত ও ইসলামী ইতিহাস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা জরুরি বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। সব বিষয়ে একজন বক্তাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে—এমন দাবি না তুলে লেখক বলেছেন, যে বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য সূত্র সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ওয়াজ করা এবং ফতোয়া দেওয়া এক বিষয় নয়। জটিল শরিয়তি মাসআলা বা ফতোয়ার ক্ষেত্রে স্বীকৃত মুফতি কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ধর্মীয় বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বক্তব্যের আগে তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর
ধর্মীয় বক্তব্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধে। লেখকের মতে, বক্তৃতায় ব্যবহৃত কোরআনের আয়াতের অর্থ ও তাফসির, হাদিসের উৎস ও মান এবং ঐতিহাসিক ঘটনার সত্যতা নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

কেউ কোনো মাহফিলে একটি ঘটনা বলেছেন—শুধু এ কারণে সেটিকে নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয় বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তথ্যের উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ওয়াজে শালীনতা ও প্রজ্ঞার চর্চা জরুরি
ওয়াজের ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে নিবন্ধে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্রূপ, অপমানজনক শব্দ, যাচাইহীন অভিযোগ ও অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা পরিহার করে শালীন ও মার্জিত ভাষায় কথা বলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন লেখক।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার নির্দেশনা রয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াজে আবেগের গুরুত্ব থাকলেও তা যেন বিশুদ্ধ জ্ঞান, দলিল ও নৈতিকতার বিকল্প হয়ে না ওঠে।

ওয়ায়েজদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠির প্রস্তাব
নিবন্ধে ওয়াজের মানোন্নয়নে একটি ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠি প্রণয়নের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের বিজ্ঞ আলেম, মাদরাসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মাপকাঠির মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় দ্বীনি শিক্ষা, কোরআন-হাদিসের মৌলিক জ্ঞান, আরবি ভাষায় দক্ষতা, আকাইদ ও ফিকহ সম্পর্কে ধারণা, হাদিসের সূত্র ও মান যাচাইয়ের প্রাথমিক সক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্য তাফসির ও সীরাতগ্রন্থের সঙ্গে পরিচিতি। পাশাপাশি বক্তব্যে সূত্র উল্লেখ, যাচাইহীন বর্ণনা পরিহার, মার্জিত ভাষা ব্যবহার এবং জটিল ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়ার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

লেখক মনে করেন, এ ধরনের মাপকাঠি তৈরির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মাজহাব বা মতাদর্শকে লক্ষ্য করা উচিত নয়। বরং জ্ঞান, দক্ষতা, আমানতদারি ও বক্তব্যের মানকে ভিত্তি করে আলেমসমাজের বিভিন্ন ধারার মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্যের মাধ্যমে ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সমন্বয়
নিবন্ধের উপসংহারে ওয়াজের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা প্রচারের সুযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি বক্তাদের জ্ঞান, যোগ্যতা ও বক্তব্যের মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন লেখক।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশুদ্ধ ও উপকারী ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শুধু বক্তার সংখ্যা কিংবা শ্রোতাদের আবেগের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে জ্ঞান, দলিল, প্রজ্ঞা, শালীনতা ও বাস্তব জীবনে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বানকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ/জেএন

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে বার্কলেস

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে বার্কলেস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক বার্কলেস। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর প্রায় ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি। এতে প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৫ শতাংশ চাকরি হারাতে পারেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মীসংখ্যা কমিয়ে ব্যয় সাশ্রয় করতে চাইছে ব্যাংকটি। এরই মধ্যে প্রায় এক হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাকি কর্মীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ ছাঁটাই করা হতে পারে।

সহায়ক বিভাগে ছাঁটাইয়ের বড় অংশ
বার্কলেসের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের সময় কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। এ বিষয়ে ব্যাংকটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা আনা ক্রস সাংবাদিকদের জানান, পরিকল্পিত ছাঁটাইয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ হবে সহায়ক বিভাগগুলোতে।

এসব বিভাগের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের মতো প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কর্মীরাও রয়েছেন। অর্থাৎ, ছাঁটাইয়ের প্রভাব শুধু প্রচলিত প্রশাসনিক বা সহায়ক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রযুক্তি বিভাগেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। বাকি ছাঁটাইয়ের কার্যক্রম বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংকটির।

ব্যাংক খাতে বাড়ছে এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার
বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক এখন পরিচালন ব্যয় কমানো এবং কাজের গতি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যাংকগুলোর কর্মী ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসছে। সফটওয়্যার তৈরি ও পরীক্ষা, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।

এসব প্রযুক্তি কিছু ক্ষেত্রে মানুষের কাজের সময় কমাতে এবং একই কাজ কম কর্মী দিয়ে সম্পন্ন করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে প্রযুক্তি ও সহায়ক বিভাগের কিছু পদে কর্মীর প্রয়োজন কমে আসার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বার্কলেসের পরিকল্পিত ছাঁটাইও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যয় কমানোর এই বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ব্যাংকটির ক্ষেত্রে কোন কোন কাজে এআই সরাসরি কর্মীর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ব্যয় সাশ্রয় ও মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্য
বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীসংখ্যা কমানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ব্যয় কমানো সম্ভব হলে তা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগ মুনাফা বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের খরচ, ব্যবসা থেকে আয় এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের ওপরও।

বার্কলেসের পরিকল্পনায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। এর ফলে ব্যাংকটির কর্মপরিবেশ ও জনবল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে এআইয়ের বিস্তারের কারণে ভবিষ্যতে কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের ধরনে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়েও আলোচনা বাড়তে পারে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ/এসএআর