খুঁজুন
                               
, ,
           

নূহ (আ.)-এর নৌকার খোঁজে তুরস্কে নতুন অনুসন্ধান, কী বলছে বিজ্ঞান?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
নূহ (আ.)-এর নৌকার খোঁজে তুরস্কে নতুন অনুসন্ধান, কী বলছে বিজ্ঞান?

তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি রহস্যময় ভূতাত্ত্বিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান চালিয়েছেন গবেষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোটিকে নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করে আসছেন অনেকে। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে ভূগর্ভের কিছু অস্বাভাবিক গঠন ও মাটির নমুনা পাওয়া গেলেও, এগুলো যে নূহ (আ.)-এর নৌকার অবশেষ, তার পক্ষে এখনো নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।

সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষক দল সম্প্রতি এলাকাটিতে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছে। এ সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া এবং আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচের গঠন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গবেষকদের আশা, সংগৃহীত নমুনা ও ভূগর্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে কাঠামোটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে অনুসন্ধানে কিছু অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত হওয়া মানেই এটি প্রাচীন কোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

মাটির নমুনায় নতুন সূত্র

গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনসের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে কাঠামোটির প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আগে ধারণা করা হয়েছিল, দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ায় কোনো বিশাল পাথর জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে।

কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। ফলে কাঠামোটিকে নিছক একটি পাথরের খণ্ড হিসেবে ব্যাখ্যা করার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গবেষকেরা বিশেষভাবে পরীক্ষা করছেন ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটির নমুনা। এগুলো পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ, প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল, নাকি অন্য কোনো মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত—তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরীক্ষাগারে নমুনাগুলোর গঠন ও উপাদান বিশ্লেষণের পরই এ বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

রাডার স্ক্যানেও অস্বাভাবিক গঠনের ইঙ্গিত

আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোটির নিচে কিছু অস্বাভাবিক গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে বলে গবেষণাসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। মাটির নিচের স্তর ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পেতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

তবে রাডারে কোনো অস্বাভাবিক সংকেত পাওয়া গেলেই সেটিকে মানুষের তৈরি স্থাপনা বা জাহাজের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। ভূতাত্ত্বিক স্তর, মাটির ঘনত্বের পার্থক্য কিংবা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ফাঁপা অংশ থেকেও এমন সংকেত আসতে পারে। তাই রাডারের তথ্যের সঙ্গে কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল ও পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ মিলিয়ে দেখা জরুরি।

পাঁচ দেশের বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান

মে মাসে শুরু হওয়া গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। গবেষণায় পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় প্রায় ৯০ দিন ধরে চলে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান।

গবেষণার অংশ হিসেবে ড্রোনের সাহায্যে এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করা হয়। পাশাপাশি মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের উপাদানও পরীক্ষা করা হয়েছে।

সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সেগুলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে কাঠামোটির গঠন, সম্ভাব্য বয়স এবং এর সঙ্গে কোনো মানবিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।

১৯৫৯ সালে প্রথম নজরে আসে রহস্যময় কাঠামো

নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহের সূত্রপাত ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় জাহাজের মতো দেখতে কাঠামোটির সন্ধান পান।

এরপর থেকে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, অনুসন্ধানকারী ও ধর্মীয় ইতিহাসে আগ্রহী ব্যক্তিদের নজর কাড়ে এলাকাটি। কাঠামোটির আকৃতি ও অবস্থানকে ঘিরে নূহ (আ.)-এর নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে নানা দাবি সামনে আসে।

তবে কোনো ভূখণ্ডের আকৃতি জাহাজের মতো হলেই সেটিকে প্রাচীন নৌকার ধ্বংসাবশেষ বলা যায় না। এ ধরনের দাবির পক্ষে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, নির্ভরযোগ্য বয়স নির্ধারণ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।

নূহ (আ.)-এর নৌকা নিয়ে দাবি কতটা সত্য?

ধর্মীয় বর্ণনায় নূহ (আ.)-এর নৌকার ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ কারণে সম্ভাব্য নৌকার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পরিচিত কোনো স্থান নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস এবং কোনো নির্দিষ্ট ভৌত কাঠামোকে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে শনাক্ত করার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়।

তুরস্কের এই কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি সামনে এলেও, এটিকে নূহ (আ.)-এর নৌকার অবশেষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষণায় মাটির নমুনা ও ভূগর্ভের অস্বাভাবিক গঠন শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধানের নতুন দিক খুলে দিতে পারে, কিন্তু একে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

গবেষক অ্যান্ড্রু জোনসও এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা এবং কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা

গবেষণাসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে। সেই প্রতিবেদনে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণের ফলাফল এবং কাঠামোটির প্রকৃতি সম্পর্কে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ উঠে আসার কথা রয়েছে।

চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে কাঠামোটিকে নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে ঘোষণা করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই। বরং গবেষণার ফলাফল প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠন, সম্ভাব্য মানবিক কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো ব্যাখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সব মিলিয়ে, তুরস্কের এই রহস্যময় কাঠামোকে ঘিরে নতুন অনুসন্ধান নূহ (আ.)-এর নৌকা নিয়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহলকে আবার সামনে এনেছে। তবে মাটির নমুনা ও রাডার স্ক্যানের প্রাথমিক ফলাফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গবেষণাগারের পরীক্ষা, নির্ভরযোগ্য বয়স নির্ধারণ এবং পরবর্তী বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ফলাফলই কাঠামোটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে।

কালের আলো/এসএ

 

চেহারা-কণ্ঠ নকল করে অশালীন ভিডিও, ডিপফেকের ঝুঁকিতে শোবিজ তারকারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
চেহারা-কণ্ঠ নকল করে অশালীন ভিডিও, ডিপফেকের ঝুঁকিতে শোবিজ তারকারা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। তারকাদের ছবি ও কণ্ঠ নকল করে তৈরি করা হচ্ছে আপত্তিকর গান ও ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্টে এমন বক্তব্য ও পরিবেশনা তুলে ধরা হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা কখনো বলেননি বা করেননি। এতে ব্যক্তিগত সম্মানহানি, মানসিক চাপ ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকি বাড়ছে।

অভিনেত্রী সাবিলা নূর, মেহজাবীন চৌধুরী, সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী জেফার রহমান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির এবং সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানকে ঘিরে এ ধরনের এআই-নির্মিত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও তারকাদের কণ্ঠ ব্যবহার করে আপত্তিকর সংলাপ বলানো হয়েছে, আবার কোথাও কনসার্টের ভিডিওর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কৃত্রিমভাবে তৈরি গান।

প্রযুক্তির নিখুঁত নকলের কারণে অনেক দর্শক প্রথম দেখায় এসব কনটেন্টকে সত্য বলে মনে করতে পারেন। যাচাই ছাড়াই ভিডিও শেয়ার করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আইনি পদক্ষেপ নিতে চান তাসরিফ

সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানের একটি কনসার্টের ভিডিও ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ শিরোনামে একটি গান ছড়িয়ে পড়েছে। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি গানটিকে তাঁর পরিবেশনা বলে ভুল করছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তাসরিফের ভাষ্য, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্ট করে গানটি সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু গানটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে কিছু মানুষ গানটিকে কেন্দ্র করে তাঁকে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গানটি প্রথম কারা তৈরি করেছেন বা কোথা থেকে ছড়িয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই জানিয়ে তাসরিফ বলেন, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে মূল উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এ কারণে তিনি বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করতে চান। তাঁর দাবি, তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

তাসরিফ আরও জানান, যে কনসার্টের ভিডিও ব্যবহার করে গানটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি হয়েছিল ঠাকুরগাঁওয়ে।

মানসিক ট্রমায় সাবিলা নূর

এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও নিয়ে নিজের এবং সহকর্মীদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। তাঁর মতে, এসব কনটেন্টের কারণে তিনি ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সাবিলা নূর মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অপরাধের শামিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী জেফার রহমানের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করেও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ না জানিয়ে নিজের কাজেই মনোযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

‘আমার নেতা’ গান ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, সাবিলা নূর, জেফার রহমান ও সালমান মুক্তাদিরের কণ্ঠ নকল করে আপত্তিকর বক্তব্য সংযোজন করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে তাঁদের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তাঁরা নিজেরাই এসব কথা বলছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার নেতা’ শিরোনামের একটি গানকে কেন্দ্র করে এসব ভিডিও তৈরি করা হয়। গানটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে তানজ প্রোডাকশনসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তারকাদের কণ্ঠ ক্লোন করে তৈরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় তানজিম নূর ও সোহাগ সিদ্দিকীর নামও আলোচনায় এসেছে। গত ৮ অক্টোবর তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানোর কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একাধিক পেজে একই ধরনের ভিডিও শেয়ার করা হয়।

তবে কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও যথাযথ তদন্ত ছাড়া কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

ডিপফেক শনাক্তে যেসব অসংগতি

ডিপফেক শনাক্তকারী বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভিডিওগুলোর বিভিন্ন দৃশ্যে ঠোঁটের নড়াচড়া ও কণ্ঠস্বরের মধ্যে অসংগতি, মুখমণ্ডলের চারপাশে আলো-ছায়ার অস্বাভাবিকতা এবং মাথা ও ঘাড়ের নড়াচড়ায় অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাসরিফ খানের কণ্ঠ ব্যবহার করে তৈরি গানটির অডিও পরীক্ষাতেও কণ্ঠ ক্লোনিংয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে কোনো একটি প্রযুক্তিগত লক্ষণ দেখেই ডিপফেকের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা যায় না। নির্ভরযোগ্য যাচাই, মূল কনটেন্টের সঙ্গে তুলনা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতা ও যাচাইয়ের বিকল্প নেই

গবেষক ও ফ্যাক্টচেকার মিরাজ হোসেনের মতে, ভয়েস ক্লোনিং ও ডিপফেক মানুষের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিকে একসঙ্গে বিভ্রান্ত করতে পারে। ফলে প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকা ব্যক্তিদের পক্ষে আসল-নকলের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। যাচাই ছাড়াই এসব কনটেন্ট শেয়ার করার কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো ভিডিও বা অডিও অস্বাভাবিক মনে হলে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, প্রকাশের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কনটেন্ট শেয়ার না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্ট করা এবং প্রয়োজনে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

ডিপফেকের শিকার হলে ভুক্তভোগীর উচিত সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অনুমতি ছাড়া ছবি-কণ্ঠ ব্যবহারে আইনি প্রতিকার

বাংলাদেশ সাইবার পুলিশ সেন্টারের মিডিয়া সেলের শাফি উল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কারও ছবি, কণ্ঠ বা ভিডিও ক্লোন করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হলে ভুক্তভোগী নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে পারেন।

স্থানীয় থানা তদন্তে সক্ষম না হলে সংশ্লিষ্ট মামলা পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট বা সিআইডিতে পাঠানো হতে পারে। তদন্তের ভিত্তিতে কনটেন্ট তৈরি, প্রচার কিংবা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী মো. রিয়াজুর রহমান রায়হানের মতে, এআইয়ের সাহায্যে কারও ছবি বা কণ্ঠ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কিংবা সম্মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনার ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে মানহানিসহ বিভিন্ন আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

এআই প্রযুক্তি সৃজনশীল কাজের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর অপব্যবহার ব্যক্তির পরিচয়, সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হলে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও দর্শক-ভক্তদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংকট মোকাবিলায় আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যকর নজরদারি এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া আপত্তিকর ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কারও মুখ বা কণ্ঠ দেখা কিংবা শোনা গেলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিপফেকের যুগে তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল আচরণ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রতি সম্মানই হতে পারে অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।

কালের আলো/জেএন 

ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের নতুন কর্মসূচি, দিল্লিতে বড় পদযাত্রার ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের নতুন কর্মসূচি, দিল্লিতে বড় পদযাত্রার ডাক

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্র দলগুলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের কর্মসূচিতে বিরোধী নেতারা দিল্লিতে প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে জোটটি।

সিইসির পদত্যাগে অনড় বিরোধীরা

কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে সি ভেনুগোপাল শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে আসছে। বাদ পড়া নামগুলোর ক্ষেত্রে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ব্যক্তি কিংবা যাচাই করা যায়নি—এমন তথ্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে কমিশন।

দিল্লিতে ধরপাকড় ঘিরে উত্তেজনা

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক বিরোধী নেতা পুলিশের হাতে আটক হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

এ ছাড়া বামপন্থী নেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। বিরোধী নেতারা পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে ও তাঁর দলের নেতাদের দীর্ঘ সময় গাড়িতে আটকে রেখেছিল। তবে এটি তাঁর বক্তব্য; পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিরোধী ঐক্য আরও জোরদারের চেষ্টা

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধী জোটের তৎপরতা বেড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই অবস্থান করছেন এবং কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো—ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হচ্ছে।

সোমবারের কর্মসূচিতে কতসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেবেন এবং পদযাত্রা কোন পথে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। তবে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচি ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

কালের আলো/জেএন

শৌচাগারে ঢুকলেই সময় গণনা, বাইরে থেকেই দেখছেন সবাই!

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
শৌচাগারে ঢুকলেই সময় গণনা, বাইরে থেকেই দেখছেন সবাই!

শৌচাগার ব্যবহারে কতক্ষণ সময় লাগছে, তা এবার বাইরে থেকেই দেখতে পাচ্ছেন অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা। চীনের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে নারী শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের বাইরে বসানো হয়েছে ডিজিটাল টাইমার। কেউ কক্ষে প্রবেশ করলে ডিসপ্লেতে সময় গণনা শুরু হয়। আর কক্ষ খালি থাকলে দেখা যায় সবুজ সংকেত।

ব্যতিক্রমী এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরের ইউনগাং গুহামন্দির পর্যটন এলাকায়। ২০২৪ সালের ১ মে থেকে চালু হওয়া এ ব্যবস্থা নিয়ে ওই বছরের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন এবং চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পর্যটকদের চাপ সামলানো ও শৌচাগার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

কক্ষে ঢুকলেই শুরু হয় সময় গণনা

শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের দরজার ওপরে স্থাপন করা হয়েছে এলইডি ডিসপ্লে। কক্ষটি খালি থাকলে সবুজ সংকেত দেখা যায়। কেউ ভেতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করলে ডিসপ্লেতে লাল সংকেতের পাশাপাশি মিনিট ও সেকেন্ডের হিসাবে সময় দেখানো হয়।

এতে বাইরে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা বুঝতে পারেন কোন কক্ষটি খালি, কোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখানে কতক্ষণ ধরে কেউ অবস্থান করছেন। ফলে অযথা দরজায় ধাক্কা দেওয়া বা খালি কক্ষ খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

তবে এই টাইমার চালু হওয়ার পর অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে—নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে কি ব্যবহারকারীকে বের হয়ে আসতে বাধ্য করা হবে?

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পর্যটনকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শৌচাগার ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়। পাঁচ বা দশ মিনিটের মতো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়নি। সময় বেশি লাগলে কাউকে মাঝপথে বের করে দেওয়ার প্রশ্নও নেই।

নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শৌচাগারের ভেতরে কেউ দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষে অবস্থানের বিষয়টি নজরে আসতে পারে।

অর্থাৎ, শুধু ভিড় ব্যবস্থাপনা নয়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এই প্রযুক্তি চালুর পেছনে বিবেচনায় ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে টাইমার কতক্ষণ ধরে চললে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়, কিংবা এ ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম যুক্ত আছে কি না—প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পর্যটকেরা দেখছেন সুবিধা ও অস্বস্তি—দুই দিকই

ডিজিটাল টাইমার নিয়ে পর্যটকদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ মনে করছেন, এ ব্যবস্থায় কক্ষ খালি আছে কি না সহজে বোঝা যাবে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শৌচাগার ব্যবহারের সময় প্রকাশ্যে দেখানো অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এক পর্যটক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটি উন্নত মনে হলেও ডিসপ্লেতে ব্যবহারের সময় দেখানোর কারণে তাঁর নিজেকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকা ব্যক্তির মতো মনে হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অতিরিক্ত শৌচাগার নির্মাণের পরিবর্তে এ ধরনের ব্যবস্থা কতটা প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, জরুরি পরিস্থিতিতে কারও খোঁজ নিতে এটি সহায়ক হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

বছরে ৩০ লাখের বেশি পর্যটকের গন্তব্য

চীনের অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র ইউনগাং গুহামন্দির। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই স্থাপনায় রয়েছে অসংখ্য বৌদ্ধ ভাস্কর্য ও পাথরে খোদাই করা গুহা। ইউনেস্কো ২০০১ সালে স্থানটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সিএনএনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পর্যটনকেন্দ্রটিতে প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থী গিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার। পর্যটকের এই উল্লেখযোগ্য চাপের কারণে শৌচাগারসহ দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

সব মিলিয়ে, শৌচাগারের বাইরে ডিজিটাল টাইমার স্থাপনের উদ্যোগটি প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থাপনার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তবে এ ধরনের ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

কালের আলো/জেএন