খুঁজুন
                               
, ,
           

আবেগ নয়, ওয়াজে প্রাধান্য পাক বিশুদ্ধ জ্ঞান ও দলিল

ধর্ম ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
আবেগ নয়, ওয়াজে প্রাধান্য পাক বিশুদ্ধ জ্ঞান ও দলিল

ওয়াজ-মাহফিলে কোরআন-হাদিসের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা, বক্তার যোগ্যতা এবং দায়িত্বশীল বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভি। দ্বীনি বক্তব্যের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, আরবি ভাষা ও মৌলিক ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি এবং শালীন উপস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ওয়াজের উদ্দেশ্য শুধু শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করা নয়; বরং বিশুদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন। নিবন্ধে ওয়াজ-মাহফিলের গুরুত্বের পাশাপাশি বক্তাদের যোগ্যতা, কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি যাচাই এবং জটিল ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

দ্বীনি বক্তব্যে জ্ঞান ও আমানতদারির গুরুত্ব
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ওয়াজ-মাহফিল মানুষের কাছে দ্বীনি শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একজন বক্তা যখন কোরআনের আয়াত বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন, তখন শ্রোতারা তাঁর বক্তব্যকে ধর্মীয় নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। এ কারণে বক্তব্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা বক্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ৪৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক উল্লেখ করেন, কোনো বিষয়ে না জানলে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, দ্বীনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কোরআন-হাদিস উদ্ধৃতিতে সতর্কতার আহ্বান
নিবন্ধে কোরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা, দুর্বল বা জাল হাদিসকে সহিহ হিসেবে উপস্থাপন এবং প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে ধর্মীয় বক্তব্য ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব কারণে শ্রোতাদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন লেখক।

এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে মিথ্যা আরোপের বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, কোনো হাদিসের উৎস ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে সেটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

আরবি ভাষা ও ইসলামী জ্ঞানের ভিত্তি প্রয়োজন
একজন ওয়ায়েজের জন্য আরবি ভাষা, আকাইদ, ফিকহ, তাফসির, হাদিস, উসুলে হাদিস, সীরাত ও ইসলামী ইতিহাস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা জরুরি বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। সব বিষয়ে একজন বক্তাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে—এমন দাবি না তুলে লেখক বলেছেন, যে বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্য সূত্র সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ওয়াজ করা এবং ফতোয়া দেওয়া এক বিষয় নয়। জটিল শরিয়তি মাসআলা বা ফতোয়ার ক্ষেত্রে স্বীকৃত মুফতি কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ধর্মীয় বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বক্তব্যের আগে তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর
ধর্মীয় বক্তব্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধে। লেখকের মতে, বক্তৃতায় ব্যবহৃত কোরআনের আয়াতের অর্থ ও তাফসির, হাদিসের উৎস ও মান এবং ঐতিহাসিক ঘটনার সত্যতা নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

কেউ কোনো মাহফিলে একটি ঘটনা বলেছেন—শুধু এ কারণে সেটিকে নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয় বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তথ্যের উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ওয়াজে শালীনতা ও প্রজ্ঞার চর্চা জরুরি
ওয়াজের ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে নিবন্ধে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্রূপ, অপমানজনক শব্দ, যাচাইহীন অভিযোগ ও অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা পরিহার করে শালীন ও মার্জিত ভাষায় কথা বলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন লেখক।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার নির্দেশনা রয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াজে আবেগের গুরুত্ব থাকলেও তা যেন বিশুদ্ধ জ্ঞান, দলিল ও নৈতিকতার বিকল্প হয়ে না ওঠে।

ওয়ায়েজদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠির প্রস্তাব
নিবন্ধে ওয়াজের মানোন্নয়নে একটি ন্যূনতম যোগ্যতার মাপকাঠি প্রণয়নের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের বিজ্ঞ আলেম, মাদরাসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত মাপকাঠির মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় দ্বীনি শিক্ষা, কোরআন-হাদিসের মৌলিক জ্ঞান, আরবি ভাষায় দক্ষতা, আকাইদ ও ফিকহ সম্পর্কে ধারণা, হাদিসের সূত্র ও মান যাচাইয়ের প্রাথমিক সক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্য তাফসির ও সীরাতগ্রন্থের সঙ্গে পরিচিতি। পাশাপাশি বক্তব্যে সূত্র উল্লেখ, যাচাইহীন বর্ণনা পরিহার, মার্জিত ভাষা ব্যবহার এবং জটিল ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়ার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

লেখক মনে করেন, এ ধরনের মাপকাঠি তৈরির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মাজহাব বা মতাদর্শকে লক্ষ্য করা উচিত নয়। বরং জ্ঞান, দক্ষতা, আমানতদারি ও বক্তব্যের মানকে ভিত্তি করে আলেমসমাজের বিভিন্ন ধারার মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্যের মাধ্যমে ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সমন্বয়
নিবন্ধের উপসংহারে ওয়াজের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা প্রচারের সুযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি বক্তাদের জ্ঞান, যোগ্যতা ও বক্তব্যের মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন লেখক।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশুদ্ধ ও উপকারী ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শুধু বক্তার সংখ্যা কিংবা শ্রোতাদের আবেগের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে জ্ঞান, দলিল, প্রজ্ঞা, শালীনতা ও বাস্তব জীবনে ইসলামের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বানকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ/জেএন

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র  জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয় বলেই ওই দিনটিকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চূড়ান্ত তারিখ জানা যেতে পারে রোববার
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। রোববার ( ২৪ অক্টোবর) ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অর্থাৎ, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে।

এবার পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজারেরচলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে পরীক্ষা চলাকালে বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অপেক্ষা বাড়ছে। ফল প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবেন।

ফল প্রকাশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা
শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

 

ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ভ্রমণ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ভিসা পাওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা নিতে হয় না। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশ করা যায়, আবার কোথাও পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ তালিকায় ভিসামুক্ত প্রবেশের পাশাপাশি অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের (ইটিএ) সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এশিয়ার যেসব গন্তব্যে যেতে পারবেন
বাংলাদেশের কাছাকাছি কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিমুর-লেস্তে। তবে প্রতিটি দেশের প্রবেশনীতি আলাদা। নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ ও তিমুর-লেস্তেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

আফ্রিকার যেসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ
আফ্রিকা অঞ্চলের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কোমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন ও কেনিয়া। এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেওয়া যায়। আবার কেনিয়ার মতো গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমতি নিতে হয়। ফলে আগাম ভিসা না লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গন্তব্য
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য তালিকাভুক্ত গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিয়ুয়ে, সামোয়া, তুভালু ও ভানুয়াতু। এসব গন্তব্যের প্রবেশনীতি ও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ একেক রকম হতে পারে।

এক নজরে ৩৫টি গন্তব্য
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিয়ুয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুভালু এবং ভানুয়াতু। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের শর্ত, ভিসার ধরন ও অবস্থানের অনুমোদিত সময় একেক রকম হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও সব ক্ষেত্রে বিনা প্রস্তুতিতে যাত্রা করা যায় না। কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, কোনো দেশে ইলেকট্রনিক অনুমতি, আবার কোথাও অনলাইন ট্রাভেলার ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে।

এ ছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদ, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে প্রবেশের সর্বশেষ শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ৩৫টি গন্তব্যের হিসাব মানেই সব দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ নয়। তালিকাটি মূলত যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা না নিয়ে যেসব গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার হিসাব।

কালের আলো/এসএ/জেএন