খুঁজুন
                               
, ,
           

উপহাসের ‘তেলাপোকা’ এখন মোদির মাথাব্যথা!

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, সন্ধানী বার্তা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
উপহাসের ‘তেলাপোকা’ এখন মোদির মাথাব্যথা!

ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর উপহাসের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু। অথচ আত্মপ্রকাশের চার মাসও না পেরোতেই ভারতের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নতুন দল—করোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নাম নিয়ে কটাক্ষের মধ্যেই এবার তাদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অভিযোগের তদন্তের দাবিতে কর্মসূচি শুরুর আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকসহ নেতাকর্মীদের আটক করেছে পুলিশ। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রতিবাদ ঠেকাতে সরকারের এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান অবতরণ করতেই অভিজিৎকে আটক করা হয় বলে খবর। তাঁর সঙ্গে দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকেও আটক করা হয়েছে। অভিজিতের অভিযোগ, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার সময়ও এমন আচরণ দেখা যায়নি। তাঁর ভাষায়, ‘এটা একনায়কতন্ত্র—আমাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। আমরা গ্রেপ্তার হতেই এসেছি, আপনাদের ভয় পাই না।’

  • মোদির ভারতে প্রতিবাদই অপরাধ
  • ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে তদন্তের দাবিতে সিজেপির কর্মসূচি
  • ধরপাকড় ঘিরে জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফেরাল বিরোধীরা

বিক্ষোভের আগেই ধরপাকড়
দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর আগেই বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। _দ্য হিন্দু_-র বরাতে এক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটকের খবর সামনে এসেছে। আটক ব্যক্তিদের পুলিশ ভ্যানে তুলে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানা গেছে।

সিজেপির অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। দলটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি। একইভাবে, বিক্ষোভকারীদের আটক করার ক্ষেত্রে পুলিশের আইনি ভিত্তি ও পদক্ষেপের যৌক্তিকতাও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা
দিল্লির ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ তুলেছেন বিরোধী নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন। যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দক্ষিণ অ্যাভিনিউ এলাকায় দলের সাংসদদের নিয়ে ধর্নায় বসেন। পরে তাঁকেসহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। সোমবার ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত মিছিলে যোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালও সিজেপি নেতাদের আটকের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আটক করে তরুণদের প্রতিবাদ থামানো যাবে না। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও দিল্লিকে কার্যত ‘মুক্ত কারাগার’ বানানোর অভিযোগ তুলেছেন।

ভোটার তালিকা নিয়ে আস্থার প্রশ্ন
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু একটি নতুন দলের বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটার তালিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভিত্তি। সেখানে নাম বাদ পড়া নিয়ে অভিযোগ উঠলে তার স্বচ্ছ তদন্ত এবং আপত্তি জানানোর কার্যকর সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া অনিয়মকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা বলা যায় না; আবার যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়াই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়াও যুক্তিসংগত নয়।

একইভাবে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন থাকলেও ব্যাপক আটক, বিশেষত কর্মসূচিতে পৌঁছানোর আগেই নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা, আইনি কারণ এবং তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।

সিজেপিকে ঘিরে উপহাস থেকে রাজনৈতিক উদ্বেগ—এই পরিবর্তনের পেছনে দলের প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দিল্লির ঘটনাপ্রবাহ নতুন দলটির চেয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে: নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাব কি তদন্ত ও সংলাপের মাধ্যমে দেওয়া হবে, নাকি কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপই হয়ে উঠবে প্রধান প্রতিক্রিয়া?

কালের আলো/আরএ/এমকে

সৌদি আরবে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার, ফেরত ১০ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার, ফেরত ১০ হাজারের বেশি

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১০ হাজার ৪৩১ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।

এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৩ হাজার ৮৮৯ জন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় মোট ১৩ হাজার ৮৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৭৮৫ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৭১০ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন এবং ৩ হাজার ৩৯৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টায় আটক ১ হাজার ৩৩৮ জন

সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় সীমান্ত এলাকা থেকে আরও ১ হাজার ৩৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ ইথিওপীয়, ৩৩ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরব ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় আরও ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১০ হাজার ৪৩১ প্রবাসীকে দেশে ফেরত

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ১০ হাজার ৪৩১ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের কতজন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

এদিকে, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনকারীদের যাতায়াত, বাসস্থান কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

সহায়তাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির সতর্কতা

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, নথিপত্রহীন ব্যক্তিদের পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতি বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে এই অভিযান।

কালের আলো/এসএ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কৌশলগত উদ্যোগ; মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কৌশলগত উদ্যোগ; মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক যোগাযোগের বহুমুখী পথ অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাও গুরুত্ব পাচ্ছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু মানবিক সহায়তার বিষয় হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সমাধানের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হচ্ছে।

  • চীন, জাপান, আসিয়ান ও জাতিসংঘকে নিয়ে কৌশলগত জোট গঠনে জোর
  • মানবিক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে টেকসই প্রত্যাবাসনে গুরুত্ব
  • আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে কৌশলগত উদ্যোগের আহ্বান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের (এফডিএমএন) স্বদেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। আর এটি নিশ্চিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

মন্ত্রী রবিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকার হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ‘ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’ (এফএসডিএস)-এর উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের পথ—টেকসই প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের অভিমুখ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ।

একক প্রচেষ্টার বাইরে আঞ্চলিক জোটের প্রয়োজন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কেবল বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়িত্ব বিবেচনায় মন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রত্যাবাসনের উপযোগী রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও মানবিক পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি। এ বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে চীন, জাপান, আসিয়ান ও জাতিসংঘের মতো পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও সহযোগিতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর।

জাপানের সহযোগিতায় প্রত্যাবাসন আলোচনায় নতুন গতি
মন্ত্রী বলেন, অতি সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন (রিকনসিলিয়েশন) সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি নিজে তার সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাপান সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া, এ মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কথা রয়েছে, যেখানে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। জাপানের এই সম্পৃক্ততা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্প্রসারণের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে পারলে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলোচনার ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব এবং বাস্তব অগ্রগতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাখাইনের বাস্তবতায় বহুমুখী কূটনৈতিক যোগাযোগ
রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সেখানে আইনি (ডি জুরে) সরকারের পাশাপাশি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরাকান আর্মি (এএ)। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ নানামুখী কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য এবং চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সকল পথ উন্মুক্ত রেখেই বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখবে।

রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। সেখানে কারা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কেবল আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ অনুসন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতিতে যাওয়ার আহ্বান
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বিগত দশকগুলোতে এই সংকটের বহুমুখী জটিলতা ও মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখন সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তা থেকে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং খণ্ডিত উদ্যোগের পরিবর্তে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশলের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এছাড়া, রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টার বক্তব্যে সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। মানবিক সহায়তা বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষায় অপরিহার্য হলেও তা স্থায়ী প্রত্যাবাসনের বিকল্প নয়। তাই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও অধিকারসংক্রান্ত শর্ত পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ, মানবিক দায়িত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোকে একই কৌশলের আওতায় আনতে পারলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সুযোগ কাজে লাগানোর প্রত্যাশা
সেমিনারের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘে এই বছর সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যাবাসন ইস্যুটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের এই সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশের কৌশলগত স্বার্থ ও অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক বিপর্যয়ের অবসানকে অভিন্ন আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতাকে কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও গতিশীল হতে পারে।

তিন প্রবন্ধে প্রত্যাবাসনের বহুমাত্রিক পথ
সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। প্রথম প্রবন্ধে মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোকপাত করেন অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আলী আশরাফ। দ্বিতীয় প্রবন্ধে রাখাইনের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসনবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। তৃতীয় প্রবন্ধে আঞ্চলিক কূটনীতি এবং বাংলাদেশের কৌশলগত পথসমূহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.)।

উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন কেবল মানুষদের শারীরিক পুনর্বাসন নয়; বরং ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই সমাধানের মূল চাবিকাঠি।

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসনের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোও সামনে এসেছে। নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেখানে নিরাপদ বসবাস, নাগরিক অধিকার, জীবিকা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব বিষয়কে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা গেলে ফিরে যাওয়া মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কূটনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপ দেওয়া। আঞ্চলিক শক্তি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া গেলে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনের পথ সুগম হতে পারে। নিরাপত্তা, মানবিক অধিকার ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগই এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাংলাদেশে বিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়ানোর প্রত্যাশা বিমানমন্ত্রীর

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়ানোর প্রত্যাশা বিমানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিমানের সংখ্যা ২০০টির বেশি হোক বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দেশের নতুন প্রজন্মের বিকাশ ও ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় এ লক্ষ্য অর্জনের কথা জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়ায় একটি রিসোর্টে সিটি করপোরেশন আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ৩৫টি বিমান থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি চান, ভবিষ্যতে দেশের বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাক। নতুন প্রজন্মের উন্নয়ন ও বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, ৩৫টি বিমান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বিমান দেশে আসতে সময় লাগবে এবং ২০৩১ সাল থেকে সরবরাহ শুরু হয়ে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। ভবিষ্যতে বর্তমান বিমানগুলোর অনেকগুলো অচল হয়ে পড়তে পারে বিবেচনায় নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি উঠেছে। ত্রিশালের মতো স্থানে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। বড় বিমানবন্দর নির্মাণে সময় প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের পর্যটনশিল্পের বিকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেত্রকোনার বিরিশিরিতে জাতীয় পর্যায়ে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ময়মনসিংহে শিশুপার্ক নির্মাণ এবং বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বিমানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতী শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি